সুরেশ | সমীরণ দাস

সুরেশ | সমীরণ দাস

🌱

বহুবছর চাকরি করে অবসর নিয়েছি। এখন কর্মহীনের জীবন যাপন করা ছাড়া আর তেমন কাজ নেই। শুধু দিনগত পাপক্ষয়। সকালে বিকেলে চায়ের দোকানে বসি। চা খাই। আড্ডা মারি। বাড়ি ফিরে আসি। 

একদিন সুরেশের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। 

ওকে দেখে চমকে গেলাম। 

সুরেশ আমার ছোটবেলার বন্ধু। কৈশোরে এক সঙ্গে খেলাধুলা করেছি। আড্ডা মেরেছি। মারপিট করেছি। প্রতিবেশীর বাগান থেকে ফল চুরি করে খেয়েছি। আরও অনেক স্মৃতি ওকে নিয়ে জড়িয়ে আছে আমার সত্তার মধ্যে। দিন যায়। 

একদিন আমি চাকরি নিয়ে চলে গেলাম দূরে। সুরেশের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। কর্মক্ষেত্রের জটিলতায় সুরেশের কথা আর তেমন মনেও হয় না। 

সেই সুরেশের সঙ্গে এতদিন পর দেখা হতেই চমকে গেলাম। এ’কী চেহারা হয়েছে ওর। পরণে লুঙ্গি। মাথার সমস্ত চুল সাদা। শরীরটা একেবারেই ভেঙে গেছে। বুঝতে পারলাম , অসীম দারিদ্র গ্রাস করেছে ওকে। আমার বুকের ভিতরটা কেমন করে উঠল।  বললাম , সুরেশ না ? কেমন আছিস ? কোথা থেকে আসছিস?

সুরেশ আমাকে চিনতে পারল। কাছে এগিয়ে এসে বলল, ভাল আছি। আমি এখন রাজমিস্ত্রির হেলপারের কাজ করি। আজ কোনও কাজ পেলাম না। কী যে হবে !

ওকে নিয়ে দোকানে বসলাম। চা খেলাম। এবং দু কেজি চালও কিনে দিলাম। 

সুরেশ খুব খুশি হল। বললাম , আর কী খবর ?

সুরেশ বলল , ভাল। আমার মেয়েটার খুব ভাল বিয়ে দিয়েছি। জামাই সরকারি চাকরি করে। ওরা ভাল আছে। 

সুরেশ চলে গেল। ওরা গরিব ছিল। আরও গরিব হয়েছে। 

তারপর ওর সঙ্গে মাঝেমধ্যেই দেখা হয়। প্রতি বারই ওকে দু কেজি করে চাল কিনে দিই। চা খাই।  আর ও বলে ওর মেয়ের কথা। জামাইয়ের কথা। ভাল আছে ওরা। একদিন বিরক্ত হয়ে বললাম, সুরেশ প্রতিদিন-ই তুই তোর মেয়ের কথা বলিস কেন ?

সুরেশ একটু চুপ করে থেকে বলল, ঐ একটা ছাড়া আমার তো আর বলার মত কিছু নেই।

 

🔅

জন্ম ১০ জানুয়ারি ১৯৫৩ একটি নিম্নবিত্ত পরিবারে। কিন্তু স্কুল জীবন থেকেই ছিল লেখক হওয়ার স্বপ্ন। প্রথম গল্প প্রকাশিত  হয়েছিল আজকাল পত্রিকায়। তারপর নানা প্রতিকূলতার লেখা ছাড়তে বাধ্য হলেও লেখা তাঁকে ছাড়েনি।

দশ বছর বিরতির পর আবার প্রকাশিত হয়েছিল গল্প “হাঁটা” , প্রতিক্ষণ পত্রিকায়।

তারপর থেকে তিনি নিয়মিত লেখক। এখন পর্যন্ত তাঁর সবথেকে বড় কাজ মাইকেল মধুসূদন দত্তর জীবন ভিত্তিক প্রায় সাড়ে বারোশো পৃষ্ঠার উপন্যাস ” মধুময় তামরস”।

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

কাতাল্লুস | মুম রহমান

Sat Aug 1 , 2020
কাতাল্লুস | মুম রহমান 🌱 কাতাল্লুস গাইয়াস ভ্যালেরিয়াস কাতাল্লুস রোমান প্রজাতন্ত্রের শেষ দিককার কবি। তার কবিতায় প্রাচীন রোমের জীবনযাত্রা, রোমের শাসন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নারী প্রেমও উঠে এসেছে। লেসবিয়া নামের নারীর জন্যে তিনি একাধিক প্রেমের কবিতা লিখেছেন। কবিতার পাশাপাশি তিনি জুলিয়াস সিজার থেকে শুরু করে দমিসিয়ান পর্যন্ত ১২ জন […]
Shares