শহীদ কাদরীর কবিতা: নাগরিক চেতনার ভিতরে এবং বাইরে | কাজী নাসির মামুন

শহীদ কাদরীর কবিতা: নাগরিক চেতনার ভিতরে এবং বাইরে | কাজী নাসির মামুন

🌱

বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশের ধূসর পান্ডুলিপি নিয়ে আলোচনা কালে বলেছেন, ‘কবিদের গায়ে লেবেল আঁটা থাকলে ডক্টরেট ডিগ্রীকামীদের সহায়তা হয়, কিন্তু রসোপলব্ধিতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।’ কথাটা বহুলাংশে সত্য। কেননা যে-লেভেলে কবিকে আবদ্ধ করা হলো, তার বাইরে কবি বহু বর্ণিল কিছু লিখে গেলেও পাঠক পূর্ব ধারণার বশবর্তী হয়ে সেই বর্ণ-বিভার খোঁজ পান না। আর আলোচকের মনেও পূর্ব ধারণার আবেশ তৈরি হয়ে থাকে। সেই ঘেরাটোপ পার হয়ে আলোচনায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে হলে তাকেও একটু বেগ পোহাতে হয়। যাইহোক, শহীদ কাদরীকে নিয়ে লিখতে বসেও আমাকে স্মরণ রাখতে হচ্ছে ‘নাগরিক কবি’র একটা লেভেল তার গায়ে আঁটা আছে। এখন কথা হলো কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে তিরিশি কবিতার যে-ধারাবাহিকতা আমরা বহন করছি তার মৌল চেতনাইতো নাগরিকতা। তাহলে বিশেষভাবে ‘নাগরিক কবি’র অভিধা কোন্ কারণে সেঁটে দেওয়া হলো, সেটি অবশ্য বিশ্লেষণের দাবী রাখে। নাগরিকতা আধুনিকতারই মৌলিক উপকরণ। ফলে তা বিশেষায়িত হবার অন্য কোনো কারণ দেখি না। শামসুর রাহমানের কবিতা থেকে ঢাকা শহেরর বিবর্তনের একটা রূপরেখা সহজেই উঠে আসে। শামসুর রাহমান তার শৈশব, যৌবন এবং প্রৌঢ়ত্বে ঢাকাকে যে-ভাবে দেখেছেন সেই বিবর্তিত রূপকে কবিতার বিষয় করে কবিতাকে করে গেছেন ইতিহাসের সচিত্র প্রাণবস্তু। ফলে শামসুর রাহমানের কবিতায় ভালো-মন্দের একটা মিশেল রূপ পরিগ্রহ করে আছে ঢাকা। শহীদ কাদরীর কবিতায় ঢাকার মায়াবী রূপটি নাই। তার কবিতায় অতিরঞ্জিত ত্রাসের শহর হিসেবে চিত্রিত ঢাকা। ক্লেদাক্ত, পঙ্কিল, নিঃসঙ্গতার পীড়াযুক্ত একটি পাপমুখর শহর হিসেবে ঢাকাকে যে-ভাবে কল্পনা করেছেন তিনি, সেই দিকে ঢাকা বিবর্তিত হতে শুরু করেছে মাত্র। তাই ঢাকা যত বেশি নাগরিক প্রপে বিভোর হবে তত বেশি প্রাসঙ্গিক বিবেচিত হবে শহীদ কাদরীর কবিতা। সেই দিক থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তার কবিতার আবেদন আরো বেশি হবে বলেই ধারণা করা যায়। তিরিশি আধুনিকতার সূত্র ধরেই আমাদের নাগরিক অনুভূতির দিকে তুমুল যাত্রা শুরু। ফলে এ কথা অনস্বীকার্য যে, নাগরিকতার পারিপার্শি¦ক বাস্তবতা না থাকা সত্ত্বেও কাব্য-কলায় নাগরিক হয়ে উঠবার যে তীব্র প্রবণতা আমাদের গ্রাস করলো তার পেছনের কারণটি হলো যুগ চেতনার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন এবং সমর্পণ। এই চেতনাও অবশ্য ইউরোপ থেকে আগত। তাই এই চেতনা থেকে উদ্ভুত মানসিকতাকে আমরা উপনিবেশিক মানসিকতা বলতে পারি। কেননা নাগরিক হয়ে উঠবার এই প্রবল অনুভূতি উপনিবেশিকতার প্রতিক্রিয়ায় উৎপন্ন নয়। বরং উপনিবেশিকতা যে-পথ দেখিয়েছে তাকে মান্য করেই এই বোধ সংক্রমিত হয়েছে যে, ‘আধুনিক’ মানেই নাগরিক। আমাদের সমলোচনার ধারাও এই পথকে অনুসরণ করেছে। ফলে শহীদ কাদরীকে ‘নাগরিক কবি’র অভিধায় অভিসিক্ত করে কারও কারও তৃপ্তি হয়। সেই তৃপ্তির পেছনে কারণ অবশ্যই আছে। শহীদ কাদরী নিজেই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন: ‘জন্মেই কুঁকড়ে গেছি মাতৃজরায়ন থেকে নেমে’। নিজের ভাষ্যমতে তার জন্ম হয়েছে ‘দীপহীন ল্যাম্পপোস্টের নীচে, সন্ত্রস্ত শহরে’। তার জন্মের সময় ঢাকা নিশ্চই এতটা সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে নি। তবু এতটা উৎকটভাবে বলার উদ্দেশ্যই হলো নাগরিকতার বোধকে তীব্র করে তোলা। তাই ‘শহরের ভেতরে কোথাও’ তিনি দেখতে পান ‘রুগ্ন গোলাপদল’। দেখতে পান ‘শীতল, কালো, ময়লা সৌরভের প্রিয়তমা’। দেখতে পান ‘অস্পৃশ্য বাগানের ভাঙাচোরা অনিদ্র চোখের অপ্সরা’। আর তার ‘নিরুপায় একজোড়া আহত পাখির মত চোখ’ ‘রাত্রিভর দেখবে শুধু’ ‘নিঃশব্দে ছিন্ন করে জোনাকির জাল’ ‘ছুটে গেল যেন এক ত্রস্ত ভীত ঘোড়ার কঙ্কাল’। শুধু তাই নয়, ‘ম্লান রেস্তোরাঁয়’ ‘বিবর্ণ কেবিনে আশ্রয়ের যে আশ্বাস এখনও’ ‘টেবিল ও চেয়ারের হিম শূন্যতায় লেখা আছে’, সেইটুকু তিনি খুঁজে পান না কোন ‘জুঁই চামেলী’ অথবা ‘চন্দ্র মল্লিকার ঝোপে-ঝাড়ে।’ অর্থাৎ সকল নেতিবাচকতা সত্ত্বেও শহরই তার আশ্রয়স্থল। ‘নিসর্গের নুন’-এ তিনি আশ্রয় পান নি। ফলে প্রাথমিক ভাবে আমরা ধরে নিতে পারি তিনি নিসর্গরহিত। আর নিসর্গ তথা প্রকৃতি সংলগ্নতা রোমান্টিক কবিদের আরাধ্য ছিলো। প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্নতা আধুনিতকতারই উপাদান। কেননা যা-কিছু প্রকৃতিজাত তা আসলে স্বয়ংক্রিয়। আধুনিকতা মানেই নির্মাণ। সেই নির্মাণ প্রক্রিয়ায় প্রকৃতি বরং মানুষের হাতে বিধ্বস্ত হবে, এই স্বাভাবিক। আর এই বিধ্বংসী পরিবেশে স্বভাবতই শহীদ কাদরীর কাছে ‘অস্তিত্ব শুধু একরাশ অস্বস্তির স্তুপ’। কিন্তু উত্তরাধিকার পার হয়ে তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই পর্যন্ত এসেও শাহরিক নরককেন্দ্রে তিনি স্থিত হতে চেয়েছেন। বলেছেন: ‘নরক তো পিতার শিশ্ন, মায়ের জরায়ু’। এবং শেষটায় দৃঢ় সিদ্ধান্তের মতো বলেছেন: ‘নরকেই পেতে চাই দীর্ঘ পরমায়ু’। এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই শান্তিময় নয়। কেননা এই ‘নাগরিক কবি’র ‘আত্মার ভেতরে ওড়ে নীল মাছি বিরক্তির’।

এখন কথা হলো শহীদ কাদরীর ‘রুগ্ন গোলাপদল’ বোদলেয়ারের ‘ক্লেদজ কুসুম’কে স্মরণ করিয়ে দেয়। বুদ্ধদেব বসুর অনুবাদে বোদলেয়ারের কবিতাতে আমরা পাই ‘সারি-সারি ঝাপসা ছাদ, ইট-খসা কার্নিশ, দেয়াল’। ‘নর্দমার ক্ষরণে সবুজ পি-, মধ্যে কিছু ঘাস’। ‘আর কত জমে-ওঠা উজ্জ্বল জঞ্জাল।’ শহীদ কাদরী যেন পুঁতিগন্ধময় পরিবেশকে আরও তীব্র করে তুলেন। বলেন ‘ছেঁড়া খোড়া, ত্যক্ত, বিরক্ত বেসামাল উৎসবে’র কথা। বলেন ‘কৃমিও যায় না’ এমন ‘দুর্গন্ধ’ ‘নর্দমা’ ও ‘পাঁকে’র কথা। বোদলেয়ার বলেছেন: ‘আমি একা অদ্ভুদ ব্যায়ামে মগ্ন পথে হেঁটে হেঁটে’। আবার ‘জনতার আলিঙ্গনে অপ্রতিভ, অপ্রস্তুত, অনাত্মীয়, একা’ অনুভব করেছেন শহীদ কাদরীও। বোদলেয়ার যেখানে বলেন: ‘বিবর্ণ চেয়ারে ব’সে বয়োবৃদ্ধ বারাঙ্গনারা’। সেখানে শহীদ কাদরীর অনুভব হচ্ছে ‘অস্পৃশ্য বাগানের ভাঙাচোরা অনিদ্র চোখের অপ্সরা’। যে-শহরকে কেন্দ্র করে বোদলেয়ার বলেছেন ‘কখনো চমকে উঠি ফুটপাতে কথার হোঁচটে’, সেই শহর প্যারিস। আর যে ‘সন্ত্রস্ত’ শহরে জন্ম হয়েছে শহীদ কাদরীর সেটি ঢাকা । যদিও নাগরিকতার তীব্রতা বিচেনায় এই দুই শহরের পার্থক্য আকাশ-পাতাল, তথাপি ঢাকাকে নাগরিক কল্পনায় প্যারিসের পর্যায়ভুক্ত করেছেন শহীদ কাদরী। ফলে নাগরিকতার বোধও সুতীব্র হয়েছে তার কবিতায়। বাস্তবে শহীদ কাদরীর কবিতার চিত্রকল্পের দিকে ঢাকা যাত্রা শুরু করেছে মাত্র। সেই বিবেচনায় শহীদ কাদরী তার কবিতাকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এগিয়ে রেখেছেন। এ ক্ষেত্রে ড. মাসুদুজ্জামান ঠিকই লিখেছেন: ‘শহীদ কাদরীর কাব্যস্বভাব কেবলমাত্র চিত্র সমাবেশে ও বহিরঙ্গে শহর-সাধক নয়, বরং তা দ্বিতীয় যুদ্ধান্তিক শহরমনস্ক জীবনবীক্ষণেই আগ্রহী’। আমার কথার সমর্থনে খোন্দকার আশরাফ হোসেনের ‘কবিতার শহর, কবিতার ঢাকা’ প্রবন্ধ থেকে সামান্য উদ্ধৃতি তুলে ধরা যায়। তিনি লিখেছেন: ‘বোদলেয়ার এক জ্বলন্ত প্রেরণা কাদরীর জন্য, এতটাই জ্বলন্ত যে, তিনি আধা মফস্বল ঢাকা শহরকেও মুহূর্তের কল্পনায় রূপান্তরিত করে নেন অমানবিক, নারকীয় মেগালোপলিসে। কাদরীর আত্মধিক্কার ও পাপচেতনা, তাঁর কবিতায় নগরের সন্ত্রাসদৃশ্যসমূহ, বেশ্যা ও ভিখিরির ভিড়, কুৎসিত রোগাক্রান্ত মানুষের শারীরিক পচনের উল্লেখ ইত্যাদি বোদলেয়ারীয় ভাবানুষঙ্গ তাকে করে তুলেছে একজন পাতকী ও সন্ত একই সাথে।’

এই ‘পাতকী ও সন্ত’র ধারণাও পশ্চিমা নিদের্শনার বশবর্তী। বোদলেয়ার বলেছেন: ‘পাপকর্মের চৈতন্যই মহত্তর রতিসুখসার’। আর বোদলেয়ারের কাব্যানুবাদের ভূমিকায় বুদ্ধদেব বসু আধুনিকতার মৌল মন্ত্র হিসেবে জোরালো সমর্থন করেন এই উক্তি। ‘পেতে হবে অকথ্য যন্ত্রণা, অলৌকিক শক্তি, হতে হবে মহারোগী, মহাদুর্জন, পরম নারকীয়, জ্ঞানীর শিরোমণি। আর এমনি করে অজানায় পৌঁছানো’। বোদলেয়ার সমর্থিত এই নেতিবাচক চিন্তাকে নাগরিক অনুভূতির সঙ্গে জুড়ে দিয়ে পশ্চিমা সমালোচনার ধারা একেই সনাক্ত করলো ‘আধুনিক’ হিসেবে। আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি একেই মান্য করলো বিনা প্রশ্নে। ফলে শহীদ কাদরীর কবিতায় আবিষ্কৃত হলো পাপচক্র, আত্মগ্লানি, অনিকেত চেতনা থেকে উদ্ভূত উন্মূল মানসিকতা, নৈ:সঙ্গ্য এবং এরকম অনেক নেতিবাচকতার প্রতি কবির উৎকট মোহাগ্রস্ততা। ফলে শহীদ কাদরী যথার্থই ‘নাগরিক’ কবি এবং সেই অর্থে দুর্মর আধুনিক তো বটেই। এই অভিধার বিরুদ্ধে আমি নই। কিন্তু এই অভিধার পেছনে যে-উপনিবেশিক মানসিকতা আমাদের সন্তুষ্টি বা পরিতৃপ্তি দেয়, সেটাকেই আমি প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই।

ফয়েজ আলমের অনুবাদে এডওয়ার্ড সাঈদের আরিয়েন্টালিজম থেকে আমরা জানতে পারি ‘পশ্চিম যেমন, তেমনি প্রাচ্যও একটি ধারণা যার আছে নিজস্ব চিন্তা, চিত্রকল্প ও পরিভাষার ইতিহাস ও ঐতিহ্য’। কিন্তু সাঈদ এ কথাও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ‘প্রাচ্যকে কেবলই একটি ধারণা বা বাস্তবতার সাথে সম্পর্কহীন সৃষ্টি বলে সিদ্ধান্ত টানা ভুল হবে’। আর সুদীর্ঘকাল যাবৎ এই ভুলের আওতায় বিবেচিত হয়েছে বলেই পশ্চিমাদের কাছে ‘প্রাচ্যের একজন মানুষ প্রথমে প্রাচ্যজন, তারপর মানুষ’। অথচ আমাদের বাস্তবতা হলো আধুনিক যুগের আগে দেবতার জায়গায় মানুষেকে প্রতিস্থাপন করে আমরাই ঘোষণা করেছি ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য, তাহার ওপরে নাই’। দেবতা নয় বরং মানুষের বন্দনাইতো আধুনিকাতর প্রধান স্বরূপ। আর স্বাধীনতার জয়গানে আমরাকি আমাদের মতোই সোচ্চার হইনি? ‘স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায়’? এ তো আমাদেরই অনন্য মানবিক উচ্চারণ। এই স্বাধীনতার বোধ কিন্তু আধুনিকতারই অতি প্রকাশ্য চৈতন্য। কিন্তু উপনিবেশিক আমল থেকে গড়ে-ওঠা দ্বারস্থ হওয়ার মানসিকতা আমাদের নিজস্ব বোধ ও মননের আধুনিকতা নিয়ে গৌরব করতে দেয় নি। ঢাকা যদি পাপ পঙ্কিলতায় পূর্ণ গ্লানিময় নৈ:সঙ্গ্য ও নির্বেদের পীঠস্থান হিসেবে গড়ে ওঠে, তাতে আমাদের আত্ম-গৌরবের কিছু নাই। এটি বরং হতাশারই কথা। সেই হতাশার অনুষঙ্গ শহীদ কাদরীর কবিতায় বিপুল পরিসর তৈরি করলেও আমাদের নিজস্বতার তাগিদেই সমালোচনার ধারা একটু ভিন্নতর হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি। উৎকট নাগরিকতা শহীদ কাদরীর উত্তরাধিকার-এ যতটা প্রকট পরবর্তী কাব্যগ্রন্থগুলোয় সেই প্রকটতা কমে এসেছে। আর তার মনন এবং চেতনার স্বরূপ তিনি নিজেই উন্মেচন করেছেন। উত্তরাধিকার-এ ‘নিসর্গের নুন’ কবিতায় বলেছেন :

পাখির ছানার মতো দ্রুত সপ্রাণ লাফিয়ে ওঠা
পলায়নপর একটি অপটু
গোলাপের কম্প্র গ্রীবা ধরে আমিও চিৎকার করে
বোল্লাম: যা দেখছো শুধু ছদ্মবেশ এ আমার
এই জামা, এই ট্রাউজার,……..

‘ছদ্মবেশ’ সম্মন্ধে তার এই স্বীকারোক্তি তার নাগরিক চেতনা নিয়ে আমাদের ভিন্ন ভাবনায় প্ররোচিত করে। এটাকে আমি বলতে পারি কাব্যিক সততা, নাগরিকাতর ঠুনকো মুখোশ নিয়ে তিনি সচেতন। তাই বলা যায় নাগরিকতা তার সহজাত প্রবৃত্তি নয়। একটি টেক্স্ট শুধু মাত্র ভাষার নান্দনিক বিভায় আলোকিত হয়ে ওঠে না। বিভিন্ন সামাজিক অনুষঙ্গের আলোকে সেই টেক্স্ট পাঠকের চেতনায় নানা রকমভাবে বিবেচিত হতে পারে। সেই বিবেচনাকে গ্রাহ্য না করে শুধুমাত্র নান্দনিক উৎকর্ষের আলোচনা উপনিবেশপীড়িত ধারণারই অন্তর্গত। বুদ্ধদেব বসু তার সমালোচনা রীতিতে সেই ধারাকেই অক্ষুন্ন রেখেছেন বলে আজফার হোসেন তার সাম্প্রতিক কালের এক গদ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। এই প্রশ্ন তোলার ব্যাপারটি উত্তর-উপনিবেশ সাহিত্য আলোচনায় খুব জরুরী বলে আমি মনে করি। শহীদ কাদরী তার ‘নিসর্গের নুন’ কবিতার শেষাংশে বলেন:

‌ইচ্ছে ছিলো কেবল তোমার নুন খেয়ে আজীবন
গুণ গেয়ে যাবো
অথচ কদ্দিন পরে বারান্দা পেরিয়ে
দাঁড়িয়েছি ঝোপে
ধারালো বটির মতো কোপ মেরে
কেন যে, কেন যে
দ্বিখন্ডিত করছে না
এখনও সুতীক্ষ্ণ বাঁকা
ঐ বঙ্গদেশীয় চাঁদ!

যদি এই কবিতাংশের নান্দনিক বিবেচনায় যাই তাহলে ধারালো বটির সঙ্গে বাঁকা চাঁদের তুলনা একটি অসাধারণ ব্যাপার। যদিও শহীদ কাদরী সরাসরি এই তুলনা করেন নি। বলেছেন, ‘ধারালো বটির মতো কোপ মেরে’ ‘বঙ্গদেশীয় চাঁদ’ কেন তাকে ‘দিখ-িত’ করছে না। বাঁকা চাঁদকে তিনি বটির মতো ধারালো কল্পনা করেছেন। সম্ভবত নেরুদার একটি কবিতায় অর্ধচন্দ্র বা বাঁকা চাঁদকে কাটা নখের সঙ্গে তুলনা করতে দেখেছি। চাঁদের নানা রঙের উপমার মধ্যে ধারালো বটির সঙ্গে তুলনাকে আমার খুবই অভিনব মনে হয়েছে। কিন্তু সামাজিকতার বিবেচনায় চিরায়ত বাঙালি মননকে খুঁজে পাই আমরা শহীদ কাদরীর এই কবিতার শেষাংশে। তার অপরাধবোধ তীব্রতর হয়েছে এখানে। ‘নুন খেয়ে’ ‘গুণ গাইতে’ চেয়েছেন। পারেন নি। কেননা তার ছদ্মবেশ অনিবার্য ছিলো। ছদ্মবেশ তিনি এড়াতে পারেন নি। তাই অপরাধবোধে তিনি পীড়িত হলেন। চাইলেন ‘বঙ্গদেশীয়’ বাঁকা চাঁদ তাকে দ্বিখ-িত করুক। এখানে নাগরিক পাপচেতনা নিশ্চই নাই। বিচ্ছিন্নতা বোধের তথাকথিত আধুনিক মননের পরিবর্তে তার এই অপরাধবোধ বরং বাঙালি জীবনের সঙ্গে তার সংলগ্নতাকেই প্রকট করে তোলে।

নাগরিকতার এই আরোপিত ছদ্মবেশ ধারণ করে শহীদ কাদরী কিন্তু আত্মযন্ত্রণা থেকে বিমুক্ত নন। তাই বলা যায় নাগরিকতার প্রতি শুধু মোহগ্রস্ততা বা উন্মুখতাই ছিলো না শহীদ কাদরীর। ছিলো বিমুখতাও। সেই বিমুখতার দ্বান্দ্বিক মননের দেখা পাই তার উত্তরাধিকার নামক প্রথম কাব্যগ্রন্থের ‘জন্ম বৃত্তান্ত’ কবিতায়। তিনি লিখেছেন:

হঠাৎ হাওয়ার শিউরানি
ভরে দিলো, ছুঁড়ে দিলো যেন মন্দের পরামর্শে
এই মৌলিক দূরত্বে ?

বোঝা যাচ্ছে স্বজনবিবজির্ত এই-যে তার নাগরিক দূরত্ব নির্মাণ, সেটি ‘মন্দের পরামর্শ’ বলে তিনি মানতে চাইছেন। ঠিক এই জায়গায় বোদলেয়ারীয় মননের সঙ্গে তার মৌলিক পার্থক্য সূচিত হয়ে যায়। ‘পাপকর্মের চৈতন্যকে মহত্তর’ জেনেই সাদরে গ্রহণ করেছেন বোদলেয়ার। এ কথা আগেই বলেছি। ‘মহারোগী, মহাদুর্জন’ হবার বাসনা থেকেই বোদলেয়ার নাগরিকতার পরম নারকীয়তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। কোনো দ্বান্দ্বিক মনস্তত্ত্ব তার তৈরি হয় নাই। কিন্তু শহীদ কাদরীর বাঙালি মন ও মনন সেই নাগরিকতাকে অবচেতনায় উপেক্ষা বা অগ্রাহ্য করতে চায় বলেই এই দ্বান্দ্বিক সত্তা তার কবিতায় জাগরিত।

দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ তোমাকে অভিবাদ প্রিয়তমা’য় এসে উৎকট নাগরিকতাকে কিছুটা ম্রিয়মাণ করেছেন শহীদ কাদরী। কিন্তু জাতীয়তাবোধের তীব্র উজ্জীবন এখানে সুস্পষ্ট। আমরা প্রায় সবাই জানি লিভারপুলের কবিদের কবিতার আঙ্গিক দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন শুধু শহীদ কাদরী নন, শামসুর রাহমান এবং নির্মলেন্দু গুণও । একই কথার পুনরাবৃত্তিমূলক ক্যাটালগ তৈরি করা হচ্ছে সেই আঙ্গিক। শামসুর রাহমানের ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতাটি যেমন। এখন শহীদ কাদরী যখন বলছেন, ‘রাষ্ট্র বললেই মনে পড়ে স্বাধীনতা দিবসের’ ‘সাজোয়া বাহিনী’ ‘রাষ্ট্র বললেই মনে পড়ে রেসকোর্সের কাঁটাতার কারফিউ, ১৪৪- ধারা’ কিংবা যখন তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র বললেই মনে হয় তেজগাঁ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা’, তখন এই রাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্র ঢাকাকে অন্য রকম গৌরবের রূপে পাই আমরা। পাতক-পাতকীর নৈ:সঙ্গ্যপীড়িত উদ্বাস্তুমুখর ঢাকা এটি নয়। স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত এই ঢাকা। উপনিবেশেরই প্রলম্বিত সংস্করণ পাকিস্তানী শাসনের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির উদ্দীপনায় সেই ঢাকা সেদিন নড়ে উঠেছিলো। ফলে বোদলেয়ারের প্যারিসের সঙ্গে ঢাকার তুলনা হয় না। বোদলেয়ারের চিত্রকল্পে যে প্যারিস তা উপনিবেশের ক্ষমতায়নের কেন্দ্রস্থল বলে ভাবতে পারি আমরা। আর ঢাকা সেই ক্ষমতার বলয় ভেঙে আমাদের মুক্তির পথকে সুগম করেছে। ফলে নগর ভাবনায় ঢাকাকে আমরা যেখানেই স্থান দেই না কেন, গৌরবের বিবেচনায় প্যারিসের চেয়ে উচ্চেই রাখতে হবে। ১৭৮৯ এর ফরাসী বিপ্লবের মহান মন্ত্র অর্থাৎ সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার পথ থেকে সরে এসে ফ্রান্স কায়েম করেছে উপনিবেশ। সেই ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস যতই প্রজ্জ্বলিত হোক কবিতায়, উত্তর-উপনিবেশিক চেতনায় তাকে আর মোহনীয় মনে হয় না আমার কাছে। আর ঢাকার যে গৌরবের কথা বললাম শহীদ কাদরী নিজেও সেই গৌরবের অংশীদার। তাই ঢাকাকে উদ্দেশ্য করেই তিনি কবিতার নামকরণ করলেন ‘স্বাধীনতার শহর’।
বললেন:

স্বাধীনতা, তুমি কাউকে দিয়েছো সারাদিন
টো টো কোম্পানীর উদ্দাম ম্যানেজারী করার সুবিধা
কাউকে দিয়েছো ব্যারিকেডহীন দয়িতার ঘরে যাওয়ার রাস্তা
কাউকে দিলে অবাধ সম্পাদকীয় লেখার অপরূপ প্ররোচনা
উজ্জ্বল কিশোরকে ফের কবিতার আঁতুড় ঘর, মেঘের গহ্বর
আর আমাকে ফিরিয়ে দিলে
মধ্যরাত পেরুনো মেঘলোকে ডোবা সকল রেস্তোরাঁ
স্বাধীনতা, তোমার জরায়ু থেকে
জন্ম নিলো নিঃসঙ্গ পার্কের বেি
দুুপুরের জনকল্লোল
আর যখন-তখন এক চক্কর ঘুরে আসার
ব্যক্তিগত, ব্যথিত শহর, স্বাধীনতা!

এই ‘ব্যক্তিগত, ব্যাথিত শহর’ পাপ আর পঙ্কিল অধঃপাত নিয়ে ব্যথিত নয়, স্বাধীনতার বেদনা ধারণ করে ক্ষত বিক্ষত বলেই ঢাকা শহর ব্যথিত। নিজেকেও তিনি বেদনাসিক্ত বলেই ঘোষাণা করেন। ‘অন্য কিছু না’ কবিতায় বলেন: ‘অসংখ্য বিদ্রুপ-বেঁধা, পিতার বিশাল বক্ষপ্রাথী’ তিনি। তিনি ‘রুক্ষ চুলের এক বেদনাব্যাকুল বালক ছাড়া’ ‘অন্য কিছু না’। তার সামনেই ‘জুঁই, চামেলি, চন্দ্রমল্লিকা, ওরা সব দাঁড়িয়ে রয়েছে’। যিনি ‘পিতার বিশাল বক্ষ’ প্রার্থনা করেন তাকে বিচ্ছিন্নতাবোধের নাগরিক চেতনায় আক্রান্ত ভাবা যায় না। আবার ‘জুঁই, চামেলি, চন্দ্রমল্লিকা’ যাকে স্বাগত জানান, তাকে কীভাবে নিসর্গরহিত কল্পনা করি? উত্তরাধিকার-এ নিসর্গ তাকে আশ্রয় দেয় নি বলে যে-মত তিনি প্রকাশ করেন, তাকেই যেন শুধরে নিলেন ‘ব্ল্যাক আউটের পূর্ণিমায়’ নামক কবিতায়:

আবাল্য তোমার যে নিসর্গ ছিলো নিদারুণ নির্বিকার
সুরক্ষিত দুর্গের মতন আমাদের প্রতিরোধে সে হলো সহায়:

নিসর্গ এখানে সহায়। এই অদম্য সাহস বুকে নিয়েই তার সতেজ ঘোষণা: ‘একটি আংটির মতো তোমাকে পরেছি স্বদেশ’। এই স্বাদেশিকতার বোধ পশ্চিমাদের নির্দেশিত আধুনিকতার সংজ্ঞায়নের সঙ্গে মিলে কি-না, সেটিও ভেবে দেখা দরকার। এখানে শহীদ কাদরীকে বোদলেয়ারের ‘অচেনা মানুষ’ বলে মনে হয় না। মনে হয় না উন্মূল বা আশ্রয়হীন। ‘আধুনিক’ কিংবা ‘অচেনা’ না হলেও আমাদের কিছু যায় আসে না। বরং তিনি আমাদের আপন এবং সংলগ্নজন হলেই তাকে নিয়ে কিছু বলবার দায় থাকে আমাদের। আবার যখন রবীন্দ্রনাথের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের চৈতন্যপ্রবাহে তুমি ট্রাফিক আইল্যান্ড’ তখন কিছুটা ভাবালুতাপূর্ণ বাঙালি মধ্য বিত্তের রবীন্দ্রানুরাগ উথলে ওঠেতো বটেই। এবার ‘তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা’ কবিতাটির শেষাংশ পড়ে ফেলি:

ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো
স্টেটব্যাঙ্কে গিয়ে
গোলাপ কিম্বা চন্দ্রমল্লিকা ভাঙালে অন্তত চারলক্ষ টাকা পাওয়া যাবে
একটি বেলফুল দিলে চারটি কার্ডিগান।
ভয় নেই , ভয় নেই
ভয় নেই
আমি এমন ব্যবস্থা করবো
নৌ, বিমান আর পদাতিক বাহিনী
কেবল তোমাকেই চতুর্দিক থেকে ঘিরে-ঘিরে
নিশিদিন অভিবাদন করবে, প্রিয়তমা।

গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা আর জুঁই এই তিন ফুলের প্রতি শহীদ কাদরী বেশি আকৃষ্ট ছিলেন বলে মনে হয়। কিন্তু এই গোলাপ বা চন্দ্রমল্লিকা তার উত্তরাধিকার-এর রুগ্ন ‘গোলাপদল’ অবশ্যই নয়। এই গোলাপ ভালোবাসায় সতেজ। আর যে-আঙ্গিকে তিনি অভিবাদন করেছেন প্রিয়তমাকে, সেটিওতো রোমান্টিক ভাবালুতায় পূর্ণ। পশ্চিমা নির্দেশ মেনে নিলে রোমান্টিকতার প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে আধুনিকতা। ফলে শহীদ কাদরী কি ক্রমশ আধুনিকতা থেকে সরে আসছিলেন? পশ্চাদগমন করছিলেন রোমান্টিকাতায়? আর সেজন্যেই কি তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই-এ এসে ‘যাই, যাই’ কবিতায় তিনি একটু স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন? তিনি লিখেন:

আজ আবার আমার ইচ্ছে হলো যাই
বর্ধমানে, সেই একটুখানি ইস্টিশনে,
হাই তুলতে তুলতে যাই বটগ্রামে শিউলিতলায়
যেখানে দাঁড়িয়ে আমি কোনোদিন ফটোগ্রাফ তুলি নাই
হে আমার মোরগের চোখের মতন খুব ছেলে বেলা!

অর্থাৎ তিনি ফিরে যেতে চাইলেন। তার প্রত্যাবর্তনের কথা আরও দৃঢ়ভাবে ইঙ্গিতময় হলো কবিতাটির শেষ দিকে:

……… যদি হয়, আজ তাই
যা কিছু এড়িয়ে গেছি, আড়ালে রেখেছি
আমার নিজের মধ্যে, কবিতার ক্লান্ত শব্দে, বারবার
ফিরিয়ে আনতে চাই।

এই ফিরিয়ে আনা বা ফিরে আসার মধ্যেই তার কাব্যের পরিণতি। নাগরিকতার পরাকাষ্ঠায় নয়। একই কাব্যগ্রন্থের ‘এবার আমি ’ কবিতাটির কিয়দংশ পাঠ করলে শহীদ কাদরীর নাগরিক মনন সম্পর্কিত আমাদের পূর্ব ধারণা পাল্টাতে পারে। তিনি লিখেছেন:

চায়ের ধূসর কাপের মতো রেস্তোরাঁয়
অনেক ঘুরলাম।
এই লোহা, তামা, পিতল ও পাথরে মধ্যে
আর কতদিন?
এখন তোমার সঙ্গে ক্ষেত খামার দেখে বেড়াবো

কেন তার এই অনুভূতি? কারণও তিনি ব্যাখ্যা করেছেন কবিতায়। বলেছেন:

যারা গাঁও-গেরামের মানুষ
তারা তো আমার মতো পাৎলুনের পকেটে হাত রেখে
অহঙ্কারের ভেতর হতশ্রী হতচ্ছাড়া নয়। তাদের
সোনালী খড়ের ভিটে আছে, গভীর কুয়োতালা আছে
খররৌদ্রে জিরোনোর জন্যে পাথর এবং চত্বর আছে। বটচ্ছায়া?
সে তো আছেই, বদ্যি বুড়োর মতো আদ্যিকাল থেকে,
আর তাছাড়া সুরপুঁটি, সৌরলা, ধপধপে চিতল
এরা তো গ্রামেরই মানুষ!

এই গ্রাম বন্দনা যার মজ্জাগত, তাকে কীভাবে ভাবতে পারি পাপ আর পঙ্কিল চেতনায় উদ্দীপিত নাগরিক বোধের কবি? ক্রমশই তিনি নিসর্গ তথা প্রকৃতির দ্বারস্থ হলেন, সম্পৃক্ত হলেন দেশজ চেতনায়। তার ‘রুগ্ন গোলাপদল’ রুগ্নতা পরিহার করে ক্রমশ সতেজ হলো প্রেমে, ভালোবাসায়। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রত্যক্ষ চিত্রকল্পে যার কবিতার পংক্তিমালা দারুণ মুখর তিনি তো আমাদেরই স্বজাতীয় চৈতন্যের একাগ্র আত্মীয়। অনিকেত কেউ নন। তিনি আধুনিক না অনাধুনিক তা পশ্চিমা নিক্তিতে মাপবার বিষয় নয়। সেই মাপকাঠিতে, কিছু ব্যাতিক্রম বাদ দিলে, উল্লেখিত বিষয়াদি বরং আধুকিতার বিপরীতে যায়। ফলে ‘নাগরিক কবি’র অভিধায় শহীদ কাদরীকে আমরা বিচ্ছিন্নতার নিঃসঙ্গ বিবরে ঠেলে দিতে পারি না।

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

কবিতাগুচ্ছ | জহির রিপন

Fri Sep 11 , 2020
কবিতাগুচ্ছ | জহির রিপন 🌱 ১ অপঘাতে ফোটা ফুল . এমন বৃষ্টি ঝরছে মাগো সকাল গেছে ডুবে জলের বুকে পাটক্ষেত আর কত ভেসে রবে গাছের পাতার কেঁপে কেঁপে উঠা এই মৃদু ঝড়ে হাইওয়ের বুকে কার মৃত্যু বলো বৃষ্টি হয়ে ঝরে বৃষ্টি যদি ঝরেই এমন, মরণ রাখুক তারে ঘিরে এ জীবন […]