সৃজনশীলতা কী জেনেটিক ঘটনা | মৃদুল মাহবুব

সৃজনশীলতা কী জেনেটিক ঘটনা | মৃদুল মাহবুব

🌱

মানুষের নৃতাত্ত্বিক ইতিহাস পড়তে গেলে, নিজের পূর্বপুরুষের উপর আমার খুব মায়া জাগে। এমনকি আমাদের চারপাশে যত জীব ও উদ্ভিদ দেখা যায়, তাদের বিবর্তনটা খুব সহজসাধ্য কিছু ছিলো না। অসীম কষ্ট সাধ্য এক যাত্রার ভেতের দিয়ে প্রকৃতি ও মানুষের সৃষ্টি ও কীর্তি এখানে এসে দাঁড়িয়েছে। সেই দীর্ঘ বিবর্তনের ইতিহাসটাকে চোখ বন্ধ বের আসুন একটু কল্পনা করে দেখি। আমা‌দের আ‌দি ভাই বো‌নেরা ঝো‌পের আড়া‌লে লু‌কি‌য়ে লু‌কি‌য়ে খুব ভয়ে ভয়ে একদল সিং‌হের মহিষভোজ দেখ‌ছে। মহিষের নরম সুস্বাদ মাংস হিংস্র সিংহের দল খে‌য়ে চ‌লে গেল।  অদূ‌রে গা‌ছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছে তারা। মৃত মহিষের হাড়ে কিছুটা মাংস তখনো লেগে রয়েছে। কিন্তু ক্ষুধার্ত মানুষ  তারপরও সেই পরিত্যাক্ত মাং‌সের কা‌ছে যাওয়ার সাহস পা‌চ্ছে না। এরপর এল বড় বড় শিয়াল, কুকু‌র, হা‌য়েনা গোত্রের হিংসপশুর দল। বা‌কিটুকু তারা খেল। তারাও বিশ্রা‌মে চলে গেল হাড় ফে‌লে। সারা দিন ঝোপের আড়াল বসে মানুষ পাহাড়া দিচ্ছে তখন সেই হাড়ের আছে পৌঁচ্ছাবে। খুবই উত্‌কণ্ঠিত মানুষের পূর্বপুরুষেরা ধীরে ধীরে সেই হাড়ের দিকে এগাচ্ছে। খুবই সতর্ক তারা যেনো অন্য প্রাণীর শিকার না হয়ে যায়। সকলের ভোজ শেষে এবার মানুষের পালা। সূ‍র্য অস্ত যাবে অল্পক্ষণের ভেতর। তার আগেই খাওয়া শেষ করে নিরাপদ জায়গায় ফিরতে হবে তাদের। তারা পাথর নি‌য়ে এ‌গি‌য়ে গেল সাদা সাদা অবশিষ্ট মহিষের হাড়ের দি‌কে। কীভাবে তারা এই হাড়ের?  পাথর দি‌য়ে হাড় ভে‌ঙ্গে মজ্জাটুকু‌ই তার খাবে। তারা হাড় ভাঙার জন্য ভারী পাথর নিয়ে এসেছে। এখান থে‌কেই নিজ সম্ভবত অ‌স্তি‌ত্বের প্রয়োজ‌নে অস্ত্রের ব্যবহার মানুষ শি‌খে‌ছে। সাভানায় আমাদের পূর্বপুরুষের হাতের সেই পাথরই হয়ে উঠেছে আজকের পারমানবিক অস্ত্র। আর হা‌তের কা‌ছে পাথর পে‌লে আজও আমরা উ‌দ্দেশ্যহীন ভাবে ছু‌ড়ে দিই। আঘাত দি‌য়ে দেখ‌তে চাই কোমল কুসুম। ভাবুন সেই ভীত, ভীষণ নিঃসহায় মানুষের কথা। দুনিয়ার সূচনায় মানুষ খুবই দুর্বল এক প্রাণী। কিন্তু অস্ত্র ব্যবহারের যোগ্যতা তাকে ধীরে ধীরে যোগ্য থেকে যোগ্যতম করে তুলেছে। এই অস্ত্র ব্যবহারের যোগ্যতার বলে মানুষ একটা স্বাধীনতা পেয়েছে। এরই ফলে সে প্রথমত অপরের খাবারে ভাগ বসিয়েছে, পরবতী‍র্তে আধিপত্য করেছে, স্বাধীন বোধ করেছে। হতে পারে বিবর্তনের এই আদি ধাপের কারণেই হয়তো দুনিয়ার বেশির ভাগ রাষ্ট্র উন্নততর অস্ত্র কুক্ষীগত রাখার ভেতর দিয়ে এক রকম স্বাধীনতা অনুভব করে। আমাদের আদিপুরুষ জীবন যাপন, খাদ্যভাসের ভেতর দিয়ে যেতে যেতে তারা তাদের মাথার সামনের দিকে মস্তিষ্কটাই বদলে ফেলেছে। 

মানুষের মগজকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। বোঝার সুবিধার্থে এক, দুই, তিন করে বলি। এক নম্বরটা হলো তি প্রাচীন ভাগ, পশুর মগজ, যাকে সরিসৃপ মগজ বলা যায়একদম ভেতরে থাকে। বিশাল আকৃতির ডাইনোসরের যে মগজ তার সাথে সদৃশ্য আছে। ডাইনোসরের আচর আচরণ দেখে বুঝতে পারবেন এই মগজের কাজ কী। এখনতো ডাইনোসর নাই। তবে? কিন্তু তারা ছোট ভাই আছে। মোরগ দেখতে অনেকটা ডাইনোসরের ছোট ভার্সন। মোরগ লক্ষ করলেই বুঝতে পারেবন মগজের এই অংশ কী কী করে। মানুষের ভেতরও এই মস্তিস্কের এই অংশটা রয়ে গিয়েছে। এটা মানবদেহের স্বতস্ফূর্ত বিষয়গু‌লো নিয়ন্ত্রন করে এটা লো দে‌হের টোপাইলট অপশন দেহের অনেক বিষয় এটা নিজ থেকে নিয়ন্ত্রন করে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করে ক্ষুধার অনুভূতি জাগ্রত করে, খাওয়ার প্রণোদনা দিবে ব্যথা পেলে সংকেত দিকে এবং দেহে কে তা নিরাময়ের জন্য সংবেদনশীল রে তুলবে দম নেওয়া, হার্টকে পাম্প করার সংকেত দেওয়া সহ নানাবিধ কাজ এক নম্বর মগজ রে থাকে দেহের উপর অদৃশ্য নিয়ন্ত্রন ছে তার এরমানুষের এখানেই পশুর কিছুটা অংশ। তবে সে পশু না। তার অনুভূতি আছে। মগজেন দ্বিতীয় স্তরটা সাধারণত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে ডেভেলপ করেছে বেশি এটাই আমাদের দুই নম্বর মগজ তি সাধারণ ভাবে, বোঝার সুবিধার্থে বলা যায়, এক নম্বর মগজের উপর জমা য়েছে দুই নম্বর মগজবালি দ্বীপরে উপর বন্যার পর পলিমাটি জমলে যেমন নতুন সবুজ চর জেগে ওঠে তেমনি এটা। মানুষের আবেগ নিয়ে এর কারবার কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে আপনি কী আচরণ করবেন, কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন, কতটুকু আহত বা আনন্দিত হবেন তা নিয়ন্ত্রণ করে ব্রেনের এই অংশ আমরা প্রচন্ড ভয় পেলে কাঁপতে থাকি তখন মগজের দুই নম্বর অংশ এক নম্বর অংশে সংকেত পাঠায় সার্ভাইভালের উপায় নির্ধারণের জন্য তীব প্রেম তীব্র ঘৃণা মগজের এই দুই নম্বর জায়গায় উৎপন্ন হয় ফলে, গভীর প্রে জাগ্রত লে মানুষ যে আচরণ করে, গভীর ঘৃণা তৈরি হলেও একই রকম ব্যবহার করে এটাই লো স্তিষ্কের বিশেষত্ব তিন নম্বরটা হলো সবার উপরেরটা দুইয়ের উপরে ছড়ানোযে পলিমাটির চর জেগে উঠেছে তার উপর এখন ছোট ছোট ঘর বাড়ি তৈরি করা হয়েছে এবার। এই ঘরগুলোর ভেতর কোনটা বিজ্ঞানাগার, কোনটা যুক্তিবিদ্যার লেকচার থিয়েটার, পাশেই শিল্প সাহিত্য নাটকের মঞ্চ, ধর্মশালা, আর্ট গ্যালরি। এই হলো মানুষের তিন নম্বর মগজ, যার নাম কর্টেক্স। মানুষ যে কল্পনা করতে পারে তার ভিত্তি হলো মস্তিষ্কের এই অংশ। এই অংশ ডেভেলপ না হলে আমরা গাছে চড়া বানর বা সমুদ্রে খেলতে থাকা ডলফিনের ঝাক হয়ে যেতাম। উন্নততন প্রাইমেটদের ভেতর এই স্তরের বিকাশ সবচেয়ে বেশি সব শ্রেণির প্রাণী এটা অর্জন করতে পারে নাই এক দুইয়ের উপরের আচ্ছাদন এটা মানুষ যে মানুষ হয়েছে তা সবার উপরের স্তরের মগজের কারণে জ্ঞান, ধর্ম, শিক্ষা, স্মৃতি, ণিত, শিল্প, দর্শন ইত্যাদি এইখানে সংরক্ষিত নিয়ন্ত্রিত হয়মানুষের যে মানবিক মনের যে দিশা তা মানুষের মাথার সামনের মগজের ফলাফল। ফলে, আমাদের মানবিক মন শারীবিক ঘটানাও বটে। মানুষ হলো দুটো সুতোর টুইস্ট।  দেহ আর মন একে অন্যকে ওতোপ্রেত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। একটা থেকে অরেকটাকে আলাদা করা যায় না। মানুষের এই জ্ঞান, শিক্ষা, স্মৃতি, ণিত, শিল্প সকল কিছুর মূলে রয়েছে তার কল্পনা শক্তি। কল্পনার কারণেই মানুষ গল্প তৈরি করে। কল্পনার কারণেই একে অন্যের উপর আস্থা পায়। কল্পনায় তৈরি গল্পের কারণেই মানুষ যুথবদ্ধ হয়। গল্প দিয়েই তার নিজ সংস্কৃতিতে বিশ্বাস স্থাপন করে। কল্পনার কারণেই মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ গড়ে ওঠে। একসাথে কাজ করতে শুরু করে। ফলে, মানুষের সভ্যতা গড়ে ওঠার অনেকগুলো ফ্যাক্টরের ভেতর কল্পনা অন্যতম প্রধান যার প্রভাব অনেক বেশি।

মানুষের এই বিবর্তন থেকে একক মানুষে চলে আসি এবার। মানুষ যে সাংস্কৃতিক প্রাণী হিসাবে গড়ে উঠেছে তার পেছনে শুধু মানসিক কারণ না, তার শারীরিক গঠনও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার তিন নম্বর কল্পনাপ্রবণ মগজের সাথে দুই আর এক নম্বরের সম্পর্ক কেমন তার উপর নির্ভর করেছে মানুষটি কতটা সৃজনশীল। এমনকি সে কতটা সুখী বা অপরের সাথে তার সম্পর্ক কেমন তা নির্ভর করছে তার মহজের গঠনের উপর। আর এই মহজের গঠন নির্ভর করছে ব্যক্তিটির জিনের উপর। জিন হলো হাজার বছরের বিকর্তিত কোড যা তার দেহের গঠন, মগজ ও চিন্তাকে তৈরি করে। 

মস্তিষ্কের তিনটা স্তর একের সাথে আরেকটা নিবিড় ভাবে  ড়িত ভূতের সিনেমা দেখে ভয় পেলে নম্বর যুক্তিশীল কাঠামো নম্বরকে ভয়ের অনুভূতি পেতে লে, নম্বর ১ নম্বরের সংকেত দিবে। ১ নম্বর মগজ হার্টবিট বাড়িয়ে দেওয়ার হরমোন নিঃসৃত করবে। আপনাকে কাপাতে থাকবে ভয়ে। এর উপর আমাদের সহসা কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না সুস্বাদু খাবার দেখলে নম্বর মগজ মুখের ভেতর স্লাইভা নিঃসৃত করতে থাকে ব্যক্তির ইচ্ছার বিরুদ্ধে বে ব্রেণের চলন যে সব সময় থেকে থেকে বে তেমন না উল্টাও হতে পারে, মধ্যবর্তী হতে পারে রিস্থিতি অনুযায়ী তা ভিন্ন ভিন্ন হয়সকল মানুষের ব্রেণ সকল কিছুর প্রতি সমান সেরনেটিভ না। কার ব্রেন কিসে সংকেত দিবে তা তার জিনের উপর নির্ভর করে।

মানুষ হিসাবে আমরা যে আচরণ করি তা কীসের উপর নি‍র্ভর করে? তা কী আমারা পরিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যা শিখি তার উপর নির্ভর করে শুধু? যে সমাজ সংস্কৃতিতে বসবাস করি তার উপর নির্ভর করে? মানুষের আচরণ কি শুধু কালচারাল নার্চিং? নাকি নেচারাল? এটা কী আমাদের  জেনেটিক গঠন যা আমাদের মহজের আকৃতি নিয়ন্ত্রন করে তার উপর নির্ভন করে? মানুষের সৃজনশীলতা কী প্রাকৃতিক ঘটনা, নাকি সামাজিক শিক্ষা নির্ভর একটা ব্যাপার? 

একই ডিম্বানু থেকে সৃষ্ট আইডেনটিক্যাল টুইনদের জেনেটিক গঠন একই। এদের উপর এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে  এদের কল্পনা ৭৪% জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিতএই গবেষণা থেকে একটা ধারণা পাওয়া যায় যে মানুষের কল্পনা তার জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। লেখক বা আর্টিসে্টর মূল শক্তি তার কল্পনা। ফলে,  লেখক বা র্টিস্ট য়ে ওঠা শুধু কালচারাল না, বায়োলজিক্যাল ফেনোমেনাওমানুষ চাইলেই নিজেকে উত্‌রে যেতে পারে না। এর দেহ মেশিনে বসানো কোড তার অনেক কিছু নিয়ন্ত্রন করে। আমরা কতটা কল্পনা করতে পারবো তার অনেক অংশ জিনের গঠনের উপর নির্ভর করছে। এই কল্পনটা খুবই জরুরী। কল্পনা বা গল্পই আমাদের সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কল্পনা ঠিক মত না থাকলে শুধু আর্ট না আইনস্টাইনের থিয়োরি অব রিলেটিভির বিজ্ঞান বোঝা সম্ভব নাকল্পনার বিরাট একটা অংশ দেহ আর মহজের গঠনের উপর। কল্পনার বাকি অংশ সমাজ, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাতে। দ্বিতীয়ত কল্পনাকে চর্চা করতে হয়। ফলে, আমাদের বায়োলজি বা মগজের গঠন, জিনের কার্যকারী শেষ কথা না। আগেই মানুষের বিবর্তনের ইতিহাসে দেখিছি মানুষ গল্প বিশ্বাসী সত্ত্বা। ফলে তার দেহ মেশিনের মগজের উপর যে সাংস্কৃতিক, গল্প, কল্পনার তীব্র প্রভাব আছে যা তাকে জিনের মতই নিয়ন্ত্রন করে। এই কারণে সভ্যতারকে আরো সভ্য করার জন্য যে সুন্দর দুনিয়ার কল্পনা তা করার জন্য মস্তিষ্কের এই সামনের অংশের চাষ আবাদ করা লাগে। আমাদের কল্পনাশক্তি বাড়ানো দরকার যার কল্পনা ভালো না সে কোনকিছুতেই ভালো না সে দি সোলজারও হয়, ছোট প্রতিষ্ঠানের কেরানীও হয় বে তার কাজটা দক্ষতার সাথে শেখা করার জন্য কল্পনা অতীব প্রয়োজনীয়। যার কল্পনাশক্তি যত বেশি সে তত দক্ষ মানুষমানুষের ভেতর যে সফলতার বোধ তাও নির্ভর করছে তার নিজেকে সুখী কল্পনা করার শক্তির ভেতর। দুনিয়ার সকল বিজ্ঞানী, বি, সাহিত্যিক থেকে শুরু রে বড় প্রতিষ্ঠানের সিইও সকলের প্রবল কল্পনাশক্তি দরকার তারা বহু কিছু দেখতে পায় যা তাদের চোখের সামনে নাইদুনিয়ার রাজনীতিবিদ, দার্শনিকরাই কল্পনায় আগামীর শুভ বিশ্ব ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক কাঠামো দেখতে পায়। মানুষ বৃহত্তর কল্যানের কল্পনায় রাজপথে স্লোগান দেয়। যে তার ভাই না, রক্ত সম্পর্কের কেউ না তার বিরুদ্ধে সংগঠিত অন্যায়ের প্রতিবাদের চুড়ান্ত মূহূর্তে তাকেই আপন কল্পনা করে নতুন সমাজ কাঠামোর জন্য চিত্‌কার করতে থাকে রাস্তায়।

লে, মানুষের কল্পনা ক্তি বাড়ানোর উপায় কি? খুব কঠিন কিছু না। 

শিশুকাল থেকে সন্তানকে ছড়া, কবিতা রূপকথা পড়তে দিনতার ভেতর অদৃশ্যকে দেখার অনুভূতি জাগ্রত হবে। বিপুল একটা অতীতের ভেতর দিয়ে সে নিজের বর্তমানটাকে দেখতে পাবে।এই বৃক্ষহীন নাগরিক সামজে বসে সে শ্যাওড়াগাছের ভূতটাকে দেখতে পাবে। মেঘগুলোকে রুমাল, রুমালকে বিড়াল হয়ে যেতে দেখবে। আর্ট গ্যালারিতে নিয়ে যান তাদের। রংএর যে অর্থ আছে নিজের মত বুঝুক। শহরের পার্কগুলোতে গাছ চেনান তাদের। গাছের ডালে যে পাখি আসা বাঁধে তা জানুক। পাখির বাচ্চাগুলোর বেড়ে ওঠার কল্পনা করুক। বারান্দায় চাল ছিটাটে দিন তাকে। যেনো সে পাখি আসার কল্পনায় বসে থাকতে পারে বারান্দায়। একদিন পাখি আসবে চাল খেতে। আর সেইদিন তার কল্পনা সত্য হবে। কার্টুন ক্যারেক্টারগুলো দেখতে দিনকল্পনার চরিত্রে সাথে তার যোগযোগ গড়ে উঠুক। পুতুল কিনে দিন যেনো সে ভালোবাসতে শেখে। নানা গল্প শোনান মিথ ধর্মীয় রিত্রগুলোর মহত্তের সাথে রিচয় রিয়ে দিন

আসলে বেশির ভাগ শিল্পের সরাসরি কোন কাজ নাইতার মানুষের সাথে আদার প্রদান খুব গোপনে মগজের গভীরে অন্ধকারে হয়। শিল্প মানুষকে কল্পনাপ্রবণ হয়ে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। এটাই হয়তো শিল্পের অনেকগুলো কাজের ভেতর অন্যতম একটা কাজ। শুভ সমাজের কল্পনা শেখার জন্য শিল্পের বিকল্প নাই।  

🔅🔅🔅🔅🔅🔅

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস | মুম রহমান

Tue Sep 8 , 2020
উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস | মুম রহমান 🌱 আধুনিক এবং চিত্রবাদী মার্কিন কবি উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস কবিতার পাশাপাশি চিত্রকলাকেও গুরুত্ব সহকারে চর্চা করেছেন। তার কবিতায় চিত্রকলার প্রভাব পাওয়া যায়। তিনি কবিতার জন্য পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছেন, ইউনাইটেড স্ট্যাটস পোয়েট লরিয়েট সম্মানও পেয়েছেন।    একটি প্রেমের গান   তোমাকে আমার কী বলতে হবে […]
Shares