স্যঁ জন পার্স | মুম রহমান

স্যঁজন পার্স | মুম রহমান

১৯৬০ সালে কবিতার জন্যে নোবেল পুরস্কার পান সঁ জন পার্স। তার পিতৃদত্ত নাম এলেক্স স্যঁ লেগার। ফরাসী এই কূটনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সময় আমেরিকাতেই কাটিয়েছেন। চীনে থাকার সময় তিনি দীর্ঘ কবিতা আনাবিসিস লেখেন যা সমালোচক-পাঠক সবাইকে দ্বন্দে ফেলে দেয়। প্রায় অবোধ্য, কিন্তু শক্তিশালী এক প্রতীকের জগত সৃষ্টি করেন তিনি। তিনি আমেরিকার লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের সাহিত্য উপদেষ্টা ছিলেন। তুষার, বাতাস, নির্বাসন ইত্যাদি তার কাব্যগ্রন্থ। জটিল আর দীর্ঘ কবিতাই বেশি লিখেছেন তিনি। তার কবিতায় কল্পনার অবারিত বিস্তার আর প্রতীকি ব্যবহার লক্ষনীয়।  

🔅

বই

আর তারপর ফায়ারপ্লেসের মুখে কি এক বিলাপধ্বণি, রাত্রির দীর্ঘ বৃষ্টি কুচকাওয়াজ করে শহরের পারে, তোমার হৃদয়ে আলোড়িত হয় কথাদের অস্পষ্ট জন্মে :

‘দীপ্তমান এক প্রস্থানের মাঝে এবং তারচেয়েও বেশি দূরে পাক খাওয়া ঝড়ের চেয়েও কী করে আমি, প্রভূ আমার, যে পথ তুমি উন্মুক্ত করেছো তাতে থাকতে পারি?

‘…তুমি কি আমার পরিত্যাগ করে যাবে কেবল এই সন্ধ্যার দ্বিধায় দীর্ঘতর দিবসের মাঝে, আমাকে পুষ্ট হতে তোমার নির্জনতার লবণে, 

‘সাক্ষী করে তোমার নিরবতার, তোমার ছায়ার, আর তোমার কণ্ঠের প্রবল বিস্ফোরণে?’

এইভাবে তুমি বিলাপ করো সন্ধ্যার দ্বিধায়। কিন্তু প্রসারিত দেয়ালের উল্টোদিকে জানালার পাশে বসে, ব্যর্থ হয় হারানো জৌলুস পুনরুজ্জিবিত করতে, হয়তো তখন তুমি বইখানা খুলবে, আর তোমার জীর্ণ আঙুলগুলো ঘুরে বেড়াবে দৈববাণীর উপর, তোমার দৃষ্টি বহুদূরে, তুমি প্রস্থানের মুহূর্তের জন্যে অপেক্ষা করবে, বিরাট বাতাস জেগে উঠবে আকস্মিক তোমাকে ছিন্ন করতে, টাইফুনের মতো, মেঘকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে তোমার অপেক্ষারত চোখের সামনেই।      

 

প্রশংসাসমূহ

আমি আমার কুকুরদেরও ভালোবাসি, আমার সুন্দরতম ঘোড়াদের ডাক এবং বাড়ির বাইরের সোজা পথের শেষপ্রান্ত দিয়ে বানরদের সঙ্গি হওয়া আমার বিড়ালের এগিয়ে আসাও ভালোবাসি…

এই সব কিছু আমাকে জাহাজের ভেসে যাওয়ার হিংসা দ্বেষ থেকে দূরে রাখে, যে দৃশ্য আমি দেখি টিনের চালের প্রান্তে সমুদ্রের মতো আকাশ সেখানে। পল এলুয়ার

স্যুরিয়ালিস্ট কাব্যধারার অন্যতম প্রবক্তা ফরাসী কবি পল এলুয়ার (১৮৯৫-১৯৫২)। দাদা মতবাদের সাথে তাঁর গভীর সংযোগ ছিলো। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ তার বিশ্ব-বীক্ষায় বদল এনেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিমান থেকে তাঁর ‘লিবার্তে’ (স্বাধীনতা) কবিতাটি ইউরোপের নানা স্থানে ফেলা হয় নাৎসী বিরোধী প্রচারণার অংশ হিসাবে। ব্যক্তিগতভাবে আমার পছন্দ তার প্রেমের কবিতাগুলো। প্রেম তার কবিতায় যে পরাবাস্তব মাধুর্য তৈরি করে তা অনবদ্য। 

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

গিয়োম এপোলোনিয়ার | মুম রহমান

Thu Aug 6 , 2020
গিয়োম এপোলোনিয়ার | মুম রহমান 🌱 গিয়োম এপোলোনিয়ার পোলিশ বংশোদ্ভূত ফরাসী কবি, কথা সাহিত্য ও শিল্প সমালোচক এপোলোনিয়ারকে একই সঙ্গে কিউবিজম এবং স্যুরিয়ালিজমের প্রবক্তা বলা যায়। কিউবিজম এবং স্যুরিয়ালিজ বিংশ শতকের অন্যতম এই দুটি শিল্প ঘরাণার নামকরণ এবং বিকাশে তিনি অগ্রগণ্য। তাঁর ‘দ্য ব্রেস্ট অব তাইরেসিয়াস’ (১৯১৭) প্রথম স্যুরিয়ালিস্ট ঘরাণার […]
Shares