বাংলার শত্রু বাঙালির ভেতরে | সৌমিত্র শেখর

বাংলার শত্রু বাঙালির ভেতরে |

সৌমিত্র শেখর

🌱

বাংলা কাব্যের তুলনায় গদ্যের বয়স কম। অবশ্য সারা পৃথিবীর সব ভাষাতেই গদ্যের আয়োজনটা পরে হয়েছে। আমাদের গদ্য প্রতিষ্ঠার সূচনাতে এর রূপ ও রীতি নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে বিভক্তি ও সাহিত্যিক লাঠালাঠি হয়ে গিয়েছিল। একপক্ষ বাংলা গদ্যকে সংস্কৃতের অবোধ বালকে রূপান্তরিত করার জন্য, অন্যপক্ষ বাংলাকে বাংলা নামের একটি স্বাধীন ও পৃথক ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়েছিলেন। লক্ষ করার বিষয়, পক্ষ দুটো হয়েছিল মূলত প্রতিক্রিয়াশীল ও প্রগতিশীলদের সমন্বয়ে। কালক্রমে উভয়পক্ষই প্রলম্বিত হয়। বাংলা ভাষাকে স্বাবলম্বী করতে ও এর একটি পৃথক গদ্যরূপ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন রাজা রামমোহন রায়, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, প্যারীচাঁদ মিত্র, কালীপ্রসন্ন সিংহ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রমথ চৌধুরী প্রমুখ। এঁরা প্রায় সবাই ব্রাহ্মণ বা ব্রাহ্মণ থেকে ব্রাহ্মকুলে জন্মেছেন। তার পরও বাংলা গদ্যের ইতিহাসে তাঁরা প্রগতিশীল পক্ষ হিসেবে বিবেচিত। কারণ সংস্কৃত ভাষার ছায়াতলে রেখে বাংলা ভাষার সমৃদ্ধ নয়, নিজস্ব রূপ ও রীতিতে তাঁরা দাঁড় করাতে চেয়েছেন এই ভাষাকে। বিদ্যাসাগর সম্পর্কে প্রমথ চৌধুরীর মন্তব্য : ‘তিনিই সর্বপ্রথম প্রাঞ্জল গদ্য রচনা করেন। সে ভাষার মর্যাদা তাঁর সংস্কৃত বহুলতার উপর নয়, তাঁর syntex-এর উপর নির্ভর করে।’ বঙ্কিমচন্দ্র গদ্যে বাংলার নিজস্ব রীতি ও শব্দ ব্যবহারের পক্ষে ছিলেন। তবে বাংলার নিজস্ব শব্দসম্পদ ব্যবহার করেও যদি বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব না হয়, তাহলে তিনি অন্য ভাষার শব্দগ্রহণ করার পক্ষে বলেছেন, এভাবে : ‘বলিবার কথাগুলো পরিস্ফুট করিয়া বলিতে হইবে– যতটুকু বলিবার আছে সবটুকু বলিবে– তজ্জন্য ইংরেজি, ফার্সি, আরবি, সংস্কৃত, গ্রাম্য, বন্য যে ভাষার শব্দ প্রয়োজন, তাহা গ্রহণ করিবে, অশ্লীল ভিন্ন কাহাকেও ছাড়িবে না।’ বাংলা গদ্যরীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বঙ্কিমচন্দ্রকে যে পরিশ্রম করতে হয়েছে, তা সার্থক হয় প্রমথ চৌধুরীর আবির্ভাবের জন্য। অবশ্য প্রমথ চৌধুরীর চিন্তাকে রূপদানের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিশ শতকের প্রথমার্ধেই নির্দিষ্ট হয়ে যায় বাংলা গদ্যের রূপ কী হবে, এর পর তা বিকশিত হবার কথা। 

কিন্তু সাতচল্লিশে ভারত তথা বাংলা ভাগ হয়ে গঠিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বাংলা ভাষার রূপ-রীতি নিয়ে আবার প্রশ্ন তোলা হয়। সংস্কৃত প্রতিক্রিয়াশীলতার বদলে এবার আবির্ভূত হয় আরবি-পারসি-উর্দু প্রতিক্রিয়াশীলতা। দীর্ঘ দেড়শ বছর ধরে বাংলা গদ্যের যে রূপ ও রীতি গড়ে ওঠে তার বিরুদ্ধে দাঁড়ান কতিপয় ব্যক্তি, ঢাল হিসেবে তাঁরা গ্রহণ করেন ইসলাম ধর্মের স্পর্শকাতরতা। ১৮০০ থেকে ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা গদ্যের সংগ্রামটি ছিল মূলত রূপ ও রীতির অগ্রবর্তিতার প্রশ্নে। ১৯৪৭-পরবর্তীকালে বাংলা ভাষার অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠল। মওলানা আকরম খাঁ খাদেমোল এসলাম বঙ্গবাসী ছদ্মনামে তাঁরই সম্পাদিত আল-এসলাম পত্রিকায় ‘বাঙালীর মাতৃভাষা’ প্রবন্ধে লেখেন যে, আরবি লিপিতে বাংলা লেখা দরকার। কেন দরকার, এ প্রশ্নে তিনি ধর্ম ও পাকিস্তানের অখণ্ডত্বের বিবেচনা উত্থাপন করেন। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার মওলানা আকরম খাঁকে প্রধান করে আরবি লিপিতে বাংলা শিক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে ‘পূর্ব বাংলা শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার কমিটি’ গঠন করে। এর আগে ও পরে অনেকেই শুধু লিপি বা হরফের প্রশ্নে নয়, বাংলা ভাষার শব্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। যে কারণে কাজী নজরুল ইসলামের একটি বহু শ্রুত কবিতার পঙ্ক্তিতে নজরুলের অভিপ্রায়ের বাইরে গিয়ে অন্যায় ও নীতিবহির্ভূতভাবে শব্দবদল করে দেয়া হয় এই রূপ : ‘নব নবীনের গাহিয়া গান/ সজীব করিব গোরস্তান/ আমরা দানিব নতুন প্রাণ/ বাহুতে নবীন বল।’ নজরুলের ‘চল্ চল্ চল্’ শিরোনামের এই কবিতার মূল হলো : ‘সজীব করিব মহাশ্মশান।’ জসীমউদদীনের ‘নিমন্ত্রণ’ কবিতার শিরোনাম বদল করে পড়া হলো ‘দাওয়াত’ নামে। এভাবে মহাশ্মশান হলো গোরস্তান, নিমন্ত্রণ হলো দাওয়াত এবং আরো অনেক শব্দ গেল বদলে। অর্থাৎ উনিশ শতকের গোড়াতে সংস্কৃতবাদীরা বাংলাকে যেভাবে তাদের শব্দ ও সন্ধি-সমাসের বাগাড়ম্বর দিয়ে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে ধরতে চেয়েছিল, বিশ শতকে তা থেকে মুক্ত হবার পর পরই বাংলাকে পড়তে হলো আরবি-পারসি-উর্দুর তপ্ত বালুকার নিচে।

১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ভাষা আন্দোলনের পর বাংলা ভাষার স্বতন্ত্র অবস্থান নিশ্চিত করতে যে সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক এবং পরিশেষে রাজনৈতিক আন্দোলন সংঘটিত হয়, এই ত্রিবেণী সঙ্গমে বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে আরবি-পারসি-উর্দু-প্রতিক্রিয়াশীলতা মুখ থুবড়ে পড়ে। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের অর্জিত স্বাধীনতা বাংলা ভাষার মর্যাদা নিশ্চিত করে সত্যি, কিন্তু স্বাধীন দেশের স্বাভাবিক অবস্থা দীর্ঘায়িত না হওয়ায় তা আবার বাধার সম্মুখীন হয়। পঁচাত্তর-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মু. এরশাদ দীর্ঘমেয়াদে সামরিক শাসন জারি করেন এবং পরে নিজেরা রাষ্ট্র শাসন করেন। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে দেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন হবার পূর্ব পর্যন্ত পনেরো বছর (১৯৭৫-১৯৯০) মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিরোধীদের পুনর্বাসন ও উত্থান ঘটেছে। তাঁরাই প্রধান প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্ণধার হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ভাষা ও সংস্কৃতির সংজ্ঞার্থ ও পরিধি নির্ণয়ে কর্মরত ছিলেন। এরশাদের শাসনামলে মজিদ খানের শিক্ষানীতিতে পুনরায় আরবিতে প্রত্যাবর্তনের ফর্মুলা ছিল। পনেরো বছর ধরে যে বিষবৃক্ষের চাষ হয়েছে তা থেকে এখন ফুল-ফল হচ্ছে। এগুলো ছড়িয়ে যাচ্ছে এবং দেশ ক্রমশ হয়ে উঠছে বিষবৃক্ষময়। 

এখনো বাংলার স্বাতন্ত্র্যের কথা বলা হয় এবং বাংলার নিজস্ব রূপের প্রশ্ন ওঠে। বর্তমানে চিন্তার জগতে বিরোধ সৃষ্টি করা খুবই সহজ ব্যাপার হয়ে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষার সঙ্গে প্রতিতুলনা বা ওখানকার কোনো কিছুর প্রতিক্রিয়াই যেন আমাদের প্রধান কর্ম ও ধর্মে পরিণত। তাই ইদানীং আমাদের ভাষা থেকে বাংলা বা আত্তীকৃত পরিচিত শব্দসমূহ বর্জন করে আবার আরবি-পারসি-উর্দু শব্দের আগমনকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। দুই পক্ষ এ কাজ করছে। প্রথম পক্ষ পাকিস্তান আমলের প্রতিক্রিয়াশীলদের উত্তরসূরি, দ্বিতীয় পক্ষ বাংলাদেশপন্থি বা পূর্বল্লোখিত বিষবৃক্ষের ফল। এরা পরিচয়ে ভিন্ন হলেও উভয়ের কাজ একই পরিণতির দিকে। একটি উদাহরণ দিই। একবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল নীল দলের একজন শিক্ষকনেতা একটি প্রচারপত্রের প্রুফ সংশোধন করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন। সেখানে একটি বাক্য এ রকম : ‘শিক্ষকদের ইজ্জতের উপর যে হামলা হচ্ছে, তার বিচার হয়নি।’ আমি তাঁকে অনুরোধ করি বাক্যটি এভাবে লেখার : ‘শিক্ষকদের যেভাবে অসম্মানিত করা হয়েছে…।’ আমি বললাম, বাংলা ভাষায় ‘সম্মান’ এবং ‘ইজ্জত’ উভয়ই ব্যবহার হয়। কিন্তু শব্দ দুটোর চেতনাগত অর্থ ভিন্ন। যেমন ‘মদদ’ ও ‘সাহায্য-সহযোগিতা’ একই অর্থজ্ঞাপক হলেও বাংলায় ‘মদদ’ শব্দের অর্থ নেতিবাচক এবং তা উস্কানি অর্থে। এত কিছুর পরও ওই শিক্ষকনেতা ‘ইজ্জত’ শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত হলেন না। বরং আমাকে বললেন যে বাংলা ভাষাকে উদার হতে দিন, অন্য শব্দ গ্রহণ করতে শিখুন ইত্যাদি ইত্যাদি। ইদানীং বাংলাদেশের বাংলা গদ্যে ভাষার স্বাতন্ত্র্যের নামে জবরদস্তি করে এভাবেই আরবি-পারসি-উর্দু এবং ক্ষেত্রবিশেষে দুর্বোধ্য শব্দকে স্থান দিলেই কি লেখায় স্বাজাত্যবোধের প্রকাশ ঘটে? এখন বাংলাদেশের বাংলা গদ্যে এই প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যা ভাষার স্বাবলম্বী হয়ে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বড় রকমের প্রতিবন্ধক। 

বাংলাদেশি ভাষারীতি তৈরিতেও অতি উৎসাহ নিয়ে এগিয়ে এসেছে একদল। ভাষারীতির প্রশ্নে, বিশেষ করে লেখ্যরীতির ভাষা কী হবে তা প্রমথ চৌধুরী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যৌথ চিন্তায় একটি কাঠামো গড়ে ওঠে। সেই কাঠামো ধরে ভাষার প্রত্যাশিত বিকাশ ঘটেনি পাকিস্তান আমলে এবং পরে বাংলাদেশের ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দের ভাষা ও সাংস্কৃতিক টানাপোড়েনে। এই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে বাংলার একটি সমন্বিত গদ্যরীতি তৈরির চেষ্টা না করে এখন চলছে অন্য রকমের অকাজ। অকাজ এজন্য যে, এতে বাংলা ভাষার মান গদ্যরীতি তৈরিতে ভবিষ্যতে প্রতিবন্ধকতা শুধু বাড়ছেই। কতিপয় ছায়াছবিতে এই গদ্যরীতির প্রয়োগ হয়েছে এবং সে সূত্রে বেশ কিছু টেলিভিশন নাটকেও এ ভাষারীতির ব্যবহার করা হচ্ছে। একে বলা হচ্ছে ‘ঢাকার ভাষারীতি’। ব্যাপারটা যেন এ রকম যে, প্রমথ চৌধুরী যে গদ্য ভাষাকে চলতি গদ্যের ক্ষেত্রে মান বা standered ধরেছেন তা পশ্চিমবঙ্গের। আমরা বাংলাদেশের মানুষ। তাই ঢাকার ভাষারীতিকে মান-রীতি ধরব। অর্থাৎ প্রতিক্রিয়া বা প্রতিতুলনাই যেন আমাদের কাজ। আজ যে মান চলতি গদ্যভাষায় বিভিন্ন স্থানে সাহিত্যচর্চা বা অন্য কাজ হচ্ছে তাতে কি কোনো অঞ্চলের লেবেল সাঁটা আছে? তবে কেন নতুন করে ‘ঢাকার ভাষারীতি’র অনুসন্ধান? এখন তো প্রয়োজন বিকাশের, সূচনা আবার কেন? ব্যাচেলর ছায়াছবিতে এ কাজটি করার পর একটি গোষ্ঠী লুফে নিয়েছে; কেউবা উত্তরাধুনিকতার নামে, কেউবা স্বাজাত্যের নামে, কেউ স্বাতন্ত্র্যের নামে। কথিত ঢাকার বাংলা গদ্যরীতির একটি উদাহরণ দেয়া যাক : ‘তোকে না বলছি, ক্ষুধা পেলে আমার কাছে বলবি।’ এই বাক্যের ক্রিয়াপদে যেমন স্থানীয় রূপ, তেমনি ‘ক্ষুধা’ শব্দে তৎসম রূপ বজায় আছে। আর আছে শব্দাধিক্য। প্রচলিত মান গদ্যরীতিতে এই বাক্যটি হবে : ‘তোকে না বলেছি, খিদে পেলে আমাকে বলবি।’ এ রকম সরল ও প্রতিষ্ঠিত গদ্যরীতির বাইরে ‘ঢাকার ভাষারীতি’ নামে যে বিকট গদ্যরীতি প্রচার ও প্রতিষ্ঠার প্রয়াস চলছে তা বাংলা ভাষার বিকাশের ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রতিবন্ধক হিসেবে বিবেচিত হতে বাধ্য। বাংলা ভাষার স্বাভাবিক বিকাশের ক্ষেত্রটি বার বার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ব্রিটিশ বা পাকিস্তান আমলে যে বিঘ্নটা এসেছে তা কাটিয়ে ওঠা গেছে এ কারণে যে, অবাঙালি প্রতিপক্ষ ছিল সামনে। এখন চারদিকেই বাঙালি। বাংলার শত্রু বাঙালির ভেতরে। কেউ ‘দেশি’ কেউ (ছদ্ম)‘বেশী’!

 

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

কবি শামীম রেজা || দ্যুতিময় ৫০ || গদ্য: মুহম্মদ ইমদাদ 🔸সরোজ মোস্তফা

Mon Mar 8 , 2021
শামীম রেজার কবিতা মৃত্যুর বিরুদ্ধে জীবনকে দাঁড় করিয়ে দেবার একটা চোরাগুপ্তা অথচ সোনালি ইস্তেহার 🌱 মুহম্মদ ইমদাদ ‘…প্রতিভা- প্রণয়ী দোয়েলা আমার, কুষ্ঠরোগের ছোঁয়াচে ঘায়ে পঙ্গু কইরাছে তোমায়, ক্ষমতার দুপুরে মক্ষিকার শরীরের মত বিষাক্ত করেছে ভোগে; তারপরও অন্তহীন ধৈর্যে জাইগা ওঠো নতুন স্নান শ্যাষে প্রতিমার বেশে, যে- পাড়ে আমি দাঁড়ায়ে রাত্রি […]
Shares