শাহজাহান কবীর স্যারের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি | সরোজ মোস্তফা

শাহজাহান কবীর স্যারের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি | সরোজ মোস্তফা

🌱

দার্শনিক স্কুল না থাকায় মিথে কিংবা কিংবদন্তির পরিচর্যায় আমাদের  পূর্বপুরুষেরা  নির্জনে কয়েক পুরুষ বাঁচেন। লক্ষ্যে কিংবা অলক্ষ্যে গ্রাম কিংবা শহরের নির্জন গলিতে কোন শিষ্য-প্রশিষ্যরা বলতে থাকেন গুরুর পাঠ ও ব্যক্তিত্ব। গুরুকে তারা হারিয়ে যেতে দেন না। একলব্যের মতো প্রমূর্তি গড়তে গড়তে তারা গুরুর শ্রুতিবিদ্যা নির্ভর জ্ঞানকে, স্টাইল ও প্রকৌশলকে পরপুরুষের মন ও মননে ছড়িয়ে দিতে চান। দৃষ্টি ও বিশ্বাসে ভারতীয় ঐতিহ্যে এটাকেই বলে পরম্পরাগত জ্ঞানচর্চা। তারপর ঠাকুর মা কিংবা গ্রামবৃদ্ধরা তারাজ্বলা আকাশের নীচে যে ভাবে গল্প বলতেন সেই গল্পেরও উপযোগিতা শেষ হয়। নতুন ধরণের গল্প-কাহিনি, কিংবা রঙের ভেতরে রঙ মাখিয়ে আসে একটা নতুন জেনারেশন। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় নিজস্ব ঝাণ্ডায় একটা জেনারেশন প্রাচীন পুরুষের সবকিছুকে অস্বীকার করে। এটাই সত্য যে একটা জেনারেশন আরেকটা জেনারেশনের সাথে বিপ্লব করে না। বরং পরম্পরাগত জ্ঞানের ঐতিহ্যেই তৈরি হয় নতুন দিনের ইয়ংবেঙ্গল। মনে রাখতে হবে শিক্ষক ছাড়া কখনো ইয়ংবেঙ্গল তৈরি হয় না। এটাও মনে রাখতে হবে যাদের পরিচর্যায়‌ ইয়ংবেঙ্গল তৈরি হয় তারা কেউ আয়-রোজকার নির্ভর কিংবা চেয়ারে বসার তথাকথিত শিক্ষকতার ভেতরে থাকেন না। প্রচলিত মাস্টারির ভেতরে বিদ্যাসাগর, রামমোহন, আব্দুর রাজ্জাক কিংবা সরদার ফজলুল করিম থাকেননি। জ্ঞানে-নির্জ্ঞানে শিক্ষকেরা সময়ের একটা প্রজ্ঞান তৈরি করেন। অনুধাবনের সেই প্রজ্ঞানটা আলো ছড়াতে থাকে। শিক্ষকের অস্তিত্ব তাই অবলুপ্ত হয় না। শবযাত্রায় কেউ না কেউ কাঁধ দেন। কাঁধ দেয়ার নিয়মটা শুধু সামাজিক নয়; এই করোনাকালে আরো স্পষ্ট হয়েছে যে কাঁধ দেওয়ার ব্যাপারটা দায়িত্বের। এই করোনাকালে মা-বাবা-ভাই-বোন যখন ছুঁতে চাইছেন না স্বজনের লাশ, সমাজ দিতে চাইছে না জানাজা কিংবা কবরের মাটি; তখন চার-পাঁচজন পুলিশ কিংবা কয়েকজন অকৃতদার স্বেচ্ছাসেবী সেই লাশ দাফন করছে।  অসুস্থ সময়কে এভাবেই কাঁধে নিতে হয়। রবীন্দ্রনাথ যে ভাবে প্রশ্ন করেন ‘কে লইবে মোর কার্যখানি’? প্রকৃত শিক্ষক কিংবা কর্মী এভাবে কখনো প্রশ্ন করেন না। মর্গে অথবা সৎকারে অনেকেই ভাবেন জীবন কী ভীষণ অপচয়! বিমর্ষতায় আছন্ন না থেকে অবসরহীন জীবনটা সময় ও  শিক্ষার্থীর কাছে রেখে গেছেন আমার শিক্ষক প্রফেসর কে, এম শাহজাহান কবীর। তিনি জানতেন কেউনা কেউ বহন করেন অগ্রজের পাঠ ও প্রকৃতি। প্রকৃতিতে বাঁচা না-বাঁচার কিছু নেই। প্রকৃতিকে যাপন করার শিক্ষাটা তিনি অনুজের কাছে রেখে গেছেন। আমাদের এই মগরা পাড়ের প্রজন্মকে ধাবমান জগতের শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে জাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি । স্যার বলতেন জ্ঞান ও সুর মানুষের মনকে পবিত্র করে। মন পবিত্র না থাকলে পৃথিবীর দর্শন ও ইতিহাসকে ধারণ ও বিশ্লেষণ করা যায় না। 

 

দুই

নিয়মের মাটির জাহাজে ঘুমিয়েছেন আমার শিক্ষক প্রফেসর কে, এম শাহজাহান কবীর। ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই তিনি পৃথিবী ছেড়েছেন। ছোট্ট শহরের নিভৃত রাস্তায় তিনি খুব ধীরে ধীরে হাঁটতেন। এই পদক্ষেপ শান্ত কিন্তু দৃঢ় এই পদক্ষেপে একটা সৌন্দর্য ছিলো। ছিলো নিঁখুত স্টাইল আর বড় বৃক্ষের আদর। সেই ১৯৯৩ সালে কলেজের নম্বর কক্ষে ছোট এই মানুষটা ক্লাসে এলে আমরা তাকিয়ে থাকতাম। ভেতরের সমস্ত সুন্দর দিয়ে কথা বলতেন তিনি। পুরো ক্লাসরুমটায় হাঁটতেন। মাঝে মাঝে লেকচার টেবিলের দিকে ঝুঁকে ক্লাসের দিকে তাকাতেন। পৌরনীতির ভেতর থেকে রাষ্ট্র ও মানব সভ্যতার ইতিহাস বলতেন। উঁনার কথা হয়তো আমাদের মাথার উপর দিয়ে যেতো; কিন্তু আমরা বুঝে না বুঝে উঁনার দিকেই তাকিয়ে থাকতাম।

সম্ভবত স্কুলেই উঁনার নাম শুনেছিলাম। মনে হয় স্কুলের ফাংশনে তিনি এসেছিলেন। কথায় কথায় স্কুলের কোন স্যারই হয়তো বলছিলেন ‘শুধু নেত্রকোণা উচ্চ বিদ্যালয় নয়, পাবলিক লাইব্রেরি, শিল্পকলা একাডেমি, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ নানান ধরণের সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি যুক্ত’। জীবনের প্রায় পুরো সময়টা তিনি এই শহরকে দিয়ে গেলেন। তরুণ শিক্ষার্থীদের সাথে মিশতে মিশতে, সংস্কৃতি ও স্বপ্নের কথা বলতে বলতে, স্বপ্ন বুনতে বুনতে একসময় তিনি শহর ছাড়লেন। আমার মনে হয় মানুষটার একটা আশ্চর্য অভিমান ছিলো। হৃদয়-গভীরে লেখা এই অভিমানের খাতা কে আর খুলবে আজ! 

না-কি ছিলো না কোন অভিমান! হয়তো, কোন কিছুকেই ধরে রাখতে চাইতেন না তিনি। নেত্রকোণা ছেড়ে গেলেন তো একেবারেই গেলেন। এমনকি বড় পুকুর পাড়ের উনার বাসাটাও বিক্রি করে দিলেন। একি কামিনী ফুলের সাদা অভিমান!; না-কি আরো দূরে অন্য আয়োজনে নিজেকেই খুঁজে দেখা।

তিন

প্রতিবার তরুণকণ্ঠে কথা বলেন শিক্ষক । সত্য ও কল্যাণব্রতে অন্যের জীবনকে জাগিয়ে দেয়াই শিক্ষকের কাজ। শিক্ষকতা একটা দীর্ঘ ভ্রমণ। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির খাতা নিয়ে বসে থাকেন না শিক্ষক। শাহজাহান কবীর স্যার গান লিখতেন। গান লিখে বিখ্যাত হবেন, গীতিকার হবেন এই বাসনা তাঁর ছিলো না। অনুষ্ঠান করার প্রয়োজনে তিনি গান লিখেছিলেন। তবে তিনি চাইতেন, শিল্পীরা যেন তার গান গায়। স্ত্রীর উদ্যোগে প্রকাশিত না হলে এইসব গান হয়তো হারিয়েই যেতো। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত হয় স্যারের গানের বই ‘যে গান হয়নি গাওয়া’।

পরিবারের ভেতরে সংগীত চর্চা ছিলো না। মায়ের একটা গ্রামোফোন ছিলো। সেখানে গান শুনতেন। গানের প্রতি আগ্রহও ছিলো। কিন্তু গান শেখা হয়নি। এ সম্পর্কে তিনি বিলেছেন ‘পারিবারিক গোঁড়ামি, ধর্মীয় প্রভাব, সুযোগের অভাব, পড়াশোনার চাপ ইত্যাদি নানাবিধ কারণে গান শিখবার বা গাইবার চেষ্টা কখনো করিনি। তবে গান আমাকে আকর্ষণ করেছে সবসময়ই’।  শাহজাহান কবীর স্যার, রফিক মাহমুদ, দুলাল পত্রনবীশের মতো গুণী কিছু মানুষ সুর ও সংগীতের একটা পরিসর তৈরি করেছিলেন। গানের যে পরিবেশ রচিত হয়েছিলো সেই ধারাতেই গান লিখেছেন। এপ্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘একদিন কোনরকম যোগ্যতা ছাড়াই কেবলমাত্র ‘ভালো কিছু করতে চাই’, এই প্রেরণা নিয়েই আমি সরকারি আনুকূল্যে ‘নেত্রকোণা শিল্পকলা একাডেমির’ প্রথম সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়ে যাই।……… অনুষ্ঠান করতে গিয়ে লক্ষ করলাম-শিল্পীরা হিন্দিতে-উর্দুতে খেয়াল গাইছেন। আমার খেয়াল হলো, বাংলাতেই খেয়াল গাইতে হবে। লিখলাম দুই চারটা বন্দিশ, লিখলাম কয়েকটা রাগপ্রধান গানও। প্রায়ই লক্ষ্য করতাম, স্বরলিপি বা রেকর্ড থেকে তোলা বহুল-শ্রুত গান গাওয়া হচ্ছে স্টেজে। আমার মনে হতো এই ক্লান্তিকর, পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য কিছু নতুন গান দরকার। লিখে ফেলাম কয়েকটা। এইভাবেই কোন রকম প্রতিভা ছাড়াই, কিছু কিছু লিখতে থাকি’। মূলত সুর ও লিরিকের অকৃত্রিম একটা সাধনা ঘরে বসবাস করতেন তিনি। ছোট্ট এই গ্রন্থটির ভেতরেও গ্রন্থিত হয়েছে একশোটিরও বেশি গান।

 

বড় বড় কথা বলে দেশ গড়া যায় না।

কল্প-কথা জাতির প্রাণে

আস্থা জাগায় না।

দেশের লোককে জানলে

দুঃখ তাদের বুঝলে,

কিসে দুঃখ ঘুচবে,

সেই রাস্তা-ঘাট চিনলে-

তাদেরই নেতা নেত্রী বানানো যাবে-

দূর-দৃষ্টি নিয়ে যারা দেশ চালাবে।

দেশ-প্রেমী শাসকেরা জাতিকে ঠকায় না।

………………………………………………………………

সংগ্রামী মানুষেরা কখনো পালায় না। দেশাত্মবোধক গান)

 

স্যারের গদ্যও সুন্দর। ছোট ছোট বাক্যে তিনি গদ্য লিখেন। ‘পুত্রের প্রতি পিতার পত্র’ শিরোনামে একটি মাত্র রম্যগদ্য আমি পড়েছি। একটি গ্রন্থের ভেতরেও লেখকের চিন্তা ও প্রজ্ঞানকে অনুভব করা যায়। কথার মতো গদ্যেও তিনি মিতভাষী ।

চার

শিক্ষকের প্রাপ্তিই বা কি আর অপ্রাপ্তিই বা কি! শিক্ষক একটা খোলা পুস্তক। ইতিহাস ও চিন্তনচর্চার এই খোলা পুস্তককে পাঠ করতেই হয়। শাহজাহান কবীর স্যার যেখানে যে দায়িত্ব পেয়েছেন, সে দায়িত্বই নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন। কলেজের অধ্যক্ষ থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন । নীতি ও সুন্দরের অপূর্বতায় অটল তাঁর ব্যক্তিত্ব। লোভ কিংবা চেয়ার দখলের অলীক চাতুর্যে ম্লান হয়নি উঁনার ব্যক্তিত্ব। সমাজ যেখানে সামান্য বিষয়কেও খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে সাম্প্রদায়িক ইস্যু করে, স্যার সেখানে মানুষের ইতিহাস ও সভ্যতার কথা বলেন। তিনি মনে করেতেন সাম্প্রদায়িকতাও মানব শোষণের কৌশল। সমাজের শান্তি নষ্ট হলে করো করো খুব লাভ হয়। আসলে ভাষান্দোলন পরবর্তী নেত্রকোণা শহরে একটা উদার ও সাংস্কৃতিক চর্চার একটা পরিসর নির্মাণ করেছিলেন তিনি।

 

প্রত্যেকটা মানুষ একটা অর্ধসমাপ্ত সিঁড়ি রেখে যান। সে সিঁড়িতে অন্যেরা হাঁটেন। শাহজাহান স্যার শহরের একটা সিঁড়ি। এই সিঁড়িতে অন্যেরা নিশ্চয়ই হাঁটবেন। আমি জানি এই শহরের শিল্পসংস্কৃতির জমিনে উনার নিমগ্ন বিচরণ ছিলো। উঁনার চলে চলে যাওয়ার বার্তা শোনে ফোনে নূরুল হক স্যার খুব কাঁদছিলেন। একজন সহযাত্রীর প্রস্থানে একজন মানুষ ফোনে এতোক্ষণ কাঁদতে পারেনএটা সে-দুপুরে টের পেলাম। কবি নূরুল হক কাঁদতে কাঁদতে অনেক কথাই বলছিলেন। বলছিলেন, ‘একজন শিক্ষক কী ভাবে একটা জেনারেশন তৈরি করেন। বলছিলেন আজকের বারী সিদ্দিকীর কথা। আজকের বিশ্ববিখ্যাত বংশিবাদক বারী সিদ্দিকীকে নাকি কবীর স্যারই অনেকটা জোর করে শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে হাজির করেছিলেন। সত্তরআশির দশকে বারী সিদ্দিকীর বাঁশিকে দর্শকের সামনে হাজির করেছিলেন। শহরের এলিট শ্রোতারা উঁনার অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা করতেন। বিটিভির বাইরে শহরের একমাত্র আনন্দাশ্রম ছিলো জেলা শিল্পকলা একাডেমি। সেই শিল্পকলা একাডেমির প্রথম সম্পাদক হয়ে তিনি চাইতেন প্রিতি মাসেই একটা গানের অনুষ্ঠান হোক; নাটক হোক। সেই গানের মিউজিক কী হবে! সেই নাটকের লাইট-ম্যাকাপম্যানের কাজ থেকে সবকিছু নিপুণ হাতে সাজাতেন। কী আশ্চর্য শহর ছিলো নেত্রকোণা! প্রতিটি বাড়ির ছোট ছোট আঙিনায় ছিলো ছোট ছোট বাগান। সেই বাগানকে ঘিরে পাতাবাহের হাসি। প্রায় প্রতিটি বাড়ি থেকেই ভেসে আসতো হারমোনিয়ামের সুর। তানপুরা কিংবা সেতারের সুরে পাড়ায় পাড়ায় ছেলে-মেয়েদের মধ্যে একটা সাংস্কৃতিক বন্ধন ছিলো। আজান কিংবা উলুধ্বনির সুরে পড়ার টেবিলে বসে যাওয়ার আগে পাড়া-মহল্লার কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ছিলো সহজাত সম্পর্ক। মনে হতো এই শহরটা গানের শহর। মনে হতো গানই এই শহরটাকে তৈরি করেছে। অন্য অনেক অগ্রজের সহযোগ-পরম্পরায় গানের এই শহরটায় প্রাণ ঢেলেছিলেন শাহজাহান কবীর স্যার। তিনি জানতেন গান মানুষকে দরদি করে। তিনি জানতেন গানের পৃথিবী অনেক পবিত্র। প্রার্থনায়, মগ্নতায় তিনি খুব চাইতেন-

যদি তুমি প্রভু, দেবে কিছু আমারে-

দিও হে সুরের ধারা, ভুলিতে ব্যথাভারে।

দীন-দুঃখীরে নিও সুখ-সমুদ্র পারে

গহন আঁধার মাঝে দাও আলো আমারে।

অমিয় তোমারি বাণী জীবন মাঝারে।

পাঁচ

করোনার এই দিনে আবারো স্পষ্ট হয়েছে মানুষের অনিবায সত্য হচ্ছে ‘মৃত্যু’। ‘মৃত্যু’ একটা যাত্রা; পৃথিবী থেকে অচিন পৃথিবীতে ঝাঁপিয়ে পরা। ভয়ে ও আতঙ্কেএই করোনাকালে ‘ডাকঘরে’র অমলের মতো রুদ্ধঘরে আটকে আছে জীবন। জীবন হয়তো অটকে থাকে! কিন্তু সময়কে কে আটকাবে! সময় একটা আশ্চর্য ডাস্টার। সবার নামই ধীরে ধীরে মুছে দেয়। সময় মুছার আগে স্যার নিজের নামটাকে এই শহর থেকে উঠিয়ে নিয়ে ছিলেন। মৃত্যু সেই নামটাকে মাটির জাহাজে নিয়ে গেছে। স্যার চলে গেছেন। স্যারের মুখটাকে আমার চালতা ফুল মনে হচ্ছে। চালতা ফুলেরা বারবার ফিরে আসে। শিক্ষক কিংবা সংস্কৃতিপুত্ররা বারবার ফিরে আসেন। উনাদের ফিরে আসার আনন্দদিনে শহরে খুব বৃষ্টি হবে। শান্তিতে, আনন্দে নতুন দিনের ধীমান শিল্পী দৃষ্টি টুনটুনি গাইবেন ‘বুলবুলি নীরব নার্গিস বনে’……

 

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

হুমায়ূন আহমেদের গল্প: যে ভুবন চেনা, আবার চেনাও নয় | ফারুক আহমেদ

Wed May 27 , 2020
হুমায়ূন আহমেদের গল্প: যে ভুবন চেনা, আবার চেনাও নয় | ফারুক আহমেদ 🌱 হুমায়ূন আহমেদের ছোটগল্পের যে বিপুল ভাণ্ডার তা আমাদের ভেতর কি বিশেষ কোনো চেতনাপ্রবাহের বিস্তার ঘটাতে সক্ষম হয়েছে? যদি আবেগমথিত হয়ে, মুগ্ধতা সহযোগে তাঁর গল্পে প্রবেশ করি, অথবা একদম এর বিপরীত বোধ নিয়ে—সহজ-আটপৌরে শব্দ, সরলরৈখিক, উপমা-চিত্রকল্প-কারুকার্যহীন বর্ণনা—এমন সব […]
Shares