হেনরি ওয়ার্ডসোয়াথ লংফেলো | মুম রহমান

হেনরি ওয়ার্ডসোয়াথ লংফেলো | মুম রহমান

🌱

হেনরি ওয়ার্ডসোয়াথ লংফেলো

‘ফায়ার সাইড পোয়েট’ বলে একটা কবিদের দল গড়ে ওঠে ঊনবিংশ শতকে। এদেরকে স্কুলরুম বা হাউজহোল পোয়েটসও বলা হয়ে থাকে। নামকরণেই বোঝা যাচ্ছে, ফায়ারপ্লেসের পাশে, কিংবা স্কুলরুমে বরে এরা ঘরোয়া বিষয় নিয়ে কবিতা লিখতেন। এই কবিদের সবাই কমবেশি নিউ ইংল্যান্ডের লোক। উত্তর আমেরিকার ম্যাইনি, ভ্যারমন্ট, নিউ হ্যাম্পশায়ার, ম্যাসাচুটস, রডআইল্যান্ড এবং কানেকটিকাট অ লের লোক এরা। মার্কিন কবি হলেও এদের আদি বংশধররা ব্রিটিশ। ধান বানতে শীবের গীত হয়ে গেলো। মূল কথায় আসি, হেনরি ওয়ার্ডসোয়াথ লংফেলো এই ‘ফায়ার সাইড পোয়েট’দের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি একাধারে আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের পাঠক সমালোচকদের প্রিয়তম হয়ে ওঠেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর কবিদের মূল্যবোধ গঠনে তার কবিতা ভূমিকা রেখেছে। তিনিই প্রথম আমেরিকান যিনি দান্তে’র ‘ডিভাইন কমেডি’ অনুবাদ করেছেন। তার গীতিময় কবিতায় নীতিবাক্যের পাশাপাশি গল্প ও পুরাণের প্রভাব দেখা যেতো। 

 

🔅

বাণ ও গান

 

একটা বাণ ছুঁড়ে মেরেছিলাম বাতাসে,

তা পড়ে গেলো মাটিতে, কোথায় যে;

কেননা, এতো দ্রুত উড়ে গেলো, দেখলাম না

তার উড়ে যাওয়া অনুসরণ করতে পারলাম না। 

 

আমি ফিসফিস করলাম একটা গান বাতাসে

তা পড়ে গেলো মাটিতে, কোথায় যে;

কেননা তেমন গভীর আর জোড়ালো দৃষ্টি আছে কার

যে পারে একটা গানের পথ অনুসরন করবার।

 

অনেক, অনেক দিন পর, এক ওক গাছে

বাণটিকে বিদ্ধ দেখলাম, তখনও অক্ষত আছে;

আর সেই গানটি, স্থায়ী আর অন্তরাসহ

আমি আবার খুঁজে পেলাম এক বন্ধুর অন্তরে।

 

 

গ্রামের কামার

 

এক বিস্তৃত বাদাম গাছের নীচে

গ্রামের কামারশালাটি আছে;

কামার, এক শক্তিশালি মানুষ,

প্রশস্ত আর বলিষ্ঠ হাত তার,

আর শক্তিশালী বাহুর পেশী

দৃঢ় যেন লোহার বেড়ি। 

 

কোঁকড়ানো, কালো আর দীর্ঘ চুল,

তার মুখ ঠিক তামার মতো;

কপাল ঘেমেছে সততার ঘামে,

যতটুক পারে সে উপার্জন করে,

আর পুরো পৃথিবীর মুখোমুখি তাকায় সে,

কেননা সে কারো বাধ্যগত নয়। 

 

সপ্তাহ আসে, সপ্তাহ যায়, সকাল থেকে রাত,

তুমি শুনতে পাবে হাপরের ঘা;

তুমি শুনবে তার শক্ত হাতুড়ির  হিন্দোল,

একদম মাপা স্বর আর মন্দ লয়ে,

যেন এক গীর্জার প্রহরী বাজাচ্ছে গ্রামের ঘন্টা,

যখন সন্ধ্যার সূর্য নেমে আসে। 

 

আর শিশুরা আসছে ঘরে ফিরে স্কুল থেকে

তাকায় খোলা দরজায়;

তারা ভালোবাসে জলন্ত কামারখানা,

আর এইখানে ঠিক হাপরগুলো গজরায়।

আর ধরে ফেলে তারা স্ফুলিঙ্গগুলো যা উড়ন্ত

যেন মাড়াইয়ের মেঝে থেকে উড়ছে তুষ। 

সে রবিবারে যায় গীর্জায়,

বসে তার ছেলেদের সাথে;

সে শোনে পাদরীর বয়ান আর প্রার্থনা,

সে শোনে তার কন্যার কণ্ঠস্বর,

গাইছে কয়ারের সাথে,

আর এতেই তার হৃদয় আনন্দে ভরে রয়। 

 

এই শব্দ মনে হয় যেন তার মায়ের কণ্ঠস্বর,

গাইছে স্বর্গ থেকে!

সে অবশ্যই ভাবতে থাকে আরেকবার তার কথা,

কবরে কীভাবে তিনি শুয়ে আছেন;

আর তার শক্ত, রুক্ষ্ম হাত দিয়ে মোছে

তার চোখ থেকে বেরিয়ে আসা একটি অশ্রুবিন্দু।

 

মেহনত, আনন্দ, বেদনা,

সামনে এগিয়ে চলে তার জীবন।

প্রত্যেক সকালে দেখে কিছু কাজ শুরু করবার আছে;

প্রত্যেক সন্ধ্যায় কিছু কাজ শেষ হতে দেখে;

কিছু কাজের চেষ্টা, কিছু কাজ সমাপ্ত,

তার রাত্রির বিশ্রাম সে উপার্জন করে নেয়। 

 

ধন্যবাদ, ধন্যবাদ তোমাকে, সুযোগ্য বন্ধু আমার,

যে শিক্ষা তুমি আমাকে শিখিয়েছো তার জন্যে!

এইভাবে জীবনের জ্বলন্ত কামারশালায়

অবশ্যই আমাদের ভাগ্যকে পিটিয়ে গড়া হয়,

এইভাবে কামারের নেহাইয়ের সশব্দে গড়া হয়

প্রতিটি দহনময় কর্ম আর ভাবনাকে।

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

বিদেশি সাহিত্য বনাম বাংলা সাহিত্য | মুম রহমান

Mon Aug 17 , 2020
বিদেশি সাহিত্য বনাম বাংলা সাহিত্য | মুম রহমান 🌱 বিদেশি সাহিত্য নিয়ে আমার আগ্রহ ও কৌতুহল বরাবরই ছিলো, আছে, থাকবে। শুধু নিজের দেশ নিয়ে পড়ে থাকলে কোন কিছুই ঠিকঠাক হবে না। বিশ্বব্যাপী কি হচ্ছে, হয়েছে তার খোঁজ খবর রাখাটা জরুরি। আপনি ফুটবল খেললেও নানা দেশের ফুটবল সম্পর্কে ধারনা রাখা জরুরি। […]
Shares