ওয়াল্ট হুইটম্যান | মুম রহমান

ওয়াল্ট হুইটম্যান | মুম রহমান

🌱

১৮৫৫ সালে নিজের টাকায় ওয়াল্ট হুইটম্যান (১৮১৯-১৮৯২) তাঁর ‘লিভস অব গ্রাস’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন। মার্কিন সাহিত্যের অন্যতম প্রভাবশালী কবির এই বই আজ আজ কিংবদন্তী। তবে প্রকাশের সাথে সাথেই এই বইয়েল বিরুদ্ধে অশ্লীলতা এবং তীব্র যৌনতার অভিযোগ আসে। ওয়াল্ট হুইটম্যান সাধারণ মানুষের কবি। ১২ বছর বয়সে ছাপাখানায় কাজ করতে গিয়ে লেখালেখিকে ভালোবাসেন ওয়াল্ট হুইটম্যান। মার্কিন কবিতার অন্যতম স্থপতি হুইটম্যান এক অর্থে স্বশিক্ষিত। হোমার, দান্তে, শেকসপিয়র থেকে বাইবেল সবকিছুই তিনি নিজ চেষ্টায় অধ্যায়ন ও অনুধাবণ করেন। পরবর্তীতে তিনি একাধিক পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। গৃহযুদ্ধের সময় তিনি সাংবাদিকতা করেন এবং স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে হাসপাতালে ভর্তি আহতদের পাশে দাঁড়ান। এমনকি ১১ বছর তিনি মানুষের সেবার জন্যে হাসপাতালেই কাজ করেন।  মার্কিন কবিতার অন্যতম এই কবির মৃত্যুতে হাজার হাজার মানুষ পথে নেমে এসেছিলো।  

 

আমি স্বপ্নের মধ্যে স্বপ্ন দেখি 

 

আমি স্বপ্নের মধ্যে স্বপ্ন দেখি

আমি অপাজেয় শহরে দেখি 

যাকে বাকী বিশ্ব আক্রমণ করে,  

আমি স্বপ্নে দেখি সেই নতুন শহর ছিলো বন্ধুদের,

কিছুই সেখানে বৃহত্তম ছিলো না

তীব্র ভালোবাসার বলিষ্ঠ গুণ ছাড়া, এটা বাকীদের চালিত করে,

এটা প্রত্যেক প্রহরে দেখা যায় মানুষের কাজ

সেই শহরে,

এবং তার সকল সৌন্দর্য ও শব্দ।  

 

ও কাপ্তান! আমার কাপ্তান!

 

ও কাপ্তান! কাপ্তান আমার! আমাদের ভিরু যাত্রা হলো সমাপন,

এ জাহাজ সয়েছে সকল চাপ, প্রাপ্ত পুরস্কার করেছি গ্রহণ,

শুনি ঘণ্টাধ্বণি, শুনি মানুষের বিজয়োল্লাস, নিকটেই বন্দর

যখন চোখ দেখে স্থির জাহাজ, এই তরণী সাহসী ও কঠোর;

    তবে ও হৃদয়! হৃদয়! হৃদয়!

      ও রক্তঝরা লাল বিন্দু,

         যেখানে পাটাতনে শুয়ে আছে কাপ্তান,

        পড়ে আছেন ঠা-া আর মৃত।

 

ও কাপ্তান! কাপ্তান আমার! জেগে ওঠো আর শোনা ঘণ্টাধ্বণি

জাগো, তোমার জন্য উড়েছে পতাকা তোমার জন্য বেজেছে রণধ্বণি,

তোমার জন্য ফুলের তোড়া, পুষ্পস্তবক তোমার জন্য তীরে এই ভিড় জমেছে, 

তোমার জন্য তাদের আহ্বান, আন্দোলিত দল, তাদের আকুল মুখ ঘুরছে;

    এখানে কাপ্তান! প্রিয় পিতা!

      এই বাহু তোমার মস্তক-তলে!

        আদতে কিছু স্বপ্ন পড়ে আছে পাটাতনে,

          তুমি পড়ে আছো ঠাণ্ডা আর মৃত।

 

আমার কাপ্তান দেয় না উত্তর, তার ঠোঁট পান্ডুর আর স্থির হয়ে রয়,

পিতা আমার বাহুকে অনুভব করে না, নেই কোন স্পন্দন কিংবা আকাঙ্খাও,

এই জাহাজ নোঙর করেছে নিরাপদে, নিশ্চিতে, অভিযান তার হলো সমাপণ

ভিরু যাত্রা থেকে বিজয়ী জাহাজ সব উদ্দেশ্য জয় করেছে যখন; 

জয়োল্লাস করো বেলাভূমি, আর বাজুক ঘণ্টাধ্বণি!

   কিন্তু আমি শোকার্ত পদচারণায় 

     পাটাতনে হাঁটি যেখানে শুয়ে আছে কাপ্তান,

                         পড়ে আছেন ঠাণ্ডা আর মৃত।

 

* আতাতায়ীর হাতে মার্কিণ প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন হত্যার পর তার স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করে রচিত। 

🔅🔅🔅🔅🔅

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

এমিলি ডিকিনসন | মুম রহমান

Wed Sep 2 , 2020
এমিলি ডিকিনসন | মুম রহমান 🌱 মৃত্যু, ভালবাসা, প্রকৃতি – এইসবই ছিলো তার কবিতার বিষয়াবলি। অত্যন্ত অন্তরঙ্গ ভঙ্গিতে গৃহস্থালি ভাষায় কাব্য রচনা করতেন তিনি। তার কবিতার সঙ্গে নিজের জীবনাচারের ঘনিষ্ট সহযোগ লক্ষ্য করা যায়। তার কবিতায় বর্ণিত ‘her own society’-এর মতোই এমিলি আপন গহন জগতেই নিহিত থাকতেন। পরিবারের ঘনিষ্ট দুয়েকজন […]
Shares