মাতৃ পুরাণ | রাজীব আর্জুনি

মাতৃ পুরাণ | রাজীব আর্জুনি

🌱

পৃথিবীর দশ দিক মায়ের আরেক 

দিক ; মাতা এক পরম প্রাণের ঋক 

মহাসাগরের গভীর মায়ার জল ;

মাতা এক ব্রহ্ম জ্ঞান ; অপার আঁচল

পাতাগন্ধী গান ; মোহন সুরের নদী 

রাতের জোনাক যেন স্নেহের দধি ;

পাহাড় ডিঙিয়ে ফেরা আশ্রয়ের বোধি

চোখে চোখে থাকা অযুত যজ্ঞের বিধি 

 

গাছে গাছে ফুল রেণু নিশীথের শ্লোক

আনন্দ ঝরে পড়ে জানে সব লোক

প্রপঞ্চ প্রতিম সে তো প্রপঞ্চ তারিণী 

সুখের অধিক যেন সুধার হরিণী

কীভাগ্য মানুষ পেলো গর্ভধারিনীর

কোলে পায় ঠাঁই পুত্র কন্যা রুপী যাঁর

আকুল আধার ; এই সব বলি আজ

হারানো ব্যাথায় ; এই কথা যেন সাজ 

মনের চিতায় ; চিতা জ্বলে পুত্র জলে 

জ্বলে জ্বলে ছাড় খাড় ;  মাতার সজল

স্নেহে হয় যেন পূর্ণ ভাঁজ এই ভাবে 

বলি সবে শোনো দিয়া মন ; ভাষা তবে

বয়ে চলে নিয়ে প্রিয় মায়ের ক্রন্দন ;

মায়ের ক্রন্দন নাকি সন্তানের  রক্ত

ফোঁটা ; বক্ষ জুড়ে শেল সম ওয়াক্ত

জুড়ে আগুন শিখার চিন্তামণি গাঁথা

মাগো তুমি জীবন বায়ুর গুপ্ত কথা 

স্নিগ্ধ সবুজ মাঠের কোণে পরম

প্রাণের স্পন্দন আর অটুট মোক্ষম

হৃদের ব্যাকুল ঢেউ ; মা মাগো আমার 

কলিজার ধন পাখি সোনার পিঞ্জিরা 

তোমারকোলেইমাগোআবক্ষজিঞ্জিরা 

মাতৃ দেবী মাগো আমার চরণ ধুলি

দিও ;মায়ের রুপে পূজি তোমায় কলি

শুদ্ধ ফুল আর গিঁটের গেঁড়ো দিও ; 

রোজ সকালের কিতাব মাগো না দিও

চোখের জল ; না দিও ব্যাথার ধ্বনি ;

তোমার কাছেই আছে আমার শিঞ্জন

গুঞ্জনি গৃহকোণে মা যে আমার মালা

জপের বন্ধনি ; মা যে আমার সকল

সুরের অপূর্ব সিম্ফনি আর বিনম্র

জয়ন্তি ; ওই যে আকাশ ফাটা মেঘের

লেজে যায় যে চলে দিন বদল আর

কিছুনা শুধু বলি সবি যাবে অচল 

বেলায় অদেখার এক যে অস্তাচল;

 

বৃষ্টি আসে মুষলধারে মন কালো 

গগনে ; মায়ের কথা মনে হলে জ্বলে 

যায় আগুনে ; আগুনমুখার ওই যে 

খেলা খেলায় মাতে মন যুগল ; মা যে

তুমি পুষ্পরেণু চরাচরে শিল্পালয় ;

যত বল ম ন্ত্র তন্ত্র সব মিছে লয়

সব যে ক্ষয় যদি নাই হয় মায়ের 

ভজন দুনিয়াটাই দেখবে ভয়ের 

জটিল এক অন্য আলয় ; মাতৃদুগ্ধ

মাতৃগর্ভ সবি যেন হিরন্ময় ; মুগ্ধ 

চিত্তে এই সব তুমি মেনে লও আজ 

চিত্রময় ; মা সত্য মা উর্ধ্ব  মাতৃসাজে 

দুনিয়া ;তাঁরে তুমি আগলে রেখো ভব

রঙ্গে যাচিয়া ; যাচিয়াছ মায়ের স্তব  

বলিছ নির্ভীক তুমি মায়ের আশেক

অধিক মায়ের চরণ তোমার জয় 

 

মা মা বলেজপে যেজন যেকাঁদে মার 

নাম নিয়ে ;খোধারআরস ভক্তি তারে 

মুক্ত করে দেয় বারে  ; মা চন্দ্র মা সূর্য 

মা উর্ধ্বে নয় জগত ; জগত সূর্য 

জ্ঞান করে নাও তুমি জননীর  সব 

দেখানোর সরল পথ ; গোলাপ সব 

মায়ের পায়ে ছড়িয়ে দিও বন্ধু মোর 

মায়ের হাসি মধুর হাসি আমার মা 

এক হাস্যপ্রাণ ; আমার মায়ের জমা   

হাসি খুশি জারি থাকুক জীবনময় ;

মা পুন্য মা ধ র্ম মায়ের আঁচল সত্য

মা বিনে ভাই জগত মিথ্যা এ অমৃত

মা গুরু মা শুরু মায়ের কথাই শেষ 

ইহা হতে হয় না কোনও এ অশেষ 

রেষ ; শীতের রাতে মায়ের পিঠা পুলি 

তাঁর কত মুখের বুলি সুরের অলি 

সুরে আঁকা আদরের কল ও কাকলি;

 

মা হল ভাই সুখের খনি তন্ত্রে মন্ত্রে

খোঁজ ;মায়ের নামটি হোক সতন্ত্র 

সকল জনের মন্ত্র ; মায়েই আমার

ঘরের লক্ষী এ কথাটি সত্য ; মায়ের

নামেই আনবো আমি অনবদ্য পদ্য ; 

 

পৃথিবীতে আছে যত পুরাণ কোরান 

তথ্য মায়ের উপর ভক্তি রেখো জেনো 

তাহা সত্য ; মায়ের ভক্তি মায়ের শক্তি 

মায়ের গুণের নাই সীমা ; মাতৃ ভক্তি 

সকল মুক্তি মুক্তির ভাই মূল কথা ;

আমার মায়ের নাম নিয়ে ভাই যথা 

তথা যাইরে ভাই; মহা শক্তির পুন্য

কথা কইরে আমি পুত্র তাই ; কী ধন্য

এ জীবনরে ভাই  মাতৃ পুরাণ বর্ণে

যাই ; মায়ের অর্ঘ্য সকল দৈর্ঘ্য স্বর্ন

তথা রুপ কামাই আশা জাগাই আর

ভাষা জাগাই সুরেশ্বরেই সারাসার

সুরের ভুবন মা যে  আমার নতুন

নৃত্যের পথে যাই ; নিত্য নতুন তৃণ

মধ্যেই মায়ের দোয়ার ফুল  ফুটাই ;

 

মা ফাতেমা মা আমেনা মা কুন্তির 

মর্ম গাই সবচে ভারি মোর মায়ের

নাম  জগতশুদ্ধ বলে যাই ; মাতা

আমার দখিন বাতাস পূর্ব ঘরের 

দরজা ; উত্তর কোনে নীলকন্ঠ ফুল 

পশ্চিমেতে গঙ্গা ; মায়ের নামটি কূল

শ্রেষ্ঠ কূল গুরু মা আমার বীণা পানি 

দাশ মায়ের কথা মাতৃ পুরাণ খানি 

লিখে যাই নম চিত্তে বলে যাই ; মাতৃ

 দেবি গেছেন চলে মায়ের মাতৃ ডাক 

আর নাই রে ভাই ; মায়ের শোকে বাঁক

নিয়েছে যে  মনের কষ্ট টালমাটাল 

সব কিছুতেই হয়ে গেছি বেসামাল। 

 

মা সিন্ধু মা গঙ্গা মা যমুনা গোদাবরী

মাতৃসম দুনিয়াতে নেই আর জুড়ি 

ধানের ক্ষেতের হলুদ ছড়ায় মাতৃ

মুখের শৈলী গীত ; গীতের তরে যত

কথা বেজায় কষ্টে মন কানাই ; কত

চিত্র কত কৃত্য কত বঙ্গের নিযুত 

দ্বীপ; দ্বীপের মধ্যে দহন চিহ্ন কেন 

যে আজ বইছে শীত ; শীতের প্রশ্ন

দিনের শেষে দিন যমুনায় বইছে

ঘোর ;  পুত্র সদা মাতৃ পুরাণ কইছে 

তো বেশ কইছে শ্লোক ; জননীর শোক

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

কার্ল স্যান্ডবার্গ | মুম রহমান

Sat Sep 5 , 2020
কার্ল স্যান্ডবার্গ | মুম রহমান 🌱 আমেরিকান কবি, লেখক ও সম্পাদক কার্ল স্যান্ডবার্গ তিনবার পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছেন। দুবার কবিতার জন্য এবং একবার আব্রাহম লিঙ্কনের জীবনী লেখার জন্য। তার সময়ের অন্যতম সাহিত্য প্রতিভা হিসাবে তিনি গণ্য হতেন। শিকাগো পোয়েম, কর্নহাস্কার, স্মোক এ- স্টিল তার উল্লেখযোগ্য। ১৯৬৭ সালে তার মৃত্যুতে তৎতকালীন মার্কিন […]
Shares