নির্বাচিত দশ কবিতা : হাসান মাহমুদ

  • নির্বাচিত দশ কবিতা : হাসান মাহমুদ

🌱

আমাদের বনলতা সেন

আয়ুর হিসেব ক’ষে ঘুমকেন্দ্রে থিতু হয়ে আছে যম
মায়ার উঠোনে কার যমজ খড়ম
খট্ খট্ শব্দ ধ্যানে কবিতাকে ভাঙে
মূঢ়নারী নিশ্চুপ কবিতাকুমারী মাঙে
টানা খোয়াবের রাত; মরীচিকা বোধ, কুয়াশা পাহাড়
জোনাক ডাঙার পাড়ে সন্ধ্যামেয়ে
খাবি খেতে খেতে ডাকে, ওলো আয়
খিচুড়ি-দুপুর আজ ব্যাঙের আষাঢ়…

এমন তুরুপ দিনে ঘুমটানা যাত্রাপালা কই
কোথায় বায়োস্কোপ? গ্রামখেকো আলোঝরে পৃষ্ঠাশূন্য বই
উড়ে যায় খোয়াবের মুগ্ধ অভীপ্সায়
শিশুতোষ শব্দ ছড়া সন্ধ্যা জুড়েই পিপাসা ছড়ায়
বাঞ্ছাকেন্দ্র ভেঙে ভেঙে যম যায় অসুরের বাড়ি
বাটখারা মেপে দেখে গদ্যের বয়ঃসন্ধি কাল
বাকি সব পদ্যই আনাড়ি।

শব্দের মাদুর পেতে সন্ধ্যামেয়ে শোনে শঙ্খ ধ্যান
ব্যাঙের দু’ঠোঁট ছুঁয়ে যম হাসে। শামুকেরা ঝিনুকের
কানে কানে বলে
ওই যায় আমাদের বনলতা সেন…

 

বেলুনে মোড়ানো মেঘ

বিচূর্ণ ধূলোর সাথে দুলে ওঠে যাপনের বাড়ি-তক্তপোষ
ঈর্ষার-আঁচলে ঢাকি নিক্তি মাপা প্রেম-মায়াবী-মুখোশ !
মাদলের মৃদু ঘায়ে পড়শীরা পান করে স্পর্শের আরাম
মেডিকেট যুবতীরা ঘুড্ডিদুপুরে খোঁজে নেশাতুর গ্রাম
সমস্বরে বলে ওরা চৈত্র দুপুর আহা অলস দুপুর…
মাছির দুপুর আজ দুধভাত ঘুমের দুপুর

বেলুনে মোড়ানো মেঘ আনন্দ পাখায় ওড়ে খোঁজে প্রিয় মুখ
কবিতা সুধায় বলে রাতের শরীর জুড়ে বেগানা অসুখ!
জানালার আলো ধ’রে প্রতিদিন সুতো টানে পাই প্রান্তর
ভিজে যায় রাধাঘুম ভেঙে যায় স্বপ্নের উঠোন বাড়িঘর…

বোধনের ঠোঁট চুমে একাই ডেকে যাই আয় ঘুড়ি আয়
হাওড়ে-বাওড়ে ঘুরি, মৎস্যগন্ধ শুঁকি মাছরাঙা পাহারায়
ইলিশ রোদের পিঠে লিখে দেই ঈর্ষা নয় বিনিময় ভালো
যাপনের সাথে আজ মিশে যাক সুলতান-মিকেলাঞ্জেলো

 

অর্ঘ্য
(কবি আসাদ চৌধুরী, পরমাত্মীয়েষু)

আপনাকে খুঁজতে গিয়ে সমুদ্রের ভাষাই অনুবাদ হয়ে গেছে কাল
মুগ্ধতার যাবতীয় শিল্পসুষমাসহ সটান দাঁড়িয়ে আছে
রূপবতী বোন আমার ধানি বরিশাল
দুপুরের রংধনু রঙিন ঘুড়িগুলো ওড়ায় কত যে স্বপ্ননাটাই
খিলি পানে দৃশ্যমান বিগত শৈশব। হোচিমিন দাঁড়ি ছুঁয়ে পালাই পালাই…

‘তখন সত্যি মানুষ ছিলাম’ এমন পদ্য আর ‘তবক দেয়া পান’
ভুতুড়ে সভায় আছি ডুবে আছি প্রিয়মুখ বাঁচা বাঁচান।

ভোর আসবেই…

আকাশে জুড়ে রঙের বেলুন; দৃষ্টি জুড়ে পথ
সমুদ্রনীলসন্ধ্যা হতে উদ্যানে দ্বৈরথ
মেঘে ঝরে স্বর্ণবৃষ্টি মাঘে ভীষণ তাপ
বিশ্ব জুড়েই ছড়িয়ে আছে জলবায়ু-উত্তাপ

রংধনুতে রং খেলা নেই পুষ্প গন্ধহীন
প্রান্তজুড়ে খেলছে ফানুস, দূরন্ত সঙ্গিন
রুদ্রবীণায় ঝংকার নেই, হারিয়ে গেছে গান
নীল ছায়াতে দেয় না মায়া দিগন্ত-আসমান

মুগ্ধতা নেই, আবেগহারা, তারুণ্য উধাও
ভাসছে না আর মেঘনা বুকে প্রেমিক জুটির নাও
তবুও পাথর সময় জুড়ে দূর পাহাড়ের ডাক
আমায় টানে, সম্মোহনে দূরন্ত বৈশাখ
নীলাভ ছায়ার আঁচল টানি রমনা পাড়ের দিকে
ভোর আসবেই, ফুটবে আলো আধার হবে ফিঁকে…

 

ঘ্রাণের মাতাল

অনুধাবনের কোল ছুঁয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে চাঁদ;
আমলকি বাতাসার ঘ্রাণে বনেদি হাওয়া
রূপকুমারের উঠোনেই কেন শরণ মেনেছে
কোনো কবিতা কানা ধা না না না সুরের ব্যঞ্জনা
মেলাতে পারে নি এই ফলাফল। কোনো এক দূর নীলিমায়
নির্বাণ নির্জনে তার মৃত্যু হয়; থেকে যায় মানবিক অমর সকাল

তবু কিছু কিছু উত্তর ধূসর স্মৃতির মতো পাশাপাশি
বনেদি ভাষার সভাষদে অন্তঃসত্ত্বা মাছিদের মত
নাচে আর কাওয়ালী শোনায়।
অতঃপর রাত থিতু হলে চাঁদের তন্দ্রা ভাঙে
গোঙাতে গোঙাতে ঘরে ফেরে ঘ্রাণের মাতাল…

 

জ্যোৎস্নার নোনা স্বাদ

নোনা ঢেউ ভেঙে ভেঙে দৃষ্টিপথ যখন উজানে হারায়
আর হারাধন মন
তখনো শালুক খোঁজে মগজ ডোবায়।
নাগালের রংধনু রুচির তপস্যা করে বলে হরিয়াল
স্বপ্নটানে নড়ে ওঠে দাপুটে নাটাই
নোনাস্বাদে ভিজে ওঠে জ্যোৎস্নার সকাল।

ঘোরের উজান-স্রোতে তড়পায় ডাহুকীয়া, সহজিয়া মন
ইথারের সেতুপথে সিকি হাতে হেঁটে আসে আত্মীয়জন।
ইস্টিশান জেগে ওঠে স্রোতের টানে জাগে কালের মান্দাস
সর্পবিষে নীল হয় লখাই অনুজা
নোনাস্বাদ মেনে নেয় এ কালের কালিদাস
পুন্নিমা জুড়ে তার শিং আর মাগুর
তড়পায় প্রেমাভারে পোয়াতি-পুকুর…

 

অমীমাংসতি যাতায়াত

অঙ্গ পোড়ে অনুভব ছাই হয়ে যায়।
পথ হয়ে ওঠে অজগর। বায়ু বষি।
কী নিয়ে বাঁচব, বলাে ছায়া…

প্রপলোরে ভর করা মন, হলেপ্যিাড
ছড়ে বাগানরে দকিে উড়ছে বমিান।
তরঙ্গতি মঘেনার অনুরাগ ছড়েে
স্বপ্নগুলো আটলান্টকিরে দকিে
ধাবমান। গর্তহীন পা, আমি কী দিয়ে রুখব
এই বধ্বিংসী অভমিান?

প্রিয় পাহাড়রে সানুদশে বসে
আত্মাজার মায়ামুখ
নাকি নিঃশব্দে হাঁটে যাওয়া বানর
পালরে বুজরুকি দখোই আরোগ্য আমার!
বাহাসরে সব কুল রখেে
শুধু জকিরিইে থাকবে এই
অমীমাংসতি যাতায়াত!

 

আপনার অনন্ত রেখায় লেখা আছে

 

আপনার অনন্ত রেখায় লেখা আছে

ভ্রমণের আদ্যোপান্ত। আদর্শ লিপি

পাঠেই জেনেছি স্মৃতি শুধু করুণার

শেষ আশ্রয় নয়। সময় বিচারে

মহাবিদ্যার ভাগাড় থেকে উঠে আসা

সব জ্ঞানীই সোলকের মহাজন—

দানে অনুদার। আপনার অধিকাংশ

পালার শেষ দর্শক এবং শ্রোতা

আমিই তো! কিংবদন্তির গল্প শুনতে

গিয়ে আমরা পাঠ করেছি কত

জীবনের রসায়ন…

 

বিদ্যালয়ের বাইরে জীববিজ্ঞানের

পাশে দাঁড়িয়েই তো জানলাম– মানুষ

ও কুমির মেরুদন্ডী প্রাণি। আদতে

কুমির মানুষের-ই সহজাত। প্রবৃত্তির

অনুকূলে দুজাত-ই সমান! তাই

যাপন ও ভ্রমণে আছি রেখা বরাবর…

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

নেত্রকোণার সামাজিক ঐতিহ্য | মঈনউল ইসলাম

Thu May 13 , 2021
নেত্রকোণার সামাজিক ঐতিহ্য | মঈনউল ইসলাম 🌱 প্রাণীজগতের প্রত্যেক প্রজাতিরই একটি নিজস্ব সমাজব্যবস্থা এবং কিছু রীতি, প্রথা, ঐতিহ্য রয়েছে। মানব সমাজের এই নিয়মের সঙ্গে মানবজীবনের প্রতিটি কার্যক্রম মিলেই সংস্কৃতি। ‘হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি’ বইয়ে গোলাম মুরশিদ বলেন ‘ভাষা, সাহিত্য, ধারণা, ধর্ম ও বিশ্বাস; রীতিনীতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও নিয়মকানুন; উৎসব ও […]
Shares