ওয়ালেস স্টিভেন্স | মুম রহমান

ওয়ালেস স্টিভেন্স | মুম রহমান

🌱

আমেরিকার আধুনিক কবি ওয়ালেস স্টিভেন্স হার্ভার্ডে পড়াকালেই সেখানকার ‘এডভোকেট’ পত্রিকায় বাবার উৎসাহে লেখালেখি শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি ‘এডভোকেট’ এবং ‘হার্ভার্ড মান্থলি’ পত্রিকার সম্পাদকও হন। পত্রিকার প্রয়োজনেই তিনি নিয়মিত গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ লিখতে থাকেন। কিন্তু হার্ভাড ছাড়াও পর স্টিভেন্স বাস্তব জগতের মুখোমুখি হন। তিনি নিজেকে পুরোপুরি সাহিত্যে নিবেদন করতে চান। তবে সাহিত্য জগতের পরিবেশ-পরিস্থিতি তাকে উৎসাহ দেয়নি। পরে বাবার পরামর্শ আবার ল স্কুলে পড়েন।  এরপর ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করেছেন। ভালো চাকরি এবং অবস্থান নিশ্চিত করেই স্টিভেন্স আবার লেখায় মনোনিবেশ করেন। বিশ শতকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক আমেরিকান কবি স্টিভেন্স কবিতার কলাকৌশল এবং শব্দ ব্যবহারের দক্ষতার জন্যে আলোচিত। কখনো কখনোকবিতায় অধিক কৌশল আর দার্শনিক চিন্তার কারণেই স্টিভেন্সের কবিতাকে কেউ কেউ জটিল মনে করেন। স্টিভেন্স বেশ কিছু নাটকও রচনা করেছেন। 

 

একটা ফিঙে পাখিকে দেখার তেরোটি উপায়*

১.

বারোটি তুষারাবৃত পাহাড়ের মাঝখানে,

একমাত্র গতিশীল বস্তুটি 

ছিলো ফিঙের চোখ।

 

২.

আমার যেন তিনটি মন ছিলো

একটা গাছের মতো

যার ডালে তিনটি ফিঙে বসে ছিলো।

 

৩.

শরতের বাতাসে ফিঙে পাখি দোল খায়

সে ছিলো মূকাভিনয়ের ক্ষুদ্রাংশ। 

 

৪.

একজন পুরুষ আর একজন নারী

মিলে একজনই।

একজন নারী আর একজন পুরুষ আর একজন ফিঙে

মিলে হলো একজনই।

 

৫.

আমি জানি না কোনটাকে বেছে নেবো

সুর-ভাঁজবার সৌন্দর্য

নাকি কটাক্ষের সৌন্দর্য

ফিঙে পাখি শিষ দিচ্ছে

কিংবা তারপরই। 

 

৬.

জমাট বরফের আকৃতি লম্বা জানালায়

একটা রঙচঙা কাচে।

ফিঙের ছায়া 

একে পার হয়ে যায়, ইতস্তত।

মনের ভাব

আঁকা হয় ছায়ায়

এক রহস্যময় কারণেই। 

 

৭.

হ্যাডামের* কৃশকায় মানব,

কেন তুমি সোনালী পাখির কল্পনা করো?

তুমি কি দেখো না কেমন করে ফিঙে

হেঁটে বেড়ায় চরণ ঘিরে

প্রেয়সীদের তোমার?

 

৮.

আমি জানি মহত্তম কথা 

আর প্রাঞ্জল, অপরিহার্য ছন্দ;

তবে আমি এও জানি,

কৃষ্ণপাখিই দায় জড়িত

আমার জানার আড়ালে।

 

৯.

যখন ফিঙে দৃষ্টিশক্তির আড়ালে ওড়ে যায়

সে নিশানা রেখে যায়

বহু বৃত্তের একটি প্রান্তের। 

 

১০.

ফিঙের দৃষ্টি সীমানায়

একটা সবুজ আলো ওড়ে যায়,

এমনকি কূটনির সুকণ্ঠও

সজোরে চিৎকার করে ওঠে। 

 

১১.

সে চলে গেলো কানিকটিকাট পার হয়ে

একটা কাচঘেরা বাসে করে।

একদা, একটা ভয় তাকে বিদ্ধ করেছিলো,

ভুল করে মনে হয়েছিলো

তার গাড়ির ছায়াটাই

ফিঙে। 

 

১২.

নদীটি বইছে।

নিশ্চয়ই ফিঙে উড়ছে।

 

১৩.

সারাটা দুপুর সন্ধ্যা হয়েছিলো।

তুষার পড়ছিলো

আর আর তুষার জমাট হওয়ার কথা ছিলো।

ফিঙে বসেছিলো

সিডার গাছের শরীরে। 

 

*মূল কবিতাটির নাম ‘থার্টিন ওয়েস টু লুক এট আ ব্ল্যাকবার্ড’। ব্ল্যাকবার্ড বা কালো পাখির কোন বাংলা প্রতিশব্দ নেই। ঠিক এই প্রজাতির পাখি আমাদের দেশে নেইও। যেহেতু ব্ল্যাকবার্ডও কালো আর আমাদের ফিঙেও কালো সেহেতু আমি ফিঙে বা ফিঙে পাখি শব্দটাই ব্যবহার করেছি। ফিঙে পাখির সঙ্গে ব্ল্যাকবার্ডের সাদৃশ্য আমার বিবেচনায় রয়েছে। 

* হ্যাডাম কানিকটিকাটের একটি শহর।

🔅🔅🔅🔅🔅🔅🔅🔅🔅

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

সৃজনশীলতা কী জেনেটিক ঘটনা | মৃদুল মাহবুব

Mon Sep 7 , 2020
সৃজনশীলতা কী জেনেটিক ঘটনা | মৃদুল মাহবুব 🌱 মানুষের নৃতাত্ত্বিক ইতিহাস পড়তে গেলে, নিজের পূর্বপুরুষের উপর আমার খুব মায়া জাগে। এমনকি আমাদের চারপাশে যত জীব ও উদ্ভিদ দেখা যায়, তাদের বিবর্তনটা খুব সহজসাধ্য কিছু ছিলো না। অসীম কষ্ট সাধ্য এক যাত্রার ভেতের দিয়ে প্রকৃতি ও মানুষের সৃষ্টি ও কীর্তি এখানে […]
Shares