চার্লস বুকোস্কি | মুম রহমান

চার্লস বুকোস্কি | মুম রহমান

🌱

হেনরি চার্লস বুকোস্কি (১৯২০-১৯৯৪) জাতে জার্মান হলেও, মার্কিন নাগরিক ছিলেন। উপন্যাস, ছোটগল্প লিখলেও আধুনিক আমেরিকান কবি হিসাবেই তিনি সারা বিশ্বে পরিচিত। লস এঞ্জেলেসে বসবাস করা বুকোস্কি’র লেখা একই সঙ্গে যেমন আদৃত, আলোচিত, তেমনি সমালোচিতও। তার লেখা এবং চালচলন উভয়ই ছিলো ভীষণ বিতর্কের। বহু নারীর সঙ্গে সম্পর্ক, প্রকাশ্যে মদ্য ও ধূমপান, সাহসী রচনা শৈলী, খিস্তি-খেউড়ের ব্যবহার তাকে বরাবর আলোচনায় রেখেছে। ছয়টি উপন্যাস, কয়েকশ গল্প এবং কয়েক হাজার কবিতার জনক বুকোস্কির প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৬০-এর অধিক। লস এঞ্জেলেসের আন্ডারগ্রাউন্ড নিউজপেপার ওপেন সিটিতে তিনি দীর্ঘদিন নোটস অফ আ ডার্টি ওল্ড ম্যান নামে কলাম লিখেছেন। এই সব কলম লেখার কারণে এফবিআই-এর মতো সংস্থা তার উপর নজদারি জারি রেখেছিলো। জনপ্রিয় এই কবি এলোমেলো জীবযাপন করতেন। এক অর্থে তিনি খুবই সাধারণ হয়ে থাকতেন। টাইম পত্রিকা তাকে ‘মার্কিন সাধারণ জীবনের কবি’ বলে উল্লেখ করেছেন। ছোট প্রকাশক আর লিটল ম্যাগাজিনেই তিনি লেখালেখি করতেন। আর অর্থের বিনিময়ে কবিতা পাঠ করতেন। 

 

মিনিস্কার্ট পরা এক মেয়ে বাইবেল পড়ছে আমার জানালার বাইরে

রবিবার, আমি খাচ্ছি একটা,

চার্চ সমাপ্ত হলো রাশিয়ান

অর্থোডক্স

পশ্চিমের।

সে কালো

পূবের গোত্রদের মতো

বিশাল বাদামী চোখ তার বাইবেল থেকে উপরে তাকালো

তারপর আবার নামালো। একটা ছোট্ট লাল-কালো

বাইলে, এবং যখন সে পড়ছে

তার পা নাচাচ্ছিলো, নাচাচ্ছিলো,

সে এক মৃদু ছন্দের নৃত্য

বাইবেল পড়ার কালে…

 

লম্বা সোনার দুল

দুইহাতে দুটো করে সোনার ব্রেসলেট

আর একটা মিনি-স্যুট পরা, আমার ধারণা,

কাপড়টি তার শরীরকে আলিঙ্গন করছে,

সেই কাপড়ের ভেতরে হাল্কাতম বাদামি ত্বক,

সেই এইভাবে ওইভাবে পাক খায়,

দীর্ঘ লম্বা হলদে পা সূর্যের আলোয় উষ্ণ…

তার সত্তায় কোন পলায়নপরতা নেই,

কোন বাসনাও নেই…

আমার রেডিও ঐকতানের সুর বাজাচ্ছে

যেটা সে শুনতে পাচ্ছে না

কিন্তু তার নাড়চড়া যেন কাকতালীয়ভাবে

সেই সুরেই হচ্ছে

ঐকতানে…

সে কালো, সে কালো মেয়ে

সে ঈশ্বরের কথা পড়ছে

আমিই ঈশ্বর।

 

এই কবি

এই কবি ২ কিংবা ৩ দিন ধরে মাল খেয়ে যাচ্ছিলো আর সে ম  থেকে নেমে হাঁটা দিলো আর তাকালো দর্শকের দিকে আর সে শুধু জেনেছিলো সে এটা করতে যাচ্ছে। মে  একটা গ্র্যান্ড পিয়ানো ছিলো আর সে হেঁটে গেলো আর ঢাকনা খুললো আর বমি করে দিলো পিয়ানোর ভেতর। তারপর সে ঢাকনাটা বন্ধ করলো আর তার পাঠ শুরু করলো।

তাদেরকে পিয়ানোর সবগুলো তার সরাতে হলো আর সেটার ভেতরটা পরিষ্কার করতে হলো আর নতুন তার লাগাতে হলো।

আমি বুঝতে পারি কেন আর কোনদিন ওরা তাকে দাওয়াত করেনি। কিন্তু সে যে একজন কবি ছিলো যে পছন্দ করে গ্র্যান্ড পিয়ানোতে বমি করা এ কথাটা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রচার করা অনুচিত ছিলো।

তারা কখনোই তার পাঠ করার গুণকে বিবেচনায় আনেনি। আমি এই কবিকে জানি: সে নেহাতই আমাদের বাকী সবার মতোই : সে টাকার জন্যে যে কোনখানে বমি করে দেবে।

🔅🔅🔅🔅

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

এলেন গিন্সবার্গ | মুম রহমান

Tue Oct 6 , 2020
এলেন গিন্সবার্গ | মুম রহমান আরউইন এলেন গিন্সবার্গ (১৯২৬-১৯৯৭) আধুনিক মার্কিন কবিতায় আলোচিত এক নাম। প াশের ধশকে বিট প্রজন্মের কবিদের অন্যতম গুরু। গিন্সবার্গ পরবর্তীতে একাধিক কাব্য ধারার সঙ্গে যুক্ত হন। প্রভাবিত করেন বহু কবিকে। সমরবিদ্যা, অর্থনীতি, বস্তুবাদ, যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন তিনি। অন্যদিকে প্রাচ্য দেশীয় ধর্মতত্ত্ব, সমকামিতা ও […]
Shares