কবি রাজা সরকারের জীবন ও কবিতা | শিমুল মিলকী

কবি রাজা সরকারের জীবন ও কবিতা নিয়ে মূলত আলোচনা থাকলেও এর সাথে নেত্রকোণাকে জড়িয়ে আলোচনা করতেই হচ্ছে। কেননা, কবির জীবনের স্থানিক ও কাল-পরিচয়ের মধ্যে কবিতারও একধরনের পরিচয় আভাসিত হয়। কবির জীবনপঞ্জিকা ঘেঁটে কিছুটা সেই আলামত পাওয়া যায়।

রাজা সরকার তাঁর আত্মজীবনীমুলক গ্রন্থ আঁতুড়ঘর-এ বলেন-

“রাতে স্বপ্ন দেখি বালক বয়স। স্বপ্ন দেখি ঘুরে বেড়াচ্ছি শ্রীমন্তপুর গ্রামে। এখন সেটা অন্যদেশ। ওখানে এখন ইচ্ছে করলেই যাওয়া যায় না। এসব কথা কি কাউকে বলা যায়?… নস্টালজিক।”

বলা না গেলেও এই কথা বলা হয়ে গেছে তার কবিতায় –

“প্রতিবারেই আমি উৎসের দিকে যেতে চাই

পরিণতি ছুঁয়ে আছে পায়ের আঙুল
জঙ্ঘা ও স্তন পেরিয়ে হাত
হাতে আগুন
গৃহস্থালি বসেছে তার উপর, সঙ্গে
এই সুদাহ্য শবশয্যা-”

*কবিতার দিন, কবিতার রাত
#প্রিয় আততায়ীর প্রতি#

বিশেষ সংবেদনশীল হওয়ায় কবিকে আজীবন যে সংগ্রাম করে এগুতে হয় তা সাধারণের বাইরে। সেই সংগ্রাম অবশ্যই বহুমাত্রিক হয়ে থাকে। – জীবনের না-পাওয়া, হারানোর যন্ত্রণা ও অপমানের মধ্যে সেই সংগ্রাম যেমন গ্রথিত, তেমনি সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রপঞ্চের মধ্যেও কবির রয়েছে সাহসিক বিস্তৃতি। তবে কবির এই সংগ্রাম মূলত কবিতার জন্যেই সংগ্রাম বলে ধরে নেবো। কেননা তিনি আমাদের কবিতাই উপহার দেন। তাঁর কাছে আমরা শেষমেশ কবিতাই চাই।

তিনি মূলত সত্তর দশকের শেষ দিকে শিলিগুড়িতে লেখালেখি শুরু করেন। সে সময় বিভিন্নভাবে বাম রাজনীতির সংস্পর্শে আসার অভিজ্ঞতা ও দ্বান্দ্বিকতাই লেখার প্রাথমিক প্ররোচনা। এযাবৎ চারটি কবিতার বই ও দুটি গদ্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি গ্রন্থভুক্ত কবিতা ও অগ্রন্থিত কবিতা নিয়ে কবিতসমগ্র প্রকাশিত হয়েছে।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ “প্রিয় আততায়ীর প্রতি”(১৯৮২), “বসন্ত সন্ধ্যা ও আত্মগোপনকারী”(১৯৮৭), “দিশা নক্ষত্রের কাল”(১৯৯৬), “একা এক অদৃশ্য”(২০০৯)
আত্মজীবনী মুলক গ্রন্থ “আঁতুড়ঘর” (২০১৩), “ফিরে দেখা এক জন্মকথা” (২০১৮) এবং অতি সম্প্রতি প্রকাশিত “কবিতাসমগ্র” (২০১৯)

কবিতার বিচার বড়ই কঠিন কাজ এবং প্রকৃত কবিতা চেনারও কঠিন বলে মনে করি। রাজা সরকারকে পড়তে গিয়ে আরাম প্রিয় পৃথিবীর মোহভঙ্গ হয়। তাকিয়ে দেখি বাস্তবে রক্তাক্ত উঠান। তিনি বলেন-

‘আলোর বিকারে জন্মেছিল যে কিট, সে এসে দাঁড়িয়েছে এই নিস্প্রভ আলোতে,
হাতে খড়্গ, চোখের জল, ঠোঁটের কোণে রক্ত-
আঁচল ভর্তি মুদ্রা খসে পড়ে, ভিড় হয়, ট্রাফিকে হল্লা, ভাঙ্গে ঘুম
আক্রান্ত মানুষ পালায়, রুগ্ন পিষ্ট হয়, দুর্বৃত্ত লুট করে আরো কিছু।’

#দিশা নক্ষত্রের কাল#

রাজা সরকারের কবিতায় এমনিভাবে দেখতে পাই সমাজ, সংসার ও ধর্ম কাঠামোয় নানাবিধ আগ্রাসনের ছায়া। যেখানে আবেগোত্থিত অনুভূতি, উপলব্ধি ও জীবনের নির্মম বাস্তবতা ধরা দিয়েছে। গূঢ় পর্যবেক্ষণ ও বিচার বিশ্লেষণের দক্ষতা দিয়ে তিনি নিজস্ব বয়ানে তাঁর কবিতাতীর্থে নব রূপায়ন ঘটিয়েছেন। তিনি তাঁর কবিতায় বলেন-

‘এটা সৌভাগ্যের যে তুমি বাইনারি শনাক্ত করে ফেলেছো। রক্তের প্লাজমা নিয়ে গবেষণা, মৌলতত্ত্ব, অনুপরমানুর ঝড়- চুইয়ে পড়া ফিদেল হাসিতে তুমি এসিড পোড়া নারীর কাছে জানতে চেয়েছো তার অনুভূতি কি রকম?

কিংবা

‘পৃথিবী শুধু মাংসের হয়ে গেলে নখের দ্বারা বোবাছন্দের চাষ হবে। দেহাতীত সবকিছুকে নির্বাসনে রেখে আমরা ছন্দবদ্ধ দেহ নিয়ে উৎসব করতেই পারি…

প্রেতাত্মা ছাড়া শুধু মাংসের সেদ্ধ হয় না আজ’

তিনি কোনদিন মূলধারার লেখক হতে চাননি। প্রচলিত ফ্রেমেবন্দী লেখালিখি তিনি কখনও পছন্দ করেন নি। বরং হাংরি জেনারেশনের লেখালিখি ছিলো তার প্রিয়। হাংরি জেনারেশনের সুভাষ ঘোষ, শৈলেশ্বর ঘোষ, অরুণেশ ঘোষ, বাসুদেব দাশগুপ্ত, সুবো আচার্য’র সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানতে পারা যায়।

যে রোশনাইয়ে তিনি বলে ওঠেন-

‘দাবানল জুড়িয়ে গেলে মৃত্তিকার পিপাসা
রাক্ষস আর কি খাবে – ভালোবাসা
নেশাদল!
অরণ্যে যদি এরপরও বাতি জ্বলে, জেনো ওটা
কোন বেদনার অগ্নি -আমরা সকলেই চিনি তাকে।’

তাঁর কবিতায় আছে দীর্ঘ জীবনযন্ত্রণার ইতিহাস। আছে মৃত্যুর ছায়াছবি। আছে রক্তের হিসেব। তাকে বাল্য বয়সে বাংলাদেশ ছেড়ে উদ্বাস্তু হতে হয়েছে। ট্রাজেডির শুরু মূলত এখানেই। শরনার্থী ক্যাম্পের কষ্টকর জীবনের সাথে তাকে মানিয়ে নিতে হয়েছে। তারপর শিলিগুড়ি। সত্তরের দশকে নকসাল আন্দোলনের আবহ। শেষে কলকাতার জীবন। এই আবর্তনের মধ্যদিয়েই তাকে লেখাপড়া, চাকরি, বিয়ে, সন্তান লালন পালন সহ সবই করতে হয়েছে। জীবনের নানা স্তরে রক্তাক্ত অভিজ্ঞতায় তাঁর দিকদর্শন যেনো আরও প্রকট হয়ে ওঠেছে।

‘রক্ত কি খাবার জিনিস
রক্ত কি খেলার জিনিস
রক্ত কি ফেলার জিনিস

রক্তের দাম
রক্তের ঋণ
রক্ত কি দেখার জিনিস
দাওতো বাবা একটুখানি রক্ত
আঁখি পৃথিবীর স্থলভাগ, মাংসের বিভাজিকা।’

অনেকের মতো কবিযশ পেতে রাজা সরকার তেমন কিছুই করেননি। যশ প্রাপ্তির জন্য কখনো ছুটোছুটি করেননি। স্বভাবে তিনি অত্যন্ত ঘরোয়া ও নির্জন। কিন্তু কবিতায় তিনি অপ্রতিরোধ্য, বিদ্রোহী, সমঝোতা হীন, বেপরোয়া। মিতভাষী এই কবি অকপট বিশ্লেষণে তুলে ধরেছেন দুর্দান্ত কবিতার মাস্তুল।

শেষ সীমান্তে

আমি কারো পূর্বসূরী নই, কিংবা ঐতিহ্যবাহী কোন উত্তরসূরি
আমার মৃত্যু আমারই সঙ্গে ঢেকে দেবে আমার পৃথিবীর ঘাস
আর বিস্মৃতির তলে
আমার হাড়…

আমাকে যারা বিন্দুমাত্র ভালোবেসেছো
তাদের প্রতিও আমি শেষরাতে
আমার নখর সম্মোহন নিয়ে এগিয়ে গেছি
একটানে খুলে ফেলেছি হৃদয়ের কপাট
হৃদয়ের যোনিতে পুঁতেছি আমারই সজীব আত্মার অংশ

আমাকে ভালোবাসার আর যখন কোন অর্থ হয় না
তখনো আমি হাহাকার করে উঠেছি মানুষের জন্য
মানুষের জন্য নিস্তব্ধ নগরীর গুহা থেকে বেরিয়ে এসেছি
হাঁ- খোলা এই সমুদ্রের দিকে
দেখেছি সেই শূন্যতা-
যা আমাকে অনিবার্য আগ্রাসে তুলে নিয়েছে আবার।’

কবির জীবনে যে বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা, তা তাঁর কবিতা ভূবনের অলঙ্কার। জীবনের প্রতি পদক্ষেপে পেয়েছেন রক্ত জড়ানো ঘাট। তবু আজো তিনি সেই বিচ্ছেদ আর মৃত্যুগন্ধময়তায় জন্মদাগের অস্তিত্ব নিয়েই ছুটে চলেছেন। ফেলে আসা বা রেখে আসার ব্যাথাকে কবিতায় ঠাঁই দিয়েছেন।

#
আমাদের রেখে যেতে হবে সীমান্তের চোরাপথ
রেখে যেতে হবে তুমুল যৌন সতর্কতার ভেতর নির্বিকার আত্মহত্যা
শূন্য ভাড়ার তুলে রাখা ছাই আর পাটাতনে গোপন গর্তভরা
আমাদের কঙ্কাল আজও কামনা করে আগুন-হানাদার পেট্রোল-বোমা
আমাদের রেখে যেতে হবে কুঠার, কেটলি আর লবণ
রেখে যেতে হবে না-বাঁধা জ্বালানী কাঠের বোঝা, ময়লা গামছা
রেখে যেতে হবে জং ধরা বল্লম
রেখে যেতে হবে শূন্য ভিটে, আগাছা আর ঘাতকের ছায়াছবি

একরাতে ঈশ্বরকে ঠেলে ফেলে ওঠে এসেছিল ঘাতক একরাতে স্বপ্নের ভেতর গড়ে উঠেছিল কালাপাহাড় একরাতে আগুনের ভেতর দিয়ে ছুটে যাচ্ছিল এক ত্রস্ত কিশোর
একরাতে ভালবাসা ফলের মত ঝুলে পড়েছিল এই গাছে এই গাছে পুড়েছিল মানুষের লোম, ব্যক্তিত্ব, নিচে বাঁধা ছিল শিকারের টোপ।

#এসো সাবধানে
বসন্ত সন্ধ্যা ও আত্মগোপনকারী

জন্মসূত্রের অনৈচ্ছিক ছিন্নতায়, যে নির্মম অভিঘাত তা যেনো তাকে আরো অনুসন্ধানী করেছে। তাইতো তিনি তাঁর কবিতায় বলতে পারেন – ‘বেঁচে থাকার অনেক পথ আছে সব পথ বন্ধ হলে প্রস্তরীভূত হয়ে গেলেও বেঁচে থাকতে পারো।’

তাঁর কবিতায় পাই ঘরের খবর। নিজস্ব আলোর খবর। শক্তির খবর। ধর্ম আর বিদ্রোহে যে ভুল হয় তার ইতিকথা।

#
ধর্ম আর বিদ্রোহে ঘেরা প্রতিটি ঘরেই আমার যাওয়ার কথা
প্রতিটি ঘরেই আছে নিজস্ব আলো আর আঁধারের খেলা
খেলার কথা আমারই-
কোন এক ঘরে কারো সাথে নিষিদ্ধ কড়ি

ধর্ম আর বিদ্রোহের মাঝে আমার ভুল হয়েছিল অসংখ্যবার
আর ভুল হলেই বিতাড়িত হওয়ার সময় ঘনায়
কোন ঘরে থাকে না ঠাঁই
শুধু ভুলগুলি তুলে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া
আর যাওয়ার আগে চোখে পড়ে অন্নজল
এক কোণে ঢাকা পড়ে থাকে ঠান্ডা পাথর।

#দিনাতিপাত
বসন্ত সন্ধ্যা ও আত্মগোপনকারী

শরণার্থী জীবনের স্মৃতি কবির বুকে একটা বেদনার নদী হয়ে ছুটে চলেছে। এ যেন সকল সীমানা অতিক্রম করে গেছে।

#
উপদ্রুত পাহাড় থেকে যারা ফিরে আসেনি
তাদের কোনো স্মৃতি নেই এখানে
শুধু শরণার্থী নিশান
উপদ্রুত দেশ থেকে নিয়ে আসে ভারী বাতাস।

উপদ্রুত বাধার থেকে যারা প্রাণ নিয়ে ফিরে আসে
উপদ্রুত খেয়ে থেকে যারা গান নিয়ে ফিরে আসে
তাদের জন্য জমা আছে সন্ত্রাস
তাদের জন্য জমা আছে কবন্ধ পুলিশ।

উপদ্রুত গ্রাম থেকে ব্যবসা গ্রামের দিকে উড়ে যায় যারা
তাদের জন্য বিনাশ এর গোপন সংকেত
জলাতঙ্ক আর শ্বাসকষ্ট
তাদের জন্য কপাল পোড়া আগুন আর রাক্ষস।

শরীর দিয়ে যারা ভাঙতে চায় পাথর
তাদের জন্য লোহার বন্ধন, রক্তের অভাব
শরীর দিয়ে যারা চ্যালেঞ্জ করে অশরীর
তাদের জন্য ডাইনিঘর, হলুদ লন্ঠন
শরীর দিয়ে যারা ঘিরে ফেলে ভূমিরূপ যৌনরূপ
শরীর দিয়ে যারা চেপে ধরে শব্দ, শব্দনির্মাণ
তাদের জন্য এক রাষ্ট্রবেড়ালের চোখ
তাদের আড়াল করে না কখনো।

যারা দাঙ্গাবাতাসে চিলের কান্না শুনেছিল
তারা আর খুঁজে পায়নি শৈশব-
যারা ফ্লাইওভার থেকে উড়ে গিয়েছিলো শহরতলীর দিকে
যারা পুড়া তেল আর মৃতশহরের ভেতর
জীবনের মারাত্মক হল্ট শুনে স্থবির হয়ে গিয়েছিল
তারা তাদের কিশোর আর কিশোরীদের পায়নি আর।
ভাত আর চামড়ার যুগপৎ গন্ধের ভেতর তাদের রঙিন জামা
রেল লাইন বরাবর শুধু সহস্র মাইল উধাও-

পিপাসায় কাতর পাখিদের সঙ্গে তাদের কি আজও দেখা হয়!

#অনেকগুলি দাবানল এর ইতিহাস
দিশা নক্ষত্রের কাল

#
কবি রাজা সরকার জন্মসন ১৯৫২সালের ১৫ মার্চ। তাঁর আঁতুড়ঘর বাংলাদেশের নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জের শ্রীমন্তপুর গ্রামে। পিতা- নরেন্দ্র চন্দ্র সরকার। মাতা- হেমপ্রভা সরকার। নয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ।

তিনি গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে নেত্রকোণার দত্ত হাই স্কুলে বছর দেড়েকের মত পড়াশোনা করেন। তারপর ১৯৬৪ সালে পরিবারের এক অংশের সঙ্গে বালক বয়সে দেশত্যাগ করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের এক রিফিউজি ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। শুরু হয় শরণার্থী জীবন ।

অতঃপর পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি শহরে স্থানান্তরিত হয়ে ছেদপড়া শিক্ষাজীবনের পুনরায় শুরু করেন। শিক্ষা ও শিক্ষান্তে চাকরি ও সংসারজীবন যাপন করার সূত্রে দীর্ঘ ৩৫ বছর শিলিগুড়িতে বসবাস করেন।
১৯৯৮ সালে শিলিগুড়ি ছেড়ে কলকাতা চলে আসেন। সেই থেকে স্ত্রী বন্দনা সরকারকে নিয়ে কলকাতায় বসবাস । তাঁর একমাত্র কন্যা পূর্বা সরকার ও তার জামাতা বিক্রম বাগচী সহ কাজের সূত্রে বর্তমানে ডেনমার্কে বসবাস করছেন। রাজা সরকার বর্তমানে পড়াশোনা ও লেখালেখির সঙ্গে অবসর জীবনযাপন করছেন।

আজো তিনি হারানো শৈশব খুঁজে বেড়ান। তাঁর অকপট স্বীকারোক্তি, “আমি আমার বিবর্তনের দীর্ঘ সময় ধরে লক্ষ করেছি যে আজো আমি আমার জন্মসূত্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। পারিনি অখন্ড হয়ে যেতে। বর্তমান প্রেক্ষিতে এটা কোন ব্যর্থতা কিনা জানিনা।”

তাঁর স্মৃতিতে আজো, শ্রীমন্তপুর, তাঁর প্রথম শহর নেত্রকোণা। নিউটাউন। দত্ত হাই স্কুলে। নিউটাউনের সিনেমা হল। শৈশবের বন্ধুরা।

জীবনে অসম্ভব জেনেও তিনি নিজের ছোট্ট বৃত্তটিকে সম্পূর্ণ করতে চাইছেন। স্বপ্ন দেখেন কিছু বই ও লেখার সরঞ্জাম সাথে নিয়ে আমৃত্যু জন্মস্থানের গ্রামটিতে বসবাস করছেন। তবে আজো তাকে রায়টের ভয় তাড়া করে কিনা জানা নেই।

আমাদের এই মাটির কবি রাজা সরকারের জন্য গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইলো। প্রার্থনা করি এই মাটির প্রতি তাঁর অন্তরাত্মার যে টান রয়েছে, তা যেনো কোনদিন ছিন্ন না হয়। বাল্যকালে তাঁর ফেলে যাওয়া শ্রীমন্তপুর গ্রাম ও নেত্রকোণা শহর চিরদিন তাঁর স্মৃতি জড়িয়ে ভালোবাসবে, অপেক্ষা করবে।

কবি রাজা সরকার ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন। সচল থাকুক তাঁর কলম। তাঁর জীবন ও কবিতা দীর্ঘজীবী হোক।

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

ত্রিভুজ প্রেম | আনোয়ারা আল্পনা

Sat May 23 , 2020
🌿একটা ত্রিভুজ প্রেমের গল্প বলতে চাই আপনাদের। নিখুঁত ত্রিভুজ প্রেমের গল্প এটা। সিনেমাতে যেমন দেখা যায় দুইটা ছেলে একটা মেয়ের প্রেমে অথবা দুইটা মেয়ে একটা ছেলের প্রেমে পড়ে প্যাঁচ লাগিয়ে দেয়, আমরা ভ্রু কুঁচকে ভাবি দুনিয়ায় কী আর মাইয়া নাই পোলা নাই? তেমন গল্প নয় এটা, এই গল্পের শেষে আপনাদের মনে হবে ত্রিভুজ প্রেম […]
Shares