আমার ভাবনাগুলোকে মুক্তি দিতেই লিখতে শুরু করি – যতীন সরকার

আমার ভাবনাগুলোকে মুক্তি দিতেই লিখতে শুরু করি – যতীন সরকার

🌱

যতীন সরকার ১৯৩৬ সালের ১৮ আগস্ট নেত্রকোণা জেলার চন্দপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সারা জীবন এই লেখক প্রান্তবর্তী মফস্বলবাসী। কিন্তু মননচর্চায় বিশ্বজনীন ‘সাহিত্যের কাছে প্রত্যাশা’ ‘পাকিস্তানের জন্মমৃত্যু-দর্শন’, ‘বাঙালির সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য’ ‘বাংলা কবিতার মূলধারা’ ‘ধর্মতন্ত্রী মৌলবাদের ভূত ভবিষ্যৎ’ তার উল্লেখযোগ্য সৃষ্টিকর্ম। জন্মদিন উপলক্ষে এই চিন্তকের বিপুলানন্দের মুখোমুখি হয়েছিলেন সরোজ মোস্তফা।

সরোজ মোস্তফা: লেখালেখি শুরুর গল্পটা বলুন। পাঠকের কাছে অনেকবারই নিজেকে কষ্ট লেখক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। ছিলেন তো কলেজ শিক্ষক। হঠাৎ করে কষ্ট লেখক হতে গেলেন কেন ?

যতীন সরকার: শোন, প্রতিভা হচ্ছে, ‘অপূর্ব বস্তু নির্মাণ ক্ষমা প্রজ্ঞা’। ক্ষমা মানে ক্ষমতা। যাঁর ক্ষমতা আছে। সাধারণে যে সব বস্তুর অস্তিত্ব নাই, কোনো কোনো মানুষ সেই বস্তু নির্মাণ করতে পারেন। যাঁরা সেটা পারেন তাঁরা হচ্ছেন, ‘অপূর্ব বস্তু নির্মাণ ক্ষমা প্রজ্ঞা’। এই যে ‘অপূর্ব বস্তু নির্মাণ ক্ষমা প্রজ্ঞা’ এটার নামই প্রতিভা। এই যে কেউ কবিতা লেখেন, কেউ ছবি আঁকেন, কেউ গান বলেন, কেউ অভিনয়ে মানুষ ও সমাজকে প্রমূর্ত করেন- ‘অপূর্ব বস্তু নির্মাণ ক্ষমা প্রজ্ঞার’ বলেই করেন। আমি নিজেকে বিশ্লেষণ করে এটা বুঝতে পেরেছি যে, আমার ভেতরে অপূর্ব বস্তু নির্মাণ করার ক্ষমতা নাই। দলিল লেখকও তো লেখক। কিন্তু সে লেখা কি প্রাণকে স্পর্শ করে। প্রকৃত প্রবন্ধও কিন্তু অনুভূতিকে নাড়িয়ে দেয়। এ বিষয়ে আমি অনেক ভেবে দেখেছি যে, প্রকৃত প্রবন্ধ লেখার ক্ষমতাও আমার নাই। তবে যা আছে তার নাম মেধা। যা আছে কিংবা যা বুঝি তা আমি প্রকাশ করতে পারি। একটা গড়পড়তা মেধা আমার আছে। কাজেই লেখক হতে চেষ্টা করি নাই। লেখক আমি হতে চাইনি। কিন্তু আমি লিখেছি। কোনো নতুন কিছু আমি লিখিনি। আমি মাস্টারি করেছি। নিজের মাস্টারিটাকেই প্রতিদিন লেখালেখিতে শাণিত করেছি। প্রতিদিন শিক্ষক হতে চেয়েছি। সেই শিক্ষক হতে গিয়ে ছাত্রদের জন্য নোটবই লিখিনি। আমি বক্তৃতা করেছি। আমার কথাগুলো পৌঁছে দিতে চেয়েছি। কিন্তু ক্লাসরুমতো একটা সীমিত জায়গা। ক্লাসরুমের সেই চতুর্ভূজ আকৃতির আবৃত দেয়াল থেকে আমার ভাবনাগুলোকে মুক্তি দিতেই লিখতে শুরু করি।

# আপনার কথা থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, হঠাৎ করে কেউ লেখক হতে পারে না। অন্তরালে অন্তরালে লেখকের প্রস্তুতি লাগে। আপনার প্রথম দিকের লেখালেখি সম্পর্কে বলুন-

– স্কুল কলেজের সাহিত্য, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় সব সময়ই অংশগ্রহণ করতাম এবং পুরস্কার পেতাম। আনন্দমোহন কলেজে বি.এ ক্লাসের ছাত্র থাকাকালীন কলেজ ম্যাগাজিনে ‘আপনি কি লিখিয়ে’ শিরোনামে একটি লেখা ছাপা হয়। কিন্তু আমার জীবনের একটা বিশেষ টানিং পয়েন্ট বলতে পার ১৯৬৭ সাল। আমি তখন নাসিরাবাদ কলেজের বাংলার অধ্যাপক। সে বছর প্রথমবারের মতো পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা উপন্যাস’ শীর্ষক প্রবন্ধের জন্য ড. এনামুল হক ‘স্বর্ণ পদক’ প্রদান করা হবে। ড. এনামুল হক রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে আমার শিক্ষক ছিলেন। তিনি ‘বাংলা একাডেমী’ পুরস্কার পেলে সে পুরস্কারের অর্থমূল্য ২০০০ টাকা দিয়ে একটি ফান্ড গঠন করেন। এই অর্থের যে সুদ হবে তা দিয়ে প্রতি বছর অন্তর অন্তর দুই ভরি ওজনের একটি মেডেল পুরস্কার প্রদান করা হবে। আমার ছোট ভাই মতীন্দ্র সরকার তখন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ে। সে এই বিজ্ঞাপনটি নিয়ে আমার কাছে এসে বললো, ‘দাদা এই প্রবন্ধটা তুল লেখ’। জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী তখন আনন্দ মোহন কলেজের অধ্যক্ষ। তিনিও আমাকে এই প্রবন্ধটি লিখতে অনুপ্রাণিত করলেন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ১৩ নম্বর রুম তখন ভীষণ অপয়া। কয়েকটি ভুতুরে ঘটনার জন্ম দেয়ায় এই রুমে কেউ থাকতে চাইতো না। মতীন্দ্র আর তার বন্ধু বিমল সেই ১৩ নম্বর রুমে থাক। আমি সেই ১৩ নম্বর রুম ১৩ দিন এই প্রবন্ধটি লিখে শেষ করি। দুই মাস পর পত্রিকায় আমার নাম প্রকাশিত হয়। এই লেখাটিই বাংলা একাডেমীর গবেষণা পত্রিকায় ছাপা হয়। পত্রিকায় ছাপা হওয়ায় সম্মানী হিসেবে পাই ৩০০ টাকা। ছাপাছাপিতে এটাই আমার প্রথম সম্মানী।

# তার মানে আপনি বলতে চাইছেন মাস্টারির একটা এক্্রটেনশন হিসেবে আপনি লিখতে শুরু করেছেন-

-বিষয়টা অনেকটা সে রকমই। ছোটবেলা থেকেই প্রচুর পড়াশোনা করতাম। বাড়িতে পড়াশোনার একটা পরিবেশ ছিল। আমার ঠাকুর দা রোজ ভোরে রামায়ণ, মহাভারত, গীতা পাঠ করে শুনাতেন। শুধু আখ্যান শুনাতেন না, আখ্যানের ভেতরে সময়, সমাজ ও চরিত্রগুলোকে যুক্তি প্রদর্শন দিয়ে বিশ্লেষণ করতেন। আমার বয়স তখন ছয়-সাত। বলতে পার, আমার মনন চর্চার বীজটা ঠাকুর’দাই রোপন করে দিয়েছিলেন। এক বোনের মৃত্যুর পর আমার জন্ম। বড়দের আদর-শাসনে আমার কোন শিশুজীবন ছিলনা। আমার কপালে তখন ‘মাটিতে রাখলে পিঁপড়ে খাবে, মাথায় রাখলে উকুনে খাবে দশা’। এই রকম আদর যত্নের মধ্যে বেড়ে উঠেছি। আমার প্রথম শিক্ষক ঠাকুর দা চাইতেন ভবিষ্যতকে জানতে, বুঝতে আমার মধ্যে একটা যুক্তিবাদী মন তৈরি হোক। আজকের আমি হয়ে ওঠার পেছনে আমার ঠাকুর দা রাম দয়াল সরকারের অবদান অনেক। চরম দরিদ্রতার মধ্যে বড় হয়েছি। বাড়িতে খাবার নেই কিন্তু ডাকে পত্রিকা এসেছে। সেই ত্রিশের দশকে নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার রামপুর গ্রামটি কী রকম অজ-পাড়াগাঁ একবার ভাব। সেই পত্রিকা নিয়ে বাবা-ঠাকুরদারা ক্ষুধার অনুভূতি ভুলে গেছে। কাজেই লেখাপড়ার যে আনন্দ সেটা শিখেছি রামপুরের কাদামাটিতে। দরিদ্রতা আমাকে স্পর্শ করেনি। সারাজীবন আমি পড়াশোনার মধ্যে থাকতে চেয়েছি। আমার লেখালেখিটা সেই পড়াশোনারই অংশ।

# পুরস্কার পাবার পর আপনার শিক্ষক ড. এনামুল হকের সঙ্গে কি দেখা হয়েছিল ?

– ড. এনামুল হক তখন বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের ডিরেক্টর। পুরস্কার পাবার কয়েকদিন পরে আমি স্যারের সঙ্গে দেখা করলাম, স্যারকে আমরা খুব ভয় পেতাম। রুমের ভেতরে স্যার তখন চুল আঁচড়াচ্ছিলেন। আমাকে দেখে, পুরস্কারের কথা শুনে এই অসাধারণ রাশভারী লোক অসাধারণ উচ্ছ্বাসিত হলেন। একে ডাকেন-তাকে ডাকেন অবস্থা। স্যারের এই রূপে আমি অবিভূত হলাম। স্যার তখন বললেন তুমি ‘পূর্ব বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ লেখ। তোমার লেখাটা আমি পড়েছি। তুমি তো অনেক পরিশ্রম করে কাজ কর। এই সাহিত্যের ইতিহাসটা তুমি লিখলে অনেক ভালো হবে। কিন্তু স্যারের কথা আমি রাখতে পারিনি। ‘পূর্ব বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ লেখার সুযোগ পাইনি।

# সেই সময়ের বিখ্যাত কবি ও সাহিত্য সম্পাদক আহসান হাবীবের সঙ্গে আপনার পরিচয় ছিল-

– আসলে পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা উপন্যাস প্রবন্ধটি বাংলা একাডেমীর গবেষণা পত্রিকা ছাপা হলেও হয়তোবা লেখাটি পাঠকের কাছে পৌঁছায়নি। কিন্তু এই লেখাটিই কবি আহসান হাবীব তাঁর ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকা ‘সাহিত্য পাতায় ধারাবাহিকভাবে ছাপান। দৈনিক পাকিস্তানে ছাপা হওয়াতেই লেখাটি সে সময়ে দারুণ সাড়া জাগিয়েছিল। প্রচুর পাঠক এই লেখাটি নিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। এ ছাড়াও আহসান হাবীব আমার আরো অনেক লেখাই ছাপিয়েছিলেন। যেমন শ্রেক্সপিয়রকে নিয়ে একটি সমালোচনামূলক লেখা লিখেছিলাম দৈনিক পাকিস্তানে। সেই লেখাটি আজ আর আমার কাছে নেই। তবে পত্রিকা অফিসের বাইরেই আহসান হাবীবের সঙ্গে আমার পরিচয়। ‘নওরোজ কিতাবিস্তান’ বলে একটি বিখ্যাত প্রকাশনা ছিল সে সময়। সেখানে এক দুপুরে কবির সঙ্গে দেখা। কবির তখন ‘রাত্রি শেষ’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে। আমি সাহস করেই কবিকে বললাম, ‘রাত্রি শেষ’ কাব্যগ্রন্থে আপনার সবচেয়ে ভালো কবিতা হচ্ছে ‘ রেইন কোর্ট’। রবীন্দ্রনাথের বাঁশি কবিতার পরে বর্ষা ও বর্ষার চিত্র এবং নি¤œবিত্তের জীবন সার্থকভাবে চিহ্নিত হয়েছে ‘ রেইন কোর্ট’ কবিতায়। আহসান হাবীব আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। বললেন, কবি আহসান হাবীব ও একটাই মনে করেন। কিন্তু কোন সমালোচক তো এভাবে বলেননি।

# আমরা জানি মুক্তিযুদ্ধে আপনার বাড়ি লুট হয়। লুটেরারা অর্থকড়ি কিছু না পেয়ে বইপত্র, পান্ডুলিপি আগুনে পুড়িয়ে দেয়। একজন লেখক হয়ে এটা মেনে নেয়া নিশ্চয়ই অনেক কষ্টের।

– অনেক কষ্টের। জীবনে এতো দুঃখ আর পাইনি। আমার সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমার সব জ¦ালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। সে সময়ে ‘বাংলা উপন্যাসে মুসলমান’ শিরোনামে একটি লেখা প্রায় শেষ করেছিলাম। অনেক মূল্যবান গবেষণা ছিল। অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে যে গবেষণাও মনে হয় ছাই হয়েছিল। আর খুঁজে পাইনি। দুঃখ করে আমি কবীর চৌধুরীকে চিঠি লিখলাম। স্যার, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি লেখালেখি বাদ দিলাম। কবীর চৌধুরী আমাকে উৎসাহ দিলেন। আবার লিখা শুরু করতে বললেন। কিন্তু আমি এতোটাই ভেঙে পড়েছিলাম যে কী ভাবে শুরু করবো, কী শুরু করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। তারপরও অনেক ঝড়ের পরে জেগে ওঠা পাখির মতো আমি আবার লিখতে শুরু করি। স্বাধীনতার পরে আমার প্রথম লেখা ‘কবি প্রজেশ কুমার রায়’ উত্তরাধিকার পত্রিকায় ছাপা হয় এবং আব্দুল হকের ‘বাঙালি জাতীয়বাদ ও অন্যান্য প্রবন্ধ’ সম্পর্কে রিভিউধর্মী লেখাটি ছাপা হয় ‘সমকালে’। আমি আবার লিখতে শুরু করি।

# আমরা জানি ১৯৭৬ সালে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে আপনাকে জেলে যেতে হলো। জেলখানায় ভেতরেও কি আপনার লেখাপড়া অব্যাহত ছিল।

– ৩ মার্চ আমি এরেস্ট হলাম। জেলখানায় প্রায় ১৮ মাস ছিলাম। এটা একটা মাহাকাহিনী। যখন জেলখানায় যাই তখন মনে হলো এতো দিন তো শুধু মাস্টারি করেছি, এবার জেলখানায় ভেতরে সেই মাস্টারির ঢঙেই কিছু লিখবো। আমি যে জিনিসটা প্রতিজ্ঞা করি, সেটা রক্ষা করি। পুলিশ আমাকে নিয়ে যাচ্ছে, আর আমার সঙ্গে আমি প্রতিজ্ঞা করছি জেলখানায় আমি লিখব। কী লিখব সেটাও স্থির করে ফেলেছি। লিখবো ব্যাকরণের ভয় অকারণ। আমিতো কষ্ট লেখক। তাই গুনে গুনে দেখেছি একটি পৃষ্ঠায় কয়টা শব্দ থাকে। ২৪০ টি কিংবা ২৫০টির বেশি শব্দ থাকে না। আমি প্রতিজ্ঞা করলাম রোজ কমছে কম ৮০টি শব্দ আমি লিখব। এর কম লিখব না। বেশি লিখলে ক্ষতি নেই। তবে যে দিন বেশি শব্দ লিখব, সেই বেশি শব্দের সঙ্গে পরের দিনের ৮০ শব্দের কোনো হিসাব- নিকাশ থাকবে না। পরের দিনেরটা পরের দিনের। একমাস পর থেকে লিখতে শুরু করলাম। জেলখানায় খাতা পাওয়াও ছিল কঠিন, আমাকে ভয় দেখানো হলো এসব লেখা আমি বাইরে নিয়ে যেতে পারবো না। যাই হোক একজন সহকারী জেলার আমার উপকার করলেন। তার মাধ্যমেই একটা একটা লেখা আমি লিখতাম আর বাড়িতে পাঠিয়ে দিতাম। এইভাবে ৪০০পৃষ্ঠার একটি বই আমি লিখে ফেলি ‘ব্যাকরণের ভয় অকারণ’। তো ব্যাকরণ লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। তখন আমার মনে হলো সেলিনা হোসেন আমাকে একটি বই দিয়েছিলেন ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। আমি সেই বইটির সমালোচনা লেখলাম এবং সেলিনা হোসেনের হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করলাম।

# শিক্ষকতা, রাজনীতি,বক্তৃতা, লেখালেখি, কোনোটাকে আপনার সবচেয়ে উপযুক্ত কাজ বিবেচনা করেন। কেন বিবেচনা করেন? নাকি সবগুলোকেই এক করে দেখেন। আপনার চিন্তন চর্চার একটা কাজ হিসেবেই দেখেন।

– দেখ, শিক্ষকতা, রাজনীতি বক্তৃতা কিংবা লেখালেখি এই চারটা কাজকেই একটা কাজ হিসেবে বিবেচনা করি। এইগুলো আমার জীবন চর্চারই অংশ। আমি যতোটুকু লিখেছি সেখানে আমার বন্ধুবান্ধব, সুহৃদদের অবদান অনেক। আমার প্রথম বই বের হয় ১৯৮৫ সালে। তখন আমার বয়স পঞ্চাশ। এই বইটা বের হওয়ার ব্যপারে সৈয়দ আমীরুল ইসলাম, শামসুজ্জামান খান ও আবুল হাসনাতের অবদান অনেক। এঁরা উদ্যোগী না হলে আমি উদ্যোগী হয়ে কোনো দিন বই বের করতে যেতাম না। আমার প্রথম প্রবন্ধটা যেমন আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, তেমনি আমার প্রথম বইটাও আলোড়ন সৃষ্টি করলো। তারপরও বলি, আমি মূলত মাস্টার। সত্যি কথা বলতে গেলে আমার লেখার ওপর আমার তেমন কোনো আস্থা নেই। কিন্তু লিখি কেন? মাস্টারির কথাগুলোকেই আমি লিখি। মাস্টার হিসেবে আমার সাফল্যের কথা কখনো কখনো এমন অহংকারের সঙ্গে বলে ফেলি যা অনেকের কাছে স্পর্ধার মতো শোনায়। তবুও এই স্পর্ধাটুকু ধারণ করেই আমি এতোকাল বেঁচে থেকেছি। আমি মোটেই বিনয়ী নই। ‘বিনয়ের ব্যভিচার’ আমার পছন্দ নয়। নিজে যা সত্য বলে মনে করি, তাই অকুণ্ঠচিত্তে বলে ফেলি।

# যতীন সরকারে পাঠক তথা পরিচিতজন মাত্রই জানেন তিনি মাকর্্্রীয় দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদীর দৃষ্টিকোণ থেকে লেখাকে, সময়, সমাজ ও সাংস্কৃতিকে বিশ্লেষণ করেন। লেখালেখিতে কিংবা চিন্তন বীক্ষণে কেন এই টেকনিক বেচে নিলেন।

– আমার মতে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের দৃষ্টিতে না দেখলে কোনো কিছুরই সত্যের স্বরূপ দেখা যায় না। সাহিত্য, সংস্কৃতি বিষয়েও এ কথা সত্য। তাই এই দৃষ্টিতেই আমি সবকিছুকে বিশ্লেষণ করি।

# মন তুমি কৃষিকাজ জান না/ এমন মানব-জমিন রইলো পতিত/ আবাদ করলে ফলতো সোনা/ রামপ্রসাদের এই ভক্তিবাদী গানের সঙ্গে এর পোড়োজমির প্রতীককে এক করে দেখেছেন। বলেছেন, প্রাচ্যের প্রায় মূর্খ গেঁয়ো রামপ্রসাদ আর প্রতীচ্যের অতি বিদগ্ধ শহুরে এলিয়াট স্বরূপত অভিন্ন। সম্পূর্ণ দুই ধারার দুই প্রকৃতির দুজন কবিকে এক করে দেখার কারণ কি ?

– দুজনেই শ্রেণিবিভক্ত সমাজের কবি। রামপ্রসাদ সামাজ্যবাদের কালো থাবায় নিষ্পেষিত ভারতবর্ষের কবি। আর এলিয়ট ধনতন্ত্রের চূড়ান্ত বিকশতি সমাজের কবি। দুজনেই হতাশ। রামপ্রসাদ লক্ষ্য করেন উঠতি ধনিক শ্রেণীর হাতে হঠাৎ করেই সব জমি চলে গেছে। প্রকৃত জমির মালিক যারা সেই কৃষক আজ সর্বহারা। তাই রামপ্রসাদ যখন বলেন, মানব জমিন রইলো পতিত, আবাদ করলে ফলতো সোনা। তখন এই কথার মধ্যে কোনো স্বপ্ন থাকে না। সমাজ পরিবর্তনের কোনো অঙ্গিকার থাকে না। তেমনিভাবে এলিয়টও চূড়ান্ত ভোগবাদী সমাজে বসবাস করেন। এই সমাজটা তার পছন্দ নয়। কেননা এই ধনবাদী সমাজে দশভাগ লোক নব্বইভাগ লোককে বঞ্চিত করছে। তাই কবি এই সমাজটাকে দেখেন পোড়াজমি হিসেবে। এই পোড়োজমির সমাজটাকে বদলাবার তাঁর কোনো স্বপ্ন নেই। সমাজের প্রতি তাঁর কোনো অঙ্গীকার নেই। তাই ঞ.ঝ.ঊষরড়ঃ পোড়োজমি লেখেন। এক ধরনের আধ্যাত্মিক চিন্তার ধামাচাপা দিয়ে সমাজের স্থিতাবস্থা চান। অর্থাৎ ইঁদুরকে গর্তে রেখে গর্তের মুখে মাটি দিতে চান। সমাজ না পাল্টিয়ে, সত্যের কাছে আত্মসর্মপণ না করে একধরনের কাল্পনিক সমাধান চান। এই চাওয়ার পেছনে কারণ হচ্ছে; তাদের সামনে কোনো গন্তব্য নেই। কোনো ফিলোসফি নেই। তাই তারা পোড়োজমির নান্দীপাঠে, অস্তিত্ববাদী একাকীত্বের কগুূয়নে বহিরাগত হয়ে থাকার শৌখিন, আত্মনিপীড়নে, বিটল-হিপ্পি-কৃষ্ণকাল্টের প্রতারক আধ্যাত্মিকতায় মজে থাকে। মানবজমিনের সাচ্চা কৃষক কখনো কাল্পনিক ধূসর জগতে মজে থাকে না। ফসল ফলাবার ক্ষমতা, সমাজ বদলাবার ক্ষমতা তার থাকে। এইখানে ভারতবর্ষের ভক্তিবাদী রামপ্রসাদের সঙ্গে পাশ্চাত্যর ধনবাদী ঞ.ঝ.ঊষরড়ঃ-এর মিল।

# বাংলা কবিতার শুদ্ধতম রূপকার জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরা পালকে’ স্পষ্টত কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। ভাষার নিজস্বতায় কিংবা কবিতা চিত্রণে এর পরেই কবি নিজস্ব পরিম-ল তৈরি করেন। তিরিশের কবিদের এই বেরিয়ে আসার প্রবণতাকে আপনি বলেছেন, ‘অচিরেই তাঁদের এ উপলব্ধি আসে যে, এ আকাশে বিচরণের ক্ষমতা থেকে ঐতিহ্যগতভাবেই তাঁরা বঞ্চিত’। হতে পারে নজরুলের কবিকণ্ঠের ঐতিহ্যগত চেতনায় জীবনানন্দ দাশ অবগাহন করেননি। কিন্তু জীবনানন্দ দাশের কবিতার বাংলা ভাষা ও বাঙালির ঐতিহ্যগত চেতনা কি অনুপস্থিত?
-দেখ, জীবনানন্দ নজরুল থেকে তিন মাসের বড়। কিন্তু নজরুল যখন জনগণের কবি হিসেবে পূর্ণমাত্রায় বিকশিত হয়ে গেছেন তখনও কিন্তু জীবনানন্দের নামটাও কেউ জানে না। ‘ঝরা পালক’ যখন প্রকাশিত হলো তখন বাঙালি জনমানসে জীবনানন্দ কোথায় আর নজরুল কোথায়?- এটা একটু ভেবে দেখতে পায়। জীবনানন্দের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝারা পালকে’ কবি স্পষ্টত সে সময়ে জনপ্রিয় কবি নজরুলের মতো কবিতা বলতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু নজরুলের জীবন উপলব্ধি আর জীবনযাপন থেকে জীবনানন্দের জীবন ছিল স্পষ্টত ভিন্ন। নজরুল উত্তরাধিকার সূত্রে বাঙালির মূল ধারার কবি। মূল ধারার লেটোগান কিংবা লোককবিতা তার রক্তে মিশে ছিল। মিশে ছিল খাঁটি বাঙালির মনোজগত। লালন ফকির যেমন বলেন, ‘ কেমন ন্যায় বিচারক খোদা বলগো আমায়/ তা হলে ধনী-গরিব কেন এ ভূবনে রয়। / ভালো মন্দ সমান হলে/ আমরা কেন পড়ি তলে/ কেউ দালান- কোঠায় কোলে/ শুয়ে নিদ্রা যায়/ সেই আমরা মরণের পরে/ যাব নাকি স্বর্গ পুরে/ কে মানিবে এসব হেরে/ এই দুনিয়ায়। এই অভিযোগ বা প্রশ্ন উত্থাপন করেই লালন নিবৃত্ত হননি। ভবিষ্যতের শোষণহীন সমাজেরও কল্পনা করেছেন তারা। সেই সমাজের আর্তি ফুটে ওঠে লালনের গানে-এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে/ যে দিন হিন্দু-মুসলমান/ বৌদ্ধ খ্রিস্টান/ জাতি গোত্র নাহি রবে। শোনায়ে লোভের বুলি/ নেবে না কাঁধের ঝুলি/ ইতর আতরাফ বলি/ দূরে ঠেলে না দেবে/ আমির ফকির হয়ে এক ঠাঁই/ আশরাফ বলিয়া রেহাই/ ভেবে কেউ নাহি পাবে/ লালনের প্রাকৃত ধারার এই মুক্ত অনুভব দুদ্দু শাহর মধ্য দিয়ে সম্প্রসারিত হয়ে হাসন রাজা, জালাল খাঁ কিংবা আজকের শাহ আব্দুল করিমের কণ্ঠে ক্রমপরম্পরায় উচ্চারিত হয়েছে। কবি নজরুল মূল ধারার এই কবিদের সুর ও মননকে অন্তরে ধারণ করতে পেরেছিল। বৃহত্তর বাঙালি জনসংস্কৃতির উত্তর প্রজন্ম কবি নজরুল ইসলাম। লোক পরস্পরায় প্রবাহিত বাঙালি কবিদের এই উপলদ্ধিকে কবি কাজী নজরুল তাঁর কবিতায় ব্যবহার করেছেন। কিন্তু নজরুলের কবিতা লোক কবির কবিতা হয়ে ওঠেনি। হয়ে উঠেছে বাঙালি ঐতিহ্যের ধারাবাহিক আধুনিক কবিতা। কিন্তু জন্মগতভাবে কিংবা জীবনযাপন সূত্রে জীবনানন্দ এই ধারার সঙ্গে পরিচিত ও যুক্ত ছিলেন না। নজরুলের মতো করে বাঙালি সংস্কৃতিকে উপলদ্ধি করার সুযোগ জীবনানন্দের ছিল না। কিন্তু জীবনানন্দের কবিতা বাংলা ভাষা ও বাঙালির ঐতিহ্যগত চেতনা বিচ্ছিন্ন নয়। কিন্তু তার এই চেতনায় দ্বিধা ছিল। নজরুলের মতো করে তারও চিত্তে বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্যগত উপলব্ধি অনুপস্থিত নয়। যদি অনুপস্থিত হতো তবে রূপসী বাংলার মতো মহৎ একটি কাব্যরচনা করতে পারতেন না। অথচ সেই কাব্যগ্রন্থটিকে জীবনানন্দ তার জীবদ্দশায় প্রকাশে অনিচ্ছুক হলেন কেন? কারণটি নিশ্চয়ই এই যে, এই ধারার কাব্যকে আধুনিক ও শুদ্ধ বলে গ্রহণে তার দ্বিধা ছিল। অথচ তার মৃত্যুর পরে রূপসী বাংলা প্রকাশিত হলে আমরা জীবনানন্দের সঙ্গে বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য ধারায় একটি সংযোগ প্রত্যক্ষ করলাম। নজরুলের মতো জীবনানন্দও যে একটি অগ্রসর সমাজ আকাক্সক্ষা মনের গভীরে পোষণ করতেন এবং ইতিহাসের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই মানুষ সেই সমাজটি প্রতিষ্ঠিত করতে ব্রতী হবেন- জীবনানন্দ তো তেমন প্রত্যয়ও পোষণ করতেন। তাই তিনি রচনা করতে পারেন সেই অমর পঙক্তি নিশ্চয়-
মানুষের মৃত্যু হলে তবুও মানুষ থেকে যায়; অতীতের থেকে উঠে আজকের মানুষের কাছে আরো ভালো , আরো স্থির দিক নির্ণয়ের মতো চেতনার পরিমাপে নিয়ন্ত্রিত কাজ কতোদূর অগ্রসর হয়ে গেলো জেনে নিতে আসে।

# লেলিন বলেছিলেন, কোনো শিল্পী যদি প্রকৃতই মহৎ হন, তবে তার রচনায় বিপ্লবের কোনো না কোনো মর্মগত অংশ প্রতিফলিত না হয়ে পারে না। এই সময়ের সাহিত্যের গতি-প্রকৃতি কিংবা আগামী দিনের সাহিত্যের সম্ভাবনাকে বিবেচনা করলে লেলিনের এই কথাকে কতোটুকু যুক্তিযুক্ত বিবেচনা করেন।

– তলস্তয়কে নিয়ে রাশিয়ার তরুণ ‘কুম্যনিস্টরা বিশেষ মানস প্রতিবন্ধে আক্রান্ত ছিল। তলস্তয় বলশেভিকদের একান্ত বিরোধী ছিলেন, নিজে ছিলেন বিশেষ ধর্মবিশ্বাসী। কাজেই, কম্যুনিস্টদের মতে, তলস্তয়তো চরম প্রতিক্রিয়াশীল, তাঁর সাহিত্য কম্যুনিস্টদের কাছে অবশ্যই বর্জনীয়। লেলিন তরুণ কম্যুনিস্টদের এ ধরনের বক্তব্যকে কোনো মতেই মেনে নিতে পারছিলেন না। তাই তাকে তলস্তয়ের পক্ষে কলম ধরতে হয়েছিল। কম্যুনিস্টদের শুধু তলস্তয় নন, এই প্রসঙ্গে তিনি জগতের মহৎ শিল্পী সাহিত্যিকদের অবদানের তাৎপর্য মার্কসীয় দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছিলেন। যারা মহৎ শিল্পী সাহিত্যিক, তারা সমাজ বা ধর্ম সম্পর্কে যে মতই পোষণ করুক না কেন, শিল্পে সাহিত্যের ¯্রষ্টা হিসেবে তারা কোনো মতেই প্রতিক্রিয়াশীল হতে পারেন না। তলস্তয়ও একজন মহৎ শিল্পী রূপে তাঁর সৃষ্ট সাহিত্যে যা প্রকাশ করেছিলেন তাতে রুশ সমাজের প্রকৃত স্বরূপটি ধরা পড়েছিল। শুধু তাই নয়, তলস্তয়ের সাহিত্য পাঠে প্রতীয়মান হয় যে রুশ সমাজে বিপ্লব অবশ্যম্ভাবী প্রত্যেক কম্যুনিস্টদের উচিত তলস্তয়ের সাহিত্য পাঠ করে সমাজ বিপ্লবের মর্মবাণীটি বুঝে নেয়া। লেলিনের এই বক্তব্যে মহৎ শিল্পী সাহিত্যবাদের অবদানের স্বরূপ একেবারে স্ফটিক স্বচ্ছ হয়ে উঠেছে। বিগত কালের, একালের এবং ভাবী কালের সকল মহৎ শিল্পী সাহিত্যিক সম্পর্কেই এই যুক্তি একান্ত সত্য, এতে সামান্য মাত্রায়ও ভুল নেই।

# এবার আপনাকে একটি ব্যক্তিগত প্রশ্ন করি। নতজানু না হওয়ার যে জীবন আপনি যাপন করেছেন, চারপাশকে সুন্দর করার ব্রত নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন কিংবা যাচ্ছেন সব ক্ষেত্রেই নিশ্চয়ই সফল হননি। আজ জীবন সায়াহ্নের এই তরুণ যতীন সরকারকে যদি প্রশ্ন করি এই জীবন নিয়ে আপনি কি তৃপ্ত। জীবনের অনেক স্বপ্নই নিশ্চয়ই পূরণ হয়নি। এই সপ্নপূরণ হওয়া বা না হওয়ার সঙ্গে চিন্তক সত্তার কি কোনো দ্বন্দ্ব তৈরি হয়ন।

– জীবনের সব স্বপ্ন কারো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয় না, আমারও হয়নি। আমিও সর্বক্ষেত্রে অবশ্যই সফল হইনি। তবে আমার মূল চাওয়াগুলো যে পাওয়ায় পরিণত হয়েছে-এ কথা আমি মুক্তকণ্ঠে বলতে পারি। তাই কি পাইনি তার হিসাব মিলাতে মন মোর নহে রাজি। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েই আমি বলে যাবো- যা দেখেছি যা পেয়েছি তুলনা তার নাই।’

# অসুস্থ শরীর নিয়ে অনেক সময় দিয়েছেন। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনি অনেক ভালো থাকুন।

– তোমাকেও ধন্যবাদ। তোমরাও অনেক ভালো থাক।

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

আশরাফ রোকনের কবিতাগুচ্ছ

Mon Jun 8 , 2020
আশরাফ রোকনের কবিতাগুচ্ছ 🌱 জীবনের অর্থ  নিঃশঙ্ক আমি জানি না কখন পারবো হতে, নির্জলা সহজ হয়ে ওঠবে আকাশ আমার হবে রোদের উজ্জ্বল ফোয়ারা! মেঘেরা হবে অনুগত বন্ধু আমারই,যখন চাইবো বৃষ্টির হবে না অদুখ* অার তখন মাটির উপর রাখা রুক্ষ্মশুষ্ক হাতগুলি ভ’রে ওঠবে কৃষকের ফুলেফলে। চমক দিয়ে জেগে ওঠবে অজপাড়াগাঁ,শ্বাশতরা গেয়ে […]
Shares