জন এ্যাসব্যারি | মুম রহমান

জন এ্যাসব্যারি | মুম রহমান

🌱

শুনেছি, শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক প্রমুখের পছন্দের কবি তালিকায় ছিলেন জন এ্যাসব্যারি। তবে তিনি বিশ্বে বহু সাধারণ পাঠক তো বটেই কবিদের প্রিয় কবি ছিলেন। মার্কিন এই কবি বিশটির অধিক কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন এবং পুলিৎজার পুরস্কার সহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন। আজকের উত্তরাধুনিক কবিতার জটিলতা লক্ষ্য করা যায় তার ‘ সেল্ফ পোট্রেট ইন আ কনভেক্স মিরর’ কাব্যগ্রন্থে। তবে অনেকক্ষেত্রেই তার কবিতা বিতর্কিতও। তিনি একদিকে চেয়েছেন তার কাজ যতো বেশি মানুষের কাছে সম্ভব পৌঁছে যাক, অন্যদিকে কবিতায় পরাবাস্তব দূর্বোধ্যতাও তৈরি করেছেন, সরলতাকে পরিহার করেছেন। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের বিভাগীয় প্রধান ২০০৮ সালে লিখেছিলেন, গত ৫০ বছরের আমেরিকায় কবিতায় জন এসব্যারির মতো বড় কেউ আসেনি। তিনি তাকে হুইটম্যান, পাউন্ডের চেয়েও বড় কবি মনে করতেন। অন্যদিকে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক ও কবি স্টিফেন বার্ট তাকে টি এস এলিয়টের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, জন এসব্যারি ইংরেজি ভাষার শেষ কবি যাকে অর্ধেক মানুষ মহান আদর্শ মনে করে, বাকী অর্ধেক অগম্য মনে করে। 

 

এই ঘর

 

যে ঘরে আমি প্রবেশ করলাম তা ছিলো এই ঘরেরই স্বপ্ন।

নিশ্চতই সোফার রাখা ওইসব পা ছিলো আমার নিজের।    

ডিম্বাকার আত্মপ্রতিকৃতি

একটি কুকুরের সেটা ছিলাম আমি অল্প বয়সের।

কিছুটা চকচকে ছিলো, কিছুটা ঝকমকে ছিলো

 

আমরা প্রতিদিন লাে  ম্যাকারনি খেতার

রবিবারে ব্যতিক্রম ছিলো, যখন এক ছোট্ট কোয়েল পাখিকে প্রণোদিত করা হয়েছিলো

আমাদের সেবায়। আমি কেন তোমাকে এ সব বলবো?

এমনকি তুমি তো এখানেও নেই।   

 

চিত্রশিল্পী

 

সমুদ্র আর দালানের মাঝখানে বসে থেকে

তিনি উপভোগ করেন সমুদ্রের প্রতিকৃতি আঁকা।

তবে একদম শিশুর কল্পনায় একটা প্রার্থনা

যেমন পুরোটাই নিরব, তিনি প্রত্যাশা করেন তার আঁকার বিষয়

তেমনি দ্রুত বেগে বালু আনবে আর তুলিকে আকড়ে ধরবে

আর ক্যানভাসে সে নিজের প্রতিকৃতিই তুলে ধরবে।

 

তাই তার ক্যানভাসে কখনো কোন রঙ ওঠেনি

যতোক্ষণ না নিকটবর্তী দালানে বসবাস করা লোকেরা

তাকে কাজে তাড়া দিলো :‘‘তুলিটাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করো

যেন কাজটা শেষ করতে পারো। নির্ধারন করো, বিষয়, একটা প্রতিকৃতির জন্য,

এমন একটা কিছু যা কম ক্ষুব্ধ আর বড় আর অনেকটাই উপযুক্ত বিষয়

একজন চিত্রশিল্পীর ভাবের কিংবা, হয়তো বা, প্রার্থনার।’’

 

তাদের কাছে তিনি কী করে ব্যখা করবেন তার প্রার্থনার কথা

যে প্রকৃতি, কিংবা শিল্প, হয়তো তার ক্যানভাসকে জবরদখল করবে?

তিনি তার বউকে বেছে নিলেন নতুন বিষয় হিসাবে,

তার অবয়ব তৈরি করলে, ঠিক যেন ধ্বংসপ্রাপ্ত দালান,

ঠিক যেন, নিজেকেই ভুলে যাচ্ছে, সেই প্রতিকৃতি

নিজেকেই প্রকাশ করেছে নিজে তুলি ছাড়াই। 

 

খানিকটা প্রণোদিত হয়ে, সে তার তুলিকে ডুবালো

সমুদ্রে, এক আন্তরিক প্রার্থনা মনে মনে উচ্চারণ করলো :

‘‘আমার আত্মা, যখন আমি এই পরবর্তী প্রতিকৃতিখানি আঁকবো

তুমিই সে হয়ো যে ক্যানভাসকে ধ্বংস করবে।’’

খবরটা দাবানলের মতো নিকটস্থ দালানগুলোতে ছড়িয়ে পড়লো :

সে সমুদ্রে ফিরে গেছে তার আঁকার বিষয়ের জন্যে।

 

কল্পনা করুন এমন এক চিত্রকরের কথা যিনি নিজের বিষয় দ্বারা ক্রুশবিদ্ধ যেন!

এতো অবসন্ন যে তার তুলিকেও সে উঠাতে অক্ষম,

দালান থেকে ঝুঁকে পড়া কিছু শিল্পীকে তিনি প্ররোচিত করলেন

এক বিদ্বেষপূর্ণ আনন্দে, ‘‘আমাদের কোন প্রার্থনা নাই

এখন, নিজেদেরকে ক্যানভাসে তুলে দিতে 

কিংবা সমুদ্রকে প্রতিকৃতির জন্যে তৈরি করতে!’’

 

অন্যেরা একে আত্ম-প্রতিকৃতি বলে ঘোষণা দিলো

শেষপর্যন্ত একটা বিষয়ের সকল দিকচিহ্নগুলো

মøান হয়ে যেথে থাকলো, ক্যানভাস ছেড়ে যেতে লাগলো

একদম নিঁখুত সাদা ক্যানভাস রয়ে গেলো। সে তুলি নামিয়ে রাখলো।

তক্ষুণি এক গর্জন, সেও ছিলো একটা প্রার্থনা,

উত্থিত হলো অতি ভীড়ের দালানগুলো থেকে। 

 

তারা তাকে ছুঁড়ে মারলো, প্রতিকৃতিটি, সবচেয়ে উঁচু দালান থেকে ছুঁড়ে দিলো;

আর সমুদ্র গিলে নিলো সেই ক্যানভাস আর তুলি

কেননা তার বিষয়বস্তু সিদ্ধান্ত নিয়েছে একটি প্রার্থনায় পরিণত হবার। 

 

🔅🔅🔅🔅🔅

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

নৃমুণ্ডের মীমাংসা | রাজা সরকার | ধারাবাহিক পর্ব ৩

Thu Oct 15 , 2020
নৃমুণ্ডের মীমাংসা | রাজা সরকার | ধারাবাহিক পর্ব ৩ 🌱 ৪ একটি পারস্পরিক ভৌতিক কথাবার্তা এভাবেই শুরু হয়—– —-দ্যাশটা কি শকুনের হাতে পড়ছে নাহি— —-শকুনের থাইক্যাও বড় শকুন—মানুষের হাতে পড়ছে—    —-কও কি —- —-তয় ল একবার ১৯৪৬ এর নোয়াখালি যাই—যাই একবার ১৬ই অগাস্টের কইলকাতা যাই—-    —-কী কও এই সব কথা—অহন […]
Shares