বকুল একটা অভিমানী জল | কাজী নাসির মামুন

বকুল একটা অভিমানী জল

 ~ কাজী নাসির মামুন

🌱

বকুলের গল্পগুলো দুমড়ানো

কাগজের ব্যথা নিয়ে সামনে দাঁড়ায়।

বলে, আলো দেন। আমি বলি, লগ্ন হোক।

এই নভো অন্ধকার আমাদের নিজস্ব খরিদ।

একদিন বিক্রি হবে। আজ হোক একাকীত্ব বরণ।

বকুল একটা অভিমানী জল। চুইয়ে পড়ছে।

যার স্পর্শ আমার কান্নার মর্মমধু, বলীয়ান।

 

কিছুদিন আগে লিখেছিলাম। পূর্ণাঙ্গ কবিতাটা একটা ওয়েবম্যাগে ছাপাও হয়েছে। আজ Talukder Shakhawat Bakul এর বইটি হাতে নিয়ে লাইনগুলো প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠলো। ‘ফাঁসির দূরত্বে থাকা মানুষ’ যেন মৃত্যুর নৈকট্যে থাকা মানুষকেই ইঙ্গিত করছে। ফাঁসির দূরত্বে থাকা মানুষটি একটা লোককে খুন করে। কিন্তু খুনের কারণ সে নিজেই জানে না। তার শুধু মনে হয়েছে, যাকে খুন করা হয়েছে সে অপরাধী। কি অপরাধ তা সে জানে না। এটা তার অনুমান। সমাজে নিরপরাধ মানুষের অহেতু মৃত্যুর যে অবস্থা বিরাজমান, তার প্রতীকি ব্যঞ্জনা গল্পটিকে সময়চেতনায় গাঢ় করে তুলেছে। করোনাকালের মৃত্যুগন্ধী সময়ে ভীতির যে-মনস্তত্ত্ব আমরা লালন করছি, তা হয়তো কাটবে। কিছুটা সময় নেবে হয়তো। কিন্তু বকুলের গল্পের ফাঁসির দূরত্বে থাকা মানুষেরা সমাজে যে শঙ্কার পরিস্থিতি তৈরি করে তার থেকে মুক্তি সুদূরপ্রসারি। বাকি গল্পগুলো আমি পড়ে ফেলবো আশা করি। তবে নাম গল্পটিতে তার চিন্তার পরিপক্কতা গাঢ় হয়ে উঠেছে। এই গল্প পড়ে নির্মল সমাজের জন্য আমার মন আঁকুপাঁকু করে।

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

আমার ময়মনসিংহ যাত্রা | অমর মিত্র  

Mon May 25 , 2020
আমার ময়মনসিংহ যাত্রা | অমর মিত্র 🌱 ময়মনসিংহের গীতি কাব্য নিয়ে নাটক হয়েছে কলকাতায়। অনেক বছর আগে বিভাস চক্রবর্তী নির্মাণ করেছিলেন মাধব মালঞ্চী কইন্যা, তারপরে আরও একটি নাটক হয়েছিল ময়মনসিংহ গীতিকা নিয়ে। তা ময়মনসিংহ গীতিকার এক অংশ নিয়েই নির্মাণ করা হয়েছিল। তার বাইরে যায়নি। পালার গল্পই এসেছিল কলকাতার  মঞ্চে। আমি […]
Shares