বদনা বৃত্তান্ত এবং হাত ধোঁয়া কর্মসূচী  | ইমরান উজ-জামান

বদনা বৃত্তান্ত এবং হাত ধোঁয়া কর্মসূচী | ইমরান উজ-জামান

🌱

কাজলরেখা-রজতরেখার উপকূলের ফিরিঙ্গিবর তল্লাটে পীড়-মুরীদানের প্রচলন খুব। বছরে একবার ফসল কাটার মৌসুমে হাতি চড়ে পীড় সাহেব আসেন, মুরীদানের বাড়ি থাকেন কিয়ৎদিন। মুরীদানদের দেয়া ধান-চাল-টাকা-পয়সা এক সঙ্গে করে নিয়ে চুরাইন বিল সংলগ্ন মায়া তিমির চন্দ্রিকায় তার হুজরায় ফিরে যান। 

শোনা যাচ্ছে ভাওয়াল থেকে রাজন্য নিয়ে চৌকবন্দরে রাজধানী স্থাপন করেছেন মুগল সেনাপতি মানসিংহ। এমন এক সময়কালে ইদ্রাকপুরের মাঝহাটা গ্রামে ফসল তোলার ধুম পরেছে। কাজের এমন সুদিনকালে ঘাট সদরে মাহুতের হাক আর হাতির ডাক। কালিদাস সায়র পারের মাঝহাটা গ্রামের বনেদি দেওয়ান বাড়িতে হুজুরের আগমন ঘটেছে। চারদিকে কানাকানি, হুজুর আসার খবর। মুরীদানদের প্রত্যাশার বাইরে, এবছর হুজুর একটু আগে-বাগেই চলে এসেছেন। ঘাট সদরে গজারি গাছের সঙ্গে হাতি বেঁধে রেখে। হুজুরকে বরন করে বাড়ির আঙ্গিনায় নিয়ে আসা হলো।  

ছনছা তলায় হুজুরের জন্য রাখা হয়েছে চন্দন কাঠের জলচৌকি আর বোম্বাই আবের সাবান। শানের ঘাট থেকে পানি বোঝাই করে রামপালের শাহী বদনা হুজুরের সামনে রেখে নরসিংদীর গামছা হাতে দাঁড়িয়ে নকার। পাশেই বাড়ির কর্তা ও আশপাশের বাড়ির ভক্তকুল দাঁড়িয়ে। হুজুর জলচৌকিতে বসলেন, গামছা কাঁধে রেখে খানদানি নকার বদনা থেকে অল্প করে পানি ঢালছেন। হুজুর, সেই পানিতে সময় নিয়ে হাত পরিস্কার করছেন। পা পরিস্কার করছেন। নাকে-মুখে পানি দিলেন। কুলকুচি করলেন। পরিস্কার কর্ম শেষ করে, হুজুর হেটে গিয়ে বাংলা ঘরে তার জন্য গোছানো পালঙ্কে উঠে বসলেন। 

এই ভরা ফসল মারাইয়ের মৌসুমে আরো একটা কাজ বাড়লো, এই বলে বাড়ির কর্তৃর মেজাজ অতিশয় খারাপ। কি আর করা।  বাংলা ঘরের বিছানায় নতুন ফরাস বিছানো হয়েছে, পালঙ্কের উপড়ে টাঙ্গানো হয়েছে চান্দিনা, যাতে হুজুরের উপর মাকড়শা, টিকটিকি লাফ দিয়ে না পরে। হুুজুরের জন্য নয়া বর্তন পাতা হয়েছে , খাবারের আগে ও পরে হাত ধোয়ার জন্য। দস্তরখান পাতা হয়েছে, এটো-কাটা রাখার জন্য। 

হুজুর সেই আসা অবধি কোন কথা বলেননি। এবার চিন্তা করলেন, একটু কেরামতি দেখাতে হবে। না হলে ভালো দেখায় না। 

বসে বসে গলা উচিয়ে হাক ছাড়লেন, হুস -হুস – হুস। যা যা — ঐ  যা। 

বাড়ির কর্তা মালেক চাঁন জানতে চাইলেন, কি হয়েছে হুজুর? বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মুরিদানরা ব্যাকুল হয়ে জানতে চাইলেন কি হয়েছে হুজুর। কি ? কি ?

হুজুর বলেন, খোদার ঘরে, কুত্তাডা যায়। 

দরজার ঐ পাশের কামড়া থেকে ঘরের কর্তী শুনে কান খাড়া করলেন। কথায় আছে ঘরের কর্তী অনেক কিছুই ঠাহর করতে পারেন। আঁচ করতে পারেন অনেক সত্য-মিথ্যা। তার মনে কাজ করছে অন্য চিন্তা।  

সকলেই বেরহম আশ্চর্য্য হয়ে গেলেন। বাস্-সুৎরে কত বড় কামেল পীর। এখানে বসে মসজিদে কুত্তা প্রবেশ করছে তা দেখতে পায়। সকলের গর্বে বুক ফুলে ৩৩ ইঞ্চি হয়ে যায়। কি বিশাল কামেল লোকের মুরিদান তারা। 

কাজলরেখার স্ফটিক জলের কাচকি মাছ আর গোলশা মাছ আনিয়েছিলেন মালেক চাঁন। মালেক চাঁন বলে যান, হুজুরের কি ভাগ্য গোলশা মাছ সচরাচর কিনতে পাওয়া যায় না। হুজুর অখিল পূর্ণ করে খাবেন আজকে, আপনার প্রিয় হাঁসের ডিমও আছে।

হুজুর বলেন, খামু, খামু মালেন চাঁন। খুশির খবরে কিছুকাল আগেই আগমন করেছি। 

মালেক চাঁন সুধায়, কি খুশির খবর হুজুর কন দেহি।

হুজুর কহেন, মুসলমান বেরাদারের সুদীনের খবর হে চাঁন। মুগল রাজন্য এদতাঞ্চল শাসন করতো চৌক বন্দরে আগমন করিয়াছেন। বিক্রমপুর-ইদ্রাকপুর তল্লাটে দ্বীনের সূর্য উদিতো হইলো। পরান ভইরা খোদার নাম লও। খোদার নাম লও— 

ইয়া মাবুদ, আমিন-আমিন-আমিন।

সকলে কি বুঝলো, কি বুঝলো না। সকলেই সমস্বরে বলে উঠলো

আ—আ—মি—ন। 

এদিকে হুজুরের খাবার এনে হুজুরের সামনে রাখা হয়েছে। মালেক চাঁন দেখেন কাসার থালায় শুধু সাদা ভাত, আর কিছু নাই।

মালেক চাঁন নকারকে সুধায়, কিরে যা ছালুন-তরকারি নিয়ে আয়। 

নকার যাওয়ার আগেই, ভেতর ঘর থেকে গিন্নির গলা, দিয়েছি তো হাসের ডিম। 

এ ঘর থেকে কর্তা বলেন, কই না তো। 

হুজুর বলেন, দেও নাই গো মা জননি। জলদি দেও, খিদায় পরান যায়। সেই কোন সকালে মায়া তিমির চন্দ্রিকা থেকে দু-মুঠো অন্ন মুখে দিয়া বাইর হইছি। 

এই সুযোগটাই যেনো খুজছিলেন বাড়ীর কর্তী। তিনি বলে উঠলেন ‘তা হুজুর, খোদার ঘরে কুত্তাডা যায়, এইটা এখানে বসে দেখতে পারেন। আপনার থালায় ভাতের নীচে হাঁসের ডিম রাখা আছে, এটা দেখতে পান না?’ 

হুজুর ভরা মুরিদানের মাঝে অপমানিত হয়ে, কি বলবেন বুঝতে না পেরে, পালঙ্ক থেকে নেমে-বলেন, আমার বদনা কই। হন্ত-দন্ত হয়ে ছনছা তলায় রাখা রামপালের বদনা নিয়ে সোজা হাটা ধরেন। হাতি-ছাতি-মাহুত-নকার কোন কিছুর দিকে না তাকিয়ে সোজা মায়া তিমির চন্দ্রিকা’র পথ ধরেন বদনা হাতে। সকলে মনে করেছিলো হুজুর বদনা নিয়ে টাট্টিখানায় যাবেন। অনেক সময় পার হলেও হুজুরের কোন খোঁজ-খবর নাই দেখে, হুজুরের খোঁজে গেলেন উৎসুক্য একজন। জানা গেলো হুজুরকে বদনা হাতে গোপাটের লামছি দিয়ে ইদ্রাকপুরের দিকে যেতে দেখেছে সাধন মাঝি। হুজুর আর কোনদিন ফিরিঙ্গিবর তল্লাট মুখো হয়েছিলেন কিনা জানা যায়নি।   

এই গল্পের মোড়াল হচ্ছে, এক সময় কারো বাড়ি কেউ আসলে, বাড়ির প্রবেশের আগে, প্রয়োজন পড়লে টাট্টিখানার কর্ম সম্পাদন করে। হাত-মুখ পরিস্কার করে তার পর ঘরে প্রবেশ করতে হতো। এটাই ছিলো নিয়ম। 

কি এক আশ্চর্য্য কারনে আমরা সেই হাত ধোঁয়া সংস্কৃতি থেকে সরে এসেছিলাম। প্রকৃতি আবার আমাদের বাধ্য করছে সেই হাত-পা-মুখ ধোয়া সংস্কৃতি গ্রহণ করতে। তখন প্রতি ঘরের দাওয়ায় বদনা রাখা থাকতো এখন রাখা থাকে স্যানেটাইজার আর শহরের মোড়ে মোড়ে ওয়াসার পানির ট্যাংকি, বেসিন, সাবান। আগের দিনে মানুষ নিজে থেকেই সময় নিয়ে হাত ধুঁয়ে নিতেন। আর এখন লিখে রাখতে হয়, পুরো ২০ মিনিট হাত ধুয়ে নিন। অনেকে বলেন, সেই আগের মতো প্রতি ঘরের দাওয়ায় বদনা, ছাই-সাবান রাখলেই তো হয়। তারা এও বলেন, সেই ৪০০ বছর আগেই আমরা স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন ছিলাম। অতি আধুনিক হতে গিয়ে, লজ্জাদেশ পরিস্কার করতে টিসু ব্যবহার করছি, এটা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। পিতল-তামা-কাসা-সিলভার-মাটি যে মাধ্যমেই হোক, বদনা ফিরে আসুক আমাদের দাওয়া-ছনছায়।   

    

বদনা! সে এক যুগ ছিলো বদনার কি বাহার। শুনেছি বাবুজি মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী বা মহাত্মা গান্ধী, ভ্রমণে বদনা সঙ্গে রাখতেন। মনোজাগতিক রাজাধিরাজ হাসন রাজার ছিলো বিশেষ বদনা। রাজা বল্লার সেনের ছিলো মিনা বসানো বিশেষ বদনা।  

সেই সময় সম্পদশালীদের দাওয়ায় থাকতো কাসা-তামার বদনা। একটু কম সম্পদশালীদের দাওয়ায় সিলভারের বদনা। অর্থকরী কম আছে বোঝার জন্য যথেষ্ট, যার দাওয়ায় মাটির বদনা থাকতো। অবশ্য কোন কোন অঞ্চলে টাট্টিখানা থাকতো না। 

যেমন বসারচর, এই চরের লোকেরা মনে করতেন একজনের ত্যাগকৃত মলের উপর আরেক জনের মল রাখা অনুচিৎ। টাট্টি আবিস্কারককে তারা অভিশাপ দিতেন সকাল-বিকাল-সন্ধ্যা। তারা ঘাগরা গাছের ঝোপে প্রকৃতির সারায় অংশগ্রহণ করতেন। 

তবে রাজা-জমিদারদের বদনা কিন্তু ভিন্ন রকমের ছিলো। বিশেষ ভাবে বানানো. এই ধরেন পাল রাজার বদনা নিজের এলাকা রামপালের পালদের দিয়ে গড়ানো। যার উপর বোম্বাই মীনা আর বোখারের মেশক এর নকশা বসানো। 

        

বদনার বড় ভাই লোটা। মানে হচ্ছে বদনার আগে লোটা ব্যবহারের প্রচলন ছিলো। বিশেষ দূতমুখে জেনেছি, বাদশাহী আমলে রাজ ফৌজিদের পেরেডে যাওয়ার আগে টাট্টিখানার কর্মকে লোটা পেরেড বলা হতো। রসিকজনে বলেন, সেখান থেকেই নাকি হালের রসিকজনের ব্যবহৃত “লোটা প্যারেড” ভুক্তির উৎপত্তি।   

প্রাচীনে বদনা তৈরি হতো, মাটিতে। এরপর আসে ধাতুর যুগ। কাঁসা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদির তৈরী বদনা ব্যবহার করতে থাকে মানুষ। বর্তমানে চলছে বদনার প্লাস্টিক যুগ। মানুষ প্লাস্টিকের বদনা ব্যবহার করেন।

বদনা এতটাই দরকারী বাঙালি জীবনে, যে বদনা ছারা চলেই না। বদনার জন্য মানুষ রাজপথে দাঁড়িয়েছেন, এমন প্রমাণও আছে। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে ঢাকা শহরের প্রত্যেক মোড়ে মোড়ে বদনা হাতে মিছিল হয়েছিল। শহরে পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেটের দাবিতে।  সেই সময় কোন এক কবি কবিতাও লিখেছিলেন তার অংশ বিশেষ, 

 

ক্ষুধা নিয়েও দু’দিন কাটে

গোস্বা কিংবা রোসে

নিম্নচাপে দু’এক ঘন্টা

থাকতে পারবেন বসে?

——-

ধন দৌলত আর প্রেম-প্রীতি

বদনার কাছে বন্দী

বদনা ছাড়া জীবন অচল

যতই করেন ফন্দী।

——

রাজা-উজির প্রধানমন্ত্রী

হন না যতই নামী

জুলুম কালে সিংহাসন নয়

ভাঙ্গা বদনাই দামী।

বদনা নিয়ে আছে নানা কাহিনী তারই একটি-  নতুন জামাই আড়াই উল্লায় শশুরবাড়ি এসেছেন। খেতে বসেছেন, পেট পুরে খেয়ে কেবল উঠতে যাবেন। কিছু বোঝার আগেই শালিকা কৈ মাছটা পাতে তুলে দেয়, শালিকার মন ভাঙ্গবেন কি করে, তাই মন রক্ষায় খেয়ে উঠেন। কই মাছ শেষ হতেই জেটুস খাসির মাংশের দুটো নল্লি তুলে দেন পাতে, কি করেন আর তাও খেয়ে উঠেন। ভাবেন যাক বাঁচা গেলো। কিন্তু এর মধ্যে এসে পাশে দাড়ান দাদি শাশুড়ি। নিরলে কহেন কিরে গোলামের ভাই গোলাম, বোয়াল মাছের পেটি খাবে কে? সেই বেদেরগঞ্জ থেকে তোর জন্য বোয়াল মাছ আনিয়েছি। এই বলে পাতে তুলে দেন বোয়াল মাছের পেটি। কষ্টে-পিষ্টে খেয়ে উঠেন বোয়াল মাছের পেটি। যেই উঠতে যাবেন শাশুড়ি হাকিয়ে উঠেন, ‘ কি রে নাপিতের পো। আমি যে এতো কষ্ট করে চিতল মাছের কোপ্তা করলাম, সেটা খাবে কে? বিক্রমপুরের জামাই বলে কথা। শাশুরির কথা রাখতে গিয়ে সেটাও গলাদকরন করেন নতুন জামাই। 

জামাইর দফা-রফা, যেতে হবে প্রকৃতির ডাকে। এবার শুরু বদনা পেরেড। বদনার খোঁজে ছোটে নতুন জামাই। শালারা চেপে ধরে, ‘আগে পকেটে হাত দেন দুলাভাই’। কি আর করা, চারখানা ফুটা পয়সা আচকানের পকেট থেকে বের করে বাড়িয়ে দেন। এবার শালিকারা ধরে, ছেলেদের দিলেই কি সব হয়ে গেলো। আমাদের ভাগেরটা কই। এদিকে পেরেডের অবস্থা রফা-দফা। পকেটে যা ছিলো সব সিক্কা শালিকাদের হাতে তুলে দিয়ে বদনা হাসিল করে ভোঁ দৌড় টাট্টিখানায়। কাসার বদনা এতটাই ভারি জামাই বাবু বেগের কারনে বুঝতেই পারেননি বদনা খালি। 

যখন বুঝতে পেরেছেন, তখন টাট্টিতে বসে থাকা ব্যতিত আর কিছু করার নেই, বেচার নয়া জামাইর। শুনেছি পরে বাড়ির বড়রা এসে নতুন জামাইকে উদ্ধার করেছিলেন।    

উইকিপিডিয়ায় বদনার বিবরন এভাবে দেয়া হয়েছে, বদনা পানি বহন করার জন্য ব্যবহৃত এক প্রকারের পাত্র যা সাধারণত বাংলাদেশ এবং ভারতের কিছু অঞ্চলে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এর উৎপত্তি ঘটে প্রাচীন বঙে। বদনার আকৃতি সাধারণত গোলাকার, তবে এর নিচের দিক থেকে সামান্য বাঁকা একটি নলাকার অংশ বেরিয়ে আসে। বদনা মূলত মল ত্যাগের সময় লজ্জাদেশ পরিষ্কার রাখতে ব্যবহৃত হয়।  

ছোট বেলায় দেখেছি। আমাদের বাড়িতেও কাসা এবং পিতলের ঘটি আর বদনা ছিলো। কিছু বুঝে উঠার আগেই একদিন দেখি সেসব আর নাই। অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি, সকলের একই অভিজ্ঞতা, কোথায় গেলো এসব ঘটি-বদনা? এটা একটা ভাবার বিষয় বটে। 

আজকাল সেই টাট্টিখানাকে বলা হয় টয়লেট। সেখানে ব্যবহৃত হয় শাওয়ার বদনা। এছাড়া প্লাস্টিকের বদনাও ব্যবহার করা হয়। সে এক কাহিনী, একবার গেছি জুলহাসের দোকানে টয়লেটের জন্য বদনা কিনতে। বদনা চাইতেই জুলহাস বলে, ভাই কি বদনা দিবো? হরহর করে জুলহাস নাম বলে গেল-  অনামিকা, মৌসুমি, কেয়া, অহনা, সুরভী, মাধবীলতা…। আমি ওকে থামিয়ে দিয়ে বলি থামো থামো, আর বলতে হবে না। আমি চাই বদনা , আর তুমি মেয়েদের নাম বলে যাচ্ছো! জুলহাস কয়েকটা বদনা আমার দিকে বাড়িয়ে দিতেই ব্যাপারটা খোলাসা হলো। বদনার গায়ে এসব নামাঙ্কিত, এই নামগুলো আসলে, এসব বদনার। বদনারই এমন বাহারি নাম। 

বদনার নাম যদি মানুষের নাম ধারণ করে, তাহলে মানুষের নাম কি হবে? 

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

গল্পটা কাদের আলীরও হতে পারতো | মোর্শেদ শেখ

Wed Jul 1 , 2020
গল্পটা কাদের আলীরও হতে পারতো | মোর্শেদ শেখ 🌱 পিপড়াকান্দি গ্রামের কাদের আলী কোন এক কার্ত্তিক মাসের শেষে মরার প্রবল ইচ্ছা পোষন করা সত্ত্বেও মাঝ ভাদ্রের এক কাঠফাটা দুপুরে তার অতি প্রিয় গান উকিল মুন্সীর –“আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি’’ গাইতে গাইতে কার্ত্তিকের শেষ হতে প্রায় মাস দেড় আগে আচানক মরে […]