বর্তমান বিশ্ব-সাহিত্য | কাজী নজরুল ইসলাম

বর্তমান বিশ্ব-সাহিত্য | কাজী নজরুল ইসলাম

🌱

বর্তমান বিশ্ব-সাহিত্যের দিকে একটু ভাল করে দেখলে সর্বাগ্রে চোখে পড়ে তার দুটি রূপ। এক রূপে সে শেলীর Skylark-এর মতাে, মিল্টনের Birds of Paradise-এর মতাে এই ধূলি-মলিন পৃথিবীর ঊর্ধ্বে উঠে স্বর্গের সন্ধান করে, তার চরণ কখনাে ধরার মাটি স্পর্শ করে না; কেবলি উর্ধ্বে- আরাে উর্ধ্বে উঠে স্বপনলােকের গান শােনায়। এইখানে সে স্বপন-বিহারী। 

আর এক রূপে সে এই মাটির পৃথিবীকে অপার মমতায় আঁকড়ে ধরে থাকে—অন্ধকার নিশীথে, ভয়ের রাতে বিহবল শিশু যেমন করে তার মাকে জড়িয়ে থাকে তরুলতা যেমন করে সহস্র শিকড় দিয়ে ধরণী-মাতা কে ধরে থাকে—তেমনি করে। এখানে সে মাটির দুলাল। 

ধূলি-মলিন পৃথিবীর এই কর্দমাক্ত শিশু যে সুন্দরকে স্বীকার করে, স্বর্গকে চায় না, তা নয়। তবে সে এই দুঃখের ধরণীকে ফেলে সুন্দরের স্বর্গলােকে যেতে চায় না। সে বলে : স্বর্গ যদি থাকেই তবে তাকে আমাদের সাধনা দিয়ে এই ধূলির ধরাতে নামিয়ে আনব। আমাদের পৃথিবী চিরদিন তার দাসীপনা করেছেন, আজ তাকেই এনে আমাদের মাটির মায়ের দাসী করব। এর এ-ঔদ্ধত্যে সুর-লােকের দেবতারা হাসান। বলেন : অসুরের অহংকার, কুৎসিত মাতলামি ! এর চোখ পাকিয়ে বলে : আভিজাত্যের আস্ফালন, লোভী নীচতা!

গত মহাযুদ্ধের পর মহাযুদ্ধে আরম্ভ এখান থেকেই। উর্ধ্বলােকের দেবতারা ভূকুটি হেনে বলেন : দৈত্যের এ-ঔদ্ধত্য কোনোকালেই টেকেনি!

নীচের দৈত্য-শিশু ঘুষি পাকিয়ে বলে : কেন যে টেকেনি তার কৈফিয়তই তাে চাই দেবতা ! আমরা তাে তারই আজ একটা হেস্তনেস্ত করতে চাই।

দুই দিকেই বড় বড় রথী-মহারথী। একদিকে নােগুচি, ইয়েটস, রবীন্দ্রনাথ প্রভৃতি dreamers স্বপ্নচারী, আর একদিকে গোর্কি, যোহান বোয়ার, বার্নার্ড শ’, বেনার্ভাতে প্রভৃতি। 

আজকের বিশ্ব-সাহিত্যে এই দুটো রূপই বড় হয়ে উঠেছে। 

এর অন্যরূপও যে নেই, তা নয়। এই দুই extreme-এর মাঝে যে, সে এই মাটির মায়ের কোলে শুয়ে স্বর্গের কাহিনী শােনে। রূপকথার বন্দিনী রাজকুমারীর দুঃখে সে অশ্রু বিসর্জন করে, পঙ্খীরাজে চড়ে তাকে মুক্তি দেবার ব্যাকুলতায় সে পাগল হয়ে ওঠে। সে তার মাটির মাকে ভালবাসে, তাই বলে স্বর্গের বিরুদ্ধে অভিযানও করে না। এই শিশু মনে করে স্বর্গ এই পৃথিবীর সতীন নয়, সে তার মাসি-মা। তবে সে তার মায়ের মতাে দুঃখিনী নয়, সে রাজরানী, বিপুল ঐশ্বর্যশালিনী। সে জানে, তারই আত্মীয় স্বর্গের দেবতাদের কোনাে দুঃখ নেই, তারা সর্বপ্রকারে সুখী কিন্তু তাই বলে তার উপর তার আক্রোশও নেই। সে তার বেদনার গানখানি একলা ঘরে বসে বসে গায়—তার দুঃখিনী মাকে শােনায়। তার আর ভাইদের মতাে, তার অশ্রুজলে কর্দমাক্ত হয় যে মাটি, সেই মাটিকে তাল পাকিয়ে উদ্ধত রোষে স্বর্গের দিকে ছুঁড়ে না।

এঁদের দলে লিওনিদ, আঁদ্রিভ, ক্লুট হামসুন, ওয়াদিল, রেম প্রভৃতি। 

বার্নার্ড শ’, আনাতােল ফ্রাঁস, বেনার্ভাতের মতাে হলাহল এটা পান করেছেন, এরাও নীলকণ্ঠ, তবে সে হলাহল পান করে এঁরা শিবত্ব প্রাপ্ত হয়েছেন, সে হলাহল উদ্গার করেননি। 

যারা ধ্বংসব্রতীতাঁরা ভৃগুর মতাে বিদ্রোহী। তাঁরা বলেন : এ দুঃখ, এ বেদনার একটা কিনারা হােক। এর রিফর্ম হবে ইভােলিউশন দিয়ে নয়, একেবারে রক্ত-মাখা রিভােলিউশন দিয়ে। এর খােল-নচে দুই বদলে একেবারে নতুন করে সৃষ্টি করব। আমাদের সাধনা দিয়ে নতুন সৃষ্টি নতুন স্রষ্টা সৃজন করব।

স্বপ্নচারীদের Keats বলেন,

A thing of beauty is a joy forever.(ENDYMION) Beauty is truth, truth beauty.

প্রত্যুত্তরে মাটির মানুষ Whitman বলেন :

Not Physiognomy alone- 

Of physiology from top to toe I sing, 

The modern man I sing.

গত Great War-এর ঢেউ আরব-সাগরের তীর অতিক্রম করেনি, কিন্তু এবারকার এই idea-জগতের Great War বিশ্বের সকল দেশের সবখানে শুরু হয়ে গেছে। 

দশ মুণ্ড দিয়ে খেয়ে বিশ হাত দিয়ে লুণ্ঠন করেও যার প্রবৃত্তির আর নিবৃত্তি হলাে না, সেই Capitalist রাবণ ও তার বুর্জোয়া রক্ষ-সেনারা এদের বলে হনুমান। এই লােভ-রাবণ বলে, ধরণীর কন্যা সীতা ধরণীর শ্রেষ্ঠ সন্তানেরই ভােগ্যা, ধরার মেয়ে প্রসারপাইন যমজ দুটোই হবে সেবিকা। সীতার উদ্ধারে যায় যে তথাকথিত হনুমান, বক্ষ-সেনা দেয় তার লেজে আগুন লাগিয়ে। তথাকথিত হনুমানও বলে, ল্যাজে যদি আগুনই লাগালি, আমার হাতমুখ যদি পোড়েই- তবে তাের স্বর্ণলঙ্কাও পোড়াব- বলেই দেয় লম্ফ। 

আজকের বিশ্ব সাহিত্যে এই হনুমানও লাফাচ্ছে এবং সাথে সাথে স্বর্ণালঙ্কাঝ পুড়ছে- এ আপনারা যে-কেউ দিব্যচক্ষে দেখছেন বােধ হয়। না দেখতে পেলে চশমাটা একটু পরিষ্কার করে নিলেই দেখতে পাবেন। দুরবিনের দরকার হবে না। 

রামায়ণে উল্লেখ আছে, সীতাকে উদ্ধার করার পুণ্যবলে মুখপোড়া হনুমান অমর হয়ে গেছে। সে আজো পূজা পাচ্ছে ভারতের ঘরে ঘরে। আজকের লাঞ্ছনার আগুনে যে দুঃসাহসীদের মুখ পুড়ছে- তারাও ভবিষ্যতে অমর হবে না, পূজো পাবে না ।—এ কথা কে বলবে ?

এইবার কিন্তু আপনাদের সকলেরই আমার সাথে লঙ্কা ডিঙাতে হবে। অবশ্য, বড় বড় পেট যাদের, তাদের বলছি না, হয়ে তাতে করে তাদের মাথা হেঁটই হবে।….

এই সাগর ডিঙাবার পরই আমাদের চোখে সর্বপ্রথম পড়ে 14th December—১৮২৫ খ্রিস্টাব্দের 14th December—এইখানে দাড়িয়ে শুনি Merezhkovsky-র বেদনা-চিকার 14th December!’ এইখানে দাঁড়িয়ে শুনি বর্বর রুশ-সম্রাট নিকোলায়ের দণ্ডাজ্ঞায় সাইবেরিয়ায় নির্বাসিত শতাধিক প্রতিভাদীপ্ত কবি ও সাহিত্যিকের মর্মন্তুদ দীর্ঘশ্বাস। এইখানে দাড়িয়ে দেখি জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি পুশকিনের ফাঁসির রজ্জুতে লটকানো মৃত্যু চার মূর্তি।

এই দিনই নির্যাতনের কংস-কারায় জন্ম নেয় অনাগত বিপণ্ডবী শিশু। বীণাবাদিনীর সরস্বতী এইদিন বীণা ফেলে খড়গ হাতে চামুণ্ডা-রূপ পরিগ্রহ করে। এর পরেই পাতাল ফুঁড়ে আসতে লাগল দলে দলে অগ্নিনাগ-নাগিনীর দল। কেতকী বিতানের শাখায় শাখায় দুলে উঠল বিষধর ভুজঙ্গের ফণা। 

এই নির্বাসনের সাইবেরিয়ায় জন্ম নিল দস্তয়ভস্কি ‘Crime and Punishment’ রাস্কলনিকভ যেন দস্তয়ভস্কিরই দুঃখের উন্মাদ মূর্তি, সােনিয়া যেন ধর্ষিতা রাশিয়ারই প্রতিমূর্তি। যেদিন রাস্কলনিকভ এই বহু-পরিচর্যারতা সােনিয়ার পায়ের তলায় পড়ে বলল, I bow down not to thee, but to suffering humanity in you!’ সেদিন সমন্ত ধরণী বিস্ময়ে-ব্যথায় শিউরে উঠল। নিখিল মানবের মনে উৎপীড়িতের বেদনা পুঞ্জীভূত হয়ে ফেনিয়ে উঠল। টলেস্টয়ের God এবং Religion কোথায় ভেসে গেল এই বেদনার মহাপ্লাবনে। সে মহাপ্লাবনে Noah-র তরণীর মতাে ভাসতে লাগল সৃষ্টি–প্লাবন-শেষ নতুন দিনের প্রতীক্ষায়। 

তারপর এল এই মহাপ্লাবনের ওপর তুফানের মতো ভয়াবহ সাইক্লোন মতাে বেগে ম্যাক্সিম গাের্কি। চেকভের নাট্যমঞ্চ ভেঙে পড়ল, সে বিস্ময়ে বেরিয়ে এসে এই ঝড়ের বন্ধুকে অভিবাদন করলে। বেদনার ঋষি দস্তয়ভস্কি বললে: তোমার সৃষ্টির জন্যেই আমার এ তপস্যা। চালাও পরশু, হানাে ত্রিশূল । বৃদ্ধ ঋষি টলস্টয় কেঁপে উঠলেন। ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে বলে উঠলেন : That man has only one God and that is Satan ! কিন্তু এই তথাকথিত শয়তান অমর হয়ে গেল, ঋষির অভিশাপ তাকে স্পর্শও করতে পারলে না। 

গাের্কি বললেন : দুঃখ-বেদনার জয়গান গেয়েই আমরা নিরস্ত হব না আমরা এর প্রতিশোধ নেব। রক্তে নাইয়ে অশুচি পৃথিবীকে শুচি করব। 

‘লক্ষ কণ্ঠে শুরুজির জয়’ আরাবে বাসুকীর ফর্সা দোল খেয়ে উঠল। নির্জিতের বিক্ষুব্ধ অভিযানের পীড়নে পায়ের তলার পৃথিবী চাকার নীচের ফণিনীর মতাে মােচড় দিয়ে উঠল। 

দূর সিন্ধুতীরে বসে ঋষি কার্ল মার্কস যে মারণমন্ত্র উচ্চারণ করেছিলেন তা এতদিনে তক্ষকের বেশে এসে প্রাসাদে-লুকায়িত শত্রুকে দংশন করলে। জার গেল-জারের রাজ্য গেল-ধনতান্ত্রিক প্রাসাদ হাঁতুড়ি-শাবল ঘায়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। ধ্বংস-ক্লান্ত পরশুরামের মতাে গাের্কি আজ ক্লান্ত-শ্রান্ত—হয়তাে বা নব-রামের আবির্ভাবে বিতাড়িতও। কিন্তু তার প্রভাব আজ রুশিয়ার আকাশে বাতাসে। 

কার্ল মার্কসের ইকনমিকস-এর অঙ্ক এই জাদুকরের হাতে পড়ে আজ বিশ্বের অন্ধ হয়ে উঠেছে। পাথরের স্তূপ সুন্দর তাজমহলে পরিণত হয়েছে। ভােরের পাণ্ডুর জ্যোৎস্নালোকের মতো  এর করুণ মাধুরী বিশ্বকে পরিব্যাপ্ত করে ফেলেছে। 

গোর্কির পরে যে সব কবি-লেখক এসেছেন, তাঁদের নিয়ে বিশ্বের গৌরব করবার কিছু আছে কি-না তা আজও বলা দুষ্কর। 

রাশিয়ার পরেই আসে স্ক্যান্ডিনেভিয়া। আইডিয়ার জগতে বিপ্লবের অগ্রদূত বলে দাবি রাশিয়া যেমন করে তেমনি নরওয়েও করে। ফ্রান্স-জার্মানি এ অধিকারের সবটুকুই পেতে দাবি করে।

আজকের নরওয়ের ক্লুট হামসুন, যোহান বোয়ার—শুধু নরওয়ে কথাই বা কেন বলি, আজকের বিশ্বের জীবিত ছােট বড় সব Realistic লেখকই বুঝি বা ইবসেনের মানস-পুত্র। হামসুন, বােয়ারের প্রত্যেকেই অর্ধেক dreamer, অর্ধেক ঔপন্যাসিক। বােয়ারের Great Hunger-এর Swan যেন ভারতেরই উপনিষদের আনন্দ। তাঁর The Prisoner Who Sang-এর নায়ক যেন পাপেপুণ্যে অবিশ্বাসী নির্বিকার উপনিষদের সচ্চিদানন্দ। হামসুনের Growth of the Soil-এর Pan -এর ছত্রে ছত্রে যেন বেদের ঋষিদের মতো স্তবের আকুতি। যে করুণ-সুন্দর দুঃখের, যে পীড়িত মানবাত্মার বেদনা এঁদের লেখায় সিন্ধুতীরের উইলো তরুর মতো দীর্ঘশ্বাস ফেলছে—তার তুলনা কোন কালের কোন সাহিত্যে নেই।

এই দুঃসহ বেদনা আমরা লাঘব করি লেগারলফের রূপকথা পড়ে—মাতৃহারা শিশু যেমন করে তার দিদিমার কোলে শুয়ে রূপকথার আড়ালে নিজের দুঃখকে লুকাতে চায়, তেমনি। 

রাশিয়া দিয়েছে Revolution-এর মর্মান্তিক বেদনার অসহ্য জ্বালা ; স্ক্যান্ডিনেভিয়া দিয়েছে অরুন্তদ বেদনার অসহায় দীর্ঘশ্বাস। রাশিয়া দিয়েছে হাতে রক্ত তরবারি ; নরওয়ে দিয়েছে দু’চোখে চোখভরা জল। রাশিয়া বলে এ-বেদনাকে পুরুষ-শক্তিতে অতিক্রম করব, ভুজবলে ভাঙব এ-দুঃখের অন্ধ কারা। নরওয়ে বলে, প্রার্থনা কর ! উর্ধ্বে আঁখি তােলাে! সেথায় সুন্দর দেবতা চিরজাগ্রত—তিনি। কখনাে তার এ অপমান সহ্য করবেন না !

এই প্রার্থনার সব স্নিগ্ধ প্রশান্তিটুকু উবে যায় হঠাৎ কোন্ অবিশ্বাসীর নির্মম অট্টহাস্যে। সে যেন কেবলি বিদ্রুপ করে। চোখের জলকে তারা মুখের পি হাসিতে পরিণত করেছে। মেঘের জল শিলাবৃষ্টিতে পরিণত হয়েছে। পিছন ফিরে দেখি, চার্বাকের মতো, জাবালির মতো, দুর্বাসার মতো দাঁড়িয়ে কুটি-কুটি বার্নার্ড শ, আনাতােল ফ্রাঁস, জেসিতাে বেনাৰ্ভাতে। তাদের পেছন থেকে উঁকি দেয়। ফ্রয়েড। শ’ বলেন : Love-টাভ কিছু নয়—ও হচ্ছে মা হবার instinct মাত্র, ওর মূলে Sex । আনাতােল ফ্রাঁস বলেন : কি হে ছােকরারা, খুব তাে লিখছ আজকাল। বলি, ব্যালজ্যাক-জোলা পড়েছ?

বেনাভাঁতেও হাসেন, কিন্তু এ বেচারা এদের মধ্যে একটু ভীরু। হাসি লুকাতে গিয়ে কেঁদে ফেলে Leonardo-র মুখ দিয়ে বলে : ‘বন্ধু ! যে জীবন মরে ভূত হয়ে গেল—তাকে ভুলতে হলে ভাল করে কবরের মাটি চাপা দিতে হয়। মানুষের যতক্ষণ আশা-আকাঙ্ক্ষা থাকে ততক্ষণ সে কাঁদে, কিন্তু সব আশা যখন ফুরিয়ে যায় সে যদি প্রাণ খুলে হেসে আকাশ ফাটিয়ে না দিতে পারে তবে তার মরাই মঙ্গল। তার মতে হয়তাে আমাদের তাজমহল-শাহজাহানের মােমতাজকে ভাল করে কবর দিয়ে, ভাল করে ভুলবারই চেষ্টা। 

বেনাভাঁতে হাসে, সে নির্মম; কিন্তু সে বার্নার্ড শ’র মতাে অবিশ্বাসী নয়। 

এরি মাঝে আবার দুটি শান্ত লােক চুপ করে কৃষাণ-জীবনের সহজ সুখ-দুঃখের কথা বলে যাচ্ছে—তাদের একজন ওয়াদিশল রেমন্ট—পোলিশ, আর একজন গ্রাৎসিয়া দেলেদ্দা-ইতালিয়ান। 

কিন্তু গল্প শোনা হয় না। হঠাৎ চমকে উঠে শুনি—আবার যুদ্ধ-বাজনা। বাজছে-এ যুদ্ধ-বাদ্য বহু শতাব্দীর পশ্চাতের। দেখি তালে তালে পা ফেলে আসছে-সাম্রাজ্যবাদী ও ফ্যাসিস্ত সেনা। তাদের অগ্রে ইতালির দ্যু-আননৎসিও, কিপলিং প্রভৃতি। পতাকা ধরে মুসোলিনি এবং তার কৃষ্ণ-সেনা। 

ক্লান্ত হয়ে নিশীথের অন্ধকারে ঢুলে পড়ি। হঠাৎ শুনি দূরাগত বাঁশির ধ্বনির মতো শ্রেষ্ঠ স্বপনচারী নোগুচি গভীর অতল এর বাণী—“The sound of the bell that leaves the bell itself.’ তারপরই সে বলে : আমি গান শােনার জন্য তােমার গান শুনি না। ওগাে বন্ধু, তােমার গান সমাপ্তির যে বিরাট স্তব্ধতা আনে তারি অতলতায় ডুব দেওয়ার জন্য আমার এ গান শােনা। শুনতে শুনতে চোখের পাতা জড়িয়ে আসে। ধুলার পৃথিবীতে সুন্দরের স্তবগান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ি নতুন প্রভাতের নতুন রবির আশায়! স্বপ্নে শুনি—পারস্যের বুলবুলের গান, আরবের উষ্ট্রচালকের বাঁশি, তুরক্ষর নেকাব-পরা মেয়ের মোমের মতাে দেহ!

তখনো চারপাশে কাদা-ছোঁড়াছুঁড়ি হোলি-খেলা চলে। আমি স্বপ্নের ঘোরেই বলে উঠি Thou wast not born for death, immortal bird!”

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

কবিতাগুচ্ছ | রুবাইয়াৎ আহমেদ

Tue Jun 23 , 2020
কবিতাগুচ্ছ | রুবাইয়াৎ আহমেদ 🌱 এবং এরপরও আমরা স্মরণ করবো যে   এক. এবং এরপরও আমরা স্মরণ করবো যে, মানুষে মানুষে প্রেম ছিল, ভালোবাসা ছিল, নধর শীতে মানুষ পরিপক্ক খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে ওম পোহাতো সূর্য ডোবার কালে। বাছুরের চোখ বাঁচিয়ে দোয়ানো দুধ নাক ডুবিয়ে পান করতো যে শিশুটি, মেলামিনের […]