কোভিড ১৯ এবং ভালো কিছু কথা | মুম রহমান

শুক্রবারের ধারাবাহিক গদ্য ৩

কোভিড ১৯ এবং ভালো কিছু কথা | মুম রহমান

🌱

সুযোগ থাকলে আমি নিশ্চয়ই বলতাম, এই ২০২০ আমার সিস্টেম থেকে ডিলিট করে দাও কিংবা আনইনস্টল করে দাও, ভাইরাসে ভরা এই ২০২০ আমরা চাই না। আমি তো সেই মার্চ মাস থেকেই ২০২০ এর বদলে ২০বিষ লিখতে শুরু করেছি। করোনা ভাইরাস আর এই কোভিড ১৯ নামের ব্যাধি আমার, আপনার সবার জীবনকেই কম বেশি স্তব্ধ করে দিয়েছে, ক্ষেত্রবিশেষে বিষাক্ত করে দিয়েছে।

তবু সব খারাপেরই ভালো দিক থাকে। খুঁজে নিতে জানলে সাপের বিষেও গুণ আছে। গোবরেও পদ্মফুল ফোঁটে বটে। যে শিক্ষা নেবার সে রোগ, শোক থেকেও শিক্ষা নেয়। কোভিড ১৯ এর কারণে আমি আমার দুজন নিকটাত্মীয়কে হারিয়েছি, বন্ধু হারিয়েছে আরও বেশি। কিন্তু কোভিড ১৯ কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমার কিংবা মানবজাতির জন্যও কিছু উপকারিতা এনে দিয়েছে বলে অনেকের ধারণা। অনেকগুলোর ধারণার সঙ্গে আমি আমার জীবনের মিল পেয়েছি। এটা ঠিক করোনা ভাইরাসের আক্রমণের কারণে আমরা দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্দাতে ভূগবো। লক ডাউন, আইসোল্যাশন ইত্যাদি কেটে গেলেও মানসিক আঘাত থেকে বের হতে অনেক সময় লাগবে। যারা সরাসরি আক্রান্ত আর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, হারিয়েছেন প্রিয়জনকে, ধন-সম্পদ বিসর্জন দিয়েছেন জান বাঁচাতে তাদের ক্ষতিও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে। তবে কিছু দীর্ঘস্থায়ী সুফল এবং সুদুরপ্রসারী সুবিধাও এই কোভিড ১৯-এর কারণে পাবো। আজ না হয় সেই সব ভালো দিকগুলোর কথাই বলি, করোনার দুঃসময় কেটে গেলেও যা আমাদের উপকারে আসবে : 

পরিচ্ছন্ন পৃথিবী

দীর্ঘমেয়াদি লক ডাউনে যানবাহন, কলকারখানা ইত্যাদি বন্ধ থাকার কারণে বাতাসে কার্বন ডাউ অক্সাইড নিঃসরণ অনেক কমেছে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে পৃথিবীর বায়ুম-ল উপকৃত হয়েছে। অনেকটাই যেন অসুস্থ পৃথিবী সময় ও সুযোগ পেয়েছে একটু বিশ্রাম নেবার। পরিবেশবিদেরা জানেন ফসিল জ্বালানির কম খরচ, গ্রীণ হাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমে যাওয়া, গ্লোবাল ওয়ার্মিং কমে যাওয়া ইত্যাদি বৈশ্বিক পরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। আমি নিজের চোখে বিস্মিত হয়ে দেখছি আমার ছাদ বাগাগে প্রজাপতি আসছে, ফড়িং আসছে, ছাদের উপর দিয়ে সন্ধ্যায় বকের সারি উড়ে যাচ্ছে। এই ঢাকা শহরের ভিড় আর অস্থির জীবনে বকের উড়ে যাওয়া, প্রজাপতি-ফড়িংয়ের ডানা কতোই না মনোমুগ্ধকর। তারচেয়েও বড় কথা, এইসবই পরিবেশের উন্নয়নের ইশারা দেয়। অন্যদিকে, মানুষ এখন সামগ্রিকভাবে সচেতন হয়েছে। ফলে পরিচ্ছন্নতার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। বৃহৎ সংখ্যার মানুষ ঘরে থাকার কারণেও পথ-ঘাট, নদী-অরণ্য অনেকটাই জঞ্জালমুক্ত হয়েছে। এইসবই মোটের উপর পৃথিবীকে পরিচ্ছন্নই করবে। সারা বিশ্বের খাল, নদী, সমুদ্র, অরণ্য অনেক বেশি দূষণ মুক্ত হয়ে উঠছে। এটা তো সত্যি কথা, মানুষ তার কথিত উন্নয়ন আর বস্তুগত মুনাফার কথাই চিন্তা করেছে বেশি। প্রাণী ও প্রকৃতির কথা ভাবেনি। প্রাণী, প্রকৃতি ও মানুষের সহ অবস্থানই পৃথিবীকে আরো সুন্দর আরো বাস উপযোগী করবে। মানুষের এক চেটিয়া যত্রতত্র বিচরণ কমে যাওয়ায় কিছুটা হলেও প্রকৃতি ও অন্য প্রাণীকূল উপকৃত হবে। 

ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি 

আমরা ছোটবেলা থেকেই শিখে এসেছি হাচি-কাশি দিলে মুখে হাত দিতে হয়, খাওয়ার আগে-পরে, বাইরে থেকে এলে হাত ধুতে হয়। কিন্তু এ সব কথা কতোটুকুই বা মেনেছি? স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল, পরিস্কার পচ্ছিন্নতা ঈমানের অঙ্গ এইসব কথা আমরা বইয়ে পড়েছি, মুরব্বিদের মুখে শুনেছি। কিন্তু মানিনি। মানুষ কি আর এমনি এমনি উপদেশ মানে! অথচ কে জানে প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। এখন এই করোনার ভয়ে অধিকাংশ মানুষই স্বাস্থ্যবিধি মানছে। আমার মতো অলস আর অকর্মণ্য লোকও নিয়ম করে দমের চর্চা (নৎবধঃযরহম বীবৎপরংব) আর হাল্কা ব্যায়াম করছে। আর কে জানে, নিয়মিত শরীর চর্চা কতোটা উপকারী। আমরা কখনো ভাবিনি, আমাদের এই শরীরটাও নিয়মিত যত্ন প্রয়োজন। চাকরি, ঘরের কাজ, বিনোদন, আড্ডা সব কিছুই করেছি আমরা। কিন্তু দিনে রাতে দশ মিনিট সময়ই দেয়নি নিজের শরীরটার উন্নতি করার জন্য। প্রতিদিন মাত্র দশ মিনিট ব্যয়াম মানে মাসে ৩০০ মিনিট ব্যায়াম। এর অর্থ হলো মাসে তিনশ মিনিট আমাদের শরীরটার যতœ নিচ্ছি। যে দেহ গাড়ি বা ঘড়ি আমাকে চালাচ্ছে তাকে তো একটু মেরামত হওয়ার সময় দেয়া উচিত নিয়ম করেই। এই শরীরও তো আমাদের একটা পৃথিবী। অহেতুক শরীরের উপর অত্যাচার করা, মদ, সিগারেট, দুধ-চা না-খাওয়া, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এইসব ব্যাপারে সচেতন হওয়ার সময় এসেছে। করোনা ভাইরাস আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়ে গেলো শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ঠিক রাখতে হলে ঠিকঠাক খেতে হবে, ঘুমাতে হবে, ব্যায়াম করতে হবে। মোদ্দাকথায় স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে হবে। আমাদের নিজেদেরও ধারণা ছিলো না এই দুটো হাত আমরা সারাদিনে কতো কাজে এবং অকাজে ব্যবহার করি। অহেতুক হাত দিয়ে নাক খুটানো, কান চুলকানো, চোখ কচলানোর কাজ করি আমরা। এখন তো আমরা জানতে এবং মানতে বাধ্য হয়েছি, সব সময়ই হাত পরিস্কার রাখতে হবে। শুধু হাত ধোঁয়া না, সেনিটাইজার, হ্যান্ড ওয়াশ ব্যবহার করতেও অভ্যস্ত হয়ে গেছি আমরা। অন্যদিকে করোনা ভাইরাসের ফলেই বিশ্ব আজ বুঝতে পারছে, সামগ্রিক স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন কতোটা জরুরি। চিকিৎসা, স্বাস্থ্য সেবাকে নতুন করে দেখার সুযোগ হয়েছে এই করোনাকালেই। 

কেবা আপন কেবা পর

আমার আপন মামা মারা গেছেন করোনা ভাইরাসে। আমি ব্যথিত হয়েছি, কেঁদেছি। কিন্তু তার চেয়েও বেশি আহত হয়েছি, ব্যথিত হয়েছি যখন বন্ধুতুল্য বড় ভাই ছড়াকার আলম তালুকদার মারা গেছেন। আসলে কার সাথে রক্তের সম্পর্ক, কে আত্মীয়, কে বন্ধু, কে স্বজন এইসব ঠিকঠাক চিনে নেয়ার সুযোগও করে দিয়েছে করোনা ভাইরাস। এমনও অনেক ঘটনা শুনেছি যে, অসুস্থ মাকে রেখে সন্তান সরে গেছেন। আবার উল্টোটাও শুনেছি, অচেনা অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছেন আমাদেরই এক ছোটভাই। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের একটি উপরের স্তর আছে, আরেকটা আছে গভীরতর স্তর। উপরের স্তরের সম্পর্কগুলো বিপদে পড়লে খসে পড়ে। আমাদের সবার জীবনেই এমন অনেক মানুষ বা সম্পর্ক আছে যা উপরে উপরে খুব ভালো। কিন্তু বিপদে দেখা যায়, যে মানুষটাকে নিয়ে ভাবিনি, সেই সবচেয়ে কাছের হয়ে উঠছে। আলম ভাইয়ের মৃত্যু আমাকে শিখিয়েছে, ভালোবাসতে গেলে প্রতিদিন দেখা-সাক্ষাৎ, কথা হওয়ার দরকার পড়ে না। অন্যদিকে বিপদে সম্পর্ক তৈরিও হয়। পুরো রোযার মাস জুড়ে আমি ‘সেহেরি জার্নাল’ লিখেছিলাম। ঈদের পর একজন জানালেন, তিনি করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কগ্রস্থ ছিলেন, আমার সেহেরি জার্নাল তাকে আতঙ্কমুক্ত হতে সহায়তা করেছে। পরবর্তীতে এই একজনের সঙ্গে আমার নতুন করে বন্ধুত্বই হয়। সম্পূর্ণ অচেনা একটি মানুষ আমার কথা অনুপ্রাণিত বোধ করেছেন, আবার তার কাছ থেকে আমার লেখা সম্পর্কে জেনেও আমিও অনুপ্রাণিত হয়েছি। একটা সময়ে (বিশেষত শুরুর দিকে) এ দেশে করোনা রোগীকে কুষ্ঠ রোগীর চেয়েও খারাপ চোখে দেখা হয়েছে। করোনা রোগীর বাড়িতে আক্রমণ হয়েছে, রোগীর মৃত্যুতে নিকট আত্মীয়ও কাছে যায়নি। মানুষ আতঙ্কে এইসব করেছে, অজ্ঞানতায় এইসব করেছে। কিন্তু অন্যদিকে এ দেশেই অনেক তরুণরা এগিয়ে এসেছে কোভিড আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে। এইভাবে আসলে কেবা আপন আর কেবা পর তা চিনে নেয়ার সুযোগ এসেছে এই করোনা ভাইরাস আর কোভিড ১৯ এর সুবাদে। একজন স্বাস্থকর্মী, চিকিৎসকের গুরুত্ব সারা পৃথিবীই নতুন করে বুঝতে পারছে। যারই একজন নিকটাত্মীয় বা বন্ধু চিকিৎসক সে এই সংক্রমণকালে অনেক বেশি সহায়তা পেয়েছে।

ডিজিটাল বিশ্ব

সারা বিশ্বেই তথ্য-প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি ও প্রসার হয়েছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে ডিজটাল সুবিধাকে আমরা আরো বেশি ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পেরেছি। জুম, স্টিমইয়ার্ড ইত্যাদির কল্যাণে শুধু অফিস, স্কুল, কলেজের কার্যক্রমই যে হচ্ছে তা নয়, বরং বৈশ্বিক শিল্প-সংস্কৃতির চর্চাও বাড়ছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি লাইভে আরাম বোধ করি না, তারপরও একাধিক লাইভে অংশগ্রহণ করেছি, যার দুয়েকটা দেশের বাইরে থেকে হয়েছে। এইসব লাইভে অংশগ্রহণ করে আমি নিজে অনেক কিছুই জানতে পেরেছি। বিশ্বব্যাপী এখন অনলাইন পড়ালেখা, দাপ্তরিক সভা, শিল্প-সাহিত্যের সংযোগ ঘটছে ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে। আমি নিজে কয়েকদিন আগে একটা বিশ্বসেরা মিউজিয়াম ঘুরে এলাম ঘরে বসেই, থ্রিডি লাইভ স্ট্রিমিংয়ের কল্যাণে। 

ঘরে বসেই অফিস

আমি নিজে বহু দিন আগে থেকেই ঘরের বাইরে কম বের হতাম। কথিত চাকরি, ব্যবসা করতাম না। ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম আর নয়টা-পাঁচটা অফিস আমাকে কোনদিনই টানেনি। তারপরও বেঁচে থাকার জন্য টুকটাক ডকুফিল্ম বানাতাম, সেগুলোর জন্য মাঝেসাঝে মিটিংয়ে যেতে হতো। এখন শুধু আমি না, সবাই এইসব মিটিং ঘরে বসে সারছেন। সবচেয়ে বড় কথা, অফিস মানেই একটা বিরাট ভবন, প্রাইম লোকেশন এইসব নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে করোনা ভাইরাস। ২০০ জন কর্মী এক ছাদের নিচে কাজ করতে গেলে শুধু ওই স্থানের ভাড়া গুনলেই তো হয় না, বিদ্যুৎ-পানির বিল, অফিস রক্ষণাবেক্ষণের খরচ, সবার জন্য চেয়ার, টেবিল, চা-নাস্তা ইত্যাদি মিলিয়ে একটা অফিস চালানোর খরচ অনেক। এই করোনা সংকটকালে বাধ্য হয়েই অনেকে ঘরে বসে অফিস করেছেন, করছেন। কেউ কেউ ঘরের একটি কোণাকেই অফিস বানিয়ে নিয়েছেন। ভবিষ্যতে বড় বড় কোম্পানিকে ভাবতে হবে আদৌ বিশাল জায়গা নিয়ে সব কর্মীকে প্রতিদিন নিয়ম করে, ঘড়ি ধরে একটা জায়গায় এনে জড়ো করেই অফিস চালানোর কোন প্রয়োজন আছে কি না? প্রত্যেকেই যদি অধিকাংশ কাজটা ঘরে বসে সারতে পারেন তাতে ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান উভয়েই লাভবান হবেন। অফিস চালানোর যে বিরাট খরচ তা শুধু প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির উপর বর্তায় না, রাষ্ট্রকেও  কিছু দায় নিতে হয়। ঘরে বসে অফিস কিংবা ঘরে বসে আয়-উপার্জন করতে পারলে সবার জন্যই সেটা আরামদায়ক হবে। তাছাড়া করোনার কারণে যে সব প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তারা আগামীতে নিজেদের অফিসকে আকারে ছোট করে নিতে পারলে ব্যয় সংকোচন ঘটবে। আমি নিজে নয়টা-পাঁচটা অফিস করে যা বেতন পাবো তার কয়েকভাগ কম টাকা পেলেও  ঘরে বসে অফিস করতে রাজি আছি। ঘরে বসে অফিস করলে ঘরের মানুষের সঙ্গে বেশি সময় দেয়া যায়, যাতায়ত খরচ আর সময় বাঁচে, নিজের পছন্দের পরিবেশে কাজ করা যায়। সব মিলিয়ে একজন কর্মী নিজের চেনা বলয়ে আরো বেশি কর্মক্ষমই হয়ে ওঠে। আর কর্মক্ষম কর্মী মানেই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। মানব সম্পদের ব্যবহারে আমাদেরকে আরো চৌকস হতে হবে। করোনাকাল ঘর আর অফিসের মধ্যে নতুন সংযোগ ও সুযোগ সৃষ্টি করবে বলেই আমি ধারণা করি।

সকলের তরে সকলে আমরা

যে কোন কিছু হলেই আমরা সরকার দোষ দেই। সরকার এটা ঠিক করে নাই, ওটা করা উচিত হয় নাই, সেটা কেন করলো না এইসব অহেতুক প্যাঁচালের দিন শেষ। সরকার কিংবা দেশ কোন সুপারম্যান না। সরকার মানে, দেশ মানে, আপনি আমি। আমরা প্রত্যেকে যার যার জায়গা থেকে যার যার দায়িত্ব পালন করলেই পরিবেশ, পরিস্থিতির উন্নতি হবে, সবাই নিরাপদ থাকবে। যার যার কাজ করে যাওয়া শেখার অন্যতম সুযোগ হয়েছে এই করোনাকালেই। আমার যে বন্ধু রান্নাঘরে যাওয়াটাকে অপমানজনক মনে করতো, তার পুুরুষ ইগো সদা জাগ্রত থাকতো, এই করোনাকালে সেও পেঁয়াজ ছিলে দিয়েছে, নিদেনপক্ষে ডিম ভাজি, আলু ভর্তা করতে শিখেছে। ঘরে ঘরে কাজের লোক আর নিজের আরাম-আয়েশের জন্য অন্যকে নিজের কাজ দিয়ে দেয়া এই অভ্যাস আর যাই হোক রুচিকর বা স্বাস্থ্যকর নয়। অন্তত নিজের ব্যবহার করা ব্যক্তিগত কাপড় নিজের ধুঁয়ে ফেলা উচিত। নিজের ঘরের পাখি, বিড়ালকে খাওয়ানো, নিজের টবের গাছে পানি দেয়া এইসব ঘরো টুকরো টুকরো কাজ মন ও শরীরের জন্য ভালো। আরও ভালো নিজের কাজটা এগিয়ে নিয়ে অন্যের জন্য একটু কাজ করে দেয়া। নিজের ডিম ভাজির সঙ্গে পরিবারের সবাইকে ডিমভাজি, আলু ভর্তা করে দিলে একবেলার খাবারটা হয়ে যায়। আমরা এক পরিবারের দেখা যায় চার-পাঁচ-ছয়-সাত জন খাই, কিন্তু রান্নাবান্নার আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকে কেবল গৃহকর্তী আর গৃহকর্মী। কাজের এই বিভাজন ভেঙে দিলে আমরা ছোট হবো না, বড়ই হবো। নিজের টয়লেট নিজেই পরিস্কার করতে পারি আমরা। আর এই সামান্য কাজে অন্য আরেকজনকে কিছু আরাম বা স্বস্তি দেয়া যায়। আমি একজনের কথা ভাবলে অন্য আরেকজনও আমার কথা ভাববে। অন্যেকে সাহায্য করা, নিজেকে সাহায্য করা দুটোই দরকারী। একদম অকর্মণ্য, অর্থব লোকও করনো কারণে হলেও এই দরকারী কাজে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছেন এমন দুচারটা ঘটনার আমি সাক্ষী আছি। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানও অনেক কাজ করছে। আমাদের স্কুলের বন্ধুরা স্কুলের যে কোন প্রাক্তন ছাত্র বা তার পরিবার করোনা আক্রান্ত হলে সাহায্য করছে। আমাদের বন্ধুদের মধ্যেই ডাক্তার আছে, ব্যবসায়ী আছে, পুলিশ আছে, সাংবাদিক আছে বিপদে আমরা নিজেরাই নিজেদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি। বাংলাদেশে অতো বেশি না হলেও, আফ্রিকায় বিভিন্ন এনজিও ও ব্যক্তিমালিকানাধিন পরিবার করোনাক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কম হোক, ধীরে হোক, তবু তো এই করোনার কারণেই মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। এর চেয়ে ভালো খবর আর কী হতে পারে!

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

বাদল বরিষন | ইমরান উজ-জামান

Fri Aug 7 , 2020
বাদল বরিষন | ইমরান উজ-জামান 🌱 বাদল বরিষন, শুনতেই কেমন রোমান্টিকতা ভর করে মনে। তবে বৃষ্টি দেখার যে চিরাচরিত বিলাস তা দেখেছেন রবীকবি, নজরুল, জসিমউদ্দিন আর যারা প্রকৃতির মাঝে বাস করেছেন। দুধের স্বাদ গোলে মিটানোর মতো আজকাল কেউ ঘটা করে বাগান বাড়িতে কিংবা বাড়ির ছাদে বৃষ্টি বিলাস ঘর করে। বড় […]
Shares