শফিক হীরা’র কবিতা

শফিক হীরা’র কবিতা

🌱

পরিবর্তিত গৃহকোণ

আত্মার অবিনশ্বরতা তত্ত্ব পাঠের পর

সন্ধ্যা নামে চোখের কোনে আর বুলবুলির ঝাঁক নেমে আসে পাকা টমেটোর বুকে রঙিন ক্ষত সৃষ্টির প্রত্যাশায়। আলবোলা টেনে টেনে ক্লান্ত প্রেমিক মাথা গুঁজে সুনীলের অমীমাংসিত কবিতার নাভিকুন্ডে।

বটফল ঝরে প্রবল ক্লান্তিতে।

ভাঙা কালভার্ট পেরিয়ে

ধূলিমলিন জামার কংকালসার আকৃতি অবেলায় মুখ থুবড়ে পড়ে চৌকিদার মন।

আহ্!

যন্ত্রণার পরিশেষে রক্তবমন।

পাগল হাওয়ার সাহসী উচ্চারনে সচকিত বৃক্ষছক।

হেরে যাবার পরও দাঁড়িয়ে থাকা,

সেওতো একপ্রকার বিজয়ই!

 

বিষাদ অরণ্য

জীবনের পূর্বভাগ অস্তগামী সূর্যের লালে

বিলীন। অবেলায় বসন্তবৌরি’র রঙিন পালক চোখের আগল খুলে পাদপ্রদীপের তলায় সমর্পিত গোধূলি। বটের মহাবিস্তার আর হরিয়ালের গৃহাগমন আয়তনহীন মায়া।

 

আলো থেকে অন্ধকারে

আরো আরোও বেশী গাঢ় ঘন তমিস্রাবনে

হিজল করচের রাজ্যে ফুটে থাকা ভাঁটফুল

রাতের মৌনতায় মাতে উল্লাসে। জেগে থাকে

অনিবিড় ল্যাম্পপোস্ট আর অনিকেত প্রেম।

 

তারা ফুটা অনাদি নিঃসঙ্গ আকাশ করে জীবনের আহ্বান। নির্জনতায় বাড়ে বেদনা। জোনাকীর আলোকিত জীবন ছুরি চাকুর চোখ রাঙানো ভয়াবহ পৃথিবীতে বেঁচে থাকে আরো কিছুক্ষণ।

 

নিরন্তর অসহায়ত্ব

পাপের সাথে বেঁধেছি জুড়ি। কান্না

পাহাড়ে বসতি নিরন্তর। বেঁচে থাকার সংগ্রাম

যেখানে প্রবল, নীলকোমল ফুটানোর অবকাশ

কই!

পাখির চোখে সঞ্চার করি ব্যক্তিগত

অন্তর্দাহ। জীবনের বোধ বিপন্ন হলে,

চাপা বেদনায় মুহ্যমান অন্তিমদশা

আসন্ন যখন অতি বাস্তববাদীও নাকমুখ

গুঁজে আঁকে ডালভাতের ধারাপাত।

স্বর্গ থেকে পতন হলে ঈশ্বরও ভুলে যান

নিজ পুষ্যিকে। আর অভাগার দল দিনযাপনের

যন্ত্রণা বুকে নিয়ে

শব্দ বুনে।

বুনতে থাকে।

বুনেই যায়।

অবশেষে ক্লেদাক্ত সময় তাকে গিলে নেয়

চন্দ্রগ্রহনের মতোন।

 

অরণ্যে রোদন

নিয়তি নামক ফাজলামোর তোয়াক্বা না করেও আসন্ন

ঝড়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও স্বপ্ন বুনার মানুষ

আছে অনেক। নীলিমা আঁধারে মুছে গেলেও

একদল মানুষ আছে

যারা স্বপ্ন নিয়েই বাঁচে।

গাঢ় অন্ধকারে

ভাঙা মঠের চূড়ায় রোজ উৎসব হয়।

রঙিন আগুনে খসে পড়ে কলাপাতা রং

অন্তর্বাস নিয়ে কাড়াকাড়ি চলে নষ্ট সময়ের

দুষ্ট কীটের দল। দূর্বাঘাসের নিচেই অতলান্তিক

মহাসাগর ফেনিয়ে উঠে রোজ

কে করে তার খোঁজ?

৬বছরের বাবুটা যখন রেপড হয়, ঈশ্বর

তখন নির্বাক আমোদ উপভোগী দর্শক মাত্র।

মাঝেমাঝে হাততালি দেন-

‘না খেলাটা জমছে ভালো!’

তারপরো

চোখে স্বপ্ন বুনেই বাঁচে কেউকেউ

সেইসাথে বাঁচায় বাকীদেরকেও!

 

শেষ বিকেল

ইচ্ছেঘুড়ি চোখের আড়াল হলেই সর্বনাশ

সবুজের বুকে ইচ্ছেমতোন আঁকিবুঁকির

ফাঁকে একচিলতে সুখ আবার

পরক্ষণেই দীর্ঘশ্বাস।

অবেলার হাওয়ায় মুখরিত পথ প্রান্তর

বটের ঝুরির লম্বা ছায়া আর দীঘল কেশীর

রঙিন গালের তিরতির কাঁপন

এইতো কাঙালের নিস্তরঙ্গ জীবন যাপন।

মথের জীবনের কীইবা মূল্য বলো,

সকরুন হাস্য আর গৃহবাসী জীবনের

মায়া ছেড়ে ধরো অস্থির সময়ের হাত, আর পিছন

ফিরে না তাকিয়ে এবার চলো।

 

বিচ্ছিন্ন বদ্বীপ

বনানী প্রান্তর পেরুলেই হৃদয়পুর

বৃক্ষের আদল ভেঙ্গে স্বরূপে আবির্ভুত

মানুষ ভেজা বাতাসের স্পর্শে নবজীবনের

কোরাস গাইতে গাইতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়।

একা এক নদ

শ্যমল ছায়া জড়ানো

ছড়ানো যগডুমুরের তরুন কান্ডে জীবন

সঁপে দিলে কেউ কেউ পায়

অমরত্বের মোড়কে মোড়া ক্লান্ত

জীবনের পদগত অসুখের বীজ।

একাকি নৌকোজীবন আমাদের কাটে

নিদারুন বিবমিষায়। শ্রান্ত দুপুরের মৌনতায়

নিমজ্জিত হয় অস্থির বেদনার পুরনো নৌকো।

 

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

হেনরি ডেভিড থ্রু | মুম রহমান

Sun Aug 30 , 2020
হেনরি ডেভিড থ্রু | মুম রহমান 🌱 মার্কিণ প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, কবি, প্রকৃতিবিদ, ঐতিহাসিক হেনরি ডেভিড থ্রু তার ৪৪ বছরের জীবনকে স্বার্থকভাবে ব্যয় করেছে। তার ‘ভালডেন’ বিশ্বসাহিত্যে প্রকৃতি, দর্শন, স্মৃতিচারণের এক গুরুত্বপূর্ণ পাঠ। তার রাষ্ট্রভাবনা লিও তলস্তয়, মহাত্মা গান্ধী, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের মতো ব্যক্তিদের অনুপ্রাণিত করেছে। যক্ষা রোগের আক্রমণে এই […]
Shares