এলেন গিন্সবার্গ | মুম রহমান

এলেন গিন্সবার্গ | মুম রহমান

আরউইন এলেন গিন্সবার্গ (১৯২৬-১৯৯৭) আধুনিক মার্কিন কবিতায় আলোচিত এক নাম। প াশের ধশকে বিট প্রজন্মের কবিদের অন্যতম গুরু। গিন্সবার্গ পরবর্তীতে একাধিক কাব্য ধারার সঙ্গে যুক্ত হন। প্রভাবিত করেন বহু কবিকে। সমরবিদ্যা, অর্থনীতি, বস্তুবাদ, যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন তিনি। অন্যদিকে প্রাচ্য দেশীয় ধর্মতত্ত্ব, সমকামিতা ও নানা ধরণের মাদকে আসক্ত ছিলেন তিনি। তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘হাউল’ একাধিক পুরুষের সঙ্গে তার সম্পর্ককে তুলে ধরে অকপটে। যে সময়ে তিনি সমকামিতা নিয়ে কথা বলেন, তখন আমেরিকাতেও এ বিষয়ে কথা বলা রীতিমতো অপরাধ ছিলো।

আমি নিজের সঙ্গে প্রেম করি

আয়নায়, আমার নিজের ঠোঁটকে চুমু খাই,
বলি, ‘আমি আমার আমিকেই ভালোবাসি,
আমি তোমাকে ভালোবাসি যে কারো চেয়ে বেশি।’

গান

জগতের ওজন হলো
ভালোবাসা।
নিঃসঙ্গতার
ভারের নিচে,
অতৃপ্তির
ভারের নিচে

যে ওজন,
যে ওজন আমরা বহন করি
তা ভালোবাসা।

কে পারবে অস্বিকার করতে?
স্বপ্নে
স্পর্শে
এই শরীর,
ভাবনায়
গড়ে তুলে
এক অলৌকিক,
কল্পনায়
যন্ত্রণায়
জন্ম পর্যন্ত
মানব
হৃদয়ের চারিপাশে খোঁজে
জ্বলে বিশুদ্ধতায়
জীবনের যে ওজন
তা হলো ভালোবাসা।
কিন্তু আমরা বহন করি বোঝা
ক্লান্তিকরভাবে,
আর এতো বেশি বিশ্রাম
ভালোবাসার বাহুতে
শেষতক,
বিশ্রাম নেই বাহুতে
ভালোবাসার।

কোন বিশ্রাম নেই
ভালোবাসা ছাড়া।
কোন ঘুম নেই
স্বপ্ন ছাড়া
ভালোবাসার
উন্মাদ হও কিংবা শান্ত
আবেশ তাড়িত হও দেবদূত
কিংবা যন্ত্রপাতি দ্বারাই,
শেষ ইচ্ছাটা
হোক ভালোবাসা
সে হতে পারে না তিক্ত
অস্বিকার করা যায় না তাকে,
আটকানো যায় না
যদি অগ্রাহ্য করো :
ওজনে তা অনেক ভারী হবে

অবশ্যই
ফেরত দিও না
যেমন ভেবেছো
দিতে
একাকীত্বে
সকল উৎকর্ষে
তার আতিশয্যে।

উষ্ণ দেহখানি
একত্রে জ্বলজ্বল করে
অন্ধকারে,
হাতখানি নড়ে
মাঝ বরাবর
মাংসপি- জুড়ে,
ত্বক শিহরিত
হয় সুখে
আর আত্মা আসে
আনন্দময় চোখে

হ্যাঁ, হ্যাঁ,
এটাই
আমি চেয়েছিলাম,
আমি সবসময় চেয়েছিলাম,
আমি সব সময় চেয়েছিলাম,
ফিরে আসতে
এই শরীরে
যেখানে আমি জন্মেছিলাম।

🔅🔅🔅🔅🔅

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

নৃমুণ্ডের মীমাংসা | রাজা সরকার | ধারাবাহিক পর্ব ২

Tue Oct 6 , 2020
নৃমুণ্ডের মীমাংসা | রাজা সরকার | ধারাবাহিক পর্ব ২ 🌱 ২ ধলা মজুমদারের আসল নাম কার্তিক মজুমদার। দেখতে সে বরাবরই কার্তিকের মত সুন্দর। ‘ধলা‘ তাঁর ঠাকুরমার দেওয়া  নাম । ধবধবে  ফর্সা দেখে ঠাকুরমা অনেক সময় আদর করে ‘ধলাবাবু‘ বা ‘ধলাকর্তা‘ ডাকতেন। সেই নামই বড় হয়ে ‘ধলা’ বা ‘ধলাবাবু’ তার ডাক […]
Shares