চূর্ণচিন্তন | ধারাবাহিক গদ্য ১ | মতীন্দ্র সরকার

চূর্ণচিন্তন

ধারাবাহিক গদ্য ১

🌱
মতীন্দ্র সরকার

এক
আলোর গতি প্রতি সেকেণ্ডে একলক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল। নয় কোটি তিরিশ লক্ষ মাইল দূরে যে সূর্য বর্তমান সেখান থেকে সময় ক্ষেপণ করে যে সূর্য আমাদের চোখে পড়ে তা আট মিনিটের আগেকার। তেমনি যে সকল নক্ষত্রকে আমরা রাতের আকাশে প্রত্যক্ষ করছি তাও অনেক অনেক আগেকার। তারা বহু বহু আলোক বর্ষ দূরে অবস্থিত। তার মানে আমরা যে-সব নক্ষত্রকে দেখতে পাচ্ছি তারা কেউ বর্তমানের নয়। হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি বছর আগেকার। তেমনি ধ্রউব নক্ষত্র। সেখান থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে লাগে ৪৭ বছর। তার মানে, আমরা যে ধ্রউব নক্ষত্রকে দেখতে পাচ্ছি তা ৪৭ বছর আগেকার। আজ যদি ধ্রউব নক্ষত্র ধ্বংস হয়ে যায় তবুও তাকে আমরা ৪৭ বছর পর্যন্ত দেখতেই থাকব। তা হলে বলতে হয়, আমরা আকাশে যে সকল নক্ষত্র দেখতে পাচ্ছি তারা সবাই যে বর্তমান আছে তাও নয়। কেউ কেউ আছে, কেউ কেউ নেই। ধ্রউব নক্ষত্রের সাহায্যেই পৃথিবীতে অক্ষাংশ নির্নয় করা হয়েছে। আমরা বাংলা দেশের মানুষ ধ্রউব নক্ষত্রকে আকাশে সাড়ে তেইশ ডিগ্রীর কিছু উপরে দেখতে পাই। অর্থাৎ কর্কট ক্রান্তির সামান্য উত্তরে। বিষুবরেখা সেটাই যেখান থেকে ধ্রউব নক্ষত্রকে জিরো ডিগ্রীতে মানে পায়ের সমতলে দেখা যায়। এর দক্ষিণে গেলে আমরা আর ধ্রউব নক্ষত্রকে দেখতে পাইনা। সেখানে দক্ষিণ গোলার্ধে মকর ক্রান্তি ও অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয় ধ্রউব নক্ষত্রের অনুরূপ একটি নক্ষত্র প্রেক্সিমা সেন্টরাই (নিকটতম নক্ষত্র)- এর সাহায্যে।

দুই
জ্যেতি শব্দের মানে হল আলো। বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডে আলো দান করে সূর্য, চন্দ্র ও গ্রহনক্ষত্র। এদের সম্পর্কিত যে জ্ঞান তাই জ্যেতির্বিদ্যা। প্রকৃতি সম্পর্কে পরিপার্শ্বকে জানার পরেই মানুষ আলোদাতাদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতে শুরু করে। তারা দেখতে পায় প্রতিদিন সূর্য আকাশের এক দিকে উদিত হয়ে অন্য দিকে মিলিয়ে যায়। তারা এদেরই নাম দিয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম। সূর্য যখন মাথার উপরে এসে দাঁড়ায় সেটাই দ্বিপ্রহর। এর মাঝামাঝি যখন থাকে সেটাই প্রথম প্রহর। এভাবেই সূর্যের উদয়-অস্ত চার প্রহরে বিভক্ত। সূর্য অস্তাচলে নেমে গেলে যে নক্ষত্রকে পূর্ব দিগন্তে দেখতে পেয়েছে ও পশ্চিম দিগন্তে অস্ত যেতে দেখেছে তার ভিত্তিতে রাত্রিকেও চারটি প্রহরে ভাগ করেছে। রাতের আকাশে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নক্ষত্রকে পূর্বাকাশে উদিত হয়ে পশ্চিমাকাশে অস্ত যেতে দেখেছে বলেই ১২শ নক্ষত্রকে চিহ্নিত করে তাদের নাম দিয়েছে : মৃগশিরা, পুষ্যা, মঘা, ফাল্গুনী, চিত্রা, বিশাখা, জ্যেষ্ঠা, পূর্বষাঢ়া, শ্রবণা, ভদ্রা, অশ্বিনা ও কৃত্তিকা। এদের নামেই মাসগুলি চিহ্নিত করেছে। রাত্রিবেলায় চন্দ্রকে উদিত হতে দেখে , অমাবশ্যা থেকে শুরু করে ১৫ দিনে চাঁদকে পূর্ণ হতে দেখে নাম দিয়েছে পূর্ণিমা। এভাবে গণনা করেছে চান্দ্রমাস। উত্তর আকাশে একটি নক্ষত্রকে স্থির হয়ে থাকতে দেখে নাম দিয়েছে ধ্রউব। অর্থাৎ চিরন্তন। ধ্রউব নক্ষত্র চিরদিন এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকে। মানুষ এভাবেই সভ্যতার পথে নক্ষত্রের সাহায্যে দিন, মাস, ক্ষণ গণনা করতে অভ্যস্ত হয়েছে। সপ্তাহ তথা সপ্ত অহ বা দিবসকে সাতটি নক্ষত্রের সমন্বয়েই নামকরণ করেছে, আর সেগুলি হল : রবি(সূর্য), সোম(চন্দ্র), মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনি। এভাবেই জ্যোতির্বিদ্যার উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ।

তিন
‘মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে/ মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই/ এই ছায়া রৌদ্রকরে এই পুষ্পিত কাননে/ জীবন্ত হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই’। আমরা সবাই বাঁচতে চাই, কিন্তু জীবজগতের সকলের বাঁচা আর মানুষের বাঁচার মাঝে দুস্তর ব্যবধান। প্রকৃতির কোল-ঘেঁসা সকল জীব প্রজাতি নিজেকে নিয়েই বিব্রত থাকে, আত্মরক্ষাই তাদের স্বভাবের অন্তর্গত। কিন্তু মানুষ কেবল নিজে বাঁচতে চায়না, অন্যকেও বাঁচাতে চায়, অন্যের মাঝে বিস্তৃত হয়ে বাঁচতে চায়। এ-বাঁচা কেবলমাত্র দৈহিক ভাবে বাঁচা নয়, আত্মিকভাবে বাঁচা। অর্থাৎ মানুষের চিন্তা-চেতনায় ধৃত হয়ে বাঁচা। ‘প্রচুর ভাবে বাঁচা, গভীর ভাবে বাঁচা, বিশ্বের সংগে বুকে বুক মিলিয়ে বাঁচা’।এ-বেঁচে থাকার তাৎপর্য অন্য রকম। মানুষের চিন্তা-চেতনার সংগে বেঁচে থাকার মাঝখান দিয়েই মানুষ সামাজিক আর মানবিক। এ-দুটো স্তর একে অন্যের পরিপূরক। আমার চিন্তা-ভাবনা দিয়ে যখন আমি মানুষকে সমৃদ্ধ করতে পারি, সে বাঁচাই মহোত্তম ভাবে বাঁচা। কবি, বিজ্ঞানী, দার্শনিক এবাবেই বাঁচেন। সকলের সংগে মিলে বাঁচেন, সকলের হৃদয়ে প্রীতি-ভালবাসা-শ্রদ্ধায় বাঁচেন। যাঁর কাছে গভীর ভাবে ঋণী তাকেই আমি আমার হৃদয়ে ধারণ করি, ভালবাসি, শ্রদ্ধায়-ভক্তিতে অভিষিক্ত করি। এটাই আমাদের সামাজিকতা। এ-সামাজিকতা, দেশ থেকে দেশান্তরে, কাল থেকে কালান্তরে মানুষকে সংযুক্ত করে। মানুষ ছোট না-থেকে অনেক বড় হয়, বর্জনে আর অর্জনে ধন্য হয়।

চার
মানুষের জন্য খাদ্য অত্যাবশ্যক। সকল জীব-প্রজাতির জন্যই খাদ্যের প্রয়োজন। খাদ্য সকল জীবই আহরণ করে। এমন কী বৃক্ষও পাদপ রূপে ভূমি থেকে খাদ্য আহরণ করে। অর্থাৎ পা দিয়ে খাদ্য আহরণ করে বলেই বৃক্ষ পাদপ। তারপর সে খাদ্য বৃক্ষ বা উদ্ভিদ পাতায় সঞ্চালিত করে তাকে খাদ্যে রূপান্তরিত করে নিজের যেমন প্রয়োজন মিটায় তেমনি সকল জীব-প্রজাতির জন্য খাদ্য তার পাতায়, ডালে, মূলে, বীজে সংরক্ষণ করে। এমন কী বৃক্ষের বা উদ্ভিদের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ পন্থায় অক্সিজেন বা অম্লযান উৎপাদিত হয় যা উদ্ভিদ ভিন্ন অন্য প্রাণীর বেঁচে থাকার প্রাথমিক প্রয়োজন মিটায়। সকল জীব-প্রজাতির মাঝে মানুষ প্রাথমিক ভাবে অরণ্যজীবী হিসাবে খাদ্য আহরণ করে জীবনধারণ করেছে। কিন্তু কালক্রমে মানুষ উদ্ভিদকে নানাভাবে কাজে লাগিয়ে তার প্রয়োজনীয় খাদ্য যেমন বৃদ্ধি করেছে তেমনি খাদ্যের নানা প্রক্রিয়া সাধন করে উদ্ভিদের খাদ্য-উৎপাদন প্রক্রিয়া বহুগুণ বাড়িয়ে চলেছে। বহু জীব-প্রজাতি তার সহোদর প্রতীম অন্য প্রজাতির দেহে সঞ্চিত খাদ্যও গ্রহণ করে এবং তার বৃদ্ধি সংসাধন করে। যেমন মাছ মাংস বা দুগ্ধও মানুষ গ্রহণ করে যার উৎসমূল উদ্ভিদ। মানুষের খাদ্য তাই উদ্ভিদ বা প্রাণীজাত হলেও প্রাথমিক উৎস উদ্ভিদ। অর্থাৎ মানুষের সকল খাদ্যই প্রাকৃতিক উৎসজাত। প্রকৃতিকে মানুষ তার প্রয়োজনে অধিক থেকে অধিকতর খাদ্য উৎপাদনে বাধ্য করে। এটাই মানুষের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত কর্মপ্রয়াস।

পাঁচ
জীবনকে যাপনের জন্য নানা ভাবে প্রয়াস চালাতে হয়। সকল জীবকে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার পথ ধরেই আমরা ব্যক্তি মানুষ পৃথিবীতে কিছুকাল টিকে থাকতে সক্ষম হই। মানুষের জীবনকে যাপনের জন্য নানা আয়োজনের প্রয়োজন হয়। পারস্পরিক সহযোগিতাতেই তা লব্ধ হয়ে থাকে। এটাই মানুষের সভ্যতা,এটাই মানুষের সংস্কৃতি। এতদিন মানুষের প্রযুক্তি ও বিভিন্ন আয়োজনের যে পরিবর্তন ঘটেছে তা খুবই ধীর গতিতে। বর্তমানে তার পরিবর্তন জ্যামিতিক প্রক্রিয়ায়। দ্রুত থেকে দ্রুততর হয়ে যাচ্ছে মানুষের উৎপাদন প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতা। যে কোন দেশ থেকে পণ্য ও প্রযুক্তি যে কোন দেশে পৌছে যাচ্ছে অত্যন্ত স্বল্প সময়ে। ব্যবসায়ীগণ তাদের পণ্যকে অন্যের সমীপবরতী করার জন্য প্রতিনিয়ত যে প্রয়াস চালাচ্ছে বিজ্ঞপ্তির মারফত, তারই জন্য তারা উন্নততর করছে টেলিভিশান নামক যন্ত্রটিকে। এর মাধ্যমে মানুষের জ্ঞান প্রতি নিয়ত দিক থেকে দিগন্ত অভিমুখে ছড়িয়ে পড়ছে ও মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেবল মাত্র ইস্কুল কলেজের মাঝে মানুষের জ্ঞান আর সীমাবদধ থাকছেনা। দৃষ্টি ছড়িয়ে পড়ছে নানা দিকে। এর জন্য কেউ আর মানুষকে সীমিত করে রাখতে সক্ষম হবে না।

ছয়
মানবচিন্তার উৎস ও ক্রমবিকাশ পারিপার্শ্বিকতা ও সামাজিকতা জাত। মানুষ যা চক্ষুতে দেখতে পায় তা যেমন নিত্য পরিবর্তনশীল, তেমনি যা শ্রবণ করে তাতেও পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা। সে জন্য তাকে যেমন জানতে হয় তেমনি মানতে হয়। একেকটি পর্যায়ে দেশে ও কালে যেমন পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে, তেমনি তাকে মেনে নিয়েই অগ্রসর হতে হয়। অধিকাংশ মানুষ স্থয়িত্ব বিধানে বিশ্বাসী। কিন্তু তার মাঝেও যে প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তন ঘটতে থাকে এবং তার সঙ্গে যে তাল মেলাতে হবে সেটা বুঝতে পারে খুব কম মানুষ। অতীতই ভাল ছিলো, এমন উপলব্ধি প্রচার করা সহজ হলেও তাকে ধরে রাখা বা ফিরিয়ে আনা যায়না। সেটি অপপ্রয়াস। আধুনিক বাংলা পরিভাষায় প্রতিক্রিয়াশীলতা বা গোড়াবাদ। প্রকৃষট গতি বা প্রগতিকে মেনে নিয়েই অগ্রসর হতে হবে। যারা প্রগতিকে মেনে নেয়ার শক্তি অর্জন করতে পেরেছে তারাই ভবিষ্যৎকে দেখতে পায় ও সমাজকে অগ্রসর হবার পথ দেখাতে পারে।

সাত
আলোর সাহায্যে আমরা পরিপার্শবকে প্রত্যক্ষ করি। মানুষের জন্য এটি জ্ঞান আহরণের উপায়। চারদিক দেখে দেখেই আমরা উপলব্দি করি যে জগৎ বস্তুরাজিতে পরিপূর্ণ। ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ, ব্যোম, সর্বত্র প্রাকৃতিক নানা বৈচিত্র্যে ভরপুর। এর বিভিন্নতা একমাত্র মানুষেরই প্রত্যক্ষ গোচর। অন্যান্য প্রাণী এর মাঝে অবস্থান করলেও মানুষের মত তাদের উপলব্ধি নয়। মানুষ প্রাকৃতিক বস্তুপুঞ্জকে কথা দ্বারা বা শব্দ দ্বারা চিহ্নিত করে। কখনো এ চিহ্নায়ন স্বতন্ত্র ভাবে, কখনো সম্মিলিত ভাবে। আমরা যখন পার্থিব অবস্থাকে চিহ্নিত করি তখন বলি ক্ষিতি, মাটি বা ভূমণ্ডল। এর মাঝে জল-বায়ুকে জানি আলাদা ভাবে। বৃক্ষ-লতা উচ্চারণ করে বৈচিত্র্যকে উপলব্ধি করি। উদ্ভিদ বলে যা বোঝাতে পারি তাতে বৃক্ষ-লতা যেন আলাদা হয়ে যায়। প্রতিটি ভাষার প্রতিটি শব্দ নতুন নতুন বৈশিষ্ট্যকে জ্ঞাপন করে। আমরা মানুষকে চিহ্নিত করি কেবল মাত্র একটি স্বতন্ত্র জীব হিসাবে নয়, তার অনেক অনেক বৈশিষ্ট্য আমাদের উপলব্ধিকে উদ্ভাসিত করে। দিনে দিনে বিজ্ঞানের বদৌলতে আমাদের উপলব্ধির জগৎ ক্রমশ বৃহৎ থেকে বৃহত্তরের দিকে ধাবমান। মানুষের দৃষ্টি তখন আর কেবল প্রত্যক্ষ থাকেনা উপলব্ধির জগতে অনুপ্রবেশ করে।

আট
’জীবন-মৃত্যু পয়ের ভৃত্য চিত্ত ভাবনা হীন’ । মানুষ যেমন জন্ম গ্রহণ করে তেমনি মৃত্যুমুখে পতিত হয়। পরিবারের লোকজন নতুনের আগমনে উল্লাস প্রকাশ করে, কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হলে দুঃখে নিমগ্ন হয়। ব্যাপারগুলো কিছুটা প্রাকৃতিক কিছুটা সামাজিক। পশুপাখির মাঝে স্নেহ-মায়া-মমতা যেমন স্বাভাবিক , সন্তান ভিন্ন অন্য কেউ আহত হলে কিংবা মারা গেলে তত বেশি বেদনাবোধ দেখা দেয় না। মানুষের ক্ষেত্রে এটা অনেক বেশি তীব্র। পাখিদের মাঝে দেখা যায় , কাক কোন একটি স্বজাতীয় কাক আহত হলে সকরে মিলে চিৎকার করতে থাকে। গরু, ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া, কুকুর-বেরাল নির্ভরশীল সন্তান ভিন্ন অন্য কারো বেদনায় কাতর হয় না। মানুষ হয়ে থাকে। ঘনিষ্ট স্বজন যেমন অন্যের জৃন্য কান্নাকাটি করে, অন্যেরা বন্ধু-বান্ধব , আত্মীয় পরিজন সামাজিক ভাবে কিছু নিয়মনীতি পালন করে পারস্পরিক সহায়তা জানায়। সেখানে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ যত বড় হয়, মায়া-মমতা তত নয়।মানুষ মানুষকে হত্যা করে,নিগ্রহ করে, এমন কি অন্যকে হত্যা বা অত্যাচারিত করে উল্লাস পর্যন্ত প্রকাশ করে। এর মাঝে একদিকে যেমন সৌজন্য বোধ কাজ করে, তেমনি স্বার্থবুদ্ধিও প্রকট হয়ে উঠে। পশু-পাখির মাঝে এমনটি বড় বেশি দেখা যায় না।০০০০০’জীবন-মৃত্যু পয়ের ভৃত্য চিত্ত ভাবনা হীন’ । মানুষ যেমন জন্ম গ্রহণ করে তেমনি মৃত্যুমুখে পতিত হয়। পরিবারের লোকজন নতুনের আগমনে উল্লাস প্রকাশ করে, কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হলে দুঃখে নিমগ্ন হয়। ব্যাপারগুলো কিছুটা প্রাকৃতিক কিছুটা সামাজিক। পশুপাখির মাঝে স্নেহ-মায়া-মমতা যেমন স্বাভাবিক , সন্তান ভিন্ন অন্য কেউ আহত হলে কিংবা মারা গেলে তত বেশি বেদনাবোধ দেখা দেয় না। মানুষের ক্ষেত্রে এটা অনেক বেশি তীব্র। পাখিদের মাঝে দেখা যায় , কাক কোন একটি স্বজাতীয় কাক আহত হলে সকরে মিলে চিৎকার করতে থাকে। গরু, ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া, কুকুর-বেরাল নির্ভরশীল সন্তান ভিন্ন অন্য কারো বেদনায় কাতর হয় না। মানুষ হয়ে থাকে। ঘনিষ্ট স্বজন যেমন অন্যের জৃন্য কান্নাকাটি করে, অন্যেরা বন্ধু-বান্ধব , আত্মীয় পরিজন সামাজিক ভাবে কিছু নিয়মনীতি পালন করে পারস্পরিক সহায়তা জানায়। সেখানে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ যত বড় হয়, মায়া-মমতা তত নয়।মানুষ মানুষকে হত্যা করে,নিগ্রহ করে, এমন কি অন্যকে হত্যা বা অত্যাচারিত করে উল্লাস পর্যন্ত প্রকাশ করে। এর মাঝে একদিকে যেমন সৌজন্য বোধ কাজ করে, তেমনি স্বার্থবুদ্ধিও প্রকট হয়ে উঠে। পশু-পাখির মাঝে এমনটি বড় বেশি দেখা যায় না।০০০০০’জীবন-মৃত্যু পয়ের ভৃত্য চিত্ত ভাবনা হীন’ । মানুষ যেমন জন্ম গ্রহণ করে তেমনি মৃত্যুমুখে পতিত হয়। পরিবারের লোকজন নতুনের আগমনে উল্লাস প্রকাশ করে, কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হলে দুঃখে নিমগ্ন হয়। ব্যাপারগুলো কিছুটা প্রাকৃতিক কিছুটা সামাজিক। পশুপাখির মাঝে স্নেহ-মায়া-মমতা যেমন স্বাভাবিক , সন্তান ভিন্ন অন্য কেউ আহত হলে কিংবা মারা গেলে তত বেশি বেদনাবোধ দেখা দেয় না। মানুষের ক্ষেত্রে এটা অনেক বেশি তীব্র। পাখিদের মাঝে দেখা যায় , কাক কোন একটি স্বজাতীয় কাক আহত হলে সকরে মিলে চিৎকার করতে থাকে। গরু, ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া, কুকুর-বেরাল নির্ভরশীল সন্তান ভিন্ন অন্য কারো বেদনায় কাতর হয় না। মানুষ হয়ে থাকে। ঘনিষ্ট স্বজন যেমন অন্যের জৃন্য কান্নাকাটি করে, অন্যেরা বন্ধু-বান্ধব , আত্মীয় পরিজন সামাজিক ভাবে কিছু নিয়মনীতি পালন করে পারস্পরিক সহায়তা জানায়। সেখানে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ যত বড় হয়, মায়া-মমতা তত নয়।মানুষ মানুষকে হত্যা করে,নিগ্রহ করে, এমন কি অন্যকে হত্যা বা অত্যাচারিত করে উল্লাস পর্যন্ত প্রকাশ করে। এর মাঝে একদিকে যেমন সৌজন্য বোধ কাজ করে, তেমনি স্বার্থবুদ্ধিও প্রকট হয়ে উঠে। পশু-পাখির মাঝে এমনটি বড় বেশি দেখা যায় না।

নয়
মন থেকেই মান, তা থেকেই মানুষ। লোক প্রবাদ: ‘মান এবং হুঁস(পারশী শব্দ) আছে যার সেই মানুষ’। অর্থাৎ সবাই মানুষ নয়, কেউ কেউ মানুষ।সত্য বটে মানুষ একটি জীব-প্রজাতি। মানব সন্তানই মানুষ। গরুর বাচ্চা যেমন গরু, তেমনি। কিন্তু মানুষ নাকি হতে হয় অনেক চেষ্টা করে। অনেকের দানে এবং ধ্যানেই মানব সন্তান মানুষ হয়।মানুষকে মনুষ্যত্ব অর্জন করেই মানুষ হতে হয়। মনুষ্যত্ব কেবল অর্থবাচক শব্দ নয়, সংজ্ঞাবাচক শব্দ। সকলের সংগে একাত্ম হয়ে উঠাতেই মনুষ্যত্ব। বলাচলে আত্ম-স্বার্থের চেয়ে সকলের স্বার্থের মাঝে নিজেকে উপলব্ধি করার নামই মনুষ্যত্ব। আমরা যে সমাজে বাস করি সেখানে যেমন স্বার্থপরতা আছে তেমনি আছে পরার্থপরতা। মনের অজান্তে হলেও আমরা সকলের সংগে সন্নিহিত, সম্পর্কযুক্ত। ভাষাই হল মানব-জীবনে প্রবেশের সোপান। ভাষা ব্যক্তির নয় সমাজের। ভাষার পথধরে মানুষে মানুষে যে মিলন তাই-ই মহামিলনের সূত্রপাত। ভাষা ব্যক্তিকে চিন্তা করতে শেখায়, গ্রহণ করতে অনুপ্রাণীত করে, চিন্তায় উদবুদ্ধ করে। সমাজকে স্বীকার করে নিয়েই মানুষ মানুষ হয়, যাথার্থ্যে মণ্ডিত হয়।সমাজ থেকে অজস্র পাওয়ার পরেও যখন কেউ সমাজকে আঘাত করে , মানুষকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তখনই আমরা তাকে বলি অমানুষ। অর্থাৎ মনুষ্যেতর প্রাণী। সমাজে বাস করেও সমাজকে বিস্মৃত হওয়া অমানুষতার লক্ষণ-আক্রান্ত। মানুষ হওযার যেমন সীমা-পরিসীমা নেই তেমনি অমানুষ হওয়ারও কোন শেষ নেই। ভাল মানুষ আর মন্দ মানুষ বলে সহজ-সরল বাক বিন্যাসে আমরা যাদেরকে আখ্যায়িত করি তারা দেশ-কাল নিরপেক্ষ নয়।সমাজের মাপকাঠির বাইরে নয়। সমাজ বদলে গেলে বা সমাজের গণ্ডিকে অতিক্রম করলেই ভাল মানুষ মন্দ হয়ে যায়। শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি অশ্রদ্ধায় ধিকৃত হন। তার বিপরীতটাও ঘটে থাকে। মানুষ আহরিত জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়। কিন্তু এ-পথটি বড় সহজ নয়, অনেক বাধা-বিপত্তি আর সীমাবদ্ধতা কাটিয়েই সত্যের সমীপবর্তী হতে হয়। সত্যকে দর্শন আর উপলব্ধির জন্য যে পথে হাঁটতে হয় তা আত্মস্বার্থবিযুক্ত বন্ধুর ও কণ্টকাকীর্ণ। প্রতিটি সত্যই অন্য আরেকটি সত্যের দ্বার খুলে দেয়। এপথ অন্তহীন। লাভালাভ আর ব্যক্তি-স্বার্থের গণ্ডিকে অতিক্রম করতে না-পারলে মনুষ্যত্ব সার্থকতায় মণ্ডিত হয় না। প্রতিটি জীব যেমন তার জীবত্বেই সম্পূর্ণ নয়, তেমনি মানুষ কেবল মানুষেই সীমাবদ্ধ নয়। তার পরিপার্শ্ব, সকল জৈব ও অজৈব পদার্থ এবং অপদার্থ বা ভাবের জগতে তার চিন্তা পরিব্যাপ্ত। মানুষ তার ক্ষুদ্র সামর্থ্যে তার চিন্তাকে কেবল আপন প্রজাতির মাঝে না-রেখে পৃথিবীর সকল প্রজাতির কল্যাণ ভাবনাকেও সাঙ্গীকৃত করে নিয়েই অগ্রসর হয়ে চলেছে। এখানেই সীমাবদ্ধ মানুষ আর মনুষ্যত্বের সার্থকতা।

দশ
পাঠ থেকেই পড়া শব্দটির উদ্ভব। পড়া মানে বই দেখে মুখে বলাই মাত্র নয়। পড়া মানে হলো যা শোনা হয়েছে তাই মুখে বলা। এর ফলে যা শোনা হয়েছে তা আত্মস্থ হয়েছে কি না তা বোঝা যাবে। এটাই পড়া-শোনা। মানুষের জীবনে পড়া-শোনার গুরুত্ব অপরিসীম। পড়া-শোনার ভেতর দিয়েই মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি ও মেধার বিকাশ ঘটে। শোনার পথ ধরেই মানুষের চিন্তা-চেতনার বিকাশ ও বিবৃদ্ধি। মানুষ যা শুনতে পায় তাই তার উর্বর মস্তিষ্কে নতুন চিন্তা-চেতনার জন্ম দেয়। সে চিন্তা-চেতনাই নতুন বিজ্ঞান ও ক্রিয়া-কর্মের উদভাবন ঘটায়।

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

জালালউদ্দিন রুমির কথামঞ্জরি | ভাষান্তর : মুহম্মদ ইমদাদ

Sun May 24 , 2020
জালালউদ্দিন রুমির কথামঞ্জরি 🌱 ভাষান্তর : মুহম্মদ ইমদাদ জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি (১২০৭ – ১৭ ডিসেম্বর ১২৭৩) ছিলেন ১৩শতকের একজন ফার্সি মুসলিম কবি, আইনজ্ঞ, ইসলামি ব্যক্তিত্ব, ধর্মতাত্ত্বিক, অতীন্দ্রিবাদী এবং সুফী। পুরো মুসলিম বিশ্ব যাপন করছে তাঁর আধ্যাত্মিক উত্তোরাধিকার। রুমির প্রভাব পারস্যের সীমানা এবং জাতিগত পরিমণ্ডল ছাড়িয়ে বিশ্বদরবারে ছড়িয়ে পড়েছে; ফার্সি, […]
Shares