টি এস এলিয়ট | মুম রহমান

টি এস এলিয়ট | মুম রহমান

🌱

টি এস এলিয়টের পুরো নাম টমাস স্টেয়ার্নস এলিয়ট। নাট্যকার, কবি, প্রাবন্ধিক, সমালোচক, প্রকাশক এলিয়ট শুধু মার্কিন সাহিত্যে নয় আধুনিক বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। ২৫ বছর বয়সে তিনি ইংল্যান্ডে চলে যান এবং সেখানেই বিয়ে করে স্থায়ী হন। এমনকি নিজের আমেরিকান পাসপোর্টও পরিত্যাগ করেন তিনি। ‘মার্ডার ইন দ্য ক্যাথিড্রাল’ ‘দ্য ককটেল পার্টি’র মতো বিখ্যাত কাব্য নাটকের রচয়িতা এলিয়ট ১৯৪৮ সালে আধুনিক কবিতায় অসাধারণ অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার পান। তার ‘দ্য লাভ সঙ অব জে আলফ্রেড প্রফুক’, ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ ইত্যাদি কবিতা আধুনিক কাব্যধারা ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। শুধু মার্কিন বা ব্রিটিশ কবি নয় আজ তাকে বিশ্ব সাহিত্যের সেরা একজন কবি হিসাবেই বিবেচনা করা হয়। 

 

ভার্জিনিয়া

রাঙা নদী, রাঙা নদী
ধীরে বহে উত্তাপ নিরবতায়
কোন আকাঙ্খাই স্থির নয় নদী
স্থির। উত্তাপ কি বইবে
কেবল মকিং-বার্ডের ডাক
শোনা গিয়েছিলো একদা? স্থির পাহাড়
অপেক্ষমান। গিরিপথ অপেক্ষমান। বেগুনি ঋক্ষেরা
সাদা বৃক্ষেরা, অপেক্ষমান, অপেক্ষমান,
বিলম্ব, ক্ষয়। জীবন্ত, জীবন্ত,
কখনো সচল নয়। চিরকাল সচল
লৌহ ভাবনারা এসেছিলো আমার সাথে
আর চলে যাবে আমার সাথে:
রাঙা নদী, রাঙা নদী।

 

ক্রন্দসী কন্যা

দাঁড়াও সিঁড়ির সবচেয়ে উঁচু ধাপটাতে
হেলান দাও বাগানের ওই গাছদানিতে
বুনে নাও, বুনে নাও, সূর্যের আলো তোমার চুলে
আলিঙ্গন করতে তোমার ফুলেদের বিস্ময়-বেদনায়
রাখো তাদের মেঝেতে আর ফেরো
তোমার চোখে পলাতক বিরক্তি নিয়ে:
কিন্তু বুনে নাও, বুনে নাও, সূর্যের আলো তোমার চুলে।

তাই আমি হয়তো লোকটি চলে যেতে দিতাম,
তাই আমি হয়তো মেয়েটিকে দাঁড়িয়ে শোক করতে দিতাম,
তাই সে হয়তো চলে যেতো
যেমন আত্মা ছেঁড়ে যায় শরীরকে ছিঁড়ে আর থেঁতলিয়ে,
যেমন মন মরুভূমি করে দিয়ে যায় ব্যবহৃত শরীরকে।
আমার উচিত ছিলো খুঁজে বের করা
কোন অগণন দক্ষ আর আলোকিত পথ
এমন কোন পন্থা যা আমরা দুজনেই ঝুঝতে পারি,
সরল আর আস্থাহীন একটা হাসি কিংবা করমর্দনের মতো।

সে ঘুড়ে দূরে চলে যায়, কিন্তু এই শরতের আবহাওয়ায়
আমার বহু দিবসের কল্পনাকে চালিত করে যায়,
বহুদিন আর বহু প্রহর:
তার বাহুর উপর চুল আর তার বাহু ফুলে ভর্তি।
আর আমি বিস্মিত হই কী করে তারা এক হয়ে থাকলো!
আমি হয়তোবা এক ভঙ্গি আর ব্যঞ্জনা হারিয়ে ফেলেছি।
কখনোবা এই ভাবনা এখনও হতবুদ্ধ করে
অস্থির মাঝরাত আর সন্ধ্যারা বিশ্রাম নেয়।

 

হিস্টেরিয়া

যেই সে হেসেছিলো আমি সাবধান হয়ে গিয়েছিলাম যেন তার হাসিতে যুক্ত না-হয়ে যাই আর সে হাসির অংশ না-হয়ে যাই, যতোক্ষণ না তাঁর দাঁতগুলো কেবল আকস্মিক নক্ষত্র হয়ে গিয়েছিলো যারা সৈন্যের মতো কুচকাওয়াজের প্রতিভায় বিচ্ছুরিত। আমি আকৃষ্ট হয়েছিলাম সামান্য হাঁপ ছাড়ার কালে, টেনে ছিলাম শ্বাস প্রতিটি ক্ষণকালীন আরোগ্য সাধনায়, শেষতক হারিয়ে গেলাম তার গলার গহীন অন্ধকার খাদে, থেতলে গেলাম অদেখা পেশির তরঙ্গতে। এক বয়স্ক ওয়েটার দ্রুত কাঁপা-কাঁপা হাতে একটা গোলাপি আর সাদা চেক কাপড় বিছিয়ে দিচ্ছিলো জং-ধরা সবুজ লোহার টেবিলটায়, সে বলছিলো, ‘যদি ভদ্রমহোদয় এবং ভদ্রমহিলা বাগানে চা খেতে চান, যদি ভদ্রমহোদয় এবং ভদ্রমহিলা বাগানে চা খেতে চান…’ আমি ঠিক করেছিলাম যদি তার স্তনের আলোড়ন বন্ধ হতে পারে, সন্ধ্যার কিছু টুকরা-টাকরা হয়তো জোগাড় করা যাবে, আর আমি আমার মনোযোগ একাগ্র করেছিলাম নিগুঢ় সতর্কতায় এর শেষ পর্যন্ত।

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

এডনা সেন্ট ভিনসেন্ট মিল্যে | মুম রহমান

Fri Sep 18 , 2020
এডনা সেন্ট ভিনসেন্ট মিল্যে | মুম রহমান 🌱 এডনা সেন্ট ভিনসেন্ট মিল্যে প্রথম পুলিৎজার পুরস্কার জয়ী নারী। তিনি কবিতায় ও ব্যক্তি জীবনে বিস্ময়কর রকমের সাহসী ও ব্যতিক্রমী ছিলেন। তিনি সে সময়েই প্রকাশ্যে উভলিঙ্গগামী ছিলেন, একাধিক নারী ও বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিলো। তিনি বিয়ে করার সময়ও স্বামীর সঙ্গে এই […]
Shares