বেঁচে থাকাই যুদ্ধ এবং শান্তি : নিমগ্ন-চেতনায় শব্দযাত্রা | শামীমা হামিদ

বেঁচে থাকাই যুদ্ধ এবং শান্তি : নিমগ্ন-চেতনায় শব্দযাত্রা | শামীমা হামিদ

পৃথিবী কি ধ্বংস হয়ে যাবে? হয়ত এখনই নয়; তবুও সময়ের স্থবিরতা আমাদের ভেতরে এমন কোনো রুদ্ধশ্বাস অনুভূতির জন্ম দেয়— আমরা গ্রাসাচ্ছাদিত হই; অপরিজ্ঞাত, অজানিত, অনিশ্চয়তার রুদ্ধশ্বাস চূড়ায় আরোহণ করতে করতে হতশূন্য হয়ে পড়ি। আমাদের কাতর প্রার্থনা পৌঁছে দিতে চাই বিধাতার কাছে; বাঁচতে চাই, ফিরতে চাই আবার জীবনের নিয়মিত প্রবাহে। ২০২০ সালের কোভিড-১৯ এভাবেই আতঙ্কিত করেছে আমাদের। বেঁচে থাকাই যুদ্ধ এবং শান্তি উপন্যাসে সেই অস্থির মুহূর্তের; রুদ্ধশ্বাস অনিশ্চয়তাবোধের ভেতর দিয়ে এক দুর্মর মানসিক যাত্রার কাহিনি উপস্থাপন করেছেন ঔপন্যাসিক মাওলা প্রিন্স।
উপন্যাসের শুরু মৃত্যু দিয়ে— কলাপাতায় মোড়া অভাগা মৃতদেহ। মানুষের জীবনে কথিত দুইপার— জীবন এবং পরপার; পরপারের ঠিকানা অনিশ্চিত, কিন্তু মৃত্যু নিশ্চিত। আবার মৃত্যুর পর-পরই জীবনের গন্ধ দেহ থেকে মুছে ফেলা যায় না সহজে। জীবনের রেশ রেখেই মানুষ চলে যায় মৃত্যুপারের দিকে। তাই মৃত্যু এবং মৃত্যুর ভয়াবহতায় শুরু ঘটলেও উপন্যাসে রয়েছে জীবনেরই কথা। সে জীবন আবার যুদ্ধের, কেননা বেঁচে থাকাই যুদ্ধ। তবে যে সময়ের কথা বলা হয়েছে মানুষ তখন অদৃশ্য এক শক্তির সঙ্গে যুদ্ধরত। আর মানুষ বরাবরই শান্তিপ্রিয়; অদৃশ্য শত্রুর তাড়নায় ঘুচে যাওয়া শান্তির প্রত্যাশাতেও অবিরাম তার যুদ্ধযাত্রা। ঔপন্যাসিক মাওলা প্রিন্স অনন্তর সেই যাত্রাপথে নিজেকে নিয়ে, নিজের যাপিত সময়, বোধ এবং প্রত্যাশাকে নিয়ে উপন্যাসের পাতা সাজিয়েছেন। পাতার পর পাতা অনবরত শব্দ-কথার ভিড়; সেখানেই সাকার লাভ করেছে চরিত্র, ঘটনা; একের পর এক যুক্ত হয়েছে এসে ঔপন্যাসিকের একান্ত অভিজ্ঞতা, বিশ্বাস, জ্ঞান, দর্শন, স্বপ্ন, ভ্রম, সংস্কার, আকাঙ্ক্ষা, কল্পনাশক্তি। কোভিড-১৯-এর মৃত্যুবার্তায় অবলম্বন করে চেতনার অবিমিশ্রতায় ভাসিয়ে নিয়ে গেছেন তিনি উপন্যাসের আখ্যান-ভূমি; ঢেউ তুলেছেন সময়ের ঘূর্ণিপাকে, অতীত-বর্তমানের মেশামেশি প্রান্তর ছুঁয়ে হেঁটেছেন নিজে, পাঠককেও হাত ধরে নিয়ে গেছেন সেখানে। একথা সত্য যে, কোভিড-১৯ আমাদের ভেতরে বিচ্ছিন্নতার জন্ম দিয়েছিল, ভাঙতে চেয়েছিল সামাজিক সংশ্রবের ঘনবদ্ধ জট। বাইরের সংশ্রব পরিত্যাগে উদ্ধুদ্ধ তখন প্রতিটি মানুষ; কিন্তু সে-তো শারীরিক স্থবিরতা, গৃহাবদ্ধ মানুষ কী করে কাটাবে বন্ধু-স্বজন-আত্মীয়-কুটুম্বিতার বন্ধন! কর্মের তাগিদ নেই, নেই ব্যস্ততার হুড়োহুড়ি; শিথিল দায়বদ্ধতায় বিষণ্ন-অবসন্ন মানুষের জীবন-প্রণালী। ঔপন্যাসিক ঘুম-নির্ঘুমের কথাও বলেছেন; ঘুম মানুষকে হয়ত ক্ষণিক পরিত্রাণ দেয়, হয়ত দেয় না— ঘুমের মাঝেও মানুষ দুঃস্বপ্নে জেগে ওঠে। তাই স্থবিরতা শরীরের, মন কী স্থবির হয় কখনও? মনের এই গতিশীলতাই সৃষ্টি করে চেতনাজাত অনন্তর এক প্রবাহমালা; মাওলা প্রিন্স তাঁর উপন্যাসে মানুষের মনের এই গতিশীলতাকে উন্মুক্ত করেছেন। এ ধারার উপন্যাসে লেখকের মনোগহীনে প্রবেশাধিকার ঘটে পাঠকের। লেখকের সঙ্গে সমান অভিযাত্রিক হন পাঠকও; দেখেন লেখক যা দেখান, লেখকের অনুভববেদ্যতায় ভরপুর হন নিজেও। কী দেখেন লেখক? উপলব্ধিইবা করেন কী? মনের অর্গল মেলে ধরতেই জড় হয়ে থাকা অনুভূতিগুলো রেণুকণা হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে; একজন অনুধাবনযোগ্য পাঠক দৃষ্টি প্রসারিত করে দেখেন সেই ছড়িয়ে পড়া। প্রয়োজনে অনুভূতিগুলো দৃশ্যমান করে তোলেন লেখক তাঁর বর্ণনায়; শব্দে গেঁথে উপমায় সাজিয়ে, পৃথক বর্ণে-গন্ধে-ঢঙে; কখনো সজীবতায়, কখনো জটিল দুর্বোধ্যতায়, ভয়াবহতায়, কখনোবা ঘৃণায়-উষ্মায়, আবার কখনোবা আবেগে-অশ্রুতে-লাবণ্যে। এমনকি প্রয়োজনে যুক্ত এবং আলাদা করে তার মনোজগতের মিশ্র অনুভূতিগুলো দিয়ে এক সুরেলা ঐক্যতান সৃষ্টিরও ক্ষমতা রাখেন তিনি। উপন্যাসটিতে এভাবেই দানা বেঁধেছে ঘটনা, ‘৮ মার্চ ২০২০’ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত; ‘১৮ মার্চ ২০২০’ প্রথম একজনের মৃত্যু; এরপরে :
প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন বিয়াল্লিশ জন এবং ষোলো জন রয়েছেন আইসোলেশনে। এখন ‌পর্যন্ত বিশ্বে কোভিড-১৯ নভেল করোনা ভাইরাসে মোট মৃত্যু হয়েছে এক লাখ তেপ্পান্ন হাজার আটশো একাত্তর জন। যুক্তরাষ্ট্রে একত্রিশ হাজার চারশো ছাপ্পান্নো জন, ইতালিতে বাইশ হাজার সাতশো পঁয়তাল্লিশ জন, স্পেনে বিশ হাজার দুইজন…। (২০২২ : ৯)
দেশ থেকে বিশ্ব ক্রমবর্ধমান মৃত্যু; মৃত্যু এখন সংখ্যায়, মৃত্যু এখন মিডিয়ায়, মৃত্যু এখন মানুষের চেতনায় :
সুনসান বিছানায় শুয়ে পড়লে মনের সাদাকালো বায়োস্কোপে পারিবারিক কবরস্থানের চিত্রায়ণ ঘটে। বড় একটা সানের উপর কামিনীর ছায়া, পাশে একটা পুরাতন নারিকেল গাছ, একটা লাল জবা ফুলগাছ, দু-চার কিংবা পাঁচটা পাতাবাহরের সঙ্গে একটি আমগাছ বেষ্টিত উর্বর দোআঁশ মাটির তলদেশে আছে পূর্বপুরুষদের হাড়। (২০২২ : ৯)
এক জীবনে কত-কত মৃত্যুর অভিজ্ঞতা— পূর্বপুরুষ থেকে বংশ পরম্পরায় অদেখা, কানে শোনা, কাছাকাছির অতি আপনজনেরা। তবে কেউ সংখ্যাবাচকতায় নয়; নাম হয়ে, নির্দিষ্ট হয়ে, সম্পর্কের অংশ হয়ে, স্মৃতির টুকরো হয়ে ভেসে বেড়ায় ঔপন্যাসিকের মনোলোকে। এক স্মৃতি থেকে অনেক স্মৃতির ভিড়; একদিনের দেখা থেকে, একদিনের জানা থেকে, একদিনের কথা থেকে বহুদিনের বহুকথার আনাগোনা; সংযোগহীন-অসংলগ্ন তবুও কত সজীব-জাগ্রত সে-সব স্মৃতি :
দিদি, দাদি বা দাদিমার কোলে মাথা রেখে অথবা তার আঁচলে মাথা ঢেকে ঘুমোতে ঘুমোতে শুনি, আমাদের পুরান কিংবা নতুন বাড়িতে আগুন দেয়ার কথা, ত্রিমোহনী কিংবা তিস্তা নদী পেরিয়ে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে পালানোর কথা, দিদি বা দাদীর ছোট ভাইয়ের সাথে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তরঙ্গ খাতিরের কথা, দিদি বা দাদিদের পুরান বাড়িতে ওদের আপ্যায়নের কথা, যুদ্ধের আগে অকালে স্বামীহারা এক যুবতী-জননী তার নয়নের মণি কিংবা কলিজার টুকরা সদৃশ মাসুম ছেলেমেয়েদের হারাতে বা কোলছাড়া করতে চান নি। কী দিনই না গ্যাছে তখন, এ্যালোড্রাম থাকি মিলিটারি আইস্যার খবর পায়্যা আকার ভাত আকাত থুয়্যা ছয়-ছয়টা মাউরিয়া ছাওয়া নিয়্যা বাড়ির পিছনের আড়াবাড়ির ভেতর দিয়্যা সড়কত উঠি ত্যামনির ঘাট পার হয়্যা খুনিয়াগাছ-কালমাটি বরাবর দৌড়, দৌড়, দৌড়! (২০২২ : ৯-১০)
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ আর করোনাকাতর মানুষগুলোর জীবনযুদ্ধ কোথায় যেন একতানে সুর মেলায়; এখন আর মিলিটারির তাড়ায় নয়, মানুষ দৌড়ে বেড়ায় নিজের মধ্যে, ঘুরপাক খায় বিষাদে, উত্তেজনায়, আতঙ্কে আর সিদ্ধান্তহীনতায়— গার্মেন্টস মালিকেরা একবার গার্মেন্টসগুলো খোলা রাখার কথা বলে, আবার বলে শ্রমিক ছাঁটাই-এর কথা। দিশেহারা শ্রমিকেরা পায়ে হেঁটে শত শত কিলোমিটার পাড়ি জমায় ‘কাজের আশায়, পাওনা বেতনের দাবিতে, বেঁচে থাকার যুদ্ধে, জীবনের সন্ধানে।’ বিরক্ত হয় মিডিয়ায় চোখ-রাখা ঘরবন্দী মানুষগুলো, ‘এমন চললে যে করোনা আরও ছড়িয়ে পড়বে, এমন চলতে দেয়া যায় না!’ কাজ করে পুলিশ, সেনা ও র‌্যাবের সদস্যরা, তাদের কঠোর দমনে লোকশূন্য হয় রাস্তা-ঘাট; কিন্তু কীভাবে দিনাতিপাত করবে দৈনিক খেটে-খাওয়া মানুষগুলো? তবুও একদিন বেরিয়েই পড়ে; মুখে তাদের প্যাকেজ-প্রাপ্তির আনন্দ, সেইসঙ্গে হতাশাও :
একটা মাস বাড়ির বাহির হই না, বাড়িতে কুনু বা কোনো কিংবা এক ছটাক খাবার নাই, বাধ্য হইয়্যা আইজক্যা বাইর হইছি। হ, হ, পাইছি পাঁচ কেজি চাইল, দুই কেজি আলু, এ্যাক কেজি ডাইল, আধা সের লবণ, দুই লিটার ত্যাল আর একটা আত ধোয়ার সাবোন; কিন্তু, তা বা তয় দিয়্যা কয়দিন চলে? (২০২২ : ১৭)
সতর্ক শ্রমিকেরাও কর্মস্থলে পৌঁছুনোর তাগিদে পুলিশ বা সেনাবাহিনীর চোখ এড়িয়ে ‘মাছের ড্রামের ভেতর গুটিসুটি হয়ে বসে ট্রাকে উঠে ঢাকা যায়, নারায়ণগঞ্জ যায়, গাজীপুরে যায়!’ প্রকৃতির যুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধে, বিশ্বযুদ্ধে এভাবেই বারেবারে নিস্পৃষ্ট হয়ে আসছে সাধারণ মানুষ— করোনা হয়ত আর থাকবে না, অতীতেও ঘটেছে এমন— অতিমারী, মহামারী কিংবা প্যানডামিকের আতঙ্ক কাটিয়ে শেষপর্যন্ত যুদ্ধজয় করেছে মানুষের বৈজ্ঞানিক বুদ্ধি, যেমনটি ঘটেছিল ম্যালেরিয়া কিংবা কলেরার ক্ষেত্রে :
১৮১৭ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের মহামারীতে পৃথিবীতে কতো কোটি কোটি মানুষ যে শুধু কলেরায় মারা গেছে, তার হিসাব নেই; অথচ, মৃত্যুঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও আজ কলেরা যেনো কোনো বিষয়ই নয়; (২০২২ : ১১০-১১১)
প্যানডামিকের অস্থিরতাকে পাশ-কাটিয়ে স্বস্তি খুঁজেছেন ঔপন্যাসিক— স্মৃতির হাত ধরে চলে গেছেন জন্মদাতা-জন্মদাত্রীর প্রসঙ্গে। লেখকের শিশুকাল, বাল্যকাল— পায়ে পায়ে জড়ানো দরিদ্রতা, তবু কত সুখ; অসুখও যে ছিল না তাতো নয়, কিন্তু স্নেহের জোয়ার ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সব দুঃখ-কষ্ট-অপ্রাপ্তিবোধ। মধ্যবিত্তের জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভের লড়াই; দাদা-বাবা-চাচা কেউই বাদ যান না সে লড়াই থেকে। বিয়ে নিয়েও কত খণ্ড স্মৃতির সংস্করণ; বাবা-চাচার জীবনে, নিজের জীবনে, ‘সমবয়সীর বিয়েতে স্ট্রাগোল বেশি, আবার, প্রতিষ্ঠাও ত্বরান্বিত হওয়ার সুযোগ থাকে; দুঃখ করো না!’ দুঃখ কিসের? চাকরির খাতিরে স্বামী-স্ত্রীর আপাত বিচ্ছিন্নতা, দুজনে বেড়াতে যাওয়া বা কেনাকাটা করার জন্য টাকার অভাব, মণিপুরী কিংবা জামদানি শাড়ির সখের অপূর্ণতা— এইসব ছোটো-খাটো সুখ-পোরা দুঃখবোধ। এমন দুঃখ তো মা-র জীবনেও ছিল; বিয়ের পর সংসার করে, সন্তান পালন করে, কত কষ্ট করে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি, কিন্তু চাকরির সুযোগ হলো না কোথাও, তবু আক্ষেপ তো ছিল না! এই যে এখন করোনা চলছে; ‘আমপান’ গেল; বিশ্বকর্তাদের ‘বৈশ্বিক মহামারীর সঙ্গে বৈশ্বিক দুর্ভিক্ষেরও’ পূর্বাভাস ঘোষণা; অথচ রোজা পেরিয়েই সামনে ঈদ :
বুন্দিয়া ছাড়া প্রথম তিন রোজায় ইফতার, বুন্দিয়া ও সৌখিন ইফতার কিনতে গিয়ে রম-থ্রি পেরিয়ে ছোটবাজার পর্যন্ত নিরন্ন মানুষের নীরব ঢল, ইফতার ও সাহায্য প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ফুটপাতে বসে থাকা ভাসমান বুভুক্ষু মানুষগুলোর বেদনার্ত চেহারা, ঝাঁপ আঁটানো বন্ধ দোকান ও শপিং মলগুলোর কঙ্কালসদৃশ সাদা হাড়হাড্ডি, সারা রমজান মাস জুড়ে টিসিবির পণ্যক্রয়ের জন্য সেহেরির পর থেকে লাইনে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষের হৈ-চৈ-চিৎকার, সর্বত্রই করোনার বাহক হিসেবে মানুষে-মানুষে সন্দেহ ও বাঁকাদৃষ্টি বিনিময়, মসজিদে গিয়ে তারাবির নামাজ ছাড়াই পুরো একটা রমজান মাস অতিক্রম, আর, নিরুৎসব সাদামাঠা ঈদের বিশ্রী স্মৃতি কিংবা বিদঘুটে ইতিহাস এ জীবনে ভোলার নয়, ভুলে যাওয়া অসম্ভব! (২০২২ : ১২৫)
অসম্ভব নানা কারণে, ঈদের অনুভাবনায় কুশ্রীতার স্পর্শ থাকলেও রয়েছে আনন্দ; সে আনন্দ আবার উজ্জ্বল স্মৃতিময় আনন্দ; কষ্ট হয়ত আছে, কিন্তু সে কষ্টও সুখপোরা কষ্ট :
সুরক্ষিত মসজিদে ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ শেষ করে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের প্রাচীর সংলগ্ন ফুটপাত দিয়ে বাপবেটা পাশাপাশি আসছি, বাসায় ফিরছি; হঠাৎ বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো, তখন ছেলের ঘাড়ে হাত রেখে এক পিতা তার সন্তানকে বললো, বলবে, বাবা, ঈদে নতুন পাঞ্জাবি দেই নি বলে তোমার খুব মন খারাপ? ছেলে স্থিরভাবে মিষ্টি কণ্ঠে বলে, বলবে, কৈ, না, পাঞ্জাবি তো আমার আছে, নতুন জামাও আছে আলমারিতে! তখন বিপাকে পড়া এক পিতার বুকে কুণ্ডলিত পাহাড় সমান কষ্ট লাঘব হলো, হবে, সমুদ্র সমান ঘূর্ণিঝড় থেমে গেলো, যাবে; ছেলেটা সত্যিই পরিপক্ব হয়েছে, ম্যাচির্উড হয়েছে; দিনটা মনে রাখার মতো, দিনটি হলো, কিংবা, তারিখটি ছিলো ২৫ মে ২০২০, সোমবার। (২০২২ : ১২৫)
পিতৃত্বের সফল উত্তরাধিকার, ছেলের মাঝেও কর্তব্যপরায়ণতার রোপিত বীজ! মনে রাখার মতো এমনি কতো দিন, কতো তারিখ, কতো মুহূর্ত; ক্যালেন্ডারের পাতায় এমনি কতো স্বপ্নরেখ লালকালির চিহ্ন; করোনার দুর্বিষহতা সয়েও অক্ষয় ভাস্বর সে-সব স্মৃতিময় ক্ষণ। ভার্জিনিয়া উলফ একেই বলেছেন, ‘নিরবধি কালের খণ্ডাংশ’; বলেছেন, ‘নিরবধি কালের যে খণ্ড তোমার, তাকে হাত বাড়িয়ে ধরে ফেল। আর ধরে ফেলে তার ক্ষণস্থায়ী ও প্রবহমান রূপটিকে অন্ততপক্ষে ক্ষণিকের জন্য স্থায়িত্ব দাও।’ ঔপন্যাসিক মাওলা প্রিন্সের প্রচেষ্টাও অনেকটা তাই— স্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনে উঠে আসে পিতামহ-প্রপিতামহদের প্রসঙ্গ; নানু-নানি, দাদা-দিদি; টান পড়ে সম্পর্কের রশিতে; স্মৃতির জোয়ারে ভেসে যায় হৃদয়ের কুঠুরি, মনে পড়ে যায় পাগলি নানির কথা, নানু ও নানির ‘অদ্ভুত’ ও ‘হৃদয়বিদারক’ সম্পর্কেরকথা— বিচ্ছেদ ছিল দুজনার ভেতরে, ঔপন্যাসিকের জানামতে ‘প্রায় চল্লিশ বছরে তাদের দেখা হয়েছিল মাত্র তিনবার’; শেষ সাক্ষাতটিই হৃদয়বিদারক, নানির অন্তিম মুহূর্তের দৃশ্য। কার্যত নানু-নানির বিচ্ছেদ আর চিরবিদায়ের ঘটনায় ঔপন্যাসিক খুঁজে পান ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাসের গোবিন্দলাল আর ভ্রমরকে :
ভ্রমর জোড়হাত করিয়া, অকম্পিত কণ্ঠে বলিতে লাগিল, তবে যাও— পারো আসিও না। বিনাপরাধে আমাকে ত্যাগ করিতে চাও, করো।— কিন্তু মনে রাখিও, উপরে দেবতা আছেন। মনে রাখিও— একদিন আমার জন্য তোমাকে কাঁদিতে হইবে। মনে রাখিও— একদিন তুমি খুঁজিবে, এ পৃথিবীতে অকৃত্রিম আন্তরিক স্নেহ কোথায়?— দেবতা সাক্ষী! (২০২২ : ১৩২)
উপন্যাস তো জীবনেরই কথা বলে, দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে শেষ জীবনে নানুর কাতরোক্তিতে সেই সত্যই ধরা পড়ে— ‘বিয়াই আমি তোমার দুই পায়োত্ পড়ি, তোমার দুই পাও ধরি, তাও এই ভুল করেন না, আমি জীবনে যে ভুল কইরছি, এই ভুল আর আপনি করেন না, আমি যে দোজখের আগুনে জ্বলছি, আপনি সে আগুনে জ্বলেন না,’ (২০২২ : ১৩৪) —এখানেই হয়ত জীবন আর সাহিত্যের মেলবন্ধন। কেবল সহিত্যের ছেঁড়া পাতাতেই নয়, জীবন খুঁড়ে উঠিয়ে এনেছেন ঔপন্যাসিক অতীত ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি; প্রত্নতাত্ত্বিক আকরে রেখায়। এভাবে পারিবারিক স্মৃতির জোয়ারে একসময় যুক্ত হয়ে মিশে যায় ওপাশের অর্থাৎ স্ত্রীর বংশধরের প্রসঙ্গও— কৃষ্ণনগর থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন তার দাদা, বাবার জন্ম কোথায় কৃষ্ণনগর না-কি চট্টগ্রামে? বড় ফুপুর? সময়ের সীমারেখা একাকার হয়ে মিশে-মুছে গেছে কবে! তবুও বুকের ভেতর স্মৃতির গহ্বরে লালিত মুক্তোর মতো বেড়ে উঠছে, মূল্যবান কিন্তু বেদনাদায়ক! সামনে বসা স্মৃতিরত স্ত্রীকে কথকের মনে হয় শিকড়-ছেঁড়া লতার মতো, নিমগ্নতায় বিধুর-মুহ্যমান। উঠে আসে নানা-নানির প্রসঙ্গ, কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হকের ‘আগুনপাখি’ উপন্যাসের কথক মায়ের মতো মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন উপড়ানো চারার মতো তার নানির জীবন, স্বামীর মৃত্যুর পর ওপারের চির-চেনা পরিবেশে ফিরে গেছেন ঠিকই, কিন্তু অনুভূতিটা একইরকমের— ‘চারাগাছ এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় লাগাইলে হয়, এক দ্যাশ থেকে আরেক দ্যাশে লাগাইলেও বোধায় হয়, কিন্তুক গাছ বুড়িয়ে গেলে আর কিছুতেই ভিন্ মাটিতে বাঁচে না,’ (২০২২ : ১৩৬) । ঔপন্যাসিকের কণ্ঠে বাজে সান্ত্বনার সুর, বলেন :
দ্যাখো, দেশবিভাগের কারণে নানা-নানির দুজনার কবর দুই জায়গায় হবে; একই রক্তের দুটো ধারা দুই দেশে, অথচ, ধীরে ধীরে কেউ কাউকে চিনবে না, কেউ কাউকে ছাড় দিবে না, জাতীয়তার প্রশ্নে কিংবা রাষ্ট্রদ্রোহিতা থেকে রক্ষা পেতে দুই ধারার মধ্যে দ্বন্দ্ব—সংঘাত অনিবার্য; (২০২২ : ১৩৬)
অতঃপর ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির প্রশ্নে উদ্বেলতা ধরা পড়ে ঔপন্যাসিকের ভাবনায় :
ভাবছি, জীবনের তল কোথায়; রহুচণ্ডালের হাড় খুঁজতে খুঁজতে বাজিকররা বংশপরম্পরায় শেষ করে চলে তাদের জীবনের আখ্যান, তারা খুঁজে ফেরে তাদের আদি দলপতি রহুর হাড়, যা লুকিয়ে আছে কোনো এক ভূখণ্ডের ফলপ্রসূ মৃত্তিকার গভীরে, যে মৃত্তিকায় একদিন তারা থিতু হবে, তারা পশ্চিম থেকে পূর্বে যাত্রা করে, পুবের দেশে, তারা পুরনিয়া, কটিহার, কিশনগঞ্জ, দিনাজপুর, রংপুর, মালদা ইত্যাদি অঞ্চল ঘুরে ফেরে থিতু হওয়ার বিশ্বাসে; কিন্তু, তারা কি থিতু হতে পারে, পেরেছে; পারে নি, পারবেও না। মানুষ একদিন ছিল নগ্ন, বন্য, নিরাপত্তাহীন, সন্তান কিংবা ভ্রাতা যেখানে হতো স্বামী, সেখান থেকে মানুষ ধাপে ধাপে আত্মিক, নৈতিক ও মানসিক উন্নতি ঘটিয়ে আধুনিক যুগের বাসিন্দা হলো, সুদূর ইউরোপের ভোল্গা নদীর তীর থেকে মানবগোষ্ঠী ধীরে ধীরে এশিয়ায় পৌঁছলো, তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, আবাস কিংবা ধর্মের উন্মেষ, বিকাশ ও বিবর্তন ঘটলো; প্রায় আট হাজার বছর ধরে মানুষের এই পথচলার শেষ কোথায়, মানুষ কি তার জীবনের তল পেয়েছে, পেয়েছিলো, পেয়ে আবার হারিয়ে ফেলেছে, মানুষ কি স্বস্তি নিয়ে তৃপ্তি নিয়ে একস্থানে বেশিদিন থিতু হতে পেরেছে, পেরেছিলো; পারে নি, পারবেও না। (২০২২ : ১৩৮-১৩৯)
এভাবেই করোনাকালীন অনিশ্চিত জীবনযাত্রার অতলান্তিকে ডুব দিয়ে মানুষের জীবনের অনিশ্চিত গতিশীলতার এক অপূর্ব দর্শনজ্ঞ সংজ্ঞা খুঁজে ফিরেছেন ঔপন্যাসিক। যদিও জীবন কখনও সংজ্ঞায় আবদ্ধ হয় না, গতিশীলতাই হয়ত এর আরেক কারণ— জীবন পরিবর্তনশীল; অনবরত রূপান্তর ঘটে চলেছে জীবনের সঙ্গে যুক্ত বিশ্বাস আর বোধের। ঔপন্যাসিকের ভাষায় :
জীবনের সবকিছু কি প্রমাণ করা যায়, জীবন ও সৃষ্টিরহস্য নিয়ে বিজ্ঞান কি চূড়ান্ত কোনো কিংবা সর্বশেষ মীমাংসায় উপনীত হয়েছে, হতে পেরেছে, যদি না পেরে থাকে তাহলে সবকিছুতেই বিজ্ঞানকে টেনে আনতে হবে ক্যানো; মহাভারতের আদিপর্বে ব্যাসদেবের বরে জন্মান্ধ ধৃতরাষ্ট্রের ঔরসে গান্ধারীর যে শত পুত্র ও কন্যা জন্ম নিয়েছিলো, সেই সন্তানগুলো সরাসরি মাতৃগর্ভ থেকে প্রসব হয় নি, গান্ধারীর গর্ভপাত হওয়া মাংসপিণ্ড ব্যাসের উপদেশ অনুযায়ী শীতল পানিতে ভিজিয়ে রাখলে তা থেকে একশো একটা ভ্রূণ পৃথক হয় এবং সেই ভ্রূণগুলো ঘিয়ে পূর্ণ পৃথক পৃথক কলসে এক বছর এক মাস রাখলে দুঃশাসন-দুঃসহ-দুঃশলাদের জন্ম হয়, যা পৌরাণিক গালগল্প ও উদ্ভট আখ্যান হিসেবে বাতিল করে দিয়েছিলো বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানপ্রিয় মানুষেরা; কিন্তু, হাজার হাজার বছর পরে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট এডওয়ার্ডস ও প্যট্রিক স্টেপটোর কৃত্রিম প্রজনন বিষয়ে যৌথ গবেষণার সাফল্যে উনিশশো আটাত্তর সালে যখন বিশ্বে প্রথম টেস্টটিউববেবি লুইস ব্রাউন জন্ম নিলো, যখন বিশ্বের নিঃসন্তান দম্পতিরা পিতা-মাতা হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করায় সক্ষম হলো, তখন বিজ্ঞানপড়া এবং বিজ্ঞানপ্রিয় মানুষরাও কি এক সময়ের বাতিল করে দেয়া উদ্ভট ও অবৈজ্ঞানিক আখ্যান কিংবা বিষয়টিকে গ্রহণ করে নি, পৌরাণিক প্রসঙ্গটির সম্ভাব্য সত্য কি উপলব্ধি করেন না; (২০২২ : ১৪৮-১৪৯)
এভাবেই ঔপন্যাসিক চেতনায় ভিড় জমিয়েছেন পুরাণতত্ত্ব-পৌরাণিকতথ্য-পৌরাণিকউৎস থেকে অতীত ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি সংলগ্ন মানুষ ও সমাজ, প্রাচ্য ও প্রাচীন বাংলা এবং ‘ষাট ভাগ অস্ট্রেলীয় (ভেড্ডিড), বিশ ভাগ মোঙ্গলীয়, পনেরো ভাগ নেগ্রিটো এবং পাঁচ ভাগ অন্য নানা নরগোষ্ঠীর রক্তের মিশ্রণে তৈরি’ বাঙালি জাতি, তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ। লেখককৃত বিশ্লেষণে বাঙালির রয়েছে শিল্প ও রূপক-কল্পনার যুগ-যুগান্তরের ললিত ধারা; সেই ধারায় যেমন এসে মিশেছে শাস্ত্র-জ্ঞান-বুদ্ধি-যুক্তির ইতিবাচক প্রাধান্য ও সমন্বয়, তেমনি আবার দেবানুগ্রহজীবিতায় তুক-তাক, দারু-উচাটন, ঝাড়-ফুক, বাণ-মারণ, বশীকরণ, কবচ-মাদুলি, তান্ত্রিকতা প্রভৃতির প্রতি নেতিবাচক নির্ভরতা। তবুও ইতিহাসের সাক্ষী উপমহাদেশের তাবৎ সভ্যতার চিহ্ন ‘পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার’, ‘অজন্তা গুহাসমূহ’, ‘সিন্ধুসভ্যতা’, ‘তাজমহল’, অপার প্রাকৃতিক মহিমামণ্ডিত ‘হিমালয় পর্বতমালা’, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’, এমন-কি আমাদের ‘সেন্টমার্টিন’, ‘ছেঁড়াদ্বীপ’ বশীভূত এক অনন্তর ইচ্ছাশক্তিতে জাগ্রত করে ঔপন্যাসিকের অন্তরস্পৃহা; তাঁর অন্তর্গত বোধের ভেতরে খেলা করে এক দুর্মদ মৎসমানব, যে ছেঁড়াদ্বীপের নীলজল অতিক্রম করে সঞ্চারণশীল কিংবা সন্তরণশীল হয়ে আরো অগ্রবর্তী হয় :
তখন ঊর্ধ্বারোহণের রূপক উত্তর দিককে পেছনে রেখে অবকাশের পরিপূর্ণতা পেতে সে আরো আরো দক্ষিণে পাড়ি দেয়, সে তখন ছুটছে, সে তখন দৌড়াচ্ছে, সে তখন সাঁতরাচ্ছে, সে তখন নোনাজলের হাঙর-তিমি হয়ে প্রশস্ত লেজে প্রচণ্ড ঝাপটা মেরে দ্রুততম গতিতে সম্মুখে অগ্রসর হচ্ছে, সে তখন ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় একটু একটু করে উদয়ের রূপক পূর্বদিকে সরে যায়, সে তখন সহস্র কিলোমিটারের বিরামহীন যাত্রায় বিরাম দিতে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রথমত আন্দামান ও দ্বিতীয়ত নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে গিয়ে উঠে। মৎসমানব তখন পুরোপুরি মানুষের রূপাবয়ব ফিরে পায়। তখন সে স্মৃতিবর্ধক রোগে আক্রান্ত হয়। তখন সে এক আরব বেদুঈন বালির চোখ দুটো স্পষ্টভাবে দেখে। … তখন তার আর একটি সুপারনিউমারারি সোল একাগ্রচিত্তে বই পড়ে, বইয়ের পাতা উল্টায়, মাঝে মাঝে চশমা ঠিক করে, তখন চশমার লেন্স বা ভারী কাঁচের ভেতর দিয়ে বইয়ের কয়েকটা কিংবা কিছু কিছু বাক্য ও বাক্যাংশ বড় ও মোটা হয়ে ওঠে : জীবিকা সম্পৃক্ত জীবনের সার্বক্ষণিক ও বহুধা অভিব্যক্তিই সংস্কৃতি। জীবন জীবিকাগত নয় কেবল, স্থান, কাল এবং গোষ্ঠীগতও। মানব সংস্কৃতিতে বৈচিত্র্য, বিভিন্নতা, বিবর্তন ও বৈষম্য ঘটে… আমাদের সংস্কৃতির উৎস ও ভিত্তি, অস্থি ও মজ্জা আজো আদিম। (২০২২ : ২১৪)
এই মৎসমানব যদি হন ঔপন্যাসিক নিজে তবে সেই আদিম শেকড়-ছড়ানো বিশ্বাস থেকেই অতঃপর তাঁর স্মৃতিকোষ ভেসে যায় বিচিত্র রং আর ফুলের বন্যায়, তাঁর প্রগাঢ় প্রেমিক-হৃদয় উন্মুক্ত করেন তিনি বিচিত্র কথোপকথনের ভঙ্গিমায়; এবারেও কথক যদি লেখক নিজে হন তাহলে যাকে উদ্দেশ্য করে কথা বলা সেই লোকটি তাহলে কে? লোকটি কি লেখকের অবরুদ্ধ বিবেক? ঔপন্যাসিক তাকে সম্বোধন করেন সে বা তিনি— কি বলে সে অথবা কি করেন তিনি? অতীত তাড়িত লেখক তার হাত ধরে অতিক্রম করে চলেন জীবনের বিবিধ পর্যায়, পর্যবেক্ষণ করেন বাবা-মা, দাদা-দাদি, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান ইত্যাদি নৈমিত্তিক সম্পর্কগুলো; হয়তো স্ত্রী-ই তার একমাত্র প্রেমিকা, তবুও পরাণের গহীনে লালিত আড়ালগুলো ঘুচে যেতে থাকে একে একে :
আর কী-ই কথা আপনার বলবার আছে, একজন প্রেমহীন, পাষাণ, কৃপণ ও মিথ্যাবাদীর কাছে নতুন করে কী আর শোনার আছে! তখন সে বা তিনি হয়তো হোঁচট খান, হঠাৎই তাকে বোবায় পায়, সে বা তিনি শুয়ে পড়া কিংবা শোয়ানো কোরবানির প্রাণির মতো গোঁ গোঁ করতে থাকেন, লোকটি তখন তার দেড়-দুই ফুট দৈর্ঘ্যের তরবারিটা পুনঃপুনঃ শান দেন আর একটু পরপর পরোখ করেন। সে বা তিনি তখন ভীত-সন্ত্রস্ত ছিলেন কি-না, বলা মুশকিল, কিন্তু, বাকরুদ্ধ প্রাণির বাক ফিরে পাওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা তার মধ্যে ছিলো, তার বুক ফেটে ফুসফুসের সমস্ত বায়ু হয়তো তক্ষুণি বেরিয়ে পড়তো, যদি না সহসা তার ফুসফুস তাড়িত কিছু বাতাস বাকযন্ত্রের মাধ্যমে অর্থজ্ঞাপক ধ্বনিতে রূপান্তরিত না হতো। সে বা তিনি তখন চিৎকার করতে থাকেন, আমি মিথ্যাবাদী নই, আমি মিথ্যাবাদী নই, আমি কখনো মিথ্যা বলি না… । (২০২২ : ২৩৯)
এভাবেই চলতে থাকে ঔপন্যাসিকের চেতন-অবচেতনের অফুরন্ত অনুভূতির শব্দময় প্রকাশ। জেমস জয়েস, ভার্জিনিয়া উলফের মতো চেতনাপ্রবাহরীতিধারার খ্যাতিমান লেখকেরা মানুষের মাহূর্তিক অনুভূতিগুলোকে এভাবেই সজীব করে তুলেছেন বিচিত্র চেতনার রঙে রাঙা এক একটি শব্দের মালায় গেঁথে, শব্দের ওপরে অর্থের ভারকে গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা, সৃষ্টি করেছেন রূপকাবরণের ব্যঞ্জনা; শব্দ যে শুধু কানে শোনার নয়, চোখে দেখারও বিষয় ধরা পড়ে তা শব্দচ্ছায়ায় কল্পিত বর্ণনার ইঙ্গিতময়তায়। ঔপন্যাসিকের স্বপ্নরেখ স্মৃতি রোমন্থনেও জাগে বাস্তবতার চর— বৃহৎ-পরিব্যপ্ত সে বাস্তবতায় পথ হাঁটেন লেখক : ‘বনসাই দখল করে নেয় পৃথিবীর চাকচিক্যময় স্থানগুলো/ বৃক্ষহীন স্থাপনাগুলো সবুজ হয়ে ওঠে কৌটার রঙে/ নতুন পৃথিবীতে নতজানু হয় প্রকৃতি/ নতজানু প্রকৃতির সন্তান/ মানুষ হয় খর্বাকৃতি!’ (২০২২ : ২৬২) কেন এই বিকৃতি? কেন এই মনুষ্যহীনতা? কেন মানুষকে দাঁড়াতে হয় মানুষেরই তৈরি অবক্ষয় আর নীতিহীনতার সামনে? কারণ লেখক-কথক বা ঔপন্যাসিকের রক্তে বহমান একজন মুক্তিযোদ্ধার কণিকা, তবুও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নেই তার— তাই মুক্তিযুদ্ধ করেও সার্টিফিকেটহীন, শুধুমাত্র একটুকরো প্রত্যয়ন পত্রের দাবিদার দাদুটি বড্ড অসহায় তার প্রজন্মের সামনে :
তিনি (জেলা সদরের একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও আওয়ামী লীগ নেতা) মারা যাক, তার দেয়া প্রত্যয়ন পত্র আছে তো, তার হাতের লেখা আছে তো, সেখানে আপনার নাম উল্লেখ আছে তো, কিছুই না থাকার চেয়ে কিছু থাকা শ্রেয়, নাকি? দাদুর চোখ তখন জ্বলজ্বল করে উঠে, হয়তো তার চোখের কোণে তর্জনীর স্পর্শ লাগে, হয়তো তিনি পুনরায় নির্লজ্জের মতো বলে উঠেন, কাগজটা তোক দিলে তুই সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করতে পারবু? নাতি সমুন্নত শির তুলে কিংবা ঈষৎ নামিয়ে বলতে পারে, পারেন, সেই নিশ্চয়তা আমার কাছে নেই, কিন্তু, সত্যানুসন্ধানী হয়ে সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আর একবার লড়াই করি, দেখি বিজয়ী হতে পারি কি-না! (২০২২ : ২৬১-২৬২)
কথাগুলোর মধ্য দিয়ে বিদ্রোহ-আন্দোলন নিরীক্ষণীয় এই শব্দগুলো নিজে উপলব্ধি করেন এবং পাঠককেও উপলব্ধি করান ঔপন্যাসিক :
আভিধানিক অর্থে দ্রোহ হচ্ছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। তবে, ন্যায় ও অন্যায়ের ধারণা ব্যক্তি, সময় ও পরিবেশ-পারিপার্শ্বিকতা নির্বিশেষে স্থির বা এক নয়। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাপুষ্ট প্রচলিত ও প্রথাসিদ্ধ বিধি-বিধান ব্যক্তিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে, না-কি অভিজ্ঞতাপুষ্টির মাদক-মন্ত্রে সমাজ-ব্যক্তির স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও অধিকারকে অপহরণ করে, এমন দ্বান্দ্বিক বাস্তবতায় দেশ-কাল-সমাজ এগিয়ে চলে। আর, এই দ্বান্দ্বিক বাস্তবতার সূত্রায়ণ ঘটে একজন সংবেদনশীল ব্যক্তি-মানুষের স্বাতন্ত্র্যিক হৃদয়-ভূমে। হৃদয়বৃত্তি প্রাথমিকভাবে জারিত হয় বৌদ্ধিক-মস্তিষ্কে এবং স্থায়ীভাবে প্রকাশিত হয় ব্যক্তির ব্যক্তিত্বে এবং ব্যক্তিত্ব রূপান্তরিত হয় দ্রোহ বা বিদ্রোহে। (২০২২ : ২৬৩)
অর্থাৎ মানুষের মানসিকতা বা চেতনা একক থেকে বহুগামী, চেতনার এই বহুত্বের মধ্যেই প্রকাশ ঘটে শিল্পের; কোনো ভাষা তখনই শিল্প হয়ে ওঠে যখন সেখানে যুক্ত হয় প্রতীক বা ইঙ্গিতময়তা। তাই ব্যক্তিত্ব এবং দ্রোহের সংজ্ঞায় ঔপন্যাসিক প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেন ‘কাক’, গোষ্ঠীবদ্ধ কাকের ব্যক্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন :
কাক কী কখনো পাখি হয়! কেনো হবে না, ওর কি ডানা নেই? ডানা থাকলে কী পাখি হয়! কেনো, ও কি ডিম পাড়ে না, ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটায় না? ডিমে তা দিয়ে খোলোস ভেঙে বাচ্চা ফুটালে বুঝি পাখি হয়! কেনো, ওর কি চার প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট হৃৎপিণ্ড আর উচ্চকোষীয় জৈব-রাসায়নিক হার আর হালকা অথচ মজবুত হাড় নেই? সবকিছু আছে, কিন্তু কাক পাখি নয়, কাক কাকই, (২০২২ : ২৬৪)
মানুষও তো তাই! একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি আর ঘোলা সংস্কার নিয়ে সার্বিক বিশ্বস্ততা পেলেও পূর্ণ ও সামূহিক মানুষ হওয়া যায় না। মানুষ হতে হয় মানবিকতার গুণে; অথচ সেই গুণ আজ বিনষ্টির শেষ ধাপে! লেখকের প্রতীক হয় এবারে তাই ‘বানর এবং ডুগডুগিওয়ালা’— নাচুনী বানর যেমন ডুগডুগির তালে নাচে, ইশারায় তুলে ধরতে চায় সামাজিক অব্যবস্থাপনার চিহ্নগুলো; কিন্তু তাকে যে নাচায়, সেই ডুগডুগিওয়ালা বাজিকর সে নিজেও তো ক্রমশ গলে যাওয়া একজন মানুষ। সমাজটা তাহলে কিসের দখলে, জনগণইবা কে, কাদের? পাতার পর পাতা জুড়ে সে বর্ণনাও দিয়েছেন ঔপন্যাসিক। আসলে লেখকের মগ্নমানস যে বিশ্বাস আর আবেগকে ধারণ করে আছে তারই বিচ্ছুরণ ঘটেছে এক্ষেত্রে :
কিছুক্ষণ পর অন্ধকারের ভেতর ভাবতে থাকি, কোথায় একটা তার ছিঁড়ে গেছে, নয়তো তাল কেটে গেছে, মানুষ খেই হারিয়ে ফেলেছে। সবাই ছুটছে, ছোটাছুটি করছে, ঠেলাঠেলি ও ধাক্কাধাক্কি করে এগিয়ে যেতে চাইছে। যেভাবেই হোক তাকে সামনে যেতে হবে। এগিয়ে যেতে হবে। এগুতেই হবে। শুধু এগুলেই হবে না, বাহবা অর্জন করতে হবে, শুধু বাহবা ও হাততালি নয়, রায়বাহাদুর অথবা বীরবাহাদুর অন্তত কোনো একটি খেতাব অর্জন করতেই হবে, আধুনিক সমরসজ্জিত কমরেড কিংবা কর্নেল হতেই হবে এবং সেজন্য তাকে সবুজ শৈশব সহজ খেলনা ছেড়ে দৌড়াতে হবে, কৈশোরের কমলা রোদগুলোকে আড়ি দিতে হবে, বন্ধুত্বকে অস্বীকার করতে হবে, ভুলে যেতে হবে লাটাই-ঘুড়ি, রঙিন কাগজ, কাগজের নৌকা, বাঁশের বাঁশি, কাঁঠাল ও কাগজি লেবুর ঘ্রাণ। আবার ভাবি, কে ছুটছে, কেউতো ছুটছে না, সকলেই ছোটাছুটির মতো করে একটি চক্রাবৃত্তে ঘুরছে! (২০২২ : ২৭০)
প্রত্যাশা হারায় না তবুও, তলানিতে পা ঠেকলেও সেই পায়ের ধাক্কাতেই আবার সহজ জীবনানন্দে ভেসে ওঠার ক্ষমতা রাখে মানুষ, অন্তত সুন্দর কোনো মানসিকতার লঘুস্পর্শে সজীব হবার প্রত্যাশা কিংবা অপেক্ষা, এই অপেক্ষাই সত্য। ঔপন্যাসিক সেই সত্যকেই ধারণ করে গেছেন উপন্যাসের শেষ উপলব্ধি পর্যন্ত। উপন্যাসের শেষের কয়েক পাতা লেখকের মগ্নচৈতন্যের কথকতা— করোনাক্রান্ত নাকি আক্রান্তের আশঙ্কা, ‘আমি এখন ঘুমোবো, সত্যিই আজ আমার শরীর ভীষণ খারাপ, খুব ক্লান্তিবোধ করছি, শরীরে ব্যথা-ব্যথা অনুভব করছি, জ্বর এসেছে বোধহয়।’ অতঃপর এক সুনিবিড় মগ্নতায় ডুবতে থাকেন লেখক :
সে ক্রমশ চিৎকার করছে এবং পড়ে যাচ্ছে এবং পাতালে তলিয়ে যাচ্ছে। একপর্যায়ে সে আর শ্বাস নিতে না পেরে চিৎকার করতেও পারছে না। হাত-পা-চোখ-মুখ বাঁধা কোনো আতঙ্কিত প্রাণির মতো সে শুধু ছটফট করছে। চাপা কিংবা বোবা আর্তনাদ করছে। সে পড়ে যাচ্ছে। সে যেনো তলিয়ে যাচ্ছে। সে যেনো শ্বাস নিতে না পারায় নিশ্চিত মারা যাচ্ছে। যদিও সে বুঝতে পারছে না যে, সে জীবিত রয়েছে, না-কি মারা গেছে? সে নিদ্রায় আছে, না-কি পূর্ণ জাগরণে রয়েছে? (২০২২ : ২৮৩)
চেতনা-অতল এক অনন্তর গতিপ্রবাহে ভরে উঠতে থাকে লেখকের মনের কোটরগুলো, না কেবল স্মৃতিময়তায় নয়, তার এতক্ষণের অনুভূতিগুলো রূপান্তরিত হতে থাকে কল্পনায়, সেই কল্পনাও আবার বাস্তবতায় মাখামাখি। কী সেই কল্পময়তা? প্রজাপতি থেকে চড়ুইপাখি, তারপর কবুতর, সবশেষে মানুষ— অর্থাৎ জীবন-মৃত্যুর সীমিত অভিজ্ঞতালব্ধ প্রাণি প্রত্যেকেই। যাদু কিংবা পরাবাস্তবতা বা অলৌকিকতার কোনো অবকাশ নেই এখানে, যা আছে বাস্তবেরই লৌকিক অনুভূতি :
আচ্ছা, প্রজাপতি যদি চড়ুই হয়, চড়ুই যদি কবুতর হয়, তাহলে, কবুতর কি মানুষ হতে পারে না? কেনো হতে পারে না, অবশ্যই পারে। পারবে। তাহলে, সম্মুখে উপবিষ্ট কবুতরটি কি কোনো মানুষ? উড়ে যাওয়া কিংবা হারিয়ে ফেলা অথবা দূরে থাকা নতুবা মৃত্যু হওয়া নয়তো অভিশপ্ত কোনো মানব কিংবা মানবীর রূপান্তরিত নয়তো বিবর্তিত নতুবা ক্ষয়িষ্ণুরূপ! সে কবুতরটিকে নিরীক্ষণ করে। … যেনো কবুতরটি সহস্র বছরের বিরহ-বেদনার নোনাজল আড়াল করে অতি নীরবে তার পানে চেয়ে রয়েছে। তার ঘুমভাঙার অপেক্ষায় প্রতীক্ষারত কবুতরটি হয়তো তাকে কিছু বলতে চায়। হয়তো কিছু বলতে চায় না, তার কাছে ওম চায়, ভালোবাসার ওম। তখন সে মায়া অনুভব করে। তার মধ্যে প্রেম জেগে উঠে। দুই হাতে দুই ডানা ধরে ওর ঠোঁটে একটা চুমু দেয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সে হাত বাড়ালে কিংবা বিছানায় উঠে বসলে অথবা বিছানা ছেড়ে উঠবার মুহূর্তে হঠাৎই কবুতরটি উড়ে যায়। আর, তখনই ঘরে প্রবেশ করে একটি নারী। তার প্রেয়সী-স্ত্রী। (২০২২ : ২৮৪)
কল্পনার আবেগ থেকেই সৃষ্টি নিবিড় এই বাস্তবতার— জীবনের জন্যই যুদ্ধ, যুদ্ধটাই যাপিত-জীবন, সেখানেই পরিবার, প্রেম এবং শান্তি। উপন্যাসের সমাপ্তিও জ্বলজ্বলে সেই সত্যবোধকে সামনে রেখেই— করোনাক্রান্ত লেখক নিজে, এমনকি তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচরি প্রিয়তমা স্ত্রী-ও, তবুও পারস্পরিক নির্ভরতায় নিঃশঙ্ক তাঁদের করোনাকালীন যাত্রাপথ।
সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে উপন্যাস লেখাটা হয়ত সহজ, কিন্তু সেই সদ্যজাত ঘটনায় পাঠককে নিবিষ্ট করানোটা ততটাই দুরূহ— পাঠক ঘটনার স্থিতি চায়, জীবনের বহমানতা থেকে একটু সরে গিয়ে ফিরতে চায় হয়ত কোনো দুঃসহ স্মৃতিচারণায়! বেঁচে থাকাই যুদ্ধ এবং শান্তি উপন্যাসটিতে ঔপন্যাসিক মাওলা প্রিন্সের কৃতিত্ব করোনাকালীন সময়ের বাস্তবতা দুঃসহভাবে উপস্থাপন করতে চান নি তিনি; চেতনারীতির ধারায় সময়ের ক্রমবিন্যাস ভেঙেছেন এবং পাঠক-সমভিব্যাহারে পৌঁছুতে চেয়েছেন অতীতের স্বস্তিভূমিতে। তাঁর সে মুহূর্তের খণ্ড খণ্ড অনুভূতিগুলো শব্দের মায়াজালে গেঁথে মালা রচনা করে ভাসিয়ে দিয়েছেন তা অতীতমুখী জীবনের স্রোতে। এভাবে কল্পনা-বাস্তবের যুগল সম্মিলনে ভাবনার গতিধারা নির্মাণ এবং সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত দক্ষতা এবং অভিনবত্ব অর্জন অবশ্যই সূক্ষ্ম বিচার্য-বিষয়; তাঁর কবিসত্তা, উপলব্ধির নিবিড়তা, অভিব্যক্তের দ্যোতনা উপন্যাসটি পাঠে ভিন্ন এক অভিধায় পৌঁছে দেবে পাঠককে— ঔপন্যাসিকের এই প্রচেষ্টা অভিনন্দনযোগ্য!
……………………………………………………………………………………………….
অধ্যাপক ড. শামীমা হামিদ
বাংলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী।
[email protected]

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

হাঁটার দূরত্বে শূন্যতার গভীরে: যাপিত সময়ের ডায়েরি | সাফি উল্লাহ্

Sun May 28 , 2023
হাঁটার দূরত্বে শূন্যতার গভীরে: যাপিত সময়ের ডায়েরি | সাফি উল্লাহ্ কবিতা, গল্প কিংবা উপন্যাস- বর্তমান সময়কেই উপস্থাপন করে, কখনো সরাসরি, কখনো উপমার মাধ্যমে। একজন কবি মূলত ত্রিকাল, অর্থাৎ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন। অতীত ও ইতিহাস সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন, বর্তমানকে যাপন ও পর্যবেক্ষণ করেন অত্যন্ত সুক্ষভাবে এবং ভবিষ্যৎ […]
Shares