এমিলি ডিকিনসন | মুম রহমান

এমিলি ডিকিনসন | মুম রহমান

🌱

মৃত্যু, ভালবাসা, প্রকৃতি – এইসবই ছিলো তার কবিতার বিষয়াবলি। অত্যন্ত অন্তরঙ্গ ভঙ্গিতে গৃহস্থালি ভাষায় কাব্য রচনা করতেন তিনি। তার কবিতার সঙ্গে নিজের জীবনাচারের ঘনিষ্ট সহযোগ লক্ষ্য করা যায়। তার কবিতায় বর্ণিত ‘her own society’-এর মতোই এমিলি আপন গহন জগতেই নিহিত থাকতেন। পরিবারের ঘনিষ্ট দুয়েকজন ছাড়া আর কারো সঙ্গে তাকে দেখাও যেতো না কখনো। ২৩ বছর বয়স থেকেই সামাজিকভাবে বিচ্ছিন জীবন যাপন করতেন তিনি। এমনকি কবিতা ছাপানোর ব্যাপারেও তারমধ্যে কখনো কোন আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়নি। তার সময়ের সাহিত্য সমাজের অধিকাংশ লেখক-কবিদের মতো তিনি খ্যাতির কাঙাল ছিলেন না, ক্ষেত্রবিশেষে আÍপ্রচারণাকে তিনি ঘৃণাও করতেন। ডিকিনসনের মৃত্যুর পর বোন লাভিনিয়াই প্রথম তার কবিতাগুলো ছাপতে শুরু করেন। লাভিনিয়া জানতেন তার বোন কবিতা লেখে কিন্তু সেই বোনের মৃত্যুর পর সেই কবিতার পরিমাণ-পরিধি দেখে নিজেই বিস্মিত  হয়ে ছিলেন। ১৮৯১ থেকে ১৮৯৬ সালের মধ্যে তিনি সহসম্পাদক হিসেবে এমিলির তিনটি কবিতার ভলিঅম বের করেন। 

 

আমি কেউ না! তুমি কে?

 

আমি কেউ না! তুমি কে?

তুমিও কি কেউ না?

তাহলে আমাদের মধ্যে একটা জোট আছে  বোলো না!

ওরা আমাদের শেষ করে দেবে, তুমি তো জানো।

 

কিছু একটা হয়ে ওঠা কি ভয়াবহ দুঃসাহস!

কতোটা সাধারণ, যেন একটা ব্যাঙের মতো

দিনব্যাপী নিজের নাম বলে যাওয়া

এক উপাসক জলাভূমির কাছে!

 

কারণ আমার ঘৃণা করার কোন সময় নাই

 

আমার কোন সময় নাই ঘৃণা করার, কারণ

কবর আমাকে বাধা দেবে,

এবং জীবন এতো বিশদ নয় যে আমি

শত্রুতা শেষ করে যেতে পারবো। 

 

অন্যত্র ভালবাসার সময়ও আমার নাই, কিন্তু যেহেতু

কিছু উদ্যম থাকতে হবে

ভালবাসার সামান্য কিছু মেহনত, আমি ভেবেছিলাম

আমার জন্য যথেষ্ট বড় কাজ। 

কারণ আমি মৃত্যুর জন্য থামতে পারিনি

 

কেননা আমি মৃত্যুর জন্য থামতে পারি না

সে দয়া করে আমার জন্য থেমে ছিলো

সে বাহন থেমেছিলো কিন্তু শুধু আমাদের নিজেদের জন্যে

এবং অমরত্বের জন্য। 

 

আমরা ধীরে ধীরে দলে দলে চলেছিলাম, সে কোন ত্বরা জানে না

আর আমি দূরে সরিয়ে রেখেছিলাম

আমার কর্ম এবং আমার অবসরও

তারই সৌজন্যে। 

 

আমার স্কুলটি পার হয়ে গেলাম, যেখানে শিশুরা হুল্লুড় করছে

ঘেরার মধ্যেই ছুটি কাটাচ্ছে

আমরা তাকিয়ে থাকা শস্য মাঠ পেরিয়ে গেলাম

আমরা উদিত সূর্যকে পার হয়ে গেলাম।

 

কিংবা হয়তো সে-ই পার হয়ে গেলে

শিশির আঁকলো কম্পন আর শীত

কেবল আমর গাউনের পাতলা বুননে

আমার রেশমি কাপড়ের গলাবন্ধে। 

 

আমরা থেমে ছিলাম একটা বাড়ির সামনে যেন

মাটির উপরে ফুলে থাকা কিছু

ছাদখানি মোটেও দেখা যায় না 

কার্নিশখানি ঝুলে আছে মাটিতেই। 

 

সেই থেকে শতাব্দী পেরিয়ে গেলো আর এখনও

দিনের চেয়ে ছোট অনুভব করি

আমি প্রথম অনুমান করেছিলাম অশ্বশির

যাচ্ছিলো  অনন্তকালের দিকে। 

 

🔅🔅🔅🔅🔅

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

স্টিফেন ক্রেন | মুম রহমান

Thu Sep 3 , 2020
স্টিফেন ক্রেন | মুম রহমান 🌱 মার্কিন কবি, উপন্যাসিক, ছোটগল্পকার স্টিফেন ক্রেন ১৯০০ সালে মারা যান। কিন্তু ২৮ বছরের ছোট্ট জীবনে অনেক কাজ করেছেন। মাত্র ৪ বছর বয়সে তিনি লেখা শুরু করেন, ১৬ বছর বয়সেই তার একাধিক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তার প্রথম উপন্যাস ‘ম্যাগি: আ গিফট অব দ্য স্ট্রিট’-কে মার্কিন […]
Shares