ধ্যান : অন্তর্জীবনের অতল গাঁথা | হাসান ইকবাল

ধ্যান : অন্তর্জীবনের অতল গাঁথা | হাসান ইকবাল

রানা নাগের সবগুলো কবিতা পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। সবগুলো কবিতা বলতে তার প্রথম কাবগ্রন্থ ‘ধ্যান’-এর সবগুলো কবিতা। কবিতা পাঠের পর আমার কাছে মনে হয়েছে তার কবিতা জীবনেরই অংশ। এককথায় তার কবিতা সময়ের এক অভিজ্ঞান। কবিতার বিষয়বস্ত আত্মা থেকে উৎসারিত দীর্ঘ বোধের সরব উচ্চারণ। কবিতার স্বাতন্ত্রিকতাই আমাকে কবিতার দিকে টেনে নিয়েছে বারংবার। তার কবিতায় দর্শন, দেশ-কাল, রাজনীতি, সমাজ বিনির্মাণ, সমাজের বৈষম্য, মানবিক মূল্যবোধ, প্রেম ও দ্রোহ সমসাময়িকতায় স্হান পেয়েছে পরম্পরায়। সহজ, সরল, নিজস্ব এক কাব্যচেতনায় তিনি কবিতা লিখতে পছন্দ করতেন। তার কবিতায় প্রেম ও দ্রোহের মিলিত অনুভব যা আমাদের হৃদয় সরোবরে লাল পদ্ম হয়ে ফুটে ওঠে বৃষ্টিহীন দাবদাহেও।

কোন গ্রন্থপাঠের সময় আমার বইয়ের নান্দনিক এনাটমি আমাকে মুগ্ধ করে, কারণ আমি বইয়ের এনাটমিকেও গুরুত্ব দেই। কাবগ্রন্থ ‘ধ্যান’ পাঠে কবিতার এনাটমি আমাকে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছে। তার কবিতার স্বভাব ও উৎস বুঝতে হলে বাক্য ও পক্সিক্তর কাছে ফিরে যেতে হবে। বৃটিশ কবি ডব্লিউ এইচ অডেনের এই উক্তিটি আমার খুব মনে পড়ে- ‘যে কবিতাকে আয়ত্তে আনার পর পড়ার চেয়ে শুনতে ভালো শোনায় না সেটি আদপে উৎকৃষ্ট কবিতা নয়।’ ধ্যান পাঠের অনুভবে এ কথাটি বলাই যায় যে, রানা নাগ এমন কবিতা লেখেন না যে আদুরে ধ্বনিতে শ্রোতাদের জমায়েত করবে কিংবা বাচিক শিল্পীরা জমিয়ে আবৃত্তি করে হাততালি আদায় করে নেবে। জীবনানুভবে, মানবানুভবে রানার কবিতা মগ্ন উপলব্ধির ছায়াতল । শান্ত হয়ে বসে থেকে জীবনকে যে দেখা লাগে, ছোঁয়া লাগে- প্রত্যক্ষ সন্ধিৎসায় কবি সে কথাই প্রকাশ করেন। দৃষ্টি ও প্রজ্ঞায় তিনি একটি কেন্দ্রীয় চিন্তাকেই ধারণ করেন। সেই চিন্তার কেন্দ্রে আছে মানুষ।

রানা নাগ তার ধ্যান কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতাটিই রেখেছে ধ্যান শিরোনামে। কবির অব্যক্ত হৃদয়ের নিরন্তর আত্মগোপনের প্রবহমানতায় কবিতার শরীরে তুলে ধরছেন আরেক আখ্যান কবিতা। জীবনের বিচিত্র উপকরণ যখন কবির আত্ম-উপলব্ধির আলোকে রূপ ও ভাবের সু-সম অন্বয়ে আপনাকে নিত্যকালীন রসবস্তূতে পরিণত করেছেন। তখন সেই কবিতা যেমন হয়ে ওঠে কবির নিজ্ব বলয়, তেমনি মগ্নপাঠে ধ্যানী হয়ে ওঠে কবিতার পাঠক। কবিতার ধ্যানের সেই বলয়, যেখানে বহুসি ত করা অভিজ্ঞতা কবি লুকিয়ে রাখে তার স্পর্শকাতর কোটরে। তারপর হঠাৎই একদিন ‘ঝঢ়ড়হঃধহবড়ঁং ড়াবৎভষড়’ি স্বতস্ফুর্ত প্রাবল্য হয়ে জন্ম নেয় একটি ফুটফুটে সৌন্দর্য; একটি কবিতা। সেই সুন্দর কবিতার একটি ধ্যান। ধ্যান যেন এক জ্ঞানানুসন্ধান, ধ্যান যেন এক দর্শনশাস্ত্র।
যে চোখ দিয়ে দেখি, সে আমি নই
যে কান দিয়ে শুনি, সে আমি নই,
যে জিহ্বায় স্বাদ নেই, সে আমি নই,
এই শরীর কিংবা চিত্ত? এসবও আমি নই।

যা আমি দেখি তা আমি নই
যা আমি শুনি সেও আমি নই
যে গন্ধ আসে সে আমি নই
স্বাদ অথবা স্পর্শ তাও তো আমি নই।

আমি দৃষ্টি নই, শব্দ নই, গন্ধ নই
বিচার কিংবা স্বাদ অথবা মন-কিছুই নই,
নই আমি এই পৃথিবী কিংবা ঐ আকাশ
জল অথবা বাতাস এসব কিছুই আমি নই।

চেতনাও নই আমি
বস্তুর বন্ধনে তেমনই নাই জানি।
জন্ম মৃত্যু ছুঁয়ে যেতে পারে না আমায়!
হাসি সদা এটা জেনেই
জন্মাইনি তাই মরব না কখনোই।

জন্ম আমাকে জীবন দেয়নি
মৃত্যু আমার জীবন নেবে না
জন্ম মৃত্যুত্যে আমার জীবন
নির্ভর কিংবা নির্বল কখনই নয়।

কবির খ- খ- অনুভব-অনুভূতি, যা হয়ত তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতা ছিল, সেটি তখন স ারিত হতে পারে, হয়ত জীবন্তও, পাঠকের জীবনে। কবির বিচ্ছেদ, ব্যথা, পাঠকেরও ব্যথা হয়ে যায়। কারণ এ কথাটি আমরা সকলেই জানি যে,
অ ঢ়ড়বস রং হড়ঃ লঁংঃ ড়িৎফং ড়হ ধ ঢ়ধমব,
ওঃ’ং ধহ বীঢ়বৎরবহপব, ধ লড়ঁৎহবু, ধ ংঃধমব,

রানা নাগের কবিতায় রয়েছে এমন এক চৌম্বক শক্তি যা পাঠককে আক্রান্ত করে আশ্চর্য রকম মোহাবিষ্টতায়। কবিতা যে শুধু শিল্পের জন্য শিল্প নয়- হৃদয়ের ফল্গুধারায় স্বত:স্ফুর্ত স্ফুরণ, সমাজ বিনির্মাণের হাতিয়ার সে স্বাক্ষর রেখে গেছেন তার কবিতায়। তার কবিতায় উদ্ভাসিত হয়েছে শক্তিশালী কাব্যভাবনা ও স্বকীয় কাব্যচেতনার নিরন্তর প্রয়াসে। ইদানিংকার আধুনিক কবিতা যেখানে সাধারণ পাঠকের কাছে একধরনের ভীতি ও আতংক, সেখানে রানা নাগের কাব্যভাষা যে কোনো পাঠককেই কবিতার দিকে নিয়ে যায়। তার লেখা “সত্য প্রেম” শিরোনামের কবিতা পাঠককে ভিন্ন আস্বাদন দিতে পারে। কবি বলতে চেয়েছেন যে তিনি তার প্রেমে ভয় পাচ্ছেন না এবং তিনি তার প্রেমেই থাকেন। কিন্তু তার প্রেমিক একটি লাঠি হাতে রেখে চলে আসছেন। কবি চিন্তিত হয়ে জিজ্ঞাসা করছেন এটি কেমন হতে পারে। কবির মনে যে প্রেম সত্য এবং মহান তার মতো যে সমস্ত সৃষ্টির জীবনকে উপস্থাপন করে। পাশের হৃদয়ই তার অন্তর। মানুষের হৃদয় কখনও যন্তরের মতো নয়। তবে সত্য জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা থাকলে মানুষকে ভয়ে এবং অন্ধকারে ডুবে থাকতে হবে না।

তাঁকে আমি ভয় পাই না
তাহার প্রেমেই থাকি,
প্রেমিক কভু লাঠি হাতে !
এইটা কেমনে মানি ?
আমার প্রেম সত্য মহান
সকল সৃষ্টির অন্তরের প্রাণ,
অগুনের কথা যারাই বলে
তারা আসলে আছেই ছলে ।
পাশের হৃদয় আমার অন্তর
মানুষ কভু নয় তো যন্তর
ভয়ে ডুবে যাবে, কেন অন্ধকারে রবে-
জ্ঞান প্রজ্ঞার কায়া যদি ঠিকঠাক থাকে?
ডুবতে হবে জলে জলে
একেক জলের স্বাদটা ভিন্ন,
নারকেলেতে মালা একটা
সমুদ্রেও তো আছেই তীরটা।

তার কবিতায় শক্তিশালী অথচ সহজ-সরল-শিল্পিত কাব্যচেতনায় ফুটে উঠেছে জীবনের জলছবি। জীবনবোধের এসব কবিতা পাঠককে কবিতার দিকে টানবে-কাব্যপাঠের মুগ্ধতায় বিমোহিত করে। কবিতার সে অনুপ্রাস জীবনের খুব কাছাকাছি অনুভূতি থেকে নেয়া। আত্ম উপলব্দির জায়গা থেকে এসব কবিতাকে খুবই আপন মনে হয়। ‘নিত্যতা’ শিরোনামের কবিতাটি এরকমই একটি কবিতা।
আমার মাঝেই কাম ক্রোধ
আমার মাঝেই মোহ লোভ
আমার মাঝে অধর্ম যত
আমার মাঝেই তো ধর্ম সব।
যা আমার মাঝে নেই
তা আর কোথাও নেই।
আমার মাঝেই কবিতা
আমার মাঝেই বিজ্ঞান।
আমার মাঝে গল্পকথা
আমার মাঝেই পটুয়া।
আমার মাঝেই লালন
আমার মাঝেই আযম,
আমার মাঝেই সন্ত্রাস
আমার মাঝেই সন্ন্যাস।
যা আমার মাঝে নেই
তা কোথাও আর নেই।

‘শ্রাবণী’ শিরোনামে কবির লেখা কবিতাটিতে এই সময়ের ছবি এঁকেছেন অত্যন্ত নিঁখুত ভাবে। “অচেনা কবরে বদলে দেয়, কামারের ছন্দ, বিষাক্ত সব পা”। প্রাত্যহিক জীবনের যে বোধ, তা খন্ডিত হয়েছে কবির কলমে, সাদা কাগজের জমিনে। কবির যে মিনতি, শুধু তার নিজের নয়, হাজার মানুষের মনের গহীনের কথা যেন বলে দিয়েছেন, কবিতায়-শব্দের বুননে।
বৃষ্টি পড়ছে
মানুষ ঠাসা পৃথিবীর মতো আঁধার আর
আমাদের হারানো সময়ের মতো কালো-
লাখো ছেদন দাঁতের অন্ধতা নিয়ে
পিচঢালা পথে সে পড়ছেই।
এখানে বৃষ্টি পড়ে
শব্দ নিয়ে হৃদয়ের মতো, যা
অচেনা কবরে বদলে দেয়
কামারের ছন্দ, বিষাক্ত সব পা।
এখনো বৃষ্টি ঝরছে; সমাধির ওপর,
লাল ঘাসে ঢাকা মাঠ যেখানে,
ছোট ছোট বাঁশবন বাড়ে
দুচোখের মাঝে ভাঁজের মতন।
বৃষ্টি পড়ছে
পিচঢালা পথে এখনো সে পড়ছেই।

তার কবিতা মূল্যায়ন করলে অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণে সমাজবাস্তবতার প্রেক্ষাপটে; অত্যন্ত সাবলীলভাবে তিনি সমাজচিত্রের বর্ণনা দিয়েছেন তার কবিতায়, জীবনবোধ আর মানবতার কথা প্রকাশ পেয়েছে তার সব কবিতার কাঠামোতেই এবং বিশিষ্টভাবে কিছু কবিতায়। কবিতার পরিক্রমায় ‘শেকল’ শিরোনামের কবিতায় ভিন্ন উচ্চারন।
যে জন জ্বালায় র্ব্বহ্মকে
সেই তো আমার বহ্নিশিখা,
ডুবে ডুবে যেখানে দেখছি
বহু ও বহু আলাদা লেখা ।
আগুন! আগুন! ভয়ে ভীত সব
চারদিকে জাগে শত শত রব,
আসলে তো সে সকল প্রাণের-
শক্তিমাতা প্রবল জানের।
যেমন সবল সমুদ্রে যাই
সেও তো বলে আগুন মাতা,
আদর-স্নেহ কোথায় যাবে?
যথা জায়গা যেখানে পাবে
শূন্য শহরের মুক্ত পাখি
চারপাশে শুধু রেশন দেখে
আকাশ গেলেই আসছে ফিরে
থাকছে শুধুই রক্ত বুকে।

কবির জীবনের দিকে তাকালে স্পষ্ট বোঝা যায় যাপিত জীবনে, আপনময়তায় কিংবা কাব্যচর্চায় তিনি ধ্যানী ও অন্তর্মগ্ন। দেশ-কাল, সময়চিহ্নকে অতিক্রম করে তাঁর কবিতা ভাবায়। তাঁর কবিতা চ ল করে না, স্পর্শ করে, ব্যথিত করে, সত্য ও শমে বসিয়ে রাখে। মানব সংসর্গ, ভিড়, ঘাম, ক্লান্তি, কর্মময় একাকিত্বের সত্য রূপটাই তিনি লেখেন। নাগরিক পরিতাপের শুষ্ক সত্যতাকে তাঁর কবিতা প্রশ্ন করে। ‘অসীম আমিত্বের কথা’ শিরোনামের কবিতাটি খুবই অনবদ্য। এজন্য পুরো কবিতাটি পাঠের সুযোগ করে দিতে চাই পাঠকদের জন্য।
আমি এক জলকতা।
বাতাসে ভেসে ভেসে
উবে যাই নিরুদ্দেশে
কত না ছদ্মবেশে!
কখনো-বা ঘাসে ঘাসে,
সোনা রঙ ধানশীষে-
লেগে থাকা প্রভাত শিশির,
বাতাসের উষ্ণতায়
শুকিয়ে হয়ে গেছি বাষ্প,
উবে যাই, ভেসে যাই বারবার
অনন্ত অম্বর আশ্রয়ে- একসাথে মেঘ হই
আকাশের নীল খামে
অবিরাম চুম্বনে
আশ্লেষ আনন্দধারায়।
ঝরে যাই একে একে বৃষ্টির মতো
কখনো-বা দুরন্ত বেগে
আছড়ে পড়ি পর্বতে
হৃদয়ের উষ্ণতা হারিয়ে
হয়ে যাই বরফ শিলা,
তারপর একদিন গ্রীষ্মের উত্তাপে
গলে যাই, হয়ে যাই
চ লা ঝরনা,
স্রোতময় বয়ে চলা
পৃথিবীর বুক চিরে নাম হয় নদী,
নদী হয়ে বয়ে যাই,
মিশে যাই সাগরে,
ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভেসে যাই
কূলহীন অজানায়,
অকূলের ঠিকানায়
সমুদ্র নামে যেন
গিলে খাই পৃথিবী !
আরও আরও চেহারায়
কত কী যে নাম হয়-
তবু আমি, “জলকতা’
এই শেষ পরিচয়।

সমকালীন রাজনীতি সমাজ, সমাজব্যবস্থা, সমাজের কাঠামোগত ও রুচিগত পরিবর্তনের সাথে সাথে সমস্ত মানুষের মনোবৈকল্য ও আধুনিক কবিতার অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। কবিতার মধ্যে যন্ত্রণার বহুবিচিত্র রূপ, গভীর থেকে গভীরতর দগ্ধ ধনের অনুভূতি থাকে। থাকে বিষাদ, আশা-হতাশা, থাকে নিঃসঙ্গতা বা একাকিত্ব বোধের অসাধারণত্ব, থাকে এক বহুবর্ণিল স্বপ্ন। সে-স্বপ্ন যেমন সীমাহীন ভালোবাসার ও নতুন পৃথিবী গড়ার, তেমনি তাতে থাকে অপূর্ণতার বেদনা নিয়ে নানা অনুভূতির প্রকাশ ‘যুগকথন’ কবিতায়।
প্রয়োজনে তুমি থাকো, প্রেমে কভু নাই,
স্বার্থের এই মোহে ক্ষমা যেন পাই!
তুমি আছো সেটা জানি নিজে কোথাও নাই,
এভাবেই চলুক সব, এটা আমি চাই ।
কলিযুগে এমনটাই, নাই কোনো মেট,
এই যুগে সবারই থাকে শুধু রেট ।
বিতর্কে আছেই সবে আপনার মোহে,
জানে না তো কেউ নিজে আছে কোন দ্রোহে।
আমার কী দোষ যদি থাকি সেই স্রোতে,
ভেবে দেখো তুমি ঠিক আছো কোন গ্রহে?

কবি ও কবিতার সৃষ্টিধারা কারো নিয়ন্ত্রণ মেনে চলে না। তেমনি সে বৈদগ্ধ্য বা এস্টাবিস্নশমেন্টেরও ধার ধারে না। আধুনিকতা, অনাধুনিকতা বা উত্তর-আধুনিকতার মতো শব্দগুলো কবিতার রাজ্যে অর্থহীন। কবিতা অনুভূতির চাপে প্রকাশ পায়, শৈল্পিক ক্যাথার্সিস ঘটিয়ে জন্ম নেয়। তবু কবির চৈতন্যে একটি শিল্পাদর্শ তো থাকেই, যা কবি থেকে কবিতে অর্থাৎ পরস্পর থেকে ভিন্ন। তার লেখা ‘পুঁজি’ কবিতায় আছে ভিন্ন এক শিল্পদর্শন।
সুচালো একটা বল্লমের খোঁজে আছি
দ্বিতীয় কোনো শান্তির জন্য ।
গলে যাওয়া চুল রেখে যাব সব
ব্যাকটেরিয়াদের উল্লাস প্রয়োজনে।
এন্টিবায়োটিক ততদিনে গড়বে নিজেদের
প্রতিরোধ ব্যবস্থা, শরীর থেকে শরীরেই।
অরণ্যের দিনরাত্রি যদি থ্রিডি ভিশনে
বৈশাখি মেঘে কাটে রৌদ্রের দিন,
ক্ষুরধার মগজ ডুবে আছে কারখানাতে
জীবন দৌড়াচ্ছে সবার, ইলেকট্রিক ক্যাবলে ।
তবে হোক আরো কিছু হিরোসিমা
নিরোর মতো বাজাবেই কেউ এখনো,
সমিতি যত আছে সব রাজার
স্বপ্ন তাদের ভাঙাবেই, ব্যবসায়ীর টোপ।
মহামায়া জেগে ওঠো, আর চেয়ে দেখো
প্রিয় প্রিয় মানুষের যত আনস্মার্ট মার্চপাস্ট।

কবি রানা নাগ আমাদের হাতে তুলে দেন পংক্তির নতুন কুঁড়িতে সমৃদ্ধ কাব্যগ্রন্থ ‘ধ্যান’। ‘ধ্যান’ নিছক শব্দ নয়; ‘ধ্যান’ সমসময়ে বেঁচে থাকা একজন আত্মমগ্ন, প্রতীক্ষাতুর বাক্সময় মানুষের দার্শনিক উপলব্ধি। ‘ধ্যান’ বাঁচার ঐশ্বর্য। জীবনের গতানুগতিক একঘেয়ে বর্ণনা রানা নাগের এই কাব্যগ্রন্থে নেই; নির্মাণের স্বাধীনতায় আছে বাঁচতে চাওয়ার প্রাঞ্জল অকুণ্ঠ উচ্চারণ। এই কবিতাগুলো হৃদয়কে, মননকে একটা উচ্চতায় রাখে। বারবার পাঠেও পুরনো হয় না “ধ্যান”। সময়চিহ্নের সবটাকে ধারণ করে “ধ্যান” কাব্যগ্রন্থটি অন্তর্জীবনের অতল গাঁথা।

কাব্যগ্রন্থ ধ্যান প্রকাশ করেছে উজান। প্রকাশিত হয়েছে ফেব্রুয়ারি ২০২৩। প্রচ্ছদ করেছেন রাজীব দত্ত। গ্রন্থটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৬৪। গ্রন্থটির মুদ্রিত মূল্য ২০০ টাকা। গ্রন্থটিতে মোট ৫৫ টি ভিন্ন ধারার ভিন্ন স্বাদের কবিতা রয়েছে। কবি ও গবেষক রানা নাগ-এর জন্ম ১৯৭৯ সালে নেত্রকোণায়। বিজ্ঞান, ধর্মতত্ত্ব ও পুরাণ বিষয়ে গভীরভাবে আগ্রহী রানা নাগ প্রগতিমনস্ক ও যুক্তিবাদী লেখক। এর মধ্যে তার লেখা গ্রন্থ ‘অদ্ভুত মানুষের গল্প’ (বিজ্ঞান), ‘রহস্যময় মহাবিশ্ব’ (বিজ্ঞান), ‘ফিবোনাক্কি’ (কবিতা) এবং ‘ক্ষুদিতা’ (কবিতা) নজর কেড়েছে সুধী পাঠকের। ‘ধ্যান’ তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

আবদুল্লাহ আল মুক্তাদিরের দুনিয়া | উম্মে ফারহানা

Fri Apr 28 , 2023
আবদুল্লাহ আল মুক্তাদিরের দুনিয়া | উম্মে ফারহানা আবদুল্লাহ আল মুক্তাদিরের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ দুনিয়া গল্পপাঠকের জন্য এক অনন্য সুখকর অভিজ্ঞতা। তাঁর প্রথম গল্প সংকলন বছরের দীর্ঘতম রাত (২০১৮) এর সঙ্গে তুলনা করলে লক্ষ্য করা যাবে কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। এই দুই গ্রন্থের মাঝখানের ব্যবধানে লেখকের কলমে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ আখ্যান, উপন্যসের নাম […]
Shares