গুচ্ছ কবিতা | সরকার আমিন

গুচ্ছ কবিতা | সরকার আমিন

 🌱

তোমার চোখই আমাকে ডাকাত করেছে

আমি এক যাযাবর

৩৭৩/২২ লিলি হোমস

আমার পৃথিবী!

.

ঘরে বসে আমি ভ্রমণ করি হিমালয়

শরীরে টের পাই বরফের কুচি

শরীরে শরীর মেখে ভ্রমণ করি দেহে

খুঁজে পাই আহত আত্মা

মেরামত করি যেন আমি এক ছাতা কারিগর

ছিদ্র বন্ধ করি বৃষ্টির জন‌্য, তাতে মন খারাপ করে রোদ!

.

আমি এক মরুডাকাত। তোমাকে লুট করতে গিয়ে

ধরা পড়ে যাই। জানতে চাও পরিচয়

দেখিয়ে দেই তোমার চোখ!

তোমার চোখই আমাকে ডাকাত করেছে।

 

 

চোখের জলে শ‌্যাওলা থাকে না

চোখ বলে তাকাও বুকের দিকে

তাকাই। পাই; পেয়েও যাই বুকপকেট

জামা ও শরীর ভেদ ও অভেদ

যেখানে জমা রাজ‌্যের ক্লেদ!

সেখানে শত শত অন্ধকার রাত ঘুমিয়ে আছে

সমুদ্র খুঁছছে মাছ,

আকাশ ঠিকানা চায় আকাশের কাছে

.

হেঁটে যাই আমি। সামনে কালভার্ট! বৃষ্টির জল ধেয়ে যাচ্ছে

সলজ্জ চিল উড়ছে মাথা বরাবর

স্মৃতির কই-মাছগুলো ডাঙায় ওঠে গেছে

বুকের তলদেশে ড্রিমলাইট বেশ কালো

এমন সময় চুপ করে থাকা-ই কি ভালো?

জানি চোখের জলে কখনো শ‌্যাওলা থাকে না

চোখ জানিয়ে দেয় নিরাপদ অবতরণের সংকেত!

 

 

অক্সিজেন

যারা দান করেছিলে

প্রতিদান দিতে পারি নাই

হারায়া গেছি বামপথে

তোমরা ডানপথ আগলে দাঁড়ায়া ছিলে

দেখো নাই দেখো নাই কি করে উধাও হয়েছিলাম

চূর্ণ হয়ে গিয়েছিল পথ; বিধ্বস্ত ব্রিজের মতো!

.

কাতর মুখ মনে পড়ে!

যারা পাথর হয়ে আছো বুকের ভেতর

নিশ্বাস আগলে আছো ..অক্সিজেন চাই

অক্সিজেন চাই। মুক্ত বাতাস। হায় অক্সিজেন নাই

থাকে না।শূন্যতারে কেউ জড়িয়ে রাখে না

 

 

কেন সুইয়ে সুতা পড়াতে ব্যর্থ হয়েছি

যখন আমি ঘরে ফিরব,

তাকে সব খুলে বলব,

পৃথিবীতে কেমন ছিলাম!

কেন নিজের মতো থাকতে পারি নাই।

কেন অন্যের চিন্তার ভার বহন করে গেছি দিনের পর দিন; সন্তুষ্ট গাধার মতো।

.

আমি আরো বলব,

কেন শুধু বুকপকেটের সদ্ব্যবহার করেছি;

পকেটের তলের হৃদয়টার খোঁজ খবর করি নাই প্রয়োজনমতো

টিউব কলের পানিই খেয়েছি

বুঝিনাই জলের গভীরে

কী আছে কলকোলাহল তৃষ্ণানদী

.

যখন ঘরে ফিরব, তাকে আমি সব খুলে বলব,

কেন সুইয়ে সুতা পড়াতে ব্যর্থ হয়েছি।

 

 

জেলখানাকে কি বাড়ি বলে?

তোমার গ্রামের নাম কি? অষ্টগ্রাম?

রাধিকা? চম্পকনগর? আঁখিতারা?

তুমি কি পালিয়ে এসেছ? স্মৃতি থেকে

শত্রু থেকে? শহর কি তোমার মা হতে পেরেছে?

তুমি কি শহরের ছেলে হতে পেরেছ?

জেলখানাকে কি বাড়ি বলে?

 

 

আমি বেশ ধনী

রোদ, তোমাকে ধন্যবাদ, আলো দিয়েছ, মন্দ আগুনে পুড়ে যাই নাই আমি। ওগো অন্ধকার, ধন্যবাদ তোমাকেও; ঘুমাতে দিয়েছ নিরিবিলি-পেয়েছি প্রশান্তির খনি। হে আমার তুমি, ধন্যবাদ ; দিয়েছ প্রেম;; যে কারণে আমি বেশ ধনী।

 

 

আলো/কালো

ম্লানমুখগুলোতে কে একটু আলো দেবে?

দোয়াত থেকে দেবে প্রয়োজনীয় কালো!

সে যাতে লিখে নিতে পারে প্রাণের-প্রলাপ!

..

ইতিহাসও হাসে! কাঁদে

আমরা তা দেখতে পাই না।

 

 

আপেলের টুকরার মতো সুহাসিনী ঠোঁট!

বৃহস্পতিবার আমাকে বলে, তুমি না চাইলেও শুক্রবার আসবে। মৃত‌্যু কানে কানে বলে না চাইলেও তুমি মারা যাবে। চোখের পাতি বলে, না চাইলেও তোমাকে বার বার চোখ বন্ধ করতে হবে। নো ওয়ে!

বলি আমি, শোনো বৃহস্পতিবার, আমি তোমাকে ঘড়ি দিয়ে মাপি। শোনো মৃত‌্যু, তোমার ক্লান্ত হবার অধিকার নাই। শোনো চোখ, আমি স্পর্শ দিয়েও শুনি। তাই চুম্বন করি, আপেলের টুকরার মতো সুহাসিনী ঠোঁট!‍

 

 

নিজের বোকামিতে নিজেই হাসি

ভিক্ষুকের অতিপুরাতন ঘা-এর মতো আমার সাধের ঢাকা শহর। জননীর স্তনে শিশুর মতো তবু এরে ভালবাসি, বড় ভালবাসি। নর্দমার পাশে দাঁড়িয়ে চাঁদ দেখি, চাঁদকে মামী বলে ডাক দেই

রঙের ছবি তুলি। মনে রঙ মিশাই।

 

 

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে একটা কবিতা

কবিতা এখন ছন্দের অভাবে লাফাতে ভুলে যাচ্ছে। গতকালও যে কবিতাটিকে ঠোঁটে লিপিস্টিক লাগাতে দেখেছি, সে এখন স্বেচ্ছায় কোয়ারেনটিন; বলছে, মামা, বাইরে যাবেন না। বাইরে বাঘ! কতগুলো? কে জানে! কারণ দেখাতো যাচ্ছে না! অন্ধকার ঘরে সাপ মানে তো সারাঘরে সাপ!

দুয়েকটি আচমকা কাশি আছে বুকে। এ কম্পমান সাহস আমার। নিশ্বাসের প্রতিনিধি হয়ে মাঝরাতের গভীর নির্জনতায় উপহার দেয় সাহস।

 

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

কবি মামুন খান বন্ধুজনেষু | জুয়েল মোস্তাফিজ

Thu May 28 , 2020
কবি মামুন খান বন্ধুজনেষু/ বন্ধু, এই মুহুর্তে খুব তোর কবিতা শুনতে মন চাইছে। কবে যে আচমকা ফোন দিয়ে উতালা করে দিবি। আর আমি হাও কাও করবো সারাক্ষণ। কিছুতেই তোকে বোঝানো যাবে না, কবিতাটার নাড়ী মানচিত্রের দড়ির সাথে গিট লাগিয়েছে। যে রাতটা ছুরির দোকানের সামনে দিয়ে যেতে পারেনি কোনোদিন, তোর কবিতার […]
Shares