অর্গাজম | জাহিদুর রহিম 

অর্গাজম | জাহিদুর রহিম 

🌱

এক 

ঘটনাটা অন্যভাবে ঘটতে পারতো যদি মদ সত্য কথা বলার গুণাগুণ ধারণ না করত। আমাদের চেনাজানা পরিচিত জগতের মধ্যে কিছু মানুষ খেয়ালে বেখেয়ালে একটা অদ্ভূত হওয়ার মতো হারিয়ে যায় যে হওয়ার উৎস অনুসন্ধান করেও পাওয়া যাবে না যদি না আপনি মাতাল হন। এবং মদ উৎস অনুসন্ধানের ক্ষমতা না রাখতো। কিন্তু মদের এই সত্য বলানোর গুণের মধ্যেও একটা অতৃপ্তি আর অজানা আশঙ্কা লুকিয়ে আছে, যেন সুখের মতন গোপন দুঃখ।

কিন্তু এত সব কিছুর মাঝেও একটা মানুষ হঠাৎ যদি হারিয়ে যায় যে মানুষটাকে আমরা একসময় হয়তো খুব চিনতাম, যে আমাদের খুব কাছের বন্ধু বা স্বজন; যার আমাদের মতোই একটি স্বপ্ন ছিল, একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল জীবন নিয়ে । সেই মানুষ হঠাৎ হারিয়ে যায় কিভাবে এর কিছুই আমরা জানতে পারতাম না যদি না মদ সত্য কথাটা বলাতো। মানে বলতে চাইছি মদের মাঝে সত্য বলার কোন গুণ লুকিয়ে না থাকতো।  

এই ধরুন শাওলিন নামের একটা মেয়ে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যাথমেটিক্সে এমএসসি ডিগ্রীপ্রাপ্ত  একজনকে আর যাই হোক আমরা বোকা, নির্বোধ, দুর্বল বা অসহায় ভাবতে পারিনা। সেই মেয়েটা শহরের মুখের মধ্যে সন্ধ্যা যেভাবে রাতের মাঝে হারিয়ে যায়, চাঁদ যেভাবে মেঘের মধ্যে হারিয়ে যায় ঠিক সেভাবে যখন জীবন থেকে হারিয়ে যায় এবং আমরা দিনের পর দিন জানতেও পারি না বা তাঁকে মনে পড়ে না তখন, এটা ধরে নিতেই পারি সুপার ফেসিয়াল মানুষের ফেব্রিক যে আচরণগুলো, যে বিশ্বাসগুলো আর  যে নৈতিকতা আমাদের প্রতিদিন ভাবায় এবং আমরা ভাবি, সেটার সাথে বাস্তবতার কতটুকু দূরত্ব আমরা এটাও জানতে পারতাম না, যেমন সেক্স ও অর্গাজম এর মাঝে তফাৎ জানা হতো না, যদি না মদ আমাদের কিছু সত্য কথা বলে দিতো অথবা মদের মধ্যে সত্য বলার কোন না কোন গুণাগুণ না থাকতো।  

কিন্তু জগত নির্দয়। এই বৃহৎ সংসারে কে কোথায় কোন কোণে পড়ে আছে কে কোথাও কোন মাঝ দুপুরে মিলিয়ে যায় পথে মতো আমরা কজনের হদিস জানি? এই যে একটা বড় শহরে একটি মেয়ে দিনের পর দিন চাকরির সন্ধানে ঘুরে ঘুরে পরিবারের ছোট ভাই-বোন, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কথা চিন্তা করে করে হতাশ ও ক্লান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত সান্তনার জন্য আসে প্রথমে মাদকের কাছে। তারপরে হয়ে পড়ে রাতের রানী কিন্তু তাঁর দায়িত্ব নিবে কে?

এই মেয়েকে তো কেউ চিনত মমতাময়ী হিসেবে। ভার্সিটিতে পড়ার সময় তাঁর দরিদ্র রুমমেটকে অনেক মাস নিজের খাবার থেকে ভাগ দিয়েছে। তারও তো ভালবাসার কেউ ছিল আমি জানি। তাঁর ছিল প্রিয় ঋতু, প্রিয় রঙ আর প্রিয় গান। সেও দুঃখ পেতো, অভিমান করতো। গালিবের কবিতার মতো করে আমাকে সে বলেছিল, ‘আমি তো মানুষ, আমার তো হৃদয় আছে, আমি তো ইট পাথর নই। আমাকে দুঃখ দিলে তো আমি হাজার বার কাঁদবো’। তারও বন্ধু ছিল, বিশেষ বন্ধু ছিল, যার মাধ্যমে আমি শাওলিনকে চিনতাম। কিন্তু মেয়েটাকে তো চিনতে পারলাম না, বলা ভালো মেয়েটাকে আর খুঁজে পেলাম না। মেয়েটা হারিয়ে গেলো এই বিশাল শহরে কিন্তু কিভাবে হারালো এটাও আমরা জানতাম না, যদি মদ আমাদের কিছু সত্য কথা না বলে দিত বা এর কোন গুণাগুণ না থাকতো। 

 

দুই 

মাহফুজ, সিফাত আর মলয় তিন বন্ধু কিন্তু তিনজনের মধ্যে অমোচনীয় দূরত্ব জীবন যাপনের বা জীবন বিশ্বাসের বা জীবনকে তুলে আনার; যেমন  দূরত্ব শিক্ষা, চাকরি, নৈতিকতা এবং ক্ষুধার কাছে পরাজিত হয়ে যাওয়া। আমি জানতাম সিফাতের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই খুব অন্তরঙ্গ সম্পর্ক শাওলিনের,  এমনকি ঢাকার বাইরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ে আসার পরেও ঢাকায় তাদের মধ্যে সম্পর্ক জিন্দা ছিলো।         

সম্পর্ক বলতে মাঝে মাঝে দেখা হতো। হয়ত আরও কিছু হতো, কিন্তু যেহেতু আমরা জানি না সেসব, হয়ত  অনুমান করতে পারি, কিন্তু সেই অনুমানেও কাজ নেই আমাদের বা শাওলিনের। একাকী দিনগুলোতে মাদক সেবনের নিসঙ্গ মুহূর্তগুলোতে সিফাত মাঝে মাঝে থাকে, তাঁকে সঙ্গ দেয়। মদ সংঘটিত এক মজমায় এই ঘটনা সিফাত বলে দেয় মাহফুজকে। বলে যে তার এই মেয়ের প্রতি কোন মায়া মমতা নেই। কেবল টাইম পাস করছে এবং এটাও নিশ্চিত করে যে শাওলিনও তাই করছে। কোন এক বদ্ধ ঘরে অসুস্থ জোরে বিকৃত  বলিউডের যৌন আকুতিমাখা ‘শিলা কি জোয়ানির’ সাথে কথা গুলো গিলে দুজনের শরীর গরম হয়ে যায়।

মদের বাইরেও কি যেন তাঁদের গরম করে তোলে। এটা দুজনেই টের পাবার পরে তারা একমত হন যে মাদকসেবী এক মেয়ের সাথে যৌনতার এক বাসনা জেগে ওঠা খুব স্বাভাবিক। যদিও সিফাত খুব  সচেতনভাবে যেই জিঘাংসার আগুন জ্বালিয়ে দিলো, পুড়িয়ে দিলো মাহফুজের অন্দর, সেই আগুনে ঘরটা তবু আলো করেনি। বরফের টংটাং আওয়াজ, মাতালদের চিৎকার, সিগারেটের ধোঁয়ার সাফোকেশন আর স্বয়ং মদ থাকতে কি করে আলোকিত হয় একটা মাতালের আপন ঘর।  

বন্ধুদের মধ্যে দুষ্টুতম মলয়, মাঝে মাঝে প্রচুর কথা বলতো। যে শুধু নিজের কথাই বলত না, তাদের প্রায় মধ্যবয়সী বান্ধবীদের বিভিন্ন জনের যাঁদের খোঁজ রাখতো সে ব্যক্তিগত দায়িত্ব মনে করে, এঁদের কথাও।  এঁদের কেউ সিঙ্গেল মাদার, কেউ ডিভোর্স্‌ড, কেউ স্বামীর সাথে অনেক দূর দেশে থাকে। কিন্তু শাওলিন কই থাকে, শাওলিনের সংসার কেন হলো না, তার চাকরি হলো না কেন বা তার জীবনের সুখ স্বার্থ কিছুই ছিল কিনা না- এসবের উত্তর আমদের জানা হবে না। তবু আমরা তো জানি, তারও কোন প্রেমিক ছিল, কোন একদিন কোন এক কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে হেটে হেটে প্রেমিকের হাত ধরে সেও রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনেছে।   

আজ এক অন্ধকার ঘরে যখন সে সিফাতের সাথে মিলিত হয়, সে মিলনটা কেমন, যেহেতু কেউ আমরা চোখে দেখিনি, আমাদেরকে বিশ্বাস করতেই হবে সিফাতের কথা যে তারা সুখ-দুঃখের ভাগীদার হতো, আনন্দ বেদনাও, বা আরও কিছু বেশি যেমন জীবনযাপনের অনুষঙ্গ এসবেরও। কিন্তু এসব কথার কোন অর্থ নেই, পরিণতি নেই। যাদের মনে জিঘাংসা, যাদের মনে কাম তাঁরাই কেবল এই ব্যাপারে খুব উৎসাহিত হতে পারেন। তারা চিন্তা করবেন কিভাবে শাওলিনের সাথে বসে অন্তত মাদক কেন খাওয়া যায়।

 

তিন 

এমন করে দিন যেতে লাগল। কিন্তু মাহফুজের সমস্যাটা অন্য। মাহফুজ, তার বউয়ের ডিভোর্সি বান্ধবীর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। কিন্তু ধর্মীয় সংস্কার হোক আর তার আপন নীতির কাঠামোতেই হোক, এক অদ্ভুত ধারণা পোষণ করতো মনে। শারীরিক সম্পর্ক বুঝতেই সে দুই দেহের মিলনকে বুঝতো। অর্থাৎ দেহে প্রবেশ, এটাই কাম, এর বাইরে কিছুই না। এমনকি প্রকাশ্যে সে বলে বেড়াতো-  ‘প্রয়োজনে একটা ডিভোর্সি মেয়েকে অর্গাজমের ব্যবস্থা করে দিবে বা দেওয়া তার সামাজিক দায়িত্ব, কিন্তু তার মধ্যে সে প্রবেশ করবে না’, কারণ সেটা জেনা,  অর্থাৎ অর্গাজম পর্যন্ত ঠিক আছে, বাদ বাকিটুকু ঠিক নাই। 

তার বউ যখন প্রেগন্যান্ট তখন সে বউয়ের ডিভোর্সি বান্ধবীর ঘরে। এটা হচ্ছে মুক্ত যৌন সমাজ, তাই মাহফুজের মনে কি ছিল সেটা সৃষ্টিকর্তা ছাড়া তো আর কেউ জানে না। ‘আবার কখন ফ্রি থাকবা বলো’- জিজ্ঞেস করত মাহফুজ। উত্তরটা এড়িয়ে যেতো বারবার আসমা। 

ব্যাপারটা যদি আমরা আলাদাভাবে দেখি অনেক দূর থেকে, আমরা দেখবো সিফাতের কাছের বন্ধু শাওলিন অথবা মাহফুজের অর্গাজম করে দেওয়া বউয়ের ঘনিষ্ট বান্ধবী আসমা-  এরা কেউ দূর আকাশের নক্ষত্র হয়ে যায়নি, এরা আমাদের মাটির মানুষ। এদের জীবন আছে, এদের দুঃখ আছে, কষ্ট আছে কিন্তু এই দুজনের বাইরে থেকে যে সমস্ত ঘটনাটি দেখছে সে কি জানত যে এরা কই থাকে দিনের পর দিন? সিফাত যখন শাওলিনের কথা বলতো বা মাহফুজ যখন আসমার কথা বলতো, খুব উদ্বাহু হয়ে দুজনের খবর জানতে  চাইতো যে, এবং মদের টেবিলে একবার সিফাত কথা দিয়েছিলো অবশ্যই বাকি দুইজনকে শাওলিনের কাছে নিয়ে যাবে। শ্যাওলিন, যে ম্যাথমেটিক্সে এমএসসি করার পরের পাঁচ বছরও কোনো সম্মানজনক চাকরি জোটাতে পারেনি।  আমরা তো আর জেনে গেছি যে আধুনিক পড়াশোনা হচ্ছে সেটাই যেটা ডেকে এনে সার্টিফিকেট হাতে দিয়ে সবাইকে বেকারের রাস্তা খুলে দেয় এবং  ‘ইউনিভার্সিটি প্রশিক্ষিত পরিবার’ আর আগের মতো গ্রামের পিতৃ- পুরুষের ভিটায় বসবাস করার যোগ্য হবে না।   

 

চার 

এই যে তিন বন্ধু যারা মদ খায় এবং জীবনের তিনটি দিকের মধ্যে বেঁচে থাকে, এদের সাথে আমার পরিচয় হয় মধ্যখানে রুচিতা বার মহাখালীতে এবং কি করে যেন সিফাতের জড়াজড়িতে একদিন আমিও মাহফুজকে জোর করতে থাকি শাওলিনের সাথে আমার দেখা করতে দেয়ার জন্য। কি কারনে যেন মাহফুজ বা মলয়ের চেয়ে আমাকে অধিক বিশ্বাস করে ফেলে সিফাত এবং মদ খেতে খেতে একদিন আমাকে কথা দেয়, খুব গোপনে নিচুস্বরে, অন্য দুজন তখন মাতাল এবং জোরে জোরে কি যেন অস্থির কথা বলছে, আর টিভিতে হিন্দি গান দেখছে, আমাকে শাওলিনের সাথে একদিন দেখা করাবে। 

অনেকদিন পর, আমার ঠিক মনে নেই কতদিন পর, কোন এক অফিসের দুপুর বেলা হঠাৎ করে সিফাত ফোন করে বলে আমি যেতে পারবো কিনা নিকুঞ্জের কোন এক বাসায়, যেখানে শাওলিন থাকে, এবং আমি গেলাম, এবং বাসায় ঢোকার পর মুহূর্তেই আমার মনে পড়ে যায় গল্পটি। আমি চিন্তা করছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী একটা মেয়েকে এই অবস্থায় কিভাবে দেখা শোভন হবে?  

আমি শাওলিনের চোখের দিকে তাকালাম। চোখের চারিপাশে কালি। তাকে দেখে মনে হলো অনেকদিন সে গোসল করেনি অথচ তার চোখ ভরা মায়া এবং ক্লান্তি। সারা ঘর লন্ডভন্ড। পানি খাওয়ার বোতলগুলো উঠে পড়েছে বিছানায় এলোমেলো, অনেক খাতা-পত্র, বই আর বই সাড়া ঘরময়। সবচেয়ে আকর্ষণীয় লাগলো রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি আর জীবনানন্দ দাশের কাব্য সমগ্র। আমি দেখছিলাম এসব আর শাওলিন আমাকে। এমন ভাবে আমার দিকে তাকালো সে যেন তার সমস্ত জীবনটাকে দেখতে পাচ্ছে আমার চোখের ভিতর। আমি যেন সেই অসহায় পিতা যে দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়েকে খুজছিলো। এবং আমার ভয় হলো এই ভাবনায়। অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘরে আমি এসব খুলে বললে শাওলিন অন্য কিছু খুলে ফেলতে পারে ভেবে নির্বাক হয়ে এক কোণে থাকলাম বসে। চুপচাপ। ধোঁয়া। চুপচাপ। কোন কথা বলতে পারিনি আমি, একটা শব্দও না।   

 

পাঁচ 

এমন কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটে জীবনে যেগুলো বুঝতে আপনার দ্বিতীয়বার চিন্তা করতে হয়। ঘটনাগুলো সমান না, সরল না, যেমন মানুষের মন এঁকেবেঁকে চলে, সেধে কই হারায় কোথায় নেমন্তন্ন থাকে তার, কোন মায়ায় কোন সাগরে ডুবে যায় আমরা বুঝিনা। এরপরে আবারো এক মদের আড্ডায় কাঁদতে কাঁদতে মাহফুজ একদিন কথা বলছিল। আমি ভাবলাম তার পেগনেট ওয়াইফের কোন সমস্যা হলো কিনা। হঠাৎ করে বলে ফেললো, ‘আচ্ছা তোমাদেরও তো বন্ধু হয় আসমা! এই যে তার আজকের এই অবস্থা, মেয়েটা না খুব দুঃখী’… ইত্যাদি। কথা শুনে আমরা বাকি তিন জন মুখ চাওয়া চাওয়ি করলাম। এরপরে বলা শুরু করলো মেয়েটা খুব নিঃসঙ্গ… ইত্যাদি।

মদের ঝোঁকে আমার শায়েরি চলে আসলো, গালিবের ভাষায় বললাম ‘দুনিয়ায় সবাই নিঃসঙ্গ, কেউ নিঃসঙ্গতাকে ঘৃণা করে, আর কেউ খুঁজে বেড়ায় সারা জীবন’। সভার পিছনে ছুটে কথার লাগাম ধরে শুনে আমরা আসলে বুঝিনি বুঝিনি মাহফুজের মনের কথা! মাহফুজের দাবি অনুযায়ী আসমা ছিল সিফাতের ফুফাতো বোন ফুফাতো বোন যে কিনা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া অনেক প্রগতিশীল সেও একদিন হঠাৎ করে তার ফেসবুক ডিএক্টিভেট করে দেয়।  অসামাজিকতার এই যুগে ফেসবুক যেখানে সামাজিকতার একটা মানদণ্ড বা সামাজিকতা রক্ষার একটা বাজার, সেখানে ফেসবুক ডিএক্টিভেট করা মানে পৃথিবী থেকে অনেকটা মুছে যাওয়া। 

এরপর আমরা কখনোই জানতে পারিনি আসমার অর্গাজম সম্ভব হয়েছিল কিনা। 

 

ছয় 

মদ খেতে খেতে মাতালরা কখনো কখনো সত্য কথা বলে। তেমন এক মদ আসরে মলয় সিফাতের হাত চেপে ধরে তার সাথে শাওলিনের সাথে মিট করিয়ে দেয়ার জন্য। সিফাত তাকে কথা দেয় সন্ধান দিবে। শাওলিন যে কত স্মার্ট মেয়ে সে সাক্ষ্য আমাকে দিতেই হয়, যেভাবেই আমি তাঁকে দেখি না কেন। এবং এই প্রলোভনে মদের সেদিনের বিল মলয় চুকায়।    

এরপর দিনের পর দিন যায়। মদ আসে। সপ্তাহ যায়। মলয়ের উত্তেজনা বাড়ে। সিফাত শাওলিনের কথাটি চেপে যায় কিন্তু মলয় ভুলে যায় না। সে সপ্তাহে একবার বা দু’সপ্তাহে একবার ঠিক মনে করিয়ে দেয়।এবং বলতে বলতে আমাদের মাথা ধরিয়ে দেয়। মলয়ের কথায় আমরা জানি যে দুনিয়ায় শাওলিন একমাত্র মেয়ে যে ম্যাথে মাস্টার্স করেছে এবং নেশা করে। সিফাত বলে যে তার সাথে এখন শাওলিনের যোগাযোগ কম ইত্যাদি ইত্যাদি। 

সিফাত যত দেরি করে মলয় তত অস্থির হয়ে যায়। 

এভাবে সময় যায়। এরপরে একদিন কোন এক আসরে মলয় যখন চেপে ধরে সিফাতকে, দেখা গেলো ফোন নাম্বারটি বন্ধ এবং তাদের কারো কাছে শাওলিনের কোন সন্ধান নেই। শাওলিন গেল কই- এই প্রশ্নের উত্তরে  সিফাত জানায় যে আগামী তিন মাসের মধ্যে সে যে করেই হোক খোঁজ বের করেবে।

 

সাত 

এরপর আমরা তিন মাস অপেক্ষা করতে থাকি। 

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

শুক্রবারের ধারাবাহিক গদ্য ২ : বদ্ধ দিনে মুক্ত গান | মুম রহমান  

Thu Jul 30 , 2020
শুক্রবারের ধারাবাহিক গদ্য ২ : বদ্ধ দিনে মুক্ত গান | মুম রহমান   🌱 মানুষ কবে থেকে বেচাকেনা শুরু করলো? দিনক্ষণ ঠিকঠাক বলা খুবই মুশকিল হবে। বেচাকেনা তো শুধু টাকা পয়সার আবিষ্কারের সাথে সম্পৃক্ত নয়, তার শেকড় আরো গভীরে। শুরুতে তো বিনিময় ছিলো। আমার গাছে কলা আছে, তোমার পুকুরে মাছ […]
Shares