হাঁটার দূরত্বে শূন্যতার গভীরে: যাপিত সময়ের ডায়েরি | সাফি উল্লাহ্

হাঁটার দূরত্বে শূন্যতার গভীরে: যাপিত সময়ের ডায়েরি |
সাফি উল্লাহ্

কবিতা, গল্প কিংবা উপন্যাস- বর্তমান সময়কেই উপস্থাপন করে, কখনো সরাসরি, কখনো উপমার মাধ্যমে। একজন কবি মূলত ত্রিকাল, অর্থাৎ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন। অতীত ও ইতিহাস সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন, বর্তমানকে যাপন ও পর্যবেক্ষণ করেন অত্যন্ত সুক্ষভাবে এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জাতিকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। শুধু দিকনির্দেশনা দেন এমন না, কখনো কখনো শুধু সময়কে, সময়ের সংকট ও সম্ভাবনাকে উপস্থাপন করেন। এছাড়াও দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালে কবিগণ তাদের কাব্যশক্তির সাহায্যে জাতিকে অনুপ্রেরণা দেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়েও কবিদের সক্রিয় ভূমিকা পরিলক্ষিত হয়েছে। কবির চারপাশ ও জীবন পর্যবেক্ষণ করার পর যে অন্তর্বেদনা সৃষ্টি হয়, তা থেকেই মূলত কবিতার সৃষ্টি। একুশ শতকের কবি আবদুর রাজ্জাক কলুষিত সমাজকে চিত্রিত করে জাতিকে সজাগ করেছেন এবং স্বপ্নের কথা বলে জাতিকে আশান্বিত করেছেন তার হাঁটার দূরত্বে শূন্যতার গভীরে শীর্ষক কাব্যগ্রন্থে। ২০২৩ সালে চৈতন্য থেকে প্রকাশিত এই বইটিতে কবি তার সময় ও সমাজের যাপনপ্রণালী কিংবা দৃষ্টিকোণ, সবকিছুই কাব্যিকভাবে তুলে ধরেছেন। কাব্যগ্রন্থের কবিতাসমূহ একুশ শতকের নগর জীবনের প্রতিরূপ হিসেবে ধরা দিয়েছে। নেত্রকোণায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই কবির কবিতায় নেত্রকোণার মাটি ও পানির ছোঁয়া লেগে আছে, মগড়া, সোমেশ্বরী, কংশ নদীর জল নানান উপমা হয়ে হাজির হয়েছে কবিতায়, এসেছে বিরিশিরি কিংবা ছোট্ট শহরের সুবাসের অনুষঙ্গ। কবির প্রকৃতিপ্রেমও অত্যন্ত প্রবল। প্রচলিত জগতের অনুষঙ্গকে উপমা হিসেবে ব্যবহার করে সাবলিল ভাষায় রচিত কবিতাগুলো পাঠকের মন জয় করে সহজেই, পাঠক কবিতা পড়ামাত্রই নিজের জীবন-অভিজ্ঞতার সাথে কবিতাকে মিলিয়ে নিতে পারে সহজেই। বলা যায়, ব্যক্তিগত যাপিত জীবনকে কবিতায় সাজিয়েছেন কবি আবদুর রাজ্জাক।

কবিতাগ্রন্থ ও কবিতার শিরোনাম পর্যালোচনা করলে দেখা যায় কাব্যগ্রন্থের শিরোনামে দূরত্ব ও শূন্যতার মতো দুটি শব্দ রয়েছে। এছাড়াও কবিতার শিরোনামগুলোতে এমন সব শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে যার অধিকাংশই গভীরতর শূন্যতা ও নেতিবাচকতার প্রকাশ ঘটাচ্ছে। হতে পারে যাপিত সময় এমনই। কবিতার শিরোনামে ব্যবহৃত শব্দগুলোর মধ্যে পালিয়ে ফেরা, ছেঁড়া ঘুড়ি, বেদনা, বিরহ, বুমেরাং, হতাশা, যন্ত্রণা, ভোগ, হন্তারক, অতি আত্মবিশ্বাসী, বিষন্নতা, না, ভুল, শূন্যতা, অভিযোগ, ভান, মুখোশ, ভয়, একা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। একুশ শতাব্দির সংকট, অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা, একাকিত্ব ও বিষন্নতা এবং আত্মপরিচয়-সচেতনতার মতো বিষয় যেমন শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে, তেমনি কবিতার পরতে পরতে উঠে এসেছে বর্তমান সম্পর্কে কবির উপলব্ধি।

কবি আবদুর রাজ্জাকের কবিতায় একুশ শতকের সময়-যাতনা, জীবনযাপন ও ভাবনার চিত্র উঠে এসেছে। একটি কবিতায় সর্বনাশ হয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। লিখেছেন, “আমার সর্বনাশ হয়েছিলো, হয়েছে।” এই সর্বনাশ হয়ে যাওয়াটাই শেষ নয়, বরং এখান থেকেও উঠে দাঁড়ানোর জয়গান পাওয়া যাবে কবিতার পরতে পরতে। একাকিত্ব সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, “একা হলে-/ থাকা না থাকা বড় কারণ হয়।/ বোঝা যায়- থাকলে কেমন,/ না থাকলে কেমন!” এ কবিতার শেষে ইতিবাচক আশা ব্যক্ত করে লিখেছেন, “ছেড়ে গেলে তবুও থাকে সম্ভাবনা…।” ভণিতার কথাও তিনি লিখেছেন, “শুয়ে আছি, সুখের ভান করে আছি/ বেদনার ভান জানি না!” কবি বিরহযাপন করেছেন অভিনব উপায়ে। “বিরহের গল্পগুলো আমার কাছে/ সেরা মনে হয়। অনুভবের সবটুকু নির্যাস সে নিংড়ে/ নিয়ে আসে।” বিরহের সময় মানুষের অনুভব-অনুভূতির যে গভীরতর প্রকাশ ঘটে, সেটাই যাপন করতে চেয়েছেন কবি। আরেক কবিতায় বেদনাকে সুবাসের সাথে তুলনা করে লিখেছেন “বেদনাই মানব জীবনের গোপন সুগন্ধ!” দীর্ঘশ্বাসের মুখোশ খুলে নিলে দেখা যাবে বেদনার বুদবুদ। আসল পরিচয় লুকিয়ে রাখা যায় মুখোশের মাধ্যমে। মুখোশ সম্পর্কে লিখেছেন, “আমার মিথ্যে মুখোশের ছায়া/ সব কান্না আর দীর্ঘশ্বাস গুণে রাখে/ যা শুধু আমিই দেখতে পাই।” এই যে নিজের বেদনা নিজের ভেতরে পুষে রাখা এবং হাসির ভান ধরে থাকা, এও এই সময়েরই প্রতিচ্ছবি নয় কি?
ভোগ ও ত্যাগ এই দু’টি বিষয়কে অন্য আলোয় রাঙিয়েছেন কবি। বর্তমান সময়কে চিত্রিত করতে গিয়ে বলেছেন, “সময় এখন এমন/ আগে ভোগ- পরে বিসর্জন।” এমনটি হওয়া উচিত কি না, সেটা পরের প্রসঙ্গ, বরং একুশ শতকে মানব সভ্যতায় যে সংস্কৃতি পরিলক্ষিত হয়েছে, সেটার দর্শন হলো ভোগের, এখানে ত্যাগ বা বিসর্জন খুবই গৌণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘যেভাবে বাঁচি’ শীর্ষক কবিতায় নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে পরিচিত জীবনের বাইরের জীবনের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং লিখেছেন, “এই পরিচয়ের পেছনে আরও রোদ আছে/ আরও বারুদ আছে, আরও পোড়ানোর সক্ষমতা আছে।” রোদের প্রসঙ্গ মূলত বিমূর্ত জীবনকেই বোঝাচ্ছে যা আমরা প্রতিনিয়ত প্রকাশ করি না। মানুষের নিরবতার পেছনেও সুপ্ত বারুদ থাকে, যা যে কোন সময় জ্বলে উঠতে পারে। রোদে আলোকিত হতে এবং অন্যদেরও আলোকিত করতে পারে। রোদ যেমন দিনের উপমা হতে পারে, মেঘমুক্ত উজ্জ্বল আকাশেরও প্রতিচ্ছবি বটে, একইসাথে উজ্জ্বল অথচ লুকায়িত পরিচয়কেও বোঝাচ্ছে।

কবি শুধু একুশ শতক সম্পর্কে উপলব্ধিই ব্যক্ত করেছেন কবিতায়, এমন নয়, বরং তার প্রকৃতিপ্রেম প্রবলভাবে প্রকাশিত হয়েছে নানান কবিতায়। যখন নদীর বুকে নদীখেকো মানুষ বালু উত্তোলন করছে, তখন কবিহৃদয় দগ্ধ হয়েছে। “দুর্গাপুর যেতে যেতে বিরিশিরি গিয়ে একটু মুখোশ পরে নিই।” এই মুখোশে কবি নিজের দুঃখ-বেদনার কথা লুকিয়ে ফেলেন। নদীর বুকে যন্ত্রদানবের হাসি শুনে কবি বলেন, “তোমার শরীর মানুষের খুব বেশি প্রয়োজন।” মানুষ যেভাবে যন্ত্র দিয়ে বালু তুলছে, নদীর শরীর কেটে নিচ্ছে, সে দৃশ্য কবিহৃদয়কে এভাবেই দগ্ধ করেছে। আবার পাহাড়ে ইকোটুরিজম গড়ে উঠছে অথচ কবিকে ব্যথিত করছে পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা নাগরিক জীবন।
কবি নিজ মাটি ও প্রকৃতির কতো কাছাকাছি থেকেছেন, তাও বোঝা যায় কবিতা পড়ে। ক্লান্ত হয়ে ঝরে পড়া পাতাকে সযতেœ সরিয়ে রাখছেন যেনো পঁচে মাটির উর্বরতা বাড়ায়, “জাদুকাটা নদী কিংবা সোমেশ্বরীর কাছে/ নিশি জাগা পাখিদের সাথে সখ্য গড়ে” কাটিয়ে দিতে চান বছরের পর বছর, ঘাস ফুল কিংবা ফড়িঙ, বকুল ও ধুতুরা ফুল, পাহাড়ের মায়া, থেঁতলে গিয়েও সুবাস ছড়ানো ফুল, ল্যাম্পপোস্টের অন্ধকার দিকে গুটিসুটি মেরে শিশু বুকে জড়িয়ে শুয়ে থাকা মা, মগড়ার জল, পাখাওয়ালা পিঁপড়াদের মারামারি ইত্যাদিও জীবনঘনিষ্ঠ বর্ণনা পাওয়া যায় আবদুর রাজ্জাকের কবিতায়।

পূর্বেই উল্লেখ করেছি- কবি ত্রিকালদর্শী হন, আবদুর রাজ্জাকও তার ব্যতিক্রম নন। তিনি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতকে এঁকেছেন নানান উপমার মধ্য দিয়ে। তার মতে “কিছু অতীত বড়ই বেদনামথিত/ রক্তবুনটের পা-ুলিপি!” ‘বর্তমান’ কবিতায় “রুগ্ন ও ভগ্ন বর্তমান” এর প্রসঙ্গ এনেছেন। মানুষ ভবিষ্যত নিয়ে এতোটাই বিভোর যে বর্তমানকে গুরুত্ব দেয়ার সময় পাচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে ভবিষ্যৎ রুগ্ন ও ভগ্ন শরীর নিয়ে বেড়ে ওঠে। কেমন ভবিষ্যতের স্বপ্ন কবি দেখছেন এবং পাঠককে দেখাতে চাচ্ছেন, তারও রূপরেখা পাওয়া যায় কবিতাগ্রন্থে। কবি এমন বিপ্লবের স্বপ্ন দেখছেন যা “মেকি, পঁচা কোন বিপ্লব নয়”, কবিতায় “একটি প্রকৃত সকালের গল্প” সন্ধ্যান করেছেন, তিনি আবেদন করে বলেছেন “ঘরের আলো, সুগন্ধ মেখে নাও।/ আরও কিছুদিন থাকো। তারপর যাও!” ফুল পায়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে ফেলা যায়, তবু ফুলের সুবাস মুছে ফেলা যায় না। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত সুবাস বিলিয়ে যায় ফুল আর এটাই জীবনের জয়গান। কবি লিখেছেন, “তবুও প্রাণপণ সুগন্ধ ছড়াতে সে আয়োজন করে বসে।”
এমিলি ডিকিনসন তার একটি কবিতায় নিজেকে নোবডি অর্থাৎ কেউ না বলে অভিহিত করেছেন এবং পাঠকও নোবডি কি না, জিজ্ঞাসা করেছেন। অস্তিত্বের এমন প্রশ্ন আবদুর রাজ্জাকের কবিতাতেও দেখতে পাই। তিনি লিখেছেন, “দেখা গেলো যে, আমি কেউ নই/ আমার চুলের কানা পাইও দাম নেই!” এই যে সরাসরি নিজের বাস্তবিক অবস্থানকে তুলে ধরা এবং একইসাথে অস্তিত্ব-সচেতনতার যে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, তা চিরায়ত। মানুষের ভাবনার সাথে বাস্তবতার যে দ্বন্দ্ব, প্রত্যাশার সাথে অভিজ্ঞতার যে তফাৎ, তা উপমার মাধ্যমে দেখিয়েছেন। অস্তিত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে তাদেও সামনে আয়না ধরেছেন। এ আয়নায় মানুষ যেনো নিজেদের দোষ-ত্রুটি দেখতে ও শুধরাতে পারে। ‘আয়না’ কবিতায় লিখেছেন, “একটা আয়না কিনে আমি/ সদর রাস্তায় টাঙিয়ে রেখেছি,/ কিন্তু আজ ঐ পথে/ অনেকেই যেতে চায় না।” মানুষকে আত্মপাঠে উদ্বুদ্ধ করবে কবির এই কবিতা।
কোন মানুষই হৃদয়ের আলোকে অস্বীকার করতে পারে না। হৃদয়ের আলো মূলত মানুষকে আশান্বিত করে এবং আগামীর জন্য বাঁচিয়ে রাখে। আর এই আলো নিভে গেলে মানুষের আর মানুষ থাকে না। এমন শাশ্বত বার্তাই দিয়েছেন কবিতায়। তিনি লিখেছেন, “হৃদয়ের আলো মুছে গেলে/ দুচোখের আলো চলে যাওয়ার থেকে/ বড় সর্বনাশ হয়।” হৃদয়ের আলোর যে জয়গান, তা পাঠককে আশাবাদী করে তোলে।
বর্তমান শতাব্দিতে মানুষ এক স্থবির সময়ে বাস করছে যেখানে কণ্ঠ ছেড়ে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলছে। এমন রুগ্ন বর্তমানের চিত্র এঁকেছেন কবিতায়। ভাঙ্গা চোয়াল ও ক্ষত হাঁটুর প্রসঙ্গ এনে মানুষের প্রতিবাদহীনতা ও মানুষকে কথা বলতে না দেয়াকে বুঝিয়েছেন। চোয়াল ভেঙ্গে গেছে মানে মানুষের কণ্ঠনালী থেকে আর কোন শব্দ উচ্চারিত হবে না। হাঁটুতেও ক্ষত, অর্থাৎ মানুষ দাঁড়ানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। সোজা সটান হয়ে দাঁড়িয়ে কণ্ঠ হাঁকবে জোরে, সে শক্তি নেই কবিতা-কথকের। তবে কথক এখনও আশাবাদী, তিনি বিশ্বাস করেন “কব্জিতে এখনো কিছু শক্তি আছে/ নাগালে পেলেই শিখাতে পারতাম/ একটি প্রকৃত সকালের গল্প।” কথকের কণ্ঠ রোধ করা হয়েছে, হাঁটুতে ক্ষত সৃষ্টি করা হয়েছে, তারপরেও কবি কব্জির জোরে ঘুরে দাঁড়াতে চান। ঘুরে দাঁড়ানোর এমন অভিপ্রায় মানব-ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে।
পুরনো জিনিস ভুলে নতুন করে পথ চলার অভিপ্রায় দেখা যায় রাজ্জাকের কবিতায়। তিনি স্লেটের অসাধারণ একটি উপমা ব্যবহার করেছেন ‘স্লেট’ কবিতায়। স্লেটে কোন কিছু লেখা হলে সেটা সহজেই মুছে ফেলা যায়। স্লেটে কেউ দলিল-দস্তাবেজ লেখে না। কবি “জীবনের স্লেটে প্রতিদিন একটা করে গল্প” লেখেন, তারপর দিনশেষে সেই গল্প মুছে ফেলেন। এই দিন শেষে দিনকে ভুলে যাওয়ার যে প্রবণতা, দিনের ক্লান্তি মুছে নতুন সকালে সতেজ দিন শুরুর যে আকাক্সক্ষা, তা একুশ শতককেই চিহ্নিত করে।

কবি আবদুর রাজ্জাকের কবিতার গভীর ভাব সরল ও পরিচিত অনুষঙ্গের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কবির যাপিত ও পরিচিত জীবনের চারপাশ থেকে অনুষঙ্গ গ্রহণ করেছেন এবং ভিন্ন অর্থসহ কবিতায় তুলে ধরেছেন। কবিতার ভাষাও খুব সাবলিল। দৈনন্দিন ব্যবহৃত ভাষায় অভিব্যক্তি-অনুভব, জীবন যাপন ও উপলব্ধির গল্প উঠে এসেছে। প্রমিত ভাষায় পরিচিত জগত পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। সবমিলিয়ে বলা যায়, সরল অভিব্যক্তির মাধ্যমে কবি শুধু যাপিত জীবনকেই কাব্যিকভাবে উপস্থাপন করেননি, সময় ও সমাজ নিয়ে তার ভাবনা ও স্বপ্নের কথাও তিনি সুচারুরূপে উপস্থাপন করেছেন কবিতায়। একুশ শতকের যাপিত শূন্যতাকে যে মাত্রা দান করেছেন, তা পাঠককে ভাবিয়ে তোলে সময় সম্পর্কে, দেশ সম্পর্কে এবং সর্বোপরি এ কবিতাগ্রন্থ হয়ে উঠেছে সময় যাপনের ডায়েরি।

লেখক পরিচিতি: কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষক, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, নেত্রকোণা

অনুধ্যান

Leave a Reply

Next Post

স্নায়ুর সমুখে মুখের সমুখে গুঞ্জনমালা | অমিত রেজা চৌধুরী

Wed May 31 , 2023
স্নায়ুর সমুখে মুখের সমুখে গুঞ্জনমালা | অমিত রেজা চৌধুরী কবিতা বিভিন্ন রকমের হয়। তা শৈলী এবং প্রকরণগত ভাবে যেমন, তেমনি স্বভাব-লক্ষণের দিক থেকে, বোধ-ভাব-চেতনার দিক থেকেও ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির কবিতা পরিলক্ষিত হয়, আর তার উল্লেখ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বাংলা কবিতার দীর্ঘ ইতিহাস জুড়ে। তা যতটা না দেশীয় ঐতিহ্য-ভাষা-সংস্কৃতি কেন্দ্রিক, তারও অধিক […]
Shares